শনিবার, এপ্রিল ২০

থ্রিলারের থেকেও কম নয় ব্রুস লি’র মৃত্যু।খুন হয়েছিলেন? (তৃতীয় পর্ব)

রূপাঞ্জন গোস্বামী

(……ব্রুসের মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিভিন্ন উড়ো খবর  উড়ে বেড়াচ্ছিল হংকং-এর আকাশে। চারটি ইংরাজি দৈনিক ও প্রায় পঞ্চাশের ওপর চিনা ভাষার দৈনিকের সাংবাদিকরা, হন্যে হয়ে পৌঁছতে চেষ্টা করছিলেন কুইন এলিজাবেথ হসপিটালের মর্গে রাখা ব্রুস লি’র শরীরের কাছে।)

তৃতীয় পর্ব 

 রাত ১২.৩০ ( শুরু হয়ে গেছে  ২১ জুলাই,১৯৭৩)

হংকং পুলিশ বেটি টিং পেই-এর বাড়ি এল। সে সময় ঘরে বেটির মা ও ভাই ছিলেন। পুলিশ ঘরে কোনও ধস্তাধস্তি বা মারপিটের কোনও চিহ্ন পায়নি। তারা ঘরের ভেতর থেকে তিনটে গ্লাস, দুটো অর্ধেক খালি সেভেন আপের বোতল ও সুইপ জিঞ্জার বিয়ার এবং ইকুয়াজেসিক পিলের স্ট্রিপ বাজেয়াপ্ত করে। বেটিকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। বেটি রেমন্ডের শেখানো বুলি আউড়ে যান। ভুললে চলবে না বেটি ছিলেন একজন পেশাদার অভিনেত্রী। তিনি বড় ডায়লগও মুখস্ত করতে ও বিশ্বাসজনক ভাবে পেশ করতে  অভ্যস্ত।

রাত ১.০০ 

রেমন্ড আরেকটা চাল খেললেন। বেটিকে ছেড়ে তিনি এখন লিন্ডার ব্রেনওয়াশ করবার চিত্রনাট্য তৈরি করলেন। লিন্ডাকে বোঝালেন ব্রুসের চরিত্রে লাম্পট্যের দাগ পড়লে লিন্ডা ও ছেলে মেয়েদের সারাজীবন সমাজের বিদ্রুপের মুখে পড়তে হবে।  ব্রুসের স্ত্রী লিন্ডাকে নিয়ে এলেন ডঃ ল্যাংফোর্ডের বাড়ি। লিন্ডার তখন বিদ্ধস্ত অবস্থা। তাঁর মাথা কাজ করছেনা। পিছন পিছন গাড়ি নিয়ে ধাওয়া করছেন রিপোর্টারের দল।

হংকং-এর ব্যাপটিস্ট হসপিটালের ডাক্তার ডঃ ল্যাংফোর্ড

ল্যাংফোর্ডকে লিন্ডা জিজ্ঞেস করলেন,

“তুমি ব্রুস এবং অন্য মহিলাদের ব্যাপারে কি জানো। ব্রুস কি লম্পট ছিল ?”

“আমি যতদূর জানি ব্রুসের অন্য কোনও মহিলা ঘটিত ব্যাপার ছিল না।”
“হংকং প্রেস ব্রুসকে নিয়ে স্ক্যান্ডাল ছড়াবে। আমি কী ভাবে তাদের আটকাব ! “ লিন্ডা বলেছিলেন।

এখানেও আসরে নামলেন রেমন্ড চাও। ল্যাংফোর্ডের লিভিং রুমে  লিন্ডা প্রেসকে কী বলবেন, এ বার তার চিত্রনাট্য সাজাতে বসলেন ঠান্ডা মাথার রেমন্ড চাও।

ধোঁয়াশা :ব্রুসের মৃত্যুর দায় রেমন্ড  ব্রুসের ওপরই চাপানোর দায়িত্ব নিলেন কেন?

ধোঁয়াশা : কেন লিন্ডাকে বোঝালেন  ব্রুস কে সমাজ চরিত্রহীন ভাববে ?

ধোঁয়াশা : কেন  আবার লিন্ডাকে ওই রাত্রে নিয়ে এলেন  ডঃ ল্যাংফোর্ডের বাড়ি? সেখানে ডাক্তারকে লিন্ডা কেন জি়জ্ঞাসা করলেন  ব্রুসের চরিত্র সম্পর্কে?  ডঃ ল্যাংফোর্ডই বা কেন বললেন ব্রুসের নারীঘটিত কোনও সমস্যা ছিল না ?

ধোঁয়াশা : রেমন্ড , লিন্ডার মনে স্ক্যান্ডালের ভয় ধরিয়ে দিলেন  কেন? আবার রেমন্ডের ও ব্রুসের বিশ্বস্ত  ডঃ ল্যাংফোর্ডকে দিয়ে ব্রুসকে ক্লিন চিট দেওয়ালেনই  বা কেন? সাপ মরবে লাঠি ভাঙবে না বলে?

ধোঁয়াশা :  লিন্ডা প্রেসকে কী বলবেন, তা কেন বলে দেবেন রেমন্ড ? সমস্ত চিত্রনাট্য নিজে লিখছেন কেন?

ব্রুস লি’র অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়ায় লিন্ডা সাংবাদিকদের মুখোমুখি। ছবির ডান দিকে রেমন্ড চাও প্রম্পটারের ভুমিকায়।

ধোঁয়াশা : যে লিন্ডা তাঁর স্বামীর মৃত্যুর কারণ জানতে মাত্র দুই ঘন্টা আগে কুইন এলিজাবেথ হসপিটাল প্রায় লন্ডভন্ড করে ফেলেন, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আসার আগেই কেন ব্রুস লি’র  ভাবমূর্তি ঠিক রাখতে নেমে পড়লেন? ব্রুসের দেহ তখনও হসপিটালে।

ধোঁয়াশা :  রেমন্ড চাও কি বেটি ও  নিজেকে বাঁচাতে ব্রুস লি’র ভাবমুর্তিকে শিখন্ডী খাড়া করলেন লিন্ডার সামনে? লিন্ডা কি রেমন্ডের পাতা ফাঁদে পা দিলেন নাকি তাঁর মনেও অন্য ছক ঘুরছিল? 

রাত ২,০০

সেই অভিশপ্ত রাতেই অ্যান্ড্রে মর্গ্যান রেমন্ডের ফোন পেলেন। গোল্ডেন হার্ভেস্ট স্টুডিওতে চলে এলেন মর্গ্যান। রেমন্ড ইংরাজি ভাষী মর্গ্যানকে ইংরাজিতে প্রেস রিলিজ লিখতে বললেন। নিজে লিখলেন চিনা ভাষায় প্রেস রিলিজ। হংকং-এর প্রেস হাতে পেল রেমন্ডের সাজানো এক অবিশ্বাস্য  চিত্রনাট্য ,তাতে লেখা, ” ব্রুস লি তাঁর বাড়িতে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে কোনও অজ্ঞাত কারণে ব্রেন ইডিমায় আক্রান্ত হন  এবং প্রাণ হারান। গোল্ডেন হার্ভেস্ট এই মহান তারকার মৃত্যুতে শোকাহত। 

ঠিক সেই  সময় , কুইন এলিজাবেথ হসপিটাল একটা  প্রেস রিলিজ দেয় ‘ অ্যাকিউট সেরিব্রাল ইডিমা ব্রুস লি’র মৃত্যুর কারণ। কিন্তু সেরিব্রাল ইডিমা হওয়ার কারণ এখনও অজ্ঞাত। সে জন্য আমরা পোস্টমর্টেম রিপোর্টের অপেক্ষায়।”

 

হংকং-এ ব্রুস লি’র নিজস্ব বাসভবন

ধোঁয়াশা : ব্রুস মারা গেলেন বেটির বাড়িতে। কিন্তু প্রেস রিলিজে রেমন্ড ও মর্গ্যান লিখলেন ব্রুস মারা গেছেন নিজের বাসভবনে, লিন্ডার সামনে। এই জলজ্যান্ত  মিথ্যাচার কেন?  ব্রুসের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে স্বাভাবিক করে দেখানোর এত আকুলতা কিসের ? ব্রুসের কিন্তু  কোটি কোটি ডলারের লাইফ ইন্সিওরেন্স ছিল। অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে তখন ইন্সিওরেন্স-এর টাকা পাওয়া যেত না। ব্রুসের  নিথর শরীর তখনও মর্গে। কী খেলা চলছিল সেই অভিশপ্ত রাতের ব্যাক ড্রপে?

 অনেক বছর পরে মর্গ্যান সাংবাদিকদের বলেছিলেন,  আমরা ব্রুসের ইমেজকে রক্ষা করতে চেয়েছিলাম এবং লিন্ডা ও ব্রুসের ছেলে মেয়েদের আবেগ সুরক্ষিত রাখতে চেয়েছিলাম। আমরা জানতাম একদিন সত্যিটা বেরিয়ে আসবে।  আমরা সেই মুহুর্তে  চেষ্টা করছিলাম সেটা কতটা পিছিয়ে দেওয়া যায়।

ধোঁয়াশা : ব্রুস যে নিজের  বাড়িতে মারা যাননি মারা গেছেন বেটির বাড়িতে, এই তথ্য ফাঁস করে দেন এক সাংবাদিক। ধরা পরে মর্গ্যাণের সাধু সাজার চেষ্টা ?

ব্রুস লি মারা যাওয়ার পরের  তিনদিন রেমন্ডের চিত্রনাট্যই চলল হংকংয়ের মিডিয়ায়। যার মধ্যে অনেকগুলি নিয়ন্ত্রণ করতেন রেমন্ড ও তাঁর গোল্ডেন হার্ভেস্ট স্টুডিও।

 

চিনা ভাষার কাগজে ব্রুস লি’র মৃত্যু সংবাদ

কেঁচো খুঁড়তে কেউটে

এইচ এস চৌ নামে ব্রুস লি’র প্রিয় এক সাংবাদিক ছিলেন। তিনি ছিলেন হংকং-এর বিখ্যাত কাগজ  দ্য চায়না মেল-এর সাংবাদিক। অনেক দিন ধরে ব্রুস লি’কে  কাছ থেকে দেখছেন। তিনি গোল্ডেন হার্ভেস্ট-এর চিত্রনাট্য মানতে চান নি। তিনি সবার আড়ালে তাঁর মতো তদন্ত শুরু করেন। যাকে আমরা বলি স্টিং অপারেশন। তিনি কুইন এলিজাবেথ  হসপিটালের অ্যাম্বুলেন্স লগ বুক খুজে বার করেন। গাড়ির নম্বর খুজে বার করেন। সেই রাতের অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারকে খুঁজে বার করেন। ব্রুস লি’র পেশেন্ট নম্বর ও পেশেন্টের পিকআপ অ্যাড্রেস খুঁজে বার করেন। লগ বুকে পিক আপ অ্যাড্রেস ছিল,“৬৭, বেকন হিল রোড”। এটা বেটির ফ্ল্যাটের ঠিকানা। দ্য চায়না মেল-এর নাছোড়বান্দা সাংবাদিক এইচ এস চৌ সারা পৃথিবীকে স্তম্ভিত করে দেন। ব্রেকিং নিউজ আসে, “ব্রুস লি’র মৃত্যু তাঁর বাসভবনে হয়নি, হয়েছে অভিনেত্রী বেটি টিং পেই-এর শয়নকক্ষে”।

 

ছবিতে বাঁ দিক থেকে দ্বিতীয় রেমন্ড চাও, চতুর্থ অ্যান্ড্রে মর্গ্যান

বিখ্যাত সংবাদপত্র চায়না মেল সাংবাদিক এইচ এস চৌ-এর তদন্তমূলক প্রতিবেদনের শিরোনাম করে  “ব্রুস লির মৃত্যু নিয়ে কে মিথ্যা বলছে।”  আক্রোশে ফেটে পড়ে হংকং ও মার্শাল আর্ট সম্রাট ব্রুস লি’র কোটি কোটি ফ্যান।

রেমন্ড চাও-এর ফোনে একের পর এক মিডিয়ার ফোন ঢুকতে থাকে। তিনি ফোন ধরেন না। নতুন ছক কষেন। ক্ষিপ্ত , সন্দিগ্ধ মিডিয়ার সামনে  বেটি একা পড়ে যান। মিডিয়ার চাপে বলে বসেন , ব্রুস লি তাঁর ফ্ল্যাটেই মারা গেছেন, কিন্তু তিনি তখন ফ্ল্যাটেই ছিলেন না। মায়ের সঙ্গে বাইরে গিয়েছিলেন। এবং ব্রুসের সঙ্গে তাঁর কয়েক মাস পর পর দেখা হতো। কিন্তু মিডিয়ার তদন্তে জানা যায় বেটির প্রতিবেশীরা বলেছেন ব্রুস নিয়মিত বেটির অ্যাপার্টমেন্টে আসতেন। হংকং-এর আরেকটি বিখ্যাত কাগজ চায়না স্টার  হেডিং করল “বেটির সুরভিত চেম্বারই মেরেছে  ড্রাগনকে“।

 ধোঁয়াশাঃ মিডিয়ার চাপের সামনে বেটি আবার মিথা বললেন কেন?

 ধোঁয়াশাঃ ব্রুস তাঁর ফ্ল্যাটেই মারা গেছেন  স্বীকার করলেন অথচ তিনি তখন ফ্ল্যাটে ছিলেন না। তাহলে ফ্ল্যাটে ব্রুসের সঙ্গে রেমন্ড একা ছিলেন?

 ধোঁয়াশাঃ ব্রুস একা থাকলে, দরজা ভাঙার চিহ্ন নেই কেন?  অসুস্থ ব্রুস কে দরজা খোলা অবস্থায় রেখে গিয়েছিলেন বেটি? 

রেমন্ড চাও তাঁর  নতুন চিত্রনাট্যে বললেন, ২০ জুলাই বিকেল তিনটে নাগাদ তিনি ব্রুসের কৌলুং টং-এর বাড়িতে  আসেন। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত গেম অফ ডেথ ছবিটির স্ক্রিপ্ট নিয়ে আলোচনা হয়। তারপর তাঁরা দুজনের বেটি টিং পেই-এর বাড়ি যান বেটিকে রোল অফার করতে।

 ধোঁয়াশা :  ব্রুস  সেই দিন সকালে  বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছিলেন গোল্ডেন হার্ভেস্ট স্টুডিওতে। সেখান থেকে বেটির ফ্ল্যাটে। তাহলে রেমন্ড চাও, ব্রুসকে ব্রুসের বাড়িতে পেলেন কখন? 

 

শোকস্তব্ধ হংকং-এর জনতা

হায়নার মতো ছিঁড়ে খেতে চেষ্টা করা হংকং প্রেসকে সামলাতে রেমন্ডের প্ল্যান অনুযায়ী তিন মাথা এক হলেন। রেমন্ড ,লিন্ডা ও বেটি  মিলে তৈরি করলেন নতুন চিত্রনাট্য। তারা সেগুলিই  স্বীকার করলেন যেটা প্রেসের স্টিং অপরেশনে প্রমাণিত হয়ে গেছে। যেমন ,বেটির বাড়িতে ব্রুস কে পাওয়া গেলেও ব্রুস লি মারা গেছেন কুইন এলিজাবেথ হসপিটালে। সেগুলিই অস্বীকার করলেন যে গুলি প্রেস প্রমাণ করতে পারেনি।যেমন, ব্রুস  লি’র মৃত্যু বেটির বাড়িতে হয়নি। বাড়িতে ব্রুস আর বেটি একা ছিলেন না। লিন্ডা প্রেসকে দিলেন তাঁর আরেকটি সন্দেহজনক স্বীকারোক্তি , “২০ জুলাইয়ের দুপুর নাগাদ আমি বাড়ি থেকে বেরোচ্ছিলাম এক বান্ধবীর সঙ্গে লাঞ্চ খেতে। ব্রুস তখন তাঁর স্টাডি রুমে ছিলেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন রেমন্ড চাওয়ের আসার কথা আছে গেম অফ ডেথ ছবিটি নিয়ে কথা বলতে। তারপর দু’জনে ল্যাজেনবির সঙ্গে ডিনারে যাবেন। সেটাই ছিল আমার আর ব্রুসের শেষ দেখা।” 

ধোঁয়াশা :   সাংবাদিক এইচ এস চৌ  এটা প্রমাণ করে দিয়েছেন, ব্রুসকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পাওয়া গেছিল বেটির বাড়িতে। নিজের বাড়িতে নয়।  রেমন্ড,মর্গ্যান, বেটির আগের চিত্রনাট্য গুলি যে সাজানো, তা লিন্ডার কাছেও পরিস্কার ছিল। তবুও  কিসের স্বার্থে ব্রুসের বিধবা স্ত্রী  লিন্ডা, রেমন্ড ও বেটির সঙ্গে একই  চিত্রনাট্যে অভিনয় করতে রাজি হলেন?  নাকি ভয়ে  রাজি হয়েছিলেন, কারণ লিন্ডা আর তাঁর বাচ্চাদের মাথার ছাদটাই তো উড়ে গেছে ।

 

এন্টার দ্য ড্রাগনের পোস্টার

 

ব্রুসের মৃত্যু নিয়ে যখন  উত্তাল বিশ্ব, সেই ডামাডোলের বাজারে রেমন্ড রিলিজ করিয়ে দিলেন ব্রুস লির ব্লকবাস্টার ছবি ‘এন্টার দ্য ড্রাগন’। রেমন্ড  নাকি  লিন্ডা ও  ব্রুসের ছেলে মেয়ের স্বার্থে কথা ভেবে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ছবিটির রিলিজ করেছিলেন।  ব্রুসের ফ্যানরা  ঘুনাক্ষরেও  বুঝতে পারেননি , ব্রুস লি’র মৃত্যুতে বিশ্বজোড়া শক ও শোকের আবহকে নিজের ব্যাবসায়িক লাভের  অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে  দিলেন ধুরন্ধর রেমন্ড। কারণ এই ছবিটিতে তাঁর কোটি ডলার ইনভেস্ট করা আছে। ব্রুসের মৃত্যু ও ব্রুস কে নিয়ে গ্যসিপ  তাঁর ‘এন্টার দ্য ড্রাগন’  ছবিটিকে বিশ্বজোড়া আশাতীত সাফল্য দেবে। ব্রুস বেঁচে থাকলেও   ‘এন্টার দ্য ড্রাগন’ হয়তো  এতো সফল হতো না।   

 

হংকং হারবারে ব্রুস লির মুর্তি

একদিকে দেশে বিদেশে সুপার ডুপার হিট হতে লাগলো এন্টার দ্য ড্রাগন’। অন্যদিকে হংকং মিডিয়ায় রটতে লাগলো নতুন নতুন খবর। যদিও  সবার ওপরে রইল খুনের তত্ত্বটাই। সন্দেহাতীত ভাবেই সন্দেহটা এসে পড়ল বেটি আর রেমন্ডের ওপর। এ ছাড়াও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে কোনও  কোনও মিডিয়া প্রশ্নবোধক চিণ্হ দিয়ে হেলায় ভাসালো তাদের তত্ব। অতিরিক্ত হাসিস সেবনে মৃত্যু হয়েছে ব্রুস লি’র। কেউ  লিখলো অতিরিক্ত নারী সংসর্গই মৃত্যুর কারণ।  আধুনিক ভায়াগ্রার প্রপিতামহ ‘707’ নাকি নিয়মিত খেতেন  ব্রুস লি।  কেউ লিখল ব্রুস লি, মারিজুয়ানা, মরর্ফিন, এলসডি সবই নিতেন। নিজের মৃত্যুর জন্য নিজেই দায়ী মার্শাল আর্ট সম্রাট ব্রুস লি। রেমন্ড চাওয়ের  নিখুঁত চিত্রনাট্যের নিখুঁত সরলীকরণ গিলতে লাগল ব্রুস লি’র সাধের হংকং ( আগামী শনিবার শেষপর্ব )

 

 তথ্যসূত্র: শেষপর্বে

 এই  লিঙ্কে পড়ুন : থ্রিলারের থেকেও কম নয় ব্রুস লি’র মৃত্যু।খুন হয়েছিলেন? (প্রথম পর্ব)

এই  লিঙ্কে পড়ুন : থ্রিলারের থেকেও কম নয় ব্রুস লি’র মৃত্যু।খুন হয়েছিলেন?(দ্বিতীয় পর্ব)

দ্য ওয়ালের ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন।

Shares

Comments are closed.