কে এই ভারতীয়, যিনি পেয়েছিলেন ‘কাইজার-ই-হিন্দ’, ‘নাইটহুড’ এবং ‘ভারতরত্ন’ সম্মান!

মহীশুরের রাজার এই দেওয়ানকে স্মরণ করে কেন প্রতিবছর তাঁর জন্মদিন ১৫ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে পালিত হয় 'ইঞ্জিনিয়ারস ডে'!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

রূপাঞ্জন গোস্বামী

১৮৬১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর,বর্তমান কর্নাটকের চিক্কাবল্লাপুর জেলার মাদ্দেনাহাল্লি গ্রামে তেলেগু ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম নিয়েছিল এক আশ্চর্য প্রতিভাবান বালক বিশ্বেশ্বরয়া। বাবা মোক্ষগুন্দম শ্রীনিবাস শাস্ত্রী ছিলেন বিখ্যাত সংস্কৃত পণ্ডিত। চারদিকে খুব নামডাক তাঁর। বাড়িতে পড়াশোনা ও চারুকলা চর্চার পরিবেশ থাকায় বিশ্বেশ্বরয়া খুব কম বয়েসেই সংস্কৃত ভাষা ও ছবি আঁকায় তার পারদর্শিতা দেখিয়েছিল।

বিশ্বেশ্বরয়ার বাবারও অনেক স্বপ্ন ছিল তাঁর মেধাবী ছেলেটিকে নিয়ে। কিন্তু বিশ্বেশ্বরয়ার বয়েস যখন মাত্র ১২, অকালেই প্রয়াত হয়েছিলেন  শ্রীনিবাস শাস্ত্রী। পরিবারটির মাথার ওপর থেকে ছাদ সরে গিয়েছিল। জীবনভোর সরস্বতীর বন্দনায় নিমগ্ন থাকায় মা লক্ষীর দিকে বেশি মন দিতে পারেননি শ্রীনিবাস শাস্ত্রী। ফলে সংসারে নেমে এসেছিল অভাব।

বিশ্বেশ্বরয়ার মা ভেঙ্কটলক্ষাম্মা তবুও ছেলের পড়াশুনা চালিয়ে যান। মেধাবী ছেলে অল্প বয়েসেই বোঝে সব। বাবার মৃত্যু দ্রুত তাকে সাবালক করে দিয়েছে। সে দিনের বেশিরভাগ সময় কাটায় বই নিয়ে। খেলাধূলা করে কম। সে জানে তার হাতে নষ্ট করার মতো সময় নেই। বাকিটা সময় মায়ের সাথে সংসারের কাজে হাত লাগায়।

চিক্কাবল্লাপুরে স্কুলের পাঠ শেষ করে বিশ্বেশ্বরয়া পাড়ি দিয়েছিল ব্যাঙ্গালোরে। সেন্ট্রাল কলেজ থেকে  কলা বিভাগে স্নাতক হয়েছিলেন দুর্দান্ত রেজাল্ট করে। মায়ের স্বপ্ন ছেলে এবার চাকরি করবে। কিন্তু এ ছেলে সে ছেলে নয়।

কলাবিভাগের ছাত্র হল ইঞ্জিনিয়ার!

বিশ্বেশ্বরয়া চলে গিয়েছিলেন পুনেতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে। চমকে গিয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহপাঠীরা। কিছুটা অবজ্ঞাও করেছিলেন কলাবিভাগের ছাত্রটিকে। একটার পর একটা পরীক্ষায় সেভাবেই সহপাঠী ও শিক্ষকদের চমকে দিয়েছিলেন গ্রাম থেকে আসা বিশ্বেশ্বরয়া। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়েও দারুণ ফলাফল করেছিলেন মোক্ষগুন্দম বিশ্বেশ্বরয়া.

মোক্ষগুন্দম বিশ্বেশ্বরয়া

চাকরি যেন ওঁত পেতে ছিল। বোম্বে গভর্নমেন্ট সার্ভিস থেকে ডাক পেলেন। ১৮৮৪ সালে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে চাকরি শুরু করলেন। এরপর যোগ দিয়েছিলেন ভারতীয় কৃষি কমিশনে। যেখানে তাঁর উদ্ভাবনীশক্তির ছাপ ফেলতে শুরু করেন জলসেচের নতুন নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করে। দাক্ষিণাত্যের খরা কবলিত এলাকার জনসাধারণের জীবন পাল্টে দিয়েছিলেন বিশ্বেশ্বরয়া।

বাঁধের জল নির্গমণের জন্য স্বয়ংক্রিয় ফ্লাড-গেট আবিষ্কার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তাবড় তাবড় ইঞ্জিনিয়ারদের। স্বয়ংক্রিয় ফ্লাড-গেট নির্মাণের পেটেন্ট তাঁর নামে ছিল। বিশ্বেশ্বরয়ার আবিষ্কার করা ফ্লাড-গেট ১৯০৩ সালে প্রাথমিক ভাবে বসানো হয়েছিল খাদাকভাসলা রিজার্ভারে।

পরে একই ধরণের গেট বসান হয়েছিল তিগরা ও কৃষ্ণ রাজা সাগর জলাধারে। বিশ্বেশ্বরয়ার মধ্যে অসামান্য সম্ভাবনা দেখতে পেয়ে তাঁকে সরকার ১৯০৬-০৭ সালে এডেন পাঠিয়ে দেয় জল সরবরাহ ও পয়ঃপ্রণালী সংক্রান্ত নতুন পদ্ধতি নিয়ে পড়াশুনা করার জন্য। ১৯০৬ সালে কৃষি ও জলসেচ ও জলাধার নির্মানের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য পেয়েছিলেন কাইজার-ই-হিন্দ সম্মান।

বিশ্বেশ্বরয়া ! নাকি সাক্ষাত বিশ্বকর্মা !

১৯০৮ সালে চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর, বিশ্বেশ্বরয়াকে মহীশুরের মহারাজা কৃষ্ণরাজেন্দ্র ওয়াদেয়ার অনুরোধ করেছিলেন মহীশুরের উন্নতিকল্পে কিছু করার জন্য। কিন্তু তিনি হায়দ্রাবাদের নিজামকে কথা দিয়ে দিয়েছিলেন হায়দ্রাবাদের জন্য নিশ্চয়ই কিছু করবেন। ১৯০৯ সালের ১৫ এপ্রিল হায়দ্রাবাদের নিজামের আমন্ত্রণে সাত মাসের জন্য হায়দ্রবাদ স্টেটের চিফ ইঞ্জিনিয়ারের পদ গ্রহণ হয়েছিলেন। মাত্র সাতমাসেই হায়দ্রাবাদ শহরকে নিঁখুত করে গড়ে তুলেছিলেন। প্রতি বর্ষায় বন্যাকবলিত হায়দ্রাবাদ শহরকে বন্যার হাত থেকে চিরতরে বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন মোক্ষগুন্দম বিশ্বেশ্বরয়া।

১৯০৯ সালের নভেম্বর মাসে হায়দ্রাবাদ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন মাইসোর, স্টেটের চিফ ইঞ্জিনিয়ার হয়ে। একই সঙ্গে সামলে নিচ্ছিলেন ভারতীয় রেলের সেক্রেটারির পদ। মহীশুরকে প্রায় সোনায় মুড়ে দিয়েছিলেন বিশ্বেশ্বরয়া। এরকম উন্নয়নের জোয়ার এর আগে ভারত দেখেনি। ১৯১১ সালে মান্দ্যা জেলার কাবেরী নদীর সঙ্গে হেমবতী নদীর সঙ্গমস্থলে ২০০০০ একর এলাকা জুড়ে ওপর আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি করা শুরু হয়েছিল ভারতের অন্যতম বৃহত জলাধার কৃষ্ণরাজাসাগর। যেটি মান্দ্যা জেলার বন্ধ্যা জমিতে সবুজ বিপ্লব ঘটিয়েছিল। মহীশুর ও ব্যাঙ্গালোর শহরে পানীয় জলের চিরন্তন সমস্যার সমাধান করেছিল। অতিকায় এই জলাধার ও জলাধারের পাশে থাকা বৃন্দাবন গার্ডেনের মূল স্থপতি ছিলেন বিশ্বেশ্বরয়া।

কৃষ্ণরাজাসাগর জলাধার

ব্রিটিশদের দিল্লি দরবার থেকে ১৯১১ সালে বিশ্বেশ্বরয়া পান C.I.E. (Companion of the Indian Empire) উপাধি এবং রাজা পঞ্চম জর্জ তাঁকে ‘নাইট ‘ (Knight Commander of the Order of the Indian Empire) উপাধি দিয়েছিলেন ১৯১৫ সালে। মোক্ষগুন্দম বিশ্বেশ্বরয়াকে বিশ্ব চিনতে শুরু করেছিল স্যার এমভি নামে। দেশ বিদেশ থেকে ডাক আসছিল, কিন্তু স্যার এমভি তখন মগ্ন ছিলেন মহীশুরকে নিয়ে। রাজা কৃষ্ণরাজেন্দ্র ওয়াদেয়ার ১৯১২ সালে বিশ্বেশ্বরয়াকে মহীশুরের দেওয়ান পদে অভিষিক্ত করেছিলেন। দেওয়ান পদে বিশ্বেশ্বরয়া ছিলেন ১৯১৮ সাল পর্যন্ত।

চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসতেন স্যার এমভি 

দেশপ্রেম,সততা, একাত্মতা, সক্ষমতা ও বুদ্ধিমত্তাকে সম্বল করে ডিঙিয়ে গিয়েছিলেন একের পর এক বাধার পাহাড়।  তাঁর একার চেষ্টায় মহীশুরের বুকে একে একে মাথা তুলেছিল মাইসোর সোপ ফ্যাক্টরি, মাইসোর স্যান্ডাল অয়েল ফ্যাক্টরি, দ্য ব্যাঙ্ক অফ মাইসোর (বর্তমানে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ মাইসোর),ভদ্রাবতী আয়রন ওয়ার্কস, মাইসোর আয়রন অ্যান্ড স্টিল ওয়ার্কস, মাইসোর চেম্বার অফ কমার্স, শ্রী জয়াচামারাজেন্দ্র পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, সেঞ্চুরি ক্লাব, হেব্বাল এগ্রিকালচার স্কুল। যেটির নাম এখন ইউনিভার্সিটি অফ এগ্রিকালচারাল সায়েন্স।

কন্নড় ভাষার উন্নতিকল্পে তৈরি করেছিলেন কন্নড় সাহিত্য পরিষদ। একটি জনসভায় তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, মাত্র কয়েক লক্ষ জনসংখ্যা নিয়ে অস্ট্রেলিয়া বা কানাডার যদি নিজস্ব ইউনিভার্সিটি তৈরি করতে পারে, তাহলে ৬০ লক্ষ জনসংখ্যার মহীশুরে কোনও ইউনিভার্সিটি থাকবে না কেন? অনতিবিলম্বে মহীশুর পেয়েছিল মাইসোর ইউনিভার্সিটি। বিশ্বেশ্বরয়া সকলের জন্য বাধ্যতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন করেছিলেন মহীশুরে,পরে যেটা  মৌলিক অধিকার হিসেবে গৃহীত হয়েছিল ভারতীয় সংবিধানে।

মাইসোর ইউনিভার্সিটি

ব্যাঙ্গালোরে প্রথম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজটি তৈরি হওয়ার পিছনেও স্যার এমভি। ১৯১৭ সালে তাঁর তৈরি করা গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজটির নাম আজ ‘ইউনিভার্সিটি বিশ্বেশ্বরয়া কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং’। ব্যাঙ্গালোরে তৈরি করেন জয়াচামারাজেন্দ্র অকুপেশনাল ইন্সটিটিউট। এটি তৈরি করার জন্য ২০০০০০ টাকার পুরোটাই দিয়েছিলেন বিশ্বেশ্বরয়া। এই টাকা তিনি ভদ্রাবতী আয়রন ওয়ার্কস থেকে উপার্জন করেছিলেন।

ব্যাঙ্গালোরের দক্ষিণে আধুনিক শহর জয়ানগরের নকশা তিনিই করেছিলেন। শহরটির নকশাটিকে এশিয়ার শ্রেষ্ঠ শহরের নকশা বলে মনে করেন বিশ্বের বিভিন্ন স্থপতিরা। নিজের রাজ্যের বাইরেও অনেক কাজ করেছেন বিশ্বেশ্বরয়া। বিভিন্ন রাজ্যের আমন্ত্রণে বিভিন্ন জলাধার বানিয়ে দিয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি বিশাখাপত্তনম বন্দরটিকে সমুদ্রের ঢেউয়ের আঘাতজনিত ক্ষয় থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন।

প্রচারের পিছনে ছোটেননি বিশ্বেশ্বরয়া, প্রচার ছুটত তাঁর পিছনে

তাঁকে সাম্মানিক D.Sc,D.Litt, LLD  প্রভৃতি উপাধি দিয়ে গর্বিত হয়েছিল ভারতের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলি। তাদের মধ্যে ছিল এলাহাবাদ ইউনিভার্সিটি, বোম্বে ইউনিভার্সিটি,মাইসোর ইউনিভার্সিটি, পাটনা ইউনিভার্সিটি ,বেনারস ইউনিভার্সিটি,অন্ধ্র ইউনিভার্সিটি,ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি থেকে যাদবপুর ইউনিভার্সিটি। দিনের বেশিরভাগ সময় কাজে ব্যস্ত থাকার ফাঁকেই লিখেছিলেন প্রচুর বইও। যা আজও ‘ভবিষ্যতের ভারত’ নির্মাণের ভিত হয়ে আছে।

স্যার এমভি ছিলেন  টাটা আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানির (TISCO)গভর্নিং কাউন্সিলের মেম্বার। লন্ডনের ‘ব্যাক বে’ এনকোয়ারি কমিটির মেম্বার। ভারতীয় অঙ্গরাজ্যগুলির ভবিষ্যত নির্ধারণকারী কমিটির মেম্বার। লন্ডন ইন্সটিটিউট অফ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের মেম্বার। পেয়েছিলেন ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ সায়েন্সের ফেলোশিপ। সারাজীবনে যত সম্মান পেয়েছিলেন তা বুঝি লিখে শেষ করা যাবে না। ১৯৫৫ সালে পেয়েছিলেন জীবনের সেরা সম্মান ‘ভারতরত্ন’।

ভারতের রত্ন পেলেন ‘ভারতরত্ন’

  তাঁকে ভালোবাসতেন গান্ধীজি ও জওহরলাল

আধুনিক ভারত গঠনে যে সব ভারতবাসীর অসামান্য অবদান ছিল তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন স্যার এমভি। তাঁর মন্ত্র ছিল, হয় শিল্প নয় ধ্বংস। গান্ধীজির দর্শনও ছিল তাই। দুজনে দুজনকে পছন্দ করতেন। অবশ্য ১৯২১ সালে গান্ধীজি অসহযোগ আন্দোলন শুরু করলে স্যার এমভি গান্ধীজির সঙ্গে সহমত হননি। তবুও ১৯২৭ সালের আগস্টে গান্ধীজি মাইসোর স্টেটে এসে বিশ্বেশ্বরয়ার প্রভূত প্রশংসা করেছিলেন। বলেছিলেন মাইসোরে তাঁর জন্ম হলেও বিশ্বেশ্বরয়া ছিলেন সমগ্র ভারতের কাছে গর্বের।

ডাকটিকিটে স্যার এমভি

বিশ্বেশ্বরয়ার শৃঙ্খলাপরায়ণতা, পেশাদারি মনোভাব, দায়িত্ববোধ ও সময়ানুবর্তিতা অবাক করে দিত যে যুগের ভারতবাসীদের। তাঁকে দেখে নাকি ঘড়ি মেলাতেন অফিসের লোকজন। নিজে সবসময় পরিপাটি পোশাকে থাকতেন। সবাইকে থাকতে বলতেন। ব্যাপারটি চরম পর্যায়ে গিয়েছিল ১৯৩০ সালে। গান্ধীজি তখন গোলটেবিল বৈঠকে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন, স্যার এমভি গান্ধীজিকে বিদেশে ভালো পোশাক পরে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। যথারীতি গান্ধীজি স্যার এমভির কথা মানেননি।

স্যার এমভির ১০০ বছরের জন্মদিন পালিত হয়েছিল ব্যঙ্গালোরের লালবাগে। বিশেষ বিমানে নেহেরু উড়ে এসেছিলেন ভারতের এই মহান সন্তানকে সম্মানিত করতে। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহীশুরের রাজা জয়াচামারাজা ওয়াদিয়ার।

জওহরলালের সঙ্গে স্যার এমভি

১৯৬২ সালের ১২ এপ্রিল ১০২ বছর ৬ মাস বয়েসে প্রয়াত হন মোক্ষগুন্দম বিশ্বেশ্বরয়া। শেষইচ্ছা অনুযায়ী তাঁর অন্তিম সংস্কার করা হয় জন্মস্থান মুদ্দানাহাল্লিতে। শেষযাত্রায় হাঁটতে থাকা মহীশুরের সঙ্গে  সেদিন কেঁদেছিল সারা ভারত, ফুলে ফুলে ভরে গিয়েছিল স্যার এমভির পার্থিব শরীর। তাই নবভারত গঠনে তাঁর অবদানকে স্মরণ করে প্রতিবছর তাঁর জন্মদিন ১৫ সেপ্টেম্বরকে ভারত উদযাপন করে ‘ইঞ্জিনিয়ারস ডে’ হিসেবে।

নিরপেক্ষতা ছিল মোক্ষগুন্দম বিশ্বেশ্বরয়ার জীবনের শেষ কথা

তাঁকে যখন মহীশুরের রাজা কৃষ্ণরাজেন্দ্র ওয়াদেয়ার দেওয়ানের পদের জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন, বিশ্বেশ্বরয়া তাঁর সমস্ত আত্মীয়দের একদিন নৈশভোজে ডেকেছিলেন। সেখানে বলেছিলেন, তিনি একটিই শর্তেই মহীশুরের রাজা প্রস্তাবটি গ্রহণ করবেন, তাঁর আত্মীয়রা তাঁর কাছে যেতে পারবেন না এবং তাঁর দেওয়ান হওয়ার সুযোগ নিয়ে নিজের নিজের ব্যক্তিগত কাজ করিয়ে নিতে পারবেন না।

আজকের ভারতে এরকম কল্পনা করাও বাতুলতা। তবে মোক্ষগুন্দম বিশ্বেশ্বরয়া একটা কথা প্রমাণ করে দিয়ে গেছেন। সেটা হল, দেশের সেবা করতে গেলে রাজনীতি করার দরকার হয় না।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More