রবিবার, অক্টোবর ২০

বাতিল রেক্সিন দিয়ে গ্লাভস, পর্দা কেটে ট্রাউজার্স, তবুও এভারেস্ট শৃঙ্গে পা রাখেন প্রথম নারী জুনকো তাবেই

রূপাঞ্জন গোস্বামী

টোচিগির মাউন্ট নাসুর দিকে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে ১০ বছরের রোগা পাতলা জাপানি মেয়ে জুনকো ইশিবাশি। স্কুল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল পর্বতারোহণ প্রশিক্ষণ নিতে। ট্রেকিং পিক, সেরকম ভয়ের কিছু নেই। তাই, ছাত্রীরা একে একে উঠে গেছে শিখরের দিকে, প্রশিক্ষকদের সঙ্গে।

কিন্তু জুনকো তবু নড়ে না। তার প্রশিক্ষক তাকে বোঝান শিখরের ওপর থেকে চারদিক দেখতে আরও সুন্দর লাগবে। তাই জুনকো যেন তাঁর সঙ্গে শিখরে ওঠে। প্রশিক্ষক জুনকোর হাত ধরে থাকবেন। তাতেও ভয় কাটে না জুনকোর। শেষে প্রশিক্ষক বলেন, জুনকো তাহলে একাই থাকুক নীচে, তিনি পাহাড়ে উঠে যাবেন।

মাউন্ট নাসু, জাপান

ভীতু জুনকো চেপে ধরেছিল প্রশিক্ষকের হাত

ধীরে ধীরে কখন যেন জুনকো উঠে পড়েছিল মাউন্ট নাসুর ( ৬২৮৯ ফুট ) শিখরে। শিখরে বসে অবাক বিস্ময়ে চারদিকে তাকিয়ে দেখছিল।  নীচে ফুলের মতো সুন্দর উপত্যকা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। নীল আকাশ আর সাদা মেঘ যেন কত কাছে চলে এসেছে। অনেক নীচে ভেড়ার পালকে মনে হচ্ছে হলদে পিঁপড়ের সারি।

প্রশিক্ষকরা তখন বুঝিয়ে যাচ্ছেন কাকে বলে ঢাল (Glacis), ফলক (Slab) শৈলপ্রাচীর (wall), চিড় (crack), ফাটল (fissures) চিমনি (chimney), খাঁজ( groove)। কেউ চেনাচ্ছেন আরোহণ ও অবরোহণের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন ইকুইপমেন্ট। কেউ শেখাচ্ছেন বিভিন্ন ধরনের ফাঁস (Knot)

কিন্তু জুনকো আনমনা। সে ভাবছে কীভাবে সে এতটা ওপরে উঠে এল। এখান থেকেই যদি এত সুন্দর লাগে পৃথিবীকে। আরও উঁচু পাহাড়ে উঠলে তাহলে পৃথিবীকে আরও কতো সুন্দর লাগবে। এক লহমায় ভয়টা কেটে যায় জুনকোর। পাহাড়ের গায়ে হাত রাখে। নাক ঠেকিয়ে পাহাড়ের ঘ্রাণ নেয়।

কিশোরী জুনকো

খুব মিষ্টি একটা গন্ধ। অনেকটা তার মায়ের গায়ের গন্ধর মত। জাপানের ফুকুশিমা শহরের মিহারু এলাকায় বাড়ি জুনকোর। সাগর দেখছে জন্ম থেকে। তবুও ভিতু জুনকো সাগরে নামে না। ভয় পায় সাগরকে। কিন্তু পাহাড়কে  তার আর ভয় লাগছে না। সেইদিনই পাহাড়কে ভালোবেসে ফেলেছিল ছোট্ট জুনকো। যে ভালোবাসা তার জীবনের শেষদিন পর্যন্ত অটুট ছিল।

 বাধার সাগর সামনে, তবু ডাকছে পাহাড়

জুনকো’রা সাত ভাইবোন। সংসারে অভাবের ছাপ সর্বত্র। খাবার জুটছে অতিকষ্টে। সবাই বোঝান, “পাহাড় চড়া বড়লোকদের খেলা। অত পয়সা তোদের কই”! বাড়ির লোকেরা বলেন, “হয় পড়াশুনা করো, না হয় হাতের কাজে মন দাও। আমাদের খেটে খাবার জোগাড় করতে হয়”। কিন্তু জুনকোকে পাহাড় হাতছানি দিয়ে ডাকে। রোগা-পাতলা মেয়েটা আস্তে আস্তে যেন পালটে যায়। যত বড় হয় জেদি হয়ে যায় জুনকো। সে পাহাড়ে যাবেই। সাদা পাহাড়। তার ওপর থেকে দেখবে পৃথিবীকে।

স্কুল শেষ করে শোয়া ওমেনস ইউনিভার্সিটি থেকে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক হয়ে গেলেন জুনকো। সামান্য টাকা জোগাড় করতে পারলেই ছুটে গেছেন পাহাড়ে। জাপানের কয়েকটি শৃঙ্গ আরোহণও করে ফেললেন কেবলমাত্র স্কি-পোল নিয়ে। সে যুগে বিভিন্ন দেশের পুরুষরাই সাধারণত পর্বতারোহণে আসতেন। সেখানে পাহাড়ে এক গরিব মেয়ের এ হেন দাপট তাই মেনে নিতে পারেনি জাপানের ধনী পুরুষ পর্বতারোহীরা। পদে পদে হেনস্থা হতে হয়েছে জুনকোকে।

আটকে রাখবে কে !

সহৃদয় কোনও পুরুষদল কখনও সখনও তাঁকে দলে নিয়েছেন। বাধা দিয়েছে সমাজও। ফুকুশিমা শহরে চাউর হয়ে যায়  জীবনসঙ্গী খোঁজার লোভেই নাকি পুরুষদের সঙ্গে পাহাড় চড়তে চান জুনকো। চরিত্রে দাগ লাগানোর চেষ্টাও করা হয়, তাঁকে ঘরে আটকে রাখবার জন্য।

কিন্তু জুনকো অন্য ধাতুতে গড়া

একই সঙ্গে চালিয়ে যেতে থাকেন শরীরচর্চা, সেলাই ও পর্বতারোহণ। সঙ্গে চলছে পিয়ানো বাজানো। অনবদ্য পিয়ানো বাজান জুনকো। একটি স্কুলে পিয়ানো শিক্ষকের কাজও পেলেন। এরই মাঝে সত্যি সত্যিই পাহাড় এনে দিল প্রেম। জুনকোর জীবনে এলেন পর্বতারোহী মাসানোবু তাবেই। জুনকোর জীবনের অন্যতম অনুপ্রেরণা হয়ে। ১৯৬৫ সালে তাঁদের বিয়ে হয়ে গেল। জুনকো ইশিবাশি হয়ে গেলেন জুনকো তাবেই। যে নাম ভবিষ্যতে ইতিহাসের পাতায় সোনার জলে লেখা হবে।

মেয়ে হয়ে জন্মেছেন বলে পর্বতারোহণে প্রচুর বাধা পেয়েছেন জুনকো। আর কোনও মেয়েকে যাতে সেই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে না হয়, সেই জন্য কেবলমাত্র মেয়েদের জন্যই তিনি ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন লেডিস ক্লাইম্বিং ক্লাব (LCC)। ১৯৭০ সালের ১৯ মে, লেডিস ক্লাইম্বিং ক্লাবের হয়ে জুনকো তাবেই হিরোকো হিরাকাওয়া সম্পূর্ণ নতুন রুটে অন্নপূর্ণা-৩ শৃঙ্গ আরোহণ করে সারা বিশ্বকে চমকে দেন। রাতারাতি সারা জাপান চিনে যায় একদা উপেক্ষিতা জুনকো তাবেইকে। 

এভারেস্ট

হাতছানি দেয় মাউন্ট এভারেস্ট

এভারেস্ট শৃঙ্গ অভিযান! সে তো অনেক টাকার ব্যাপার! এতো পয়সা কোথা থেকে আসবে! ক্লাবের সদস্যদের জুনকো বলেন , “একবার আপ্রাণ চেষ্টা করে দেখাই যাক না”।  ১৯৭৪ সালে লেডিস ক্লাইম্বিং ক্লাবের ১৫ জন সদস্য পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট আরোহণের সংকল্প নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়লেন। টাকার জন্য যেতে হল ধনীদের দরজায় দরজায়। সবাই ফিরিয়ে দিল।

যখন সবাই হাল ছেড়ে দিয়েছেন, জুনকোর জেদ দেখে অর্থ সাহায্য করল একটি জাপানি পত্রিকা ইয়োমিউরি শিমবান। এগিয়ে এলো নিপ্পন টেলিভিশন। কিন্তু সে অর্থে এভারেস্ট অভিযান হবে না। সদস্যরা নিজেরা টাকা জোগাড় করলেন। জুনকো বাড়ি বাড়ি গিয়ে পিয়ানো শিখিয়ে অভিযানে তাঁর ভাগের টাকা কোনওমতে জোগাড় করলেন।

জুনকো তখন তিন বছরের ফুটফুটে কন্যা সন্তান নোরিকোর মা। কী ভাবে তাকে ফেলে এভারেস্টে যাবেন! অভয় দিলেন স্বামী মাসানোবু ও জুনকোর চার বোন। স্বামীর ভরসায় বোনেদের কাছে নোরিকোকে রেখে জুনকো রওনা দিলেন এভারেস্ট অভিযানের কন্ডিশনিং ক্যাম্পে।

এভারেস্ট অভিযানে জুনকোর লেডিস ক্লাইম্বিং ক্লাবের ১৫ জন সদস্যা

কাউন্ট ডাউন শুরু

তিলে তিলে অভিযানের জন্য তৈরি হচ্ছেন জুনকো। এখনও জোগাড় হয়নি  স্লিপিং ব্যাগ, ওয়াটারপ্রুফ গ্লাভস, ট্রাউজার আর ব্যাকপ্যাক। চিন থেকে সস্তায় হাঁসের পালক কিনে নিজেই সেলাই করে তৈরি করে নিলেন স্লিপিংব্যাগ। পুরনো পর্দার কাপড় কেটে তৈরি করলেন ট্রাউজার।

সব শেষে সমস্যায় পড়লেন গ্লাভস আর ব্যাকপ্যাক নিয়ে। সেগুলো কেনার টাকাও নেই হাতে। কিন্তু হাল ছাড়ার মানুষ নন জুনকো। প্রতিবেশীর বাতিল গাড়ির সিটকভারের রেক্সিন দিয়ে তৈরি করে নিলেন জলনিরোধক ব্যাগ আর দস্তানা। হাতের কাজের শিক্ষা এতদিনে কাজে এলো। এভারেস্টের হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় এই নিয়ে যুদ্ধে নামবেন জুনকো। যা আজকের যুগে অকল্পনীয়।

১৯৭৫, জুনকো এলেন এভারেস্টে

১৯৭৫ সালের মার্চে সদলবলে এভারেস্ট বেসক্যাম্প চলে এলেন। বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে চলল এভারেস্টের সদা পরিবর্তনশীল মুডের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া। এপ্রিলের শেষ নাগাদ শুরু হয়ে গেল অভিযান। ১৯৫৩ সালে হিলারি আর তেনজিং নোরগে যে রুট ধরে এভারেস্ট শৃঙ্গে উঠেছিলেন  সেই খুম্বু আইসফল- ওয়েস্ট চিমনি-সাউথ কল রুট ধরলেন জাপানের লেডিস ক্লাইম্বিং ক্লাবের ১৫ জন সদস্যা। সঙ্গে ৯ জন শেরপা।

ক্যাম্প-২ এর পথে জুনকোর টিম

দলের সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জুনকো। নিজেই আইসঅ্যাক্স দিয়ে বরফ কাটতে কাটতে পথ তৈরি করে নিচ্ছেন।  প্রয়োজনে অপরের লোড বইছেন। ওপরের ক্যাম্পে পৌঁছে নিজেই টিন কেটে স্টোভ জ্বালিয়ে খাবার তৈরি করছেন। সবাইকে দিচ্ছেন। সবার শুশ্রুষা করছেন হাসি মুখে। শেরপারা তাঁকে দেখে অবাক। তাঁদের  অর্ধেক কাজই করে দিচ্ছেন অবিশ্বাস্য জীবনীশক্তি নিয়ে এভারেস্টে আসা জুনকো।

৪ মে, রাত  ১২টা ৩০ মিনিট

টিম উঠে এসেছে ওয়েস্ট চিমনির শেষে অবস্থিত ক্যাম্প-২ (২১৩২৬ ফুট ) তে। সবাই সুস্থ। দিনের ক্লান্তিকর আরোহণের শেষে অভিযাত্রীরা ঘুমিয়ে আছেন। হঠাৎ বাজ পড়ার মত আওয়াজ। অভিযাত্রীরা কিছু বোঝার আগেই টন টন বরফ নিয়ে নেমে এলো তুষারধস।  জুনকো আর তার সঙ্গীরা ডুবে গেলেন বরফের নীচে।

ঘন অন্ধকার। গায়ে লেপ্টে গেছে টেন্ট। তার ওপর চাপ দিচ্ছে বরফ। তুষারসমাধি অনিবার্য।মৃত্যু আসন্ন, জ্ঞান হারাচ্ছেন জুনকো। শেষ চেষ্টা করলেন তিনি। পকেট ছুরিটা হ্যাঁচকা টানে বার করে টেন্ট ফাঁসিয়ে হাত বাড়াবার চেষ্টা করলেন। তারপর জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন।

ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল। বরফ ভেদ করে ছুরির ফলা বেরিয়ে এল বাইরে। সেই ফাঁক দিয়ে অক্সিজেন গেলো বরফের নিচে। শেরপাদের টেন্টের কোনও ক্ষতি হয়নি। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকার্য শুরু করে দিয়েছিলেন। জুনকোর শেরপা জুনকোকে বরফের নীচ থেকে উদ্ধার করেন। বরফের নিচে প্রায় ছয় মিনিট অজ্ঞান ছিলেন জুনকো।

তুষারধসে বিধ্বস্ত ক্যাম্প-২

বাকিরা ফেরার পথ ধরলেও হাল ছাড়েন না জুনকো

আকস্মিক এই ঘটনায় পুরো টিম মানসিক দিক থেকে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। টিমে বাকি সদস্যারা ফেরার পথ ধরতে চান। জুনকো বোঝান, “এভারেস্টে এটাই প্রথম ও শেষ সুযোগ আমাদের। আর কেউ টাকা দেবেন না। একবার চেষ্টা করো, একবার”। তবুও সবাই নিরুত্তর। জুনকো বোঝেন বাকিরা ভেঙে পড়েছেন। এই মানসিকতা নিয়ে ওপরে উঠলে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটবে।

জুনকোর পায়ের গোড়ালিতে ভালোই আঘাত লেগেছে। কিন্তু তাতে কী! জীবনে অনেক লড়াই লড়েছেন। এই লড়াইটা ছেড়ে পালাবেন না। শেরপা আং শেরিংকে নিয়ে রয়ে গেলেন নির্জন তুষার সমুদ্রে। শৃঙ্গে তিনি উঠবেনই। ইতিমধ্যে আবহাওয়া খারাপ হয়ে গেছে। প্রতীক্ষায় থাকেন জুনকো। তাঁর দিন আসবেই।

দিনটা ছিল ১৬ মে, ১৯৭৫ 

কাক ভোরে এক নারী ও এক পুরুষ আরোহী ধীরে ধীরে উঠে যাচ্ছেন এভারেস্টের ক্যাম্প-৪ (বর্তমানের) পেরিয়ে।দুর্ঘটনার পর ১২ দিন পর। বার বার অবস্থান পাল্টাচ্ছেন নিজেরা। একবার জুনকো আগে, আং শেরপা পিছনে। আরেকবার আং শেরপা আগে জুনকো পিছনে। হিলারি স্টেপের আগে এসে একটু থমকে দাঁড়ালেন দুজনে। সামনে ছুরির ফলার মতো শৈলশিরা। তখন সেখানে পাকাপাকি ভাবে দড়ি ফেলা থাকত না। বা বরফ কেটে রাস্তা বানিয়ে রাখা হত না।

অমানুষিক পরিশ্রম করে জুনকো আর আং শেরপা রাস্তা বানালেন। অনেকটা অংশ বুকে ভর দিয়ে চললেন আইসঅ্যাক্স দিয়ে নিজেদের দেহ বরফে টানতে টানতে। এক সময় দেখলেন সামনে আর চড়াই নেই। ঢালুপথ নেমে গেছে তিব্বতের দিকে। রেক্সিনের গ্লাভসে মোড়া মুষ্টিবদ্ধ দুই হাত ছুঁড়লেন আকাশের দিকে। তৈরি হল ইতিহাস। সেই প্রথম এভারেস্টের মাথায় পা রাখলেন কোনও নারী। নাম জুনকো তাবেই।

এভারেস্ট শৃঙ্গে জুনকো তাবেই

জুনকো আজ নেই, তবে ইতিহাসে থাকবেন অমর হয়ে

২০ অক্টোবর, ২০১৬, ক্যানসার কেড়ে নিয়েছিল জুনকো তাবেইকে। এভারেস্ট জয়ের পাশাপাশি, প্রথম নারী হিসেবে জুনকো তাবেই সেভেন সামিটও (সাত মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ পর্বতচূড়া) আরোহণ করেন ১৯৯২ সালে। বিশ্বের প্রায় ৭০টি দেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে ওঠার রেকর্ড জুনকোর নামে। তবু মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত জুনকো ছিলেন বিনয়ী। জুনকো বলতেন, “পাহাড় আমাকে অনেক শিখিয়েছে। আমি বুঝতে পেরেছি আমার ব্যক্তিগত সমস্যাগুলো কতটা নগণ্য। আর পাহাড়ের সামনে আমি কত নগণ্য”।

পাঠক, একবার ভাবুন। তখন এভারেস্টের নীচে থেকে ওপর পর্যন্ত দড়ি ফিক্সড করে রাখার ব্যাপার ছিল না। আইসফল ডক্টররা ছিলেন না, অ্যালুমিনিয়ামের মই নিয়ে। স্যাটেলাইটের পাঠানো ওয়েদার রিপোর্ট ছিলনা। এভারেস্টের ক্যাম্পে ক্যাম্পে এজেন্সির ফাইভ-স্টার আতিথেয়তা ছিল না। তাতেই সব বাধা পেরিয়েছিলেন  জুনকো।

এভারেস্ট শৃঙ্গ থেকে নেমে এলেন জুনকো

মৃত্যুর আগে এক সাক্ষাৎকারে জুনকো হাসতে হাসতে বলেছিলেন, ‘এখন তো সবাই  কত অত্যাধুনিক ইকুইপমেন্ট নিয়ে পাহড়ে ওঠার  সুযোগ পায়। আমি যখন এভারেস্টে উঠি, তখন সঙ্গে খাবারের ব্যাগ আর আইসঅ্যাক্স ছাড়া কিছু থাকত না”।

ইতিহাস জানে এটা জুনকোর আক্ষেপ নয়। অসম লড়াই জিতে ইতিহাস গড়া এক নারীর আত্মতৃপ্তি। যে লড়াইকে নারীদের বিশ্বজয়ের ভিত হিসেবে মনে রাখবে মানবসভ্যতা।

পড়তে ভুলবেন না…

Comments are closed.