বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

ইতিহাসের কুখ্যাততম ড্রাগ মাফিয়া পাবলো এসকোবার, কুড়ি লক্ষ ডলারের নোট জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন, মেয়ের শীত কমাতে

রূপাঞ্জন গোস্বামী

আন্দিজ পর্বতশ্রেণীর ঠিক মধ্যভাগে পড়ছে কলম্বিয়ার পাহাড় ঘেরা রাজ্য অ্যান্টিওকুইয়া। তার মাঝখানে আছে ছবির মত সুন্দর আবুররা উপত্যকা। সেই উপত্যকায় আছে  রাজ্যটির রাজধানী মেডেলিন সিটি। যার আর এক নাম, চির বসন্তের শহর (City of Eternal Spring)। ১৯৯২ সাল, শীত কাল, আন্দিজ পর্বতশ্রেণীতে সন্ধ্যা নামছে। কড়া ঠান্ডায় কাঁপতে শুরু করেছে মেডেলিন শহরের মফস্বল।

ঠান্ডায় কাঁপছে ৯ বছরের ম্যানুয়েলা

মেডেলিন শহরের এক গোপন আস্তানায়। কলম্বিয়ার বিভীষিকা El Patron এর মেয়ে ম্যানুয়েলা। ম্যানুয়েলার বাবার মুখ থম্থমে। বিষন্ন মুখে বসে আছেন স্ত্রী মারিয়া ও ছেলে পাবলো। গোপন আস্তানায় ডলারের গুদামে শয়ে শয়ে প্যাকিং বাক্সে ডলার জমা করা আছে। কিন্তু খরচ করার উপায় নেই। কারণ, ম্যানুয়েলার বাবাকে ধরার জন্য কলম্বিয়া সরকারের হানা চলছে সর্বত্র। দলের হাজার হাজার লোক যে যার মত আত্মগোপন করেছে। ম্যানুয়েলাদের সঙ্গে রয়েছে অতি বিশ্বস্ত জনা পাঁচেক লোক।

এসকোবারের ঘাঁটি মেডেলিন সিটি

ঘরের কাঠহীন ফায়ারপ্লেসের দিকে তাকিয়ে ম্যানুয়েলার বাবা উঠে পড়লেন। তাঁর দেহরক্ষীদের কী একটা বললেন।  সঙ্গে সঙ্গে চার পাঁচটা প্যাকিং বাক্স নিয়ে এল তারা। ফায়ার প্লেসের ভেতর ফেলে দেওয়া হল প্যাকিং বাক্স থেকে বের করে আনা কাঁড়ি কাঁড়ি ডলার। বান্ডিল ডাঁই করে আগুন দেওয়া হল ডলারে।

গরম হতে লাগল ঘর, সাড় ফিরতে লাগল ম্যানুয়েলার। রাত যখন শেষ হল ততক্ষণে কাঠের বদলে ফায়ার প্লেসে পুড়ে গেছে কুড়ি লক্ষ ডলারের নোট। পুড়তেই পারে টাকা, এ আর বেশি কথা কী! কারণ ম্যানুয়েলার বাবা পৃথিবীর ইতিহাসের ধনীতম মাফিয়া, বিশ্বত্রাস পাবলো এসকোবার।

বিশ্বের ধনীতম অপরাধী পাবলো এসকোবার

 ‘ কিং অফ কোকেন’ পাবলো এসকোবার

কলম্বিয়ার গরিব চাষির ছেলে পাবলো। পড়াশুনায় মতি নেই। ছোটবেলা থেকেই দ্রুত বড়োলোক হওয়ার নেশা। সিনেমার নায়কদের মত সুঠাম সুদর্শন চেহারা। তুখোর বুদ্ধি। দক্ষ সংগঠক। জাল সার্টিফিকেট বেচে অপরাধ জগতে হাত পাকানো শুরু। ১৯৭৪ সালে প্রথম গ্রেফতার হলেন।

জেল থেকে বেরিয়ে ১৯৭৫ সালে তৈরি করলেন আমেরিকা, কলম্বিয়া, পেরু, মেক্সিকো, বলিভিয়া, পানামা সহ ইউরোপ ও এশিয়ার ঘুম কেড়ে নেওয়া গ্যাং মেডেলিন কার্টেল। বিশ্বের সবচেয়ে কুখ্যাত ড্রাগ পাচার চক্র। যারা একসময় সারা বিশ্বে উৎপাদিত ও বিক্রি হওয়া কোকেনের ৮০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করত।

মেডেলিন কার্টেল-এর মাথারা

শুধুমাত্র  আমেরিকাতেই  প্রত্যেক দিন ১৫ টন কোকেন পাচার করত পাবলো এসকোবারের মেডেলিন কার্টেল। ‘কিং অফ কোকেন’ হয়ে গেলেন পাবলো এসকোবার, আশির দশকের মাঝামাঝি, মাত্র ৩৫ বছর বয়সে।

সমুদ্রপথে ছুটছে স্পিড বোট

আমেরিকার ফ্লরিডা থেকে সমুদ্র পথে ছুটে চলত বিভিন্ন মাপের স্পিড বোট। ও দিকে কলম্বিয়ার উত্তর তীর থেকে টেক অফ করত কোকেনের বস্তা ভর্তি পাবলো এসকোবারের নিজস্ব বিমান।  ৯০০ মাইল উড়ে আমেরিকার সমুদ্রসীমার বাইরে কোকেন ভর্তি বস্তা ফেলা হত সমুদ্রে। যাত বস্তাগুলি জলে ভাসতে পারে, সে ভাবেই সেগুলি তৈরি করা হত।

আমেরিকার ড্রাগ মাফিয়াদের স্পিডবোটগুলো কোকেনের বস্তাগুলো জল থেকে কুড়িয়ে নিয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে ছুটে চলত ফ্লরিডার উপকূলের বিভিন্ন দিকে। কখনও কখনও পাবলো এসকোবারের বিমানগুলি দুঃসাহস দেখিয়ে খোদ আমেরিকায় ঢুকে পড়ত। ফ্লরিডার নির্জন এলাকায় ফেলে দিয়ে আসত কোকেনের প্যাকেট।

এছাড়া নর্থ  অ্যাটলান্টিকের বুকেও কোকেন ফেলত  এসকোবারের বিমান বহর। মাঝ সমুদ্রে ভাসতে থাকা মাফিয়া জাহাজ সেগুলি তুলে নিয়ে ভিড়তো আফ্রিকার বন্দরে। আফ্রিকা হয়ে কোকেন ছড়িয়ে পড়তো এশিয়ার ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে।

সাগর পথে ড্রাগ পাচার করত এসকোবারের মেডেলিন কার্টেল

পৃথিবীর অন্যতম ধনী মানুষের নামও পাবলো এসকোবার

পাবলো এসকোবারের গড় রোজগার ছিল দিন প্রতি ছ’কোটি ডলার। বছরে ২০০০ কোটি ডলারেরও বেশি। ফোর্বস ম্যাগাজিন প্রকাশিত বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত টানা ছিলেন এসকোবার। এর মধ্যে ১৯৮৯ সালে বিশ্বের সপ্তম ধনী হিসেবে তাঁর নাম উঠে আসে। সম্পত্তির পরিমাণ বিশদে পাওয়া না গেলেও অনুমান করা হয় পাবলো এসকোবারের সম্পত্তি ছিল ৩০০০০ কোটি ডলারেরও বেশি।

এত বিশাল টাকা নিয়ে সমস্যায় পড়তেন তিনি। প্রত্যেক মাসে এত টাকা সরাতে পারতেন না। টাকার পেটি কলম্বিয়ার বিভিন্ন কৃষি জমি, পরিত্যক্ত পাম্প ঘর, কার্টেল মেম্বারদের বাড়ির দেয়ালে গর্ত করে লুকোনো থাকত। মেডেলিন কার্টেলের চিফ অ্যাকাউন্টেন্ট  ছিলেন পাবলোর ভাই রবার্টো এসকোবার। তিনি তাঁর লেখা  The Accountant’s Story: Inside the Violent World of the Medellín Cartel  বইতে এ প্রসঙ্গে লিখেছিলেন কিছু কথা যা শুনে চোখ কপালে উঠবে।

এভাবেই টাকা রাখতেন এসকোবার

রবার্টো এসকোবার মেডেলিন কার্টেলের বার্ষিক আয়ের  ১০ ভাগ টাকার হিসাব পেতেন না। কারণ এই টাকা লুকিয়ে রাখার সময় ইঁদুরে খেয়ে, জল লেগে, পোকায় কেটে নষ্ট হত। পরিমাণ নেহাত কম নয় বছরে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের নোট স্রেফ নষ্ট হয়ে যেত এই সব কারণে।

প্রতি মাসে ১০০০০ ডলারের রবারের ব্যান্ড কিনতে হত বিভিন্ন বিল ও টাকার বান্ডিল তৈরি করার জন্য। ১৯৮০ দশকের শেষে কলম্বিয়ার ১০০০ কোটি ডলার বৈদেশিক দেনা মিটিয়ে দেবেন বলেছিলেন এসকোবার, শর্ত ছিল তাকে কোনওদিন  আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়া চলবেনা।

হোয়াইট হাউসের সামনে ছেলেকে নিয়ে আমেরিকার অন্যতম শত্রু এসকোবার

কলম্বিয়ার গরিব মানুষ নাম দিয়েছিলেন ‘রবিনহুড’

পাবলো এসকোবারের ছিল অগুনতি নাম,  ডন পাবলো, এল পাদ্রিনো (The Godfather), এল পেট্রন (The Boss), এল সেনর (The Lord), এল ম্যাজিকো (The Magician), এল জার ডি লা কোকেইনা (The Tsar of Cocaine)।  তবুও মানুষ বলত ‘রবিনহুড’। প্রচুর টাকা বিলিয়ে দিতেন গরিবদের মধ্যে। হাজার হাজার গৃহহীনকে বাড়ি করে দিয়েছিলেন। 

নিজের পয়সায় জমি কিনে ফুটবল মাঠ তৈরি করে কিশোরদের উপহার দিয়েছিলেন ফুটবল পাগল পাবলো। তৈরি করেছিলেন স্টেডিয়াম। স্পনসর করেন কয়েকশো ফুটবল টিমকে। তাই নিজের দেশে অসম্ভব জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন পাবলো। ১৯৮২ সালে সাংসদ নির্বাচিত হয়ে যান। যদিও দুই বছরের মধ্যে ইস্তফা দিতে হয় অপরাধ জগতের সঙ্গে যোগ থাকায়। যে আইনমন্ত্রীর জন্য ইস্তফা দিতে বাধ্য হন, তিনি খুন হয়ে যান। খুনের নেপথ্যে ছিলেন পাবলো এসকোবার।

ফুটবল পাগল মাফিয়া পাবলো এসকোবার

রাজকীয় জীবনযাত্রা

সম্পত্তির ইয়ত্তা ছিল না। তবে সবচেয়ে বিখ্যাত সম্পত্তিটি ছিল বোগোটা ও মেডেলিনের মাঝখানে ৭০০০ একরের । Hacienda Nápoles এস্টেট। বানাতে খরচ হয় ৬৩০ কোটি ডলার। এস্টেটের প্রবেশ দ্বারের মাথায় বসানো ছিল একটা বিমান। যেটি করে এসকোবার প্রথম ড্রাগ সাপ্লাই করেন আমেরিকায়।

এস্টেটের ভেতরে ছিল ফুটবল মাঠ, ডাইনোসর স্ট্যাচু, কৃত্রিম হ্রদ, বুলফাইটিং এরিনা, বিলাসবহুল গাড়ির সারি, নিজস্ব বিমানবন্দর, টেনিস কোর্ট আর নিজস্ব চিড়িয়াখানা।  চিড়িয়াখানাতে ছিল ২০০ পশু। ছিল হাতি, জেব্রা, জলহস্তী, উট, জিরাফ, উটপাখি।  বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে ড্রাগ সাপ্লাইয়ের প্লেনে করে নিয়ে আসা হত পশুগুলিকে।

এসকোবারের  Hacienda Nápoles এস্টেট

নিজের জন্য বিলাসবহুল মুক্ত কারাগার নিজেই বানিয়েছিলেন পাবলো

কলম্বিয়া সরকারের সঙ্গে আত্মসমর্পণ চুক্তি করেন এসকোবার। চুক্তিতে বলেন নিজের কারাগার নিজেই তৈরি করবেন। সেই মতো কোটি কোটি ডলার ব্যায়ে তৈরি করেন ফাইভস্টার কারাগার র La Catedral বা গির্জাl। হেলিপ্যাড, সুইমিং পুল, নাইট ক্লাব, কৃত্রিম ঝর্ণা, জিম, ফুটবল মাঠ, টেলিফোন, কম্পিউটার, ফ্যাক্স মেশিন, কী ছিল না তার মধ্যে!

১৯৯১ সালে তিনি নিজের ডিজাইন করা কারাগার নিজেই উদ্বোধন করেন। কলম্বিয়ান সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী তাঁর সঙ্গে কে কে জেলে থাকবেন, জেলে কারা কাজ করবেন তা তিনিই বেছে নেন। চুক্তিতে লেখা ছিল কলম্বিয়ার সরকারি দপ্তরের লোকেরা কারাগারের ৩ মাইলের মধ্যে আসতে পারবে না।

La Catedral , এসকোবারের ফাইভস্টার জেল

ঘুষ বা বুলেট, বাছতে হবে যেকোনও একটা

“হয় ঘুষ নাও বা বুলেট। সিদ্ধান্ত তোমার” ছিল পাবলো এসকোবারের প্রবাদ হয়ে যাওয়া উক্তি। রোজগার ও নৃশংসতায় যিনি ছাপিয়ে গেছেন বিশ্বের প্রায় সব কুখ্যাত অপরাধীকে। তাঁর গ্যাং-এর হাতে প্রায় ৪০০০ মানুষ খুন হয়েছেন। যাঁদের মধ্যে প্রচুর সরকারি অফিসার ও পুলিশ আছেন। ১৯৮৯ সালে, মাঝ আকাশে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উড়িয়ে দিয়েছিলেন একটি বিমান। কারণ সেই বিমানে আমেরিকার গুপ্তচর আসছিল এসকোবারের সন্ধানে। বিস্ফোরণে মারা যান শতাধিক নিরপরাধ মানুষ।

১৯৯২ সালের মাঝামাঝি  কারাগারে দলেরই দু’জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে নির্মম ভাবে হত্যা করেন এসকোবার। ‘মেডেলিন কার্টেল’ কয়েকটি গোষ্ঠীতে ভেঙে গিয়ে রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে। দিনে গড়ে দশ বারোটি লাশ পড়তে লাগলো। কলম্বিয়া সরকার এ বার সত্যিই পাবলোকে আসল কারাগারে ঢোকাবার প্ল্যান করলো। ১৯৯২ সালের জুলাই মাসে La Catedral ছেড়ে পালিয়ে গেলেন পাবলো।

La Catedral থেকে পালিয়ে গেলেন পাবলো

এনকাউন্টার না আত্মহত্যা!

পালাবার পর কলম্বিয়া সরকার পাবলো এসকোবারের খোঁজে বিশাল তল্লাশি অভিযান চালাতে থাকে। সাহায্য করে আমেরিকা ও এসকোবারের প্রতিদ্বন্দী মাফিয়া গোষ্ঠী লস পেপেস (Los Pepes)। ১ ডিসেম্বর,১৯৯৩। গোপন আস্তানায় জন্মদিনের পার্টি করেন পাবলো। কেক, ওয়াইন, মারিজুয়ানা দিয়ে। জীবনের শেষ জন্মদিনটা আনন্দেই কাটে বিশ্বস্ত বন্ধুদের সঙ্গে।

জীবনের শেষ জন্মদিনে দলের প্রধান ঘাতক পেপেয়ের সঙ্গে এসকোবার

ডিসেম্বরের ২ , ১৯৯৩ সাল। এসকোবার সকালে ফোন করলেন ছেলে জুয়ানকে। ফোন ট্যাপ করলো প্রতিদ্বন্দী মাফিয়া গোষ্ঠী লস পেপেস-এর মাফিয়ারা। তারা আগেই চিহ্নিত করেছিল বাড়িটিকে। যেখানে লুকিয়ে আছেন তাদের প্রধান শত্রু পাবলো এসকোবার। মাফিয়া গ্যাং-এর সদস্যরা ও কলম্বিয়ার কমব্যাট ফোর্স এক সঙ্গে হানা দিলো বাড়িটিতে।

এসকোবার ও তাঁর দেহরক্ষী জানলা দিয়ে উঠে পড়লেন কমলা টালি দেওয়া ছাদে। পেছন পেছন কলম্বিয়ার কমব্যাট ফোর্স। চলল গুলির লড়াই। প্রায় এক ঘন্টা। তারপর হঠাৎই গোলাগুলির আওয়াজ বন্ধ হয়ে গেল। বাড়িটির অদূরে অপেক্ষমান হানাদার বাহিনীর বাকি অংশ যখন এগিয়ে আসছিল বাড়িটির দিকে। তখন আরও দুটি গুলির আওয়াজ হল।

এসকোবারের মৃতদেহের পাশে কলম্বিয়ার পুলিশ

টালির ছাদ থেকে গড়িয়ে নিচে পড়লেন রক্তাক্ত পাবলো এসকোবার কানের ভেতরে গুলির গভীর ক্ষত নিয়ে। বয়েস হয়েছিল মাত্র ৪৪। আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়া হবে জেনেই কি আমেরিকার জেলের কুঠরির চেয়ে কলম্বিয়ার কবরকে পছন্দ করেছিলেন ‘কিং অফ কোকেন’ পাবলো এসকোবার?

উত্তরের সন্ধান পাওয়া যায়নি। যেমন সন্ধান পাওয়া যায়নি ইঁদুরে ও পোকায় কাটতে থাকা হাজার হাজার কোটি ডলারের। যা বিভিন্ন গোপন স্থানে নিজে হাতে লুকিয়ে রেখেছিলেন পাবলো এসকোবার।

Comments are closed.