হাসতে হাসতে শহিদ হয়েছিলেন রাইফেলম্যান যশবন্ত সিং, চিনের থাবা থেকে অরুণাচলকে ছিনিয়ে

আজ ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রত্যেকটি জওয়ান জানেন বাবা যশবন্ত সিং রাওয়াতের নাম। যশবন্ত সিং যেখানে শহিদ হয়েছিলেন, সেই জায়গাটির নাম আজ যশবন্তগড়।

১৬৪

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

রূপাঞ্জন গোস্বামী

মিষ্টি স্বভাবের গাড়োয়ালি যুবক যশবন্ত সিং রাওয়াত। ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ান, নম্বর ৪০৩৯০০৯, বয়স মাত্র ২১ বছর। যশবন্ত অরুণাচলের তাওয়াং সীমান্ত প্রহরায় আছেন তাঁর ৪ নং গাড়োয়াল রেজিমেন্টের সঙ্গে। হাসি, ঠাট্টা, গানে, গল্পে তিনি জমিয়ে রাখেন তাঁর ইউনিটকে। তিনি ইউনিটের সবার প্রিয়। সকালে তাঁর মুখ দেখলে নাকি দিন ভালো যায়।

ডিউটি চেঞ্জের সময় পোস্ট থেকে ক্যাম্পে যাওয়া আসার পথে রোজ তাঁর দেখা হতো দুই মনপা উপজাতীয় সুন্দরী যুবতীর সঙ্গে। সুন্দরী যুবতী দুটির গাল গোলাপের মতো লাল, একজনের নাম সেলা, অন্যজন তার ছোট বোন নুরা। সুঠাম চেহারা আর মিষ্টি স্বভাবের যশবন্তকে তারা অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ভালোবেসে ফেলেছিল।

শহিদ যশবন্ত সিং রাওয়াত

ভারতের পূর্বাঞ্চলের পাহাড়গুলিতে মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা। সে সমাজে নারীরাই সর্বেসর্বা। মেয়েরা এগিয়ে এসে অক্লেশে ছেলেদেরকে প্রেম নিবেদন করতে পারে। তাই একদিন দুজনে একসাথে যশবন্তকে প্রেম নিবেদন করে বসেছিল। চমকে উঠেছিলেন। বলেছিলেন তিনি আমি বিবাহিত, বাড়িতে তাঁর স্ত্রী আছে”।

নাছোড়বান্দা সেলা আর নুরা বলেছিল, “চিন্তা নেই, আমরা দুজন তোমার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্ত্রী হতেও রাজি। তোমার প্রথম স্ত্রীকে আমরা আমাদের বড় দিদি হিসেবে সেবা করব”। তাতেও রাজি নন যশবন্ত। শেষমেশ দুই বোনে একটা ফন্দি এঁটেছিল। তারা যশবন্তের জন্য রোজ ভালো রান্না করে নিয়ে আসতে লাগল। যশবন্ত ধীরে ধীরে মেয়ে দুটিকে ভালোবেসে ফেলেছিলেন। প্রেম নয়, পিঠোপিঠি বয়সের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যে যে ভালোবাসা থাকে, সেই অকৃত্রিম ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।

কিন্তু সেলা আর নুরার যশবন্তের প্রতি অনুরাগ ক্রমশ গভীর থেকে গভীরতর হতে শুরু করেছিল। রোজ বিকেলে দুই বোন নদীর ধারে যশবন্তের সঙ্গে দেখা করতে আসত। যশবন্ত তাদেরকে কখনও হাত জড়ো করে, কখনও ধমক দিয়ে বোঝাবার চেষ্টা করতেন। কিন্তু সেলা আর নুরা শুধু হাসত, উল্টে যশবন্তকেই বোঝাবার চেষ্টা করে।

৪ নং গাড়োয়াল রেজিমেন্ট ( প্রথম সারির বাম দিক থেকে দ্বিতীয় যশবন্ত সিং)
 ১৯৬২ সালের নভেম্বর মাস

ভারতের পূর্ব সীমান্তের বিভিন্ন সেক্টরে রণদামামা বাজিয়ে দিয়েছে আগ্রাসী চিন। তাওয়াং সীমান্তে গোলাগুলির আওয়াজ ক্রমশ বাড়ছে। রাইফেলম্যান যশোবন্তের রাইফেলও আগুন ঝরায় অমিতবিক্রমে। কয়েক কিলোমিটার দূরে, গ্রামের বাড়িতে দুই বোন রাতে দুচোখের পাতা এক করতে পারে না। প্রতিটা গুলির শব্দের সঙ্গে চলে তাদের প্রার্থনা। একটা প্রাণ অন্তত বাঁচুক, সে প্রাণটি তাদেরও প্রাণ যশবন্তের।

একদিন বিকেলে, নদীর ধারে তিনজন গল্প করছিল। হঠাৎ তারা দেখতে পেয়েছিল ভারতীয় সৈন্যরা সীমান্তের দিকে ছুটছে রাইফেল নিয়ে। যশবন্ত জানতে পারে চিনা সৈন্যরা আবার আক্রমণ করেছে। কালবিলম্ব না করে যশবন্ত হাতে তুলে নিয়েছিলেন রাইফেল। হরিণের গতিতে ছুটেছিলেন সীমান্তর দিকে। পিছন পিছন  ছুটেছিল সেলা আর নুরা। দৌড়াতে দৌড়াতে পিছন ফিরে বার বার বারণ করেছিলেন যশবন্ত, কিন্তু দুই বোন তাঁর কথা শোনেনি।

এর আগেও চিনা সৈন্যরা স্থানীয় মনপা উপজাতির ছদ্মবেশে ভারতীয় সেনার ওপরে হামলা চালিয়ে বড়মাপের ক্ষতি করে দিয়ে গেছে। বহু জওয়ান শহিদ হলেও ভারতীয় সেনা মাটি কামড়ে পড়ে থাকায় চিনা সেনারা ভারতীয় এলাকা দখল করতে পারেনি। ফলে তাওয়াং সীমান্তে চিন শুরু করেছিল চতুর্থ আক্রমণ। চিনের সৈন্যরা ক্রমশ মিডিয়াম মেশিনগান নিয়ে এগিয়ে আসছিল। তিনদিক থেকে বিধ্বংসী আক্রমণের মুখে পড়েছিল যশোবন্তের ৪ নং গাড়োয়াল রাইফেল।

চিনা সেনার মিডিয়াম মেশিনগানের দাপটে, ৪ নং গাড়োয়াল রেজিমেন্টের লাইট মেশিনগানগুলি চালাবার সুযোগ মেলেনি । চিনা সেনার ভয়ঙ্কর আক্রমণের মুখে পড়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৬২ জন জওয়ান ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছিলেন। বেশ কয়েকজন সেনা শহিদ হওয়ার পর, যুদ্ধরত ভারতীয় সেনাদেরকে সাময়িকভাবে পিছিয়ে আসতে বলা হয়। পিছিয়ে আসে ভারতীয় সেনা।

কিন্তু পিছিয়ে আসেননি যশবন্ত

ঘুরে ঘুরে তিনটি বাঙ্কার থেকে একাই ফায়ারিং করতে থাকেন চিনা সেনাদের ওপর। যশবন্তের পাশে তখনও ছিল সেরা আর নুরা। বাঁচলে তারা যশবন্তর সঙ্গে বাঁচবে, মরলে তাঁর সঙ্গেই মরবে। অমর হবে তাদের প্রেম। যশবন্ত এক বাঙ্কার থেকে অন্য বাঙ্কারে গিয়ে গুলি চালান। রাইফেলের ম্যাগাজিন খালি হলেই লোড করে দেয় দুই বোন। চিনা সেনারা যশবন্তের এই কৌশলে ধোঁকা খায়। তারা ভাবে তিনটি বাঙ্কারেই প্রচুর ভারতীয় সেনা মজুত আছে। ফলে চিনা সেনারা আর এগোবার সাহস পায় না। কারণ ভারতীয় বাঙ্কার থেকে ছুটে আসা প্রতিটি গুলি নির্ভুল লক্ষ্যে আঘাত করছে, একের পর এক চিনে সৈন্যের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।

যশবন্তের রণভুমি।

যশবন্ত বুঝতে পারছিলেন, গোলা বারুদ ফুরিয়ে আসছে। ধুরন্ধর চিনা সেনারা তাঁর কৌশল শীঘ্রই ধরে ফেলবে। তাই তিনি আবার সেলা আর নুরাকে গ্রামে ফিরে যেতে বলেন। কিন্তু দুই বোন কথা শোনেনি। ইতিমধ্যে কেটে গেছে প্রায় ৭২ ঘন্টা। চিনের রেড আর্মির হাজারের বেশি জওয়ানকে যশবন্ত  একা ঠেকিয়ে রেখেছিলেন তাঁর রাইফেলের ঝাঁঝে। এই ৭২ ঘন্টায় যশোবন্তর গুলিতে নিকেশ হয়েছে প্রায় ৩০০ চিনা সেনা। যশবন্তের উপহার দেওয়া এই ৭২ ঘন্টায় ভারতীয় সেনারা যুদ্ধে চিনকে কড়া জবাব দেওয়ার জন্য তৈরি হয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু, যশবন্ত যেটা আশঙ্কা করেছিলেন, সেটাই ঘটেছিল। যশবন্ত সিং ও সেলা আর নুরাকে খাবার জোগান দিতেন যে মনপা গ্রামবাসী, তাঁকে চিনের সেনারা ধরে ফেলেছিল। তার কাছ থেকে চিনের সেনারা জানতে পেরেছিল, ভারতীয় সীমান্তের তিনটি বাঙ্কার মিলিয়ে মাত্র একজন ভারতীয় জওয়ান আছেন। সেই জওয়ানই ঘুরে ঘুরে নিপুণ নিশানায় গুলি করে মারছে চিনা সেনাদের।

নিহত চিনা সৈন্যদের সমাধিক্ষেত্র।

বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন চিনা অফিসারেরা। মাত্র একজন মানুষ ৭২ ঘন্টা ধরে রুখে দিয়েছেন অমিত শক্তিশালী রেড আর্মিকে! মাত্র একজন মানুষের জন্য চিনের হাজারের বেশি সেনা তিনদিন ধরে এক জায়গায় বসে আছে! মাত্র একজন মানুষের জন্য নেফা (অরুণাচল) চিনের হাতের মুঠো থেকে বেরিয়ে যেতে বসেছে! মাত্র একজন মানুষ তাঁদের ৩০০ সেনার প্রাণ নিয়েছে! কালবিলম্ব না করে, চিন ১২ জন বাছাই করা কম্যান্ডোকে পাঠিয়েছিল যশবন্তকে মারার জন্য। রাতের অন্ধকারে তারা নিঃশব্দে যশবন্তের বাঙ্কারের কাছে এগিয়ে এসেছিল। 

১৭ নভেম্বর, ১৯৬২ 

নতুন সূর্যের আভা পূর্ব হিমালয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অতর্কিতে আক্রমণ চালিয়েছিল চিনা কম্যান্ডোরা। খোলা আকাশের নিচে ৭২ ঘন্টা ধরে প্রবল শীতে, পরিশ্রমে ও অনাহারে বিপর্যস্ত তিন যুবক যুবতী কিছু বোঝার আগেই গ্রেনেড ছুঁড়েছিল চিনারা। গ্রেনেডের স্প্লিন্টার এসে লেগেছিল সেলার মাথায়। যশবন্তের চোখের সামনে গড়িয়ে পড়েছিল প্রাণোচ্ছল তরুণী সেলা। ভারতের ইতিহাসের মোড় ঘোরানো দিনের প্রথম শহিদ হয়েছিলেন ১৯ বছরের মনপা যুবতী সেলা।

গ্রেনেডের স্প্লিন্টার আহত হলেও যশবন্তের হাতের রাইফেল থামেনি। গায়ে এসে বিঁধেছে শত্রুপক্ষের গোটা পাঁচেক বুলেট। এই অবস্থাতেও উঠে দাঁড়িয়ে একহাতে রাইফেল ধরে গুঁড়িয়ে দিলেন সাতজন চিনা কম্যান্ডোর মাথা। একসময় শেষ হয়ে গিয়েছিল রাইফেলের গুলি। ম্যাগাজিনে অবশিষ্ট আছে আর একটি  মাত্র বুলেট। তাঁকে ছেড়ে পালাতে বলেছিলেন নুরাকে। মৃত্যুপথযাত্রী যশবন্তের শেষ কথাটুকু সজল চোখে মেনে নিয়েছিল নুরা। একবার সেলা দিদির রক্তাক্ত মৃতদেহের দিকে, আর একবার প্রিয়তম যশবন্তের দিকে শেষবারের মতো তাকিয়ে নিচে নামতে শুরু করেছিল নুরা।

আরও পড়ুন: কার্গিল যুদ্ধে পাকিস্তানকে চরম শিক্ষা দিয়েছিলেন, ভারত মায়ের বীর সন্তান ক্যাপ্টেন বিক্রম বত্রা

ভারতের তাওয়াং সীমান্তে একা পড়ে রইলেন, ভারতের পূর্ব সীমান্তের অতন্দ্রপ্রহরী, ২১ বছরের যশবন্ত সিং রাওয়াত।সারা গায়ে গুলি আর স্প্লিন্টারের ক্ষত। রক্তস্নাত দেহের পাশে পড়ে আছে সেলার মৃতদেহ। দুজনের রক্তের ধারা মিশে এক হয়ে গড়িয়ে পড়ছিল  সবুজ ঘাসে। বিধাতা বুঝি রক্তরেখায় যশোবন্তের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছিলেন প্রাণহীন সেলাকে। ক্রমশ কাছে এগিয়ে আসছিল চিনা মিলিটারি বুটের আওয়াজ। দূরে, পাহাড়ে শোনা যাচ্ছে চিনা সৈন্যদলের উল্লাস।

শেষবারের মতো পিছন ঘুরে ভারত মা’কে দেখেছিলেন যশবন্ত। নাকি ঘোলাটে চোখে খুঁজেছিলেন গাড়োয়ালের পাহাড়ি গ্রামে তার পথ চেয়ে বসে থাকা মা’কে। তারপর, ঠান্ডায় শক্ত হতে থাকা সেলার দেহের দিকে একবার তাকিয়ে, রাইফেলের নলটা গলার নিচে ঠেকিয়ে ট্রিগারে চাপ দিয়েছিলেন যশবন্ত সিং রাওয়াত। বাঙ্কার থেকে গড়িয়ে, গভীর খাদের বুকে হারিয়ে গিয়েছিল ২১ বছরের এক দুঃসাহসী যুবকের দেহ।

পাথরের আড়াল থেকে নুরা চোখের সামনে দেখেছিল প্রিয়তমের মৃত্যু। নুরাকে পালাতে বলা সত্ত্বেও মৃত দিদি ও প্রিয়তম যশবন্তকে ছেড়ে পালায়নি নুরা। নাকি নুরাও মরতে চেয়েছিল। মরে মিলতে চেয়েছিল সেলা দিদি আর যশোবন্তের সঙ্গে। চিনা সৈন্যের হাতে ধরা পড়ে গিয়েছিল ১৭ বছরের নুরা। অকথ্য অত্যাচারের পর টেলিফোনের তার দিয়ে নুরাকে ফাঁসিতে লটকে দিয়েছিল চিনা সেনা। এক গাড়োয়ালি যুবকের প্রেমে পাগল হয়ে নিজেদের প্রাণ ভারত মায়ের পায়ে অর্ঘ্য দিয়ে গিয়েছিল দুই মনপা সুন্দরী সেলা আর নুরা।

পিছু হটেছিল চিনা সৈন্যদল

শহিদ যশবন্ত সিং রাওয়াত চিনের সেনাদের ৭২ ঘন্টা আটকে রাখায়, প্রচুর সময় পেয়ে গিয়েছিল ভারতীয় সেনা। প্রচুর গোলাবারুদ ও সৈন্য নিয়ে আক্রমণ শানিয়েছিল চিনের অগ্রবর্তী বাহিনীর ওপর। ভারতীয় সেনার রুদ্রমূর্তিতে পিছু হটেছিল চিনা সৈন্যদল। যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছিল। যুদ্ধশেষে ভারতীয় সেনা যুদ্ধক্ষেত্রে যশবন্ত সিংকে খুঁজে পায়নি। ৭২ ঘন্টা ধরে তাঁর অবিশ্বাস্য মরণপণ লড়াইয়ের খবরও ভারতীয় সেনার কাছে ছিল না।

ভারতীয় সেনা যখন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলাতক ভেবে যশবন্ত সিং-এর বিরুদ্ধে কোর্ট মার্শাল করার কথা ভাবছে, সেই সময়, একদিন রাত্রে যুদ্ধক্ষেত্রের দায়িত্বে থাকা ভারতীয় জেনারেল একটা স্বপ্ন দেখেছিলেন। স্বপ্নে তিনি দেখেছিলেন, সম্পূর্ণ রণসাজে সজ্জিত হয়ে রাইফেলম্যান যশবন্ত সিং তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে। তিনি জেনারেলকে বলছেন, কাপুরুষের মতো রণাঙ্গন থেকে তিনি পালাননি, তিনি কোথায় তা চিনা সেনাদের কাছ থেকে জেনে নিতে।

ভারতীয় সেনা ও চিনা সেনার ফ্ল্যাগ মিটিংয়ে, চিনা সেনাদের মুখ থেকে মৃত্যুঞ্জয়ী বীর শহিদ যশবন্ত সিংহের অবিস্মরণীয় লড়াইয়ের কাহিনী শুনেছিল ভারতীয় সেনা। শ্রদ্ধায় উঠে দাঁড়িয়েছিল দুই বাহিনী। এক ভারতীয় সেনার আমরণ লড়াইকে কুর্ণিশ জানিয়েছিল চিনা সৈন্যদল।

যশবন্তগড় (তাওয়াং)।আজও রাইফেল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন যশবন্ত সিং রাওয়াত।
 রাইফেলম্যান যশবন্ত সিং হয়ে গিয়েছিলেন বাবা যশবন্ত সিং রাওয়াত

আজ ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রত্যেকটি জওয়ান জানেন বাবা যশবন্ত সিং রাওয়াতের নাম। যশবন্ত সিং যেখানে শহিদ হয়েছিলেন, আজ সেই জায়গার নাম যশবন্তগড়। আজও সেখানে তাঁর নিজস্ব জিনিসপত্র প্রদর্শিত হয়। যশবন্ত সিংয়ের ৪ নং গাড়োয়াল রেজিমেন্ট আজ ভারতের পশ্চিম প্রান্তের সুরক্ষার দায়িত্বে নিযুক্ত। তবুও অরুণাচলে, তাঁর কক্ষে আজও ৪ নং গাড়োয়াল রেজিমেন্টের ছয় জওয়ান প্রহরায় থাকেন। ভারতীয় সেনাবাহিনী তো বটেই, এমনকি চিনা জওয়ানরাও স্বপ্নে দেখে বাবা যশবন্ত সিং রাওয়াতকে। রণসাজে সজ্জিত হয়ে ভারতীয় সীমান্তে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে আছেন।

বাবা যশবন্ত সিং মন্দির। এখানে প্রণামী দেওয়া বারণ
অমর হয়ে গিয়েছিলেন সেলা আর নুরাও

শহিদ সেলা ও শহিদ নুরাকে ভোলেনি অরুণাচল। দিরাং থেকে ৪০ কিমি দূরে ১৩,৭২১ ফুট উচ্চতায় অবস্থান করছে সেলা পাস ও সেলা লেক।  অরুণাচল ভোলেনি সেলার মিষ্টি বোন নুরাকেও। তাওয়াং-এর ঠিক আগে, জং শহর থেকে ২ কিমি দূরে, ১০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত ভারতের একটি অন্যতম সুন্দর জলপ্রপাতের নাম দেওয়া হয়েছিল নুরানাং ফলস। ঝরণার ঠিক নিচের বহতা নদীটির নামও দেওয়া হয়েছিল নুরানাং।

এই মনপা যুবতীদের গ্রামেই বাস করতেন শহিদ সেলা আর শহিদ নুরা।

এই পৃথিবী দেখেছে বহু বিখ্যাত ও অমর প্রেমের বিয়োগান্তক পরিণতি। মানুষ মনে রেখেছে রাধা-কৃষ্ণ, লায়লা-মজনু, হীর-রন্ঝা, সিরি-ফারহাদ, আরও কত প্রেমগাথাকে। কিন্তু যশবন্তের প্রতি সেলা আর নুরার প্রেম, বুঝি সব প্রেমকে ছাপিয়ে গিয়েছে। অবোধ পাহাড়ি যুবতী দুটি পায়নি কিছুই। শুধু মাত্র প্রেমের আশায় হাসতে হাসতে জীবন দিয়ে দিয়েছিল। ঠিক যে ভাবে দেশপ্রেমে পাগল যুবক যশবন্ত, চিনের থাবা থেকে অরুণাচল ছিনিয়ে নিয়ে, ভারত মায়ের আঁচলে বেঁধে রেখে হাসতে হাসতে শহিদ হয়ে গিয়েছিলেন।

( শহিদ যশবন্ত সিং-এর মৃত্যু নিয়ে অনেক কাহিনী ছড়িয়ে আছে অরুণাচলের পাহাড়ে পাহাড়ে। মনপা উপজাতির মানুষরা যে কাহিনীটিকে ৫৬ বছর ধরে তাঁদের উত্তরপুরুষদের বলে আসছেন, দ্য ওয়ালের পাঠকদের সামনে সেই কাহিনীটিই তুলে ধরা হল।)

আরও পড়ুন:লেফটেন্যান্ট কণাদ ভট্টাচার্য্য, রণাঙ্গন কার্গিলের এক দুঃসাহসী যোদ্ধা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More