বুধবার, ডিসেম্বর ১১
TheWall
TheWall

তিনি জিমি নেলসন, তাঁর লেন্সে বন্দি জনজাতিদের জীবন, সাইবেরিয়া থেকে ব্রাজিল

চৈতালী চক্রবর্তী

ক্যামেরার লেন্সে বন্দি স্বপ্ন। একটা ছোট্ট ক্লিক আর তাতেই জীবন্ত হয়ে ওঠে হারিয়ে যাওয়া সভ্যতা। বিশ্বের গহীন, দুর্গম প্রান্ত থেকে মুক্তো খুঁজে বার করার মতো এইসব অলঙ্কার প্রাণ পায় তাঁর ছবিতে। নিথর, নির্লিপ্তছবি যেন মুহূর্তে প্রাণের স্পন্দন ফিরে পায়, যেন চোখ তুলে প্রযুক্তির বিশ্বায়নকে ধিক্কার দিয়ে বলে ‘দেখো আমরা হারিয়ে যাইনি। এখনও রয়েছি তোমার চোখের আড়ালে। সন্তর্পণে লুকিয়ে রেখেছি নিজেদের।’ এই সব অলঙ্কার জড় বস্তু নয়, এরা সজীব, প্রাণপ্রাচুর্যে ভরা, নিজেদের সভ্যতা-সংস্কৃতি নিয়ে আধুনিক বিশ্বের থেকে আলাদা। এরা আদিবাসী গোষ্ঠী বা বিলুপ্তপ্রায় জনজাতি যারা প্রথাগত সমাজ ব্যবস্থার বাইরে নিজেদের পৃথক জগতে কালের নিয়মের বাইরে বহমান। এইসব জনজাতির ছবিই বাস্তবসম্মত হয়ে ফুটে ওঠে এই মানুষটির ক্যামেরায়।

সাংবাদিকতার জগতে বা অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষদের মধ্যে অনেকেই এঁর নাম জানেন। বিশ্বের জনপ্রিয় চিত্রগ্রাহকদের মধ্যে প্রথম সারিতেই রয়েছেন ইনি। বিতর্ক, খামখেয়ালিপনা এঁর জীবনের নিত্য সঙ্গী। তাও চিত্রসাংবাদিকতার জগতে এঁর কৃতিত্ব গৌরবের সঙ্গে স্মরণ করা হয়। জিমি নেলসন। ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত এই চিত্রগ্রাহকের ক্যামেরায় বারে বারেই জীবন্ত হয়ে উঠেছে পৃথিবীর দুর্গম প্রান্তের হারিয়ে যেতে বসা উপজাতিদের ছবি। তাদের মধ্যে বেশ কিছু হয়তো হারিয়ে গেছে বর্তমান সভ্যতার বুক থেকে। হারিয়ে যেতে বসেছে আরও কিছু। মুষ্টিমেয় যা অবশিষ্ট তারাও ধরা রয়েছে নেলসনের ফোটো অ্যালবামের পাতায় পাতায়।

প্রিয় ক্যামেরা হাতে আদিবাসীদের সঙ্গে জিমি নেলসন

২০১৩ সালে নেলসনের প্রথম মোনোগ্রাফ প্রকাশিত হয় ব্রিটেনে। ৪০০ পাতার এই বইয়ের প্রতিটি পাতা জুড়ে আদিম জনজাতিদের নানা ছবি। বইয়ের নাম ‘Before They Pass Away’। নামের মধ্যেই নেলসনের স্বপ্ন বাঁধা। অর্থাৎ পঞ্চাশ পেরোনো চিত্রগ্রাহক যেন বলতে চেয়েছেন, আধুনিক সমাজ পুরোপুরি এই জনজাতিদের ছেঁটে ফেলার আগেই তাদের স্বমহিমায় নিজের জিম্মায় ধরে রেখেছেন তিনি। সেটা করেছেন আশ্চর্য দক্ষতায়।

 আফ্রিকান উপজাতি গোষ্ঠীর সঙ্গে জিমি নেলসন।

বই তো নয় যেন একরাশ মনি-মুক্তো একই সুতোয় বাঁধা পড়েছে। প্রতিটি ছবি এতটাই জীবন্ত যেন মনে হয় কথা বলে উঠবে। তিব্বত থেকে সুদান, পাপুয়া নিউ গিনি থেকে ব্রাজিলের দুর্গম এলাকায় এইসব জনজাতির কাছে কী ভাবে পৌঁছলেন জিমি, কোন কৌশলে হিংস্র উপজাতিদের সঙ্গে সখ্য পাতালেন সেটা অজানা। তবে পৃথিবীর নানা প্রান্তের প্রায় ৩৫টি আদিম ও রহস্যময় জনজাতির ছবি ধরা পড়েছে তাঁর বইয়ের পাতায়পাতায়। ভারতের অনেক উপজাতিগোষ্ঠীও জায়গা করে নিয়েছে সেখানে। প্রকাশিত হওয়ার এক বছরের মধ্যে প্রায় আড়াই লক্ষ কপি বিক্রি হয় এই বইয়ের। এখনও ‘Before They Pass Away’ সমান জনপ্রিয়।


(বাঁ দিকে, উত্তর পেরুর জনজাতি, ২০১৮ সালে তোলা। ডান দিকে, পাপুয়া নিউ গিনির কালুতি গোষ্ঠী, ২০১৭।)

জন্ম ১৯৬৭ সালে কেন্টের সেভেনওকসে। জেমস ফিলিপ নেলসন বিশ্বের কাছে পরিচিত জিমি নেলসন নামে। পেশায় চিত্রসাংবাদিক, নেশায় ভ্রমণপিপাসু, চিত্রগ্রাহক। অজানা, অচেনাকে ক্যামেরাবন্দি করাই তাঁর নেশা।বিলুপ্তপ্রায়কে পরম মমতায় সংরক্ষণ করার দুর্নিবার টান অনুভব করতেন ছেলেবেলা থেকেই।

মঙ্গোলিয়ার বায়ান অলগি প্রদেশের জনজাতি। ২০১৭ সালে ছবিটি তোলেন জিমি নেলসন।

কৈশোর কেটেছে আফ্রিকা, এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার নানা জায়গায়। কর্মসূত্রে তাঁর বাবা, মাকে বিশ্বের নানা জায়গায় ঘুরতে হতো, সেই সূত্রেই চেনা গণ্ডির বাইরে তিনি ছোট থেকেই সচ্ছন্দ। পড়াশোনা করেছেন ল্যাঙ্কাশায়ারের স্টোনিহার্সট কলেজে। ১৬ বয়সে সংক্রমণ জনিত রোগে তাঁর মাথার সব চুল পড়ে যায়। নেলসন বলেছেন, “রোগের কথা কেউ বিশ্বাস করেননি। স্কুলের-কলেজের শিক্ষকরা মনে করতেন আমি চরম দক্ষিণপন্থী। আমাকে কলেজ থেকে বার করে দেওয়াও হয়।”

১৯৮৫ সালে কলেজ ছেড়ে ট্রেকিং-এ বেরিয়ে পড়েন। প্রথম অভিযান তিব্বতে। নেলসনের বয়স তখন ১৯। পাহাড়ি পথে নিসর্গ প্রকৃতির রূপকে লেন্সবন্দি করাই ছিল উদ্দেশ্য। অথচ পয়সার অভাবে দামি ব্র্যাণ্ডের  ঝাঁ চকচকে ক্যামেরা তাঁর নেই। ছবি তোলার সম্বল বলতে পুরনো ধাঁচের মিনি ক্যামেরা। সেটিকেই দোসর করে নেলসন বেরিয়ে পড়েন অজানা পথে। তিব্বত ঘুরে পৌঁছন চিনে। ১৯৯২ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় তাঁর বই  ‘Literary Portraits of China’। ৩৬ মাস চিনে ছিলেন নেলসন। সে দেশের উপজাতি, আদিবাসী গোষ্ঠীর অজস্র ছবি ধরা পড়ে তাঁর ক্যামেরায়। দেশের প্রত্যন্ত এলাকা ঘুরে আনাচ কানাচ থেকে রহস্য খুঁজে বার করেছিলেন নেলসন। এই বই থেকেই তাঁর পরিচিতি বাড়ে।

চিনের ইয়াং শুও জনজাতি। এদের নদীর রক্ষক বলে ডাকেন স্থানীয়রা।

১৯৯৭ সালে কর্মাশিয়াল অ্যাড ফিল্ম তৈরির কাজে হাত দেন। তবে ছবি তোলার নেশা ছিল অপ্রতিরোধ্য। পেশাকে একধারে রেখে ঘুরতে শুরু করেন পৃথিবীর দুর্গম এলাকাগুলিতে। একটা সময় বেছে নেন সাংবাদিকতা। নাম হতে থাকে চিত্রসাংবাদিক হিসেবে। তাঁর ছবি ছেয়ে যায় নেট দুনিয়ায়, ম্যাগাজিনের পাতায় । ‘Before They Pass Away’ বই প্রকাশিত হওয়ার পর জিমি নেলসনকে চেনে বিশ্ববাসী। ৫০ বছরের পুরনো ক্যামেরায় প্রাণ ফিরে পায় ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার বিলুপ্তপ্রায় আদিবাসী জনজাতির ছবি।


(বাঁ দিকে, চিনের গুইঝউ প্রদেশের উপজাতি, ২০১৭ সালে। ডান দিকে, চাদের চারি-বাগুইরমি প্রদেশের উপজাতি, ২০১৬)

“প্রখ্যাত আমেরিকান ফোটোগ্রাফার এডওয়ার্ড শেরিফ কুর্তিস-সহ আমেরিকার নামী চিত্রগ্রাহকদের থেকে আমি অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। হারিয়ে যাওয়া জনজাতিদের নিয়ে একটা প্রোজেক্ট শুরু করি,” মিডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন নেলসন। হিংস্রতা তাদের আত্মরক্ষার একটা উপায় মাত্র, আধুনিক সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন এইসব জনজাতির নিজস্ব একটা গল্প রয়েছে, জানিয়েছেন নেলসন। তাঁরাও সাজতে ভালোবাসে, ছোট ছোট অনুভূতি প্রকাশ করে, ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে পোজ দেয়। রহস্যের অন্তরালে সুপ্ত রয়েছে তাদের জীবনের নানা কাহিনী, প্রেম-ভালোবাসা, মাতৃত্বের গল্প। সেই সব কিছুকেই ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন নেলসন।

ব্রাজিল থেকে দক্ষিণ সুদান, তিব্বত থেকে লাদাখ— আদিবাসীরা জীবন্ত তাঁর লেন্সে

চিত্রগ্রাহকের ক্যামেরায় তাই ধরা পড়েছে নিউ গিনির হুলি ও কালাম জনজাতি, মঙ্গোলিয়ার সাতান, দক্ষিণ ইথিওপিয়ার ওমো নদী ঘেঁষা উপত্যকায় মুরসি জনজাতি, ফ্রান্সের পলিনেশিয়ার মার্গাসাস দ্বীপপুঞ্জের আদিবাসী গোষ্ঠী, চিনের হারিয়ে যাওয়া ইয়াংশুও ইত্যাদি।

নেলসন জানিয়েছেন, পাপুয়া নিউ গিনির হেলা প্রদেশের এই জনজাতি হুলির অস্তিত্ব প্রথম টের পাওয়া যায় ১৯৩৪ সালে। কয়েক হাজার বছর ধরে পৃথিবীর বুকে টিকে রয়েছে এই জনজাতি। কেনিয়ার জঙ্গলের প্রাচীন জনজাতি সাম্বরুরা অচেনা মানুষ দেখলেই বল্লম ছুঁড়তে শুরু করে। শিকারও করে বল্লম দিয়েই। দীর্ঘদিন অপেক্ষা করে দূর থেকে এই জনজাতিকে লেন্সবন্দি করেছিলেন তিনি। ভুটানের মাস্ক ডান্সারদের কথা অনেকেই জানেন না। এরা ততটা ভয়াবহ নয়। নানা রকম উদ্ভট মুখোশে নিজেদের সাজাতে ভালোবাসে।

পশ্চিম মঙ্গোলিয়ার আলটাই পার্বত্য এলাকায় এক আদিম জনজাতি রয়েছে যারা ঈগল পাখি দিয়ে শিকার করতে ভালোবাসে। প্রায় চারশো ঈগল-শিকারি এখনও বেঁচে রয়েছে।দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার ভানুয়াতু দ্বীপপুঞ্জে এক আদিম জনজাতি এখনও বাস করে যাদের জীবন পুরোপুরি সমুদ্রের উপর নির্ভরশীল। এরা সচরাচর লোকালয়ের দিকে আসে না। এই জনজাতিও বড় প্রাঞ্জল হয়ে উঠেছে নেলসনের ক্যামেরায়।

মঙ্গোলিয়ার ঈগল-শিকারি।

তবে বিতর্ক পিছু ছাড়েনি জিমি নেলসনের..

আদিবাসীদের জীবন ও তাদের ছবি প্রকাশ্যে আনায় নেলসনের বিরুদ্ধে বিতর্ক কিছু কম হয়নি। আমেরিকার ম্যাগাজিন ‘Truthout’-এ আদিবাসী অধিকার রক্ষা আইনের এক কর্মকর্তা স্টিফেন কোরি নেলসনের বইয়ের (Before They Pass Away) সমালোচনা করে লিখেছিলেন, “এটা পুরোপুরি দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়। বিশ্বে এখনও আদিবাসীরা টিকে রয়েছে, এদের সংরক্ষণ করার চেষ্টা করছে সরকার। কাজেই তারা হারিয়ে যাবে অথবা হারিয়ে যাওয়ার আগে তাদের ছবি তোলা হলো, এমন কথা বলে সরকার ও প্রশাসনের অবমাননা করেছেন নেলসন।”

মান্দারি জনজাতি, দক্ষিণ সুদান, আফ্রিকা, ২০১৬ সাল।

এখানেই শেষ নয়। বিতর্কের জল গড়িয়েছে বহুদূর। নেলসনের ছবির সংগ্রহ নিয়ে একটি প্রদর্শনী হয় লন্ডনের অ্যাটলাস গ্যালারিতে। সেখানে উপস্থিত হয়ে নেলসনের তীব্র বিরোধিতা করেন ব্রাজিলের ইয়ানাওয়া আদিবাসীদের সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা ডেভি কোপেনাওয়া। তিনি বলেন, “এই ব্যক্তি জোর করে তাঁর নিজস্ব ভাবনা ও চিন্তাধারা আদিবাসীদের উপর প্রয়োগ করার চেষ্টা করছে। বাস্তবে তারা এমনটা নয়।” শোনা যায়, আর্ট গ্যালারির বাইরে বেশ কিছুদিন বিক্ষোভও দেখান তিনি।

মানবাধিকার সংগঠন ‘সার্ভাইভাল ইন্টারন্যাশনাল’ একটা সময় নেলসনের বিরোধিতা শুরু করে। একটি প্রতিবেদনে তারা জানায়, এই সব ছবি পুরোপুরি নেলসনের মস্তিষ্কপ্রসূত। সবটাই কল্পনার আশ্রয়ে তুলে ধরেছেন তিনি।

নিউজিল্যান্ডের নর্থ আইল্যান্ডের জনজাতিদের ক্যামেরাবন্দি করেন নেলসন।

প্রতিবাদ শুধু দেশ-বিদেশের নানা সংগঠন থেকে নয়, ক্ষোভের আঁচ এসেছে তাঁর সহকর্মীদের কাছ থেকেও। বিবিসি-র এক বর্ষীয়াণ চিত্রসাংবাদিক টিমোথি অ্যালেন দাবি করেছিলেন, “এই বই শুধু সাজানো ও নাটুকে কিছু ছবি দিয়ে ভরা। যার কাস্টিং করেছেন নেলসন নিজেই। এইসব ছবি দেখলে কষ্ট হয়। “


হোমেজ টু হিউম্যানিটি..

অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ, বিতর্ক-বিক্ষোভ সব কিছুর মধ্যেই অটল, অবিচল ছিলেন নেলসন। বলেছেন, “সাইবেরিয়া থেকে দক্ষিণ সুদান—আমি চষে বেরিয়েছি। সপ্তাহের পর সপ্তাহ কাটিয়েছি মঙ্গোলিয়ান, আফ্রিকান জনজাতিদের সঙ্গে। গাছপালাহীন তুন্দ্রা বা রাশিয়ার আর্কটিক, দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের ৮৩টি দ্বীপে ঘুরেছি, হিমাঙ্কের ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে দিনের পর দিন কাটিয়েছি।“  এই বই তারই ফসল।

কেনিয়ার সাম্বুরু জনজাতি।

চিত্রগ্রাহকের কথায়, এত বিতর্কের একমাত্র কারণ মানুষের দেখার চোখের স্বচ্ছতার অভাব। আদিবাসীদের নগ্ন, রুক্ষ, শ্রীহীন দেখতেই অভ্যস্ত আধুনিক সভ্যতা। হয় তাদের হিংস্র, বর্বরোচিত আচরণের সঙ্গেই শুধু তারা পরিচিত, নয়তো তাদের না খেতে পাওয়া অসুস্থ চেহারাটা তারা চোখের সামনে কল্পনা করতে ভালোবাসে। বাস্তবে প্রতিটি জনজাতির নিজস্ব ভঙ্গিমা রয়েছে। আদিবাসী মেয়েরাও তাদের সামান্য অলঙ্কার দিয়ে শরীর সাজায়, রূপচর্চা করে। সেখানকার ছেলেমেয়েরা শিকারের সময় যেমন অস্ত্র তুলে নেয় হাতে, তেমনি পরিবার-পরিজনদের মাঝে খিলখিলিয়ে হেসে উঠতেও জানে। তাদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে, তাদেরই একজন হয়ে দিনের পর দিন না থাকলে এই বৈচিত্র্য ধরা পড়বে না। আপাত রুক্ষতার আড়ালে তারা অত্যন্ত নিরীহ, সহজ-সাধারণ মানুষ যারা বিশ্বায়নের পরবর্তী যুগের হিংসা, কুটিলতা সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞ। এদের হিংস্রতা আত্মরক্ষার উপায় মাত্র, তাদের স্বভাব নয়। খোলা আকাশের নীচে যখন তারা কুটির বানায়, সেখানে পরতে পরতে লেগে থাকে তাদের শিল্পসত্তার পরিচয়। তার পরবর্তী বই ‘হোমেজ টু হিউম্যানিটি’তেও সেই বিষয়টাই তুলে ধরতে চেয়েছেন নেলসন। তৈরি করেছেন নিজস্ব সংগঠন— ‘জিমি নেলসন ফাউন্ডেশন

তাঁর কথায়, “আমার ৩০ বছরের সাংবাদিকতার জীবনে আমি আদিম জনজাতিদের নগ্নতাকে তুলে ধরিনি। দেখাতে চেয়েছি তারাও মানুষ, আমার-আপনার মতোই। মিউজিয়ামে সাজিয়ে রাখার মতো বস্তু নয়। তাদের প্রেম, হাসি, মোহ, ভালোবাসা সব কিছুকেই ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি আমার মনের মতো করে।”

শত বিতর্কের মাঝেও তাই অবিচল, প্রত্যয়ী, গর্বিত জেমস ফিলিপ নেলসন।

Comments are closed.