বৃহস্পতিবার, জুন ২০

মরার পরে থাকব কোথায়? নিজের জন্য তাক লাগানো সমাধি গড়ে বিতর্কে তানজানিয়ার ব্যবসায়ী

 দ্য ওয়াল ব্যুরো: মৃত্যুর পর আপনি থাকবেন কোথায় ভেবেছেন?

আপনি ভাবেননি জানি, ভাবতেও চান না। কেউই ভাবেন না। মিশরের ফারাওরা, কোনও কোনও মুঘল বাদশাহ ভাবতেন জানি। কিন্তু তানজানিয়ার জড়িবুটি ব্যবসায়ী  অ্যান্থনি মান্দুলামি ঠিক আমার আপনার মতো সাধারণ মানুষ নন। তাই তিনি তাঁর এক হেক্টর জমির মাঝখানে তাঁর এবং তাঁর তিন স্ত্রীর জন্য সমাধি বানানো শুরু করে দিয়েছেন। তানজানিয়ার নজোম্বের বাসিন্দা অ্যান্থনি মান্দুলামি চান ব্যতিক্রমী হয়ে থাকতে। আর পাঁচটা সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর পর যে ভাবে পরিবার বা সমাজ মনে রাখে, সে ভাবে তিনি থাকতে চান না।

তাই তিনি তাঁর গ্রামে পাঁচ হাজার ডলার খরচ করে তৈরি করছেন পেল্লায় সমাধি মন্দির। নির্মাণের কাজ এখন মাঝপথে।   বাইরে দেখে দেখে মনে হবে একটা বাড়ি বা ছোটো খাটো চার্চ বানানো হচ্ছে। তবে বাড়ির ভেতরে কোনও ঘর নেই। বাড়িটিতে ঢুকে আপনাকে সিঁড়ি দিয়ে নেমে যেতে হবে মাটির ১২ মিটার নীচে। সেখানে তৈরি হচ্ছে মান্দুলানি এবং তাঁর তিন স্ত্রীর সমাধি। সমাধি তৈরির কাজ শুরু হয়েছে ২০০৮ সালে। শেষ হতে লাগবে আরও চার বছর।

জীবন্ত লোকের সমাধি তৈরি নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে প্রচুর। কিন্তু মান্দুলামি কোনও কথায় কান দিতে রাজি নন। তিনি বলছেন, ”আমি চাই না মানুষ আমাকে ভুলে যাক, তাই আমি আমার সমাধি তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই গ্রামে আমার এক হেক্টর জমি আছে। সেখানে আমি  আমার এবং আমার তিন স্ত্রীর সমাধি তৈরি করছি। আমার কাছে এটা খুবই তৃপ্তিদায়ক, কারণ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমার সমাধি দেখে জানতে পারবে, আমি এই পরিবারের জন্য কী করেছিলাম।”

অ্যান্থনি মান্দুলামির প্রথম স্ত্রী ডামিয়ানা উইকেচ। তিনি বলছেন, ”এটা আমার স্বামীর স্বপ্ন, তিনি সত্যিই একটা মনে রাখার মতো কাজ করছেন। মৃত্যুর পরে তাঁর থাকার জায়গাটি তিনি নিজেই তৈরি করে দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর স্ত্রী হিসাবে আমি গর্বিত। আমি খুব খুশী, কারণ আমাদের এক জায়গাতেই সমাধি হবে”। কিন্তু তানজানিয়ার মতো দেশের, হতদরিদ্র একটি গ্রামে হাজার হাজার ডলার খরচ করে সমাধি তৈরি করার বিষয়টি সবার নজর টেনেছে। গ্রামবাসীরা কেউ খুশি, কেউ বেশ বিরক্ত এবং ক্ষুব্ধ। অনেকে বলছেন, জাতির পিতা বা দেশের  কোনও মহান মানুষের সমাধি হলে তাঁরা কিছু মনে করতেন না। কিন্তুএকজন সাধারণ মানুষ, শুধু পয়সা আছে বলে নিজের সমাধি বানাচ্ছেন, যাঁর সমাজে কোনও অবদান নেই। এটা তাঁরা ঠিক  মেনে নিতে পারছেন না।

আবার কেউ বলছেন, অ্যান্থনি মান্দুলামি ইতিহাস রচনা করতে চান, পরিবারের প্রতি তাঁর ভালোবাসা পৃথিবীকে দেখাতে চান। এতে খারাপের কী আছে! তিনি তো সরকারি পয়সা নিচ্ছেন না! শুধু সমাধিই নয়, বিতর্ক মান্দুলামির দ্বিতীয় ইচ্ছাটি নিয়েও। অ্যান্থনি মান্দুলামি চান মৃত্যুর পর তাঁর দেহটি মিশরের ফারাওদের মতো মমি করে রাখবেন। এবং সেটি তাঁর সমাধিতে প্রদর্শিত হবে। এটি নিয়ে জোর বিতর্ক লেগেছে সারা তানজানিয়ায়। সেই দেশটির সমাজে মৃত্যুর অগ্রিম প্রস্তুতি দুর্ভাগ্য ডেকে আনে। তাই অজানা আশঙ্কায় ভুগছে গ্রামবাসীরা।

তবে ফুরফুরে মেজাজে আছেন অ্যান্থনি মান্দুলামি। মমি তিনি হবেনই। তুতেনখামেনের মতোই উঠে যাবেন ভবিষ্যতের ইতিহাসে। আপাতত সেই স্বপ্নেই বিভোর, বেপরোয়া অ্যান্থনি মান্দুলামি ।

আরো পড়ুন: পার্বত্য চট্টগ্রামের জনপদকে ধর্ম আর লিপি দিয়ে তিন দশক নিখোঁজ বছর কুড়ির মেনলে

Comments are closed.