শনিবার, মার্চ ২৩

মেলা পূর্ণ ছিল, চলেছে শূন্যের দিকে…

অরিন্দম বসু

এখন ভাটা। শুধু নদীতে নয়, মেলাতেও। আর মানুষের মনে।

গঙ্গাসাগরে মকর সংক্রান্তির স্নান শেষ। মেলার ভিড় বয়ে যেতে শুরু করেছে উলটো স্রোতে।

সকাল থেকে মাইকে ঘোষণা শোনা যাচ্ছিল— তীর্থযাত্রীদের কাছে অনুরোধ, তাঁরা দয়া করে কেউ বাসস্ট্যান্ডে যাবেন না। নদীতে জল না থাকায় ভেসেল চলেছে না। কচুবেড়িয়া পর্যন্ত বাস সার্ভিসও বন্ধ রয়েছে। সব চালু হয়ে গেলে জানিয়ে দেওয়া হবে। তত ক্ষণ আপনারা মেলাতেই সময় কাটান।

সরকারি ঘোষণা যা-ই বলুক, ঘরমুখো মানুষ চঞ্চল হয়ে ওঠে। ভাঙা মেলায় কে থাকতে চায় আর! আসার সময় যাদের হাতে, কাঁধে, মাথায় লটবহর নিয়ে চলতে দেখেছিলাম তাদের সে ভাবেই দেখতে পাচ্ছি ফিরে যেতে। তবে ক্লান্তির পোঁচ পড়েছে মুখে, শরীরে। চুল উসকো-খুসকো, হাতে-পায়ে, জামাকাপড়ে মেলার ধুলোর ধূসরতা। কেউ কেউ থেমে পড়ে জানতে চাইছে, ‘বাসস্ট্যান্ডের রাস্তাটা কোন দিকে?’ কিংবা ‘লঞ্চ চালু হুয়া হ্যায় আভি?’ সাগরসঙ্গম থেকে ফেরার পথে রাখাল মৈত্র মহাশয়ের কাছে জানতে চেয়েছিল, ‘দেশে পহুঁছিতে আর কত দিন আছে?’ মনে হল ‘দেবতার গ্র‌াস’-এর সেই রাখালের মতোই এরাও যেন অস্থির।

বেলা দু’টোর পরে বাস চলতে শুরু করল। নদীতে লঞ্চ এবং বার্জও চলছে। ফলে দেখতে পেলাম সন্ধের মুখে মুখে ভিড় অনেক পাতলা হয়ে এল। যে ঘরে ছিলাম, তার গায়েই আরও চার-পাঁচটি ঘর। সামনে টানা ঢাকা দেওয়া বারান্দায় খড় বিছানো। ফরাক্কা, আসানসোল, বার্নপুর থেকে আসা একটি বিরাট দল সেখানেই ছিল। মোট চবিবশ জন। সকলেই মহিলা। সব সময়ে কলরব। গুনগুন গান কখনও। আট জন পুরুষও আছেন। তাঁরা ছিলেন ছেলেদের ঘরে। মেলায় গিয়ে এদের মধ্যে থেকেই হারিয়ে গিয়েছিলেন শক্তিরানি দাস। বছর ষাটেক বয়েস। বিধবা মানুষ, সাদার ওপরে নীল ফুলছাপ শাড়ি। বার্নপুর থেকে কিছু দূরে কালাঝরিয়া গ্র‌ামে থাকেন। সবাই মিলে তাঁকে খুব বকাবকি শুরু করে দিয়েছে। এক ভদ্রলোক এসে চেঁচাচ্ছিলেন। তিনিই বোধ হয় এদের দলপতি। ‘তুমি তো আমার প্রে‌শার বাড়িয়ে দিয়েছো। চিন্তায় চিন্তায় মাথাখারাপ হয়ে যাচ্ছিল। ফিরে গিয়ে মুখ দেখাতাম কী করে অ্যাঁ!’ শক্তিরানি মাথা নামিয়ে চুপ।

যিনি রাগারাগি করছিলেন, তাঁর কাছে জানতে চাইলাম, ‘ফোন যে ছিল না সে তো বুঝতে পারছি। কিন্তু ওঁর কাছে নাম-ঠিকানা লেখা কোনও কাগজও ছিল না? সবাইকে তো সঙ্গে রাখতে বলে এ রকম জায়গায়।’ মানুষটি আরও রেগে বললেন, ‘সব ছিল। সে কাগজ উনি ব্যাগে ভরে রেখে মেলায় গিয়েছিলেন। তা হলে সেটা কোন কাজে লাগবে বলুন দেখি! মাইকে অ্যানাউন্স করিয়ে, হয়রান হয়ে পাঁচ নম্বর রাস্তার কালভার্টের কাছ থেকে খুঁজে পাওয়া গেল শেষে।’ আমি বাইরের লোক কথা বলছি দেখে বোধ হয় শক্তিরানি মাথা তুললেন এবার। বিড়বিড় করে বললেন, ‘পাঁচ বচ্ছর হয়ে গেল মেলায় আসছি, হারিয়ে যাওয়া যে দোষ তা জানি রে বাবা। এলে তোমায় ফিরতেই হবে। কেউ কি ইচ্ছে করে হারায়? সবাই তো ঘরেই ফিরতে চায়। তা আমার ফেরা না ফেরা সবই সমান। জীবনটাই তো ফুরিয়ে এল।’

জীবনের শুরু কবে তা সবাই জানে, কিন্তু ফুরোবে ঠিক কবে তা কেউ জানে না। তাকে যদি এক বিরাট মেলা বলে ধরে নিই, তা হলে বলতে হয় বারবার সেখানে মানুষ হারায়। আবার ফিরেও আসে। কেউ বোঝে। কেউ বোঝে না।

আমি আশ্রম ছেড়ে বেরিয়ে এলাম। সন্ধে হওয়ার অনেক আগে থেকেই চার দিকে সাদা, হলুদ আলো জ্বলে উঠেছিল। এখন কুয়াশা গোটা মেলার ওপর বিছিয়ে দিয়েছে তার চাদর। দেখতে পাচ্ছি দূরের রাস্তা, হোগলার ঘর, তাঁবু, মানুষজন সবই জলরঙে আঁকা ছবি হয়ে আবছা। দিনে ও রাতে এত মানুষের কোলাহল মিশে থাকত মেলার বাতাসে। তা-ও ফিকে হয়ে এসেছে। গঙ্গাসাগরের বহু কথিত ঠান্ডা ছিল না এই ক’দিন। আজ তা জানান দিচ্ছে। কেন শীত নেমে এল? বহু মানুষ তাদের উষ্ণতা নিয়ে মেলা ছেড়ে চলে গিয়েছে বলে?

মনে পড়ে গেল কুবেরের কথা। পদ্মানদীর মাঝি কুবের। কোথাও যাওয়ার আগে সে বলত, ‘মেলা করি কত্তা।’ বলত, ‘কাইল বিয়ানে মেলা দিমু।’ সেখানে মেলা মানে তো রওনা দেওয়া। মেলা তো তা হলে চলে যাওয়ারও।

দূর থেকে মাঝে মাঝে হইহই ভেসে আসছে। বাসে ওঠার ধাক্কাধাক্কি চলছে নিশ্চয়। কাল আমাকেও মেলা করতে হবে। এসেছিলাম কাকদ্বীপ দিয়ে। ফিরব চেমাগুড়ি অথবা বেণুবন হয়ে। লঞ্চে নামখানা। তারপর ট্রেন। রামকৃষ্ণ মিশনের আশ্রম বছরভর যিনি দেখাশোনায় আছেন, সেই শ্রীহরি দাস গেট ঠেলে বেরিয়ে এলেন। বললেন, ‘ফাঁকা সময়ে আসুন না এক বার। কেউ থাকে না তখন। এই যে এত আলো দেখছেন, থাকবে কয়েকটা, বাকি সব খুলে নিয়ে যাবে। প্র‌ায় অন্ধকার হয়ে যাবে সব। ১২ বছর ধরে রয়েছি এখানে। একাই থাকি, একাই ঘুরে বেড়াই। কথা বলার লোকও পাই না।’

রাতে পঙ্‌ক্তি ভোজন শুরু হওয়ার আগে সকলকে জানিয়ে দেওয়া হল— আগামী কাল অর্থাৎ ১৬ তারিখ সকাল সাতটায় মেলার এ বারের সেবা শিবির বন্ধ হয়ে যাবে। যাত্রীরা যেন দুর্গা দুর্গা বলে বেরিয়ে পড়েন।

খাওয়া শেষ হতে হতে এগারোটা পেরিয়ে গেল। বারোটা  নাগাদ হাঁটতে বেরোলাম। মানুষ হারিয়ে যাওয়ার খবর কানে আসছে। তবে কমে এসেছে। এখানে সূচনা কেন্দ্রের কাছে হ্যাম রেডিওর অফিস। দরকারে তাদের কাছে যেতে বলা হচ্ছে। মাঝে মাঝে মেলার কোনও কোনও জায়গায় আলো নিভে যাচ্ছে। জ্বলে উঠছে খানিক পরে। দড়ি দিয়ে বাঁশ টেনে যেসব গেট আটকে দেওয়া হচ্ছিল ভিড়ের জন্য, এখন সে সব তুলেই রাখা। চার নম্বর রাস্তায় কুকুর দৌড়চ্ছে নিঃশব্দ পায়ে। পিছনে কুঁইকুঁই করে ছুটছে বাচ্চাগুলো। এদের দেখতে পাইনি এর আগে। মাথার ওপর দিয়ে রাতচরা পাখি উড়ে যাচ্ছে ডাকতে ডাকতে। মানুষের কথা, মাইকের শব্দ, আলোর দাপটে এরা বোধ হয় এত দিন ঘরছাড়া ছিল। এ বার ফিরছে তারাও।

আরও কিছুটা এগোতেই রাস্তায় প্র‌ায় ছুটে এসে আমাকে ধরলেন এক জন। মুখে ছড়িয়ে রয়েছে ভয় আর চিন্তা। ‘হাসপাতালকা রাস্তা কিধার হ্যায় বাবু?’ পিছনে আরও দু’-তিন জন ধরাধরি করে নিয়ে আসছিল আর এক জনকে। ডান দিকে মাটির ঢালু রাস্তা নেমে গিয়েছে অস্থায়ী হাসপাতালের তাঁবুর মুখে। বাইরে অ্যাম্বুল্যান্স দাঁড়িয়ে। ওদের দেখাতে গিয়ে আমিও ঢুকে পড়লাম সেখানে। স্ট্রেচার, বেড, অক্সিজেন সিলিন্ডার সবই মজুত। ডাক্তার এসে যাকে দেখতে লাগলেন, তিনি বেনারসের ভগবানপুর গ্র‌ামের লালজি সিং। তাঁরই হাত ভেঙেছে।

তবে ঘটনা শুধু সেটুকই নয়। কবজির কাছে হাড় সরে গিয়েছে কয়েক দিন আগেই। পাছে গঙ্গাসাগর মেলা ফসকে যায়, তাই তিনি সেই অবস্থাতেই রওনা দিয়েছিলেন। এখানে এসে ভিড়ের ঠেলায় হুমড়ি খেয়ে পড়ে সেই হাড় আরও সরে গিয়েছে আজ সকালে। ভাবছিলেন ঘরে ফিরে গিয়ে যা হয় হবে। কিন্তু ব্যথা সামলাতে না পেরে ছুটে আসতে হয়েছে। কয়েক জন মিলে লালজিকে চেপে ধরলেন। ডাক্তার হাড় জায়গামতো ফিরিয়ে দিতে না দিতেই প্র‌বল আর্তনাদ। আমি ভাবলাম যাক, লালজির মেলায় আসা সার্থক হল তা হলে।

রাত একটায় দু’নম্বর আর তিন নম্বর রাস্তায় কিছু লোকের দেখা পাওয়া গেল। তৃতীয় রাস্তাটি মেলার মাঠে পৌঁছেছে। সেখানেও লোক রয়েছে। শুয়ে-বসে, চাদর মুড়ি দিয়ে। কেউ কেউ ঘুরেও বেড়াচ্ছে। এরা হয়তো আরও রাতে যাবে। কিংবা কাল ভোরে। পথের ধারের হোটেলগুলো ঝিমিয়ে পড়েছে। আর যে খাওয়ার লোক পাওয়া যাবে না তা তারাও জানে। এখানে অনেক মোড়েই চাকা লাগানো লোহার ব্যারিকেড টেনে বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। শেষ বেলায় ব্যবসা মার খেয়েছে বলে দুঃখ দোকানিদের। দিনভর মাটির হাঁড়ি আর চেলাকাঠ বিক্রি করছিলেন যিনি, সেই লক্ষণ গিরি সব গুছিয়ে তুলছিলেন। এখান থেকেই কাল জলপথে যাত্রা শুরু করবেন পূর্ব মেদিনীপুরের তুফান গাজির মেলার জন্য। মাঘ মাসের প্র‌থম বৃহস্পতিবার সেখানে মেলা শুরু। তার পরে আছে পাতা মেলা।  রসুলপুরের কাছাকাছি। যেখান থেকে সাগরসঙ্গমে আসবেন বলে রওনা দিয়েছিলেন বঙ্কিমচন্দ্রের নবকুমার।পাতা মেলাও নদীর চরেই। এভাবেই একটির পর একটি। দিন-ক্ষণ বাঁধাই আছে। কাউকে ডাকতে হয় না, কোনও নেমন্তন্নের দরকার পড়ে না। মানুষ ঠিক পৌঁছে যায় মেলায়।

ফেরার পথে দেখা হয়ে গেল সুদাম মণ্ডলের সঙ্গে। নদীর দিক থেকে ভ্যান রিকশা চালিয়ে আসছেন। এই শীতেও কপালে ঘাম। যেতে হবে সেই মহিষমারি। মেলায় পুজোর ডালা-মালার দোকান লাগিয়েছিলেন। আর কিছু হবে না বুঝে ফিরে যাচ্ছেন। ভ্যানে স্তূপাকার খড়ের ওপর কাঠের তক্তা দড়ি দিয়ে এঁটে বাঁধা। হিমে ভিজে নেতিয়ে পড়েছে খড়।

সেই খড়ের মতো না হলেও শরীর এলিয়ে পড়েছে পুলিশের লোকজনদেরও। রাস্তায় বিভিন্ন জায়গায় প্লাস্টিকে ঘেরা যে ছোট ছোট পুলিশ ক্যাম্পগুলো রয়েছে সেখানে মুখ, মাথা মাফলারে ঢেকে বসে মোবাইলে চোখ অনেকের। নাইট ডিউটিতে বিরক্ত। তবু থাকতেই হবে। আর তো মাত্র একটা দিন।

বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাওয়ার রাস্তা ধরে হাঁটছিলেন কয়েক জন সাধু। পাতলা ধুতির ওপর কম্বল চাপানো। মাথার হলুদ পাগড়িতে লাল দিয়ে লেখা রাম নাম। তাদের মুখে গঙ্গা, শিব আর হিমালয়ের কথা। তাই শুনতে শুনতে পিছনে পিছনে চলেছেন গাঁও-দেহাতের মানুষ। যাওয়ার পথে যেটুকু অতিরিক্ত সঞ্চয়। তারা এগিয়ে যেতেই পিছন থেকে এসে পড়লেন এক জন। বিহারের মতিহারির দেওকীপ্র‌সাদ। সঙ্গে মাঝবয়েসি দুই মহিলা। হিন্দিতে লেখা হলুদ একটা চিরকুট আমার সামনে মেলে ধরে দেওকীপ্র‌সাদ ঝুঁকে পড়লেন একেবারে। ‘এ বাবা, মেলেমে কাঁহা কাঁহা ঢুন্ডে ইয়েসব পুস্তক, কঁহি নেহি মিলা। আপ জানতে হো? ঘর যানেকা সময় ভি অগর কঁহি মিল যায়ে।’ তাকিয়ে দেখলাম সেখানে লেখা রয়েছে— অমৃত বচন, আত্মজ্ঞান। বললাম, মেলা তো শেষ। এখন আর কোথায় পাবেন? হতাশ মুখে কাগজ ভাঁজ করে জাবদা কালো কোটের পকেটে ঢুকিয়ে রাখলেন তিনি। তার পরে হাঁটতে শুরু করলেন আবার।

আমি তাকিয়ে ছিলাম এই সব মানুষের যাওয়ার পথে। সভ্যতার ভেতরে আমরা বিজ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য, দর্শনকে যদি ধরি তাহলে নীতি ও ধর্মকেও ধরতে হয়। এসবই ব্যক্ত হয় নানা ভাবে। সুখ ও দুঃখে গাঁথা মানুষের জীবন নীতি ও ধর্মকে আঁকড়ে থাকতে চায়। ছেড়েও দেয় অনেক সময়। দেওকীপ্র‌সাদ আত্মজ্ঞান খুঁজছিলেন মেলায়। কে জানে তা নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন কি না। সাধারণ মানুষ সংসারের বাইরের চেহারাটাই দেখে। বাইরের দিকেই ভেসে যায়। তবে কেউ হয়তো সেই অন্তহীন আবর্তের ভিতরেই চলতে চলতে থমকে দাঁড়ায়। তখন সে তাকায় অন্তরের দিকে। বলা যায় স্থূল থেকে সূক্ষ্মে। উপনিষদ যাকে বলেছে ঊর্ধ্বযান।

তৈত্তরীয় উপনিষদে বরুণের পুত্র ভৃগু তাঁর বাবার কাছে ব্রহ্ম সম্পর্কে উপদেশ নিতে গিয়েছিলেন। বরুণ বলেছিলেন, যা থেকে ভূতসকল জন্ম নেয়, বেঁচে থাকে, বিনাশকালে সেখানেই বিলীন হয় তা জানার চেষ্টা করো। তপস্যায় বসে ভৃগুর মনে হল অন্নই ব্রহ্ম। তার পরে মনে হল প্র‌াণই ব্রহ্ম। আরও তপস্যার পর মনে হল মনই ব্রহ্ম। তার পরে তাঁর উপলব্ধি হল, এ সব কিছুই নয়। আনন্দই ব্রহ্ম। আনন্দ থেকেই ভূতসকল জাত হয়, আনন্দেই বাঁচে, আনন্দেই যায়, আনন্দেই বিলীন হয়। মেলায় পুণ্য করতে এসে যাঁরা ফিরে চলেছেন তাঁদের আনন্দ কীসে? তার কোনও খোঁজ আছে কি?

সহজিয়া সাধক সরহপা তাঁর একটি দোঁহায় বলেছেন, ‘এত্থু সে সুরসরি জমুনা এত্থু সে গঙ্গা-সাঅরু/ এত্থু পআগ বণারসি এত্থু সে চন্দ দিবাঅরু/এত্থু পীঠ উপপীঠ এত্থু মঁই ভমই পরিট্‌ঠও/ দেহ সরিসঅ তিত্থ মঁই অণ্ন ন দীটইঠও।’ অর্থাৎ এই দেহেই সুরেশ্বরী গঙ্গা ও যমুনা, এখানেই সেই গঙ্গাসাগর তীর্থ। এখানেই প্র‌য়াগ, বারাণসী। এর ভেতরেই রয়েছে চন্দ্র ও দিবাকর। এখানেই ক্ষেত্র, পীঠ আর উপপীঠ। এরই চার দিকে আমি ভ্রমণ করে চলেছি।

নদীর জোয়ার ও ভাটা পেরিয়ে আমি এসেছিলাম গঙ্গাসাগরে। মেলা পূর্ণ ছিল। চলেছে শূন্যের দিকে। তবে ভ্রমণের শেষ নেই। জোয়ার-ভাটা তো শুধু নদীতেই হয় না। মানুষের আসা আর যাওয়াও তেমনই। জঙ্গল পাশে রেখে, দূরের বালুচর দেখতে দেখতে, গঙ্গা নদীর জলের ওপর সূর্যের ঝিকমিক আলো সঙ্গে নিয়ে আমি ফিরে যাব নিজের জায়গায়। আবার মেলা বসবে এক দিন। আনন্দে আসবে মানুষ। আনন্দে ফিরে যাবে।

অরিন্দম বসুর এখনও পর্যন্ত আটটি উপন্যাস, দেড় শতাধিক গল্প ও একটি ভ্রমণ কাহিনি প্র‌কাশিত হয়েছে। প্রকাশিত গ্র‌ন্থ বারোটি। উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন ‘পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি’র পুরস্কার, ‘নমিতা চট্টোপাধ্যায় সাহিত্য পুরস্কার’। গল্পের জন্য পেয়েছেন ‘গল্পসরণি’ ও ‘গল্পমেলা’ পুরস্কার,  নবীন সাহিত্যিক হিসেবে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’-এর পুরস্কার।

আরও পড়ুন…

সাগর থেকে ফেরা

Shares

Comments are closed.