সোমবার, এপ্রিল ২২

অ্যাপিওরনিস টাইটানই বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাখি, ফরাসীদের হারালো ইংরেজরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : প্রায় এক শতাব্দী ধরে চলে আসা দ্বন্দযুদ্ধর পরিসমাপ্তি ঘটল তাহলে।  বিশ্বের বড় পাখি কে আবিস্কার করেছে, তা নিয়ে ইংল্যান্ড আর ফ্রান্সের মধ্যে চলছি বিজ্ঞানসম্মত চুলোচুলি। এইচ জি ওয়েলসের উপন্যাস এই চুলোচুলির মধ্যে ঢুকে পড়ে আরও  তালগোল পাকিয়ে দেওয়ায়, কিছুতেই সমস্যার সমাধান হচ্ছিল না।

সম্প্রতি  ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা বুক ঠুকে জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা জীববিজ্ঞানীদের মধ্যে চুলোচুলি লাগানো  ধাঁধাঁর সমাধান করে ফেলেছেন। তাঁরা জেনে ফেলেছেন কোনটি আসলে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পাখি। মাডাগাস্কার দ্বীপপুঞ্জের  ভরোম্বে অ্যাপিওরনিস  টাইটান প্রজাতির এলিফ্যান্ট বার্ডই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পাখি। আগে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল  অ্যাপিওরনিস ম্যাক্সিমাস (Aepyornis maximus) প্রজাতির এলিফ্যান্ট বার্ডই বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাখি। ফ্রান্স যেহেতু অ্যাপিওরনিস ম্যাক্সিমাস আবিস্কার করেছিল, তাই তারা একটু আত্মশ্লাঘা অনুভব করতো। কিন্তু  ১৮৯৪ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী  সি ডব্লিউ অ্যান্ড্রুজের  আবিস্কার করা  অ্যাপিওরনিস টাইটান ( Aepyornis titan) নামের আরেকটি এলিফ্যান্ট বার্ড  প্রজাতি নিয়ে লেগে যায় ফের তর্কবিতর্ক। কারণ ব্রিটিশরা এ বার দাবি করে তাদের পাওয়া অ্যাপিওরনিস টাইটান বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাখি।

কিন্তু বুধবার, (২৬ সেপ্টেম্বর) লন্ডন থেকে প্রকাশিত ‘রয়্যাল সোসাইটি ওপেন সায়েন্স’ জার্নালের  একটি গবেষণা পত্রে বলা হয়েছে অ্যাপিওরনিস টাইটান প্রজাতির একটি জীবাশ্ম আগের সব চিন্তা ভাবনাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে।  তাঁরা গবেষণা পত্রে  একটি অ্যাপিওরনিস টাইটান প্রজাতির এলিফ্যান্ট বার্ডের নমুনা দেখিয়েছেন। যে পাখিটির ওজন ছিল ৮৬০ কেজি (১৮৯৫ পাউন্ড)। যা একটি পূর্ণবয়স্ক জিরাফের ওজনের  সমান। অথএব বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাখি  অ্যাপিওরনিস ম্যাক্সিমাস  নয়, অ্যাপিওরনিস টাইটান ।  জয় হলো ব্রিটিশ বিজ্ঞানীদের। গবেষণাটি ‘ জুলজিক্যাল সোসাইটি অব লন্ডন’ এর প্রধান বিজ্ঞানী জেমস হ্যান্সফোর্ডের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে।

প্রায় ৬ কোটি বছর ধরে মাটিতেই দাপিয়ে বেড়িয়েছে  এই  এলিফ্যান্ট বার্ড । উটপাখিরর মতোই সে উড়তে পারতো না।   বিশালকায়  পাখিটির আদি  বাসভূমি ছিল মাডাগাস্কার দ্বীপের  সাভানা তৃণভূমি ও রেনফরেস্ট। যদিও পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় এদের ফসিল পাওয়া গেছে।

বিশ্বখ্যাত লেখক এইচ জি ওয়েলসএর  লেখা  অ্যাপিওরনিস আইল্যান্ড‘( ১৮৯৫) বইটিতেও এই এলিফ্যান্ট বার্ডের উল্লেখ আছে। মাডাগাস্কার দ্বীপেই সবচেয়ে বেশি দিন টিকে ছিল এই প্রাণীটি। কিন্তু প্রায় হাজার বছর আগে দ্বীপটিতে মানুষের আবির্ভাব প্রাণীটির বিলুপ্তি ঘটায়। মাডাগাস্কার দ্বীপে জঙ্গল কেটে কৃষি জমি তৈরী করা ও খাদ্যের জন্য এলিফ্যান্ট বার্ডদের শিকার করা,  এই বিশালকায় পাখিটির হারিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এলিফ্যান্ট বার্ডের নিকটতম আত্মীয় ছিল নিউজিল্যান্ডের মোয়া (moa) পাখি, যারা এখন অবলুপ্ত। এ ছাড়াও কিউয়ি,এমু ও অস্ট্রিচ পাখিদের সঙ্গেও এই এলিফ্যান্ট বার্ডদের সম্পর্ক ছিল।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল, ব্রিটেনের  সুপরিচিত নিলাম সংস্থা  ক্রিস্টিস-এর  লন্ডন দপ্তরে  এলিফ্যান্ট বার্ডের একটি ডিমের জীবাশ্ম (ফসিল) নিলামে তোলা হয়েছিল। ডিমের ফসিলটি প্রায় এক ফুট লম্বা এবং প্রায় নয় ইঞ্চি চওড়া ছিলো। প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড মূল্যে সেটি বিক্রি হয়েছিল।

Shares

Comments are closed.