মঙ্গলবার, জুন ২৫

‘ডিকিনসনিয়া’ই বিশ্বের প্রথম বহুকোষী প্রাণী,বয়স ৫৬ কোটি বছর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পৃথিবীর সেরা প্যালিয়েন্টোলজিস্ট বা জীবাশ্মবিজ্ঞানীদের কেবল মাথার চুল ছেঁড়া বাকি ছিল ডিকিনসনিয়ার পরিচয় জানতে। উপবৃত্তাকার জীবাশ্মগুলি কি কোনও উদ্ভিদ শ্রেণীর ! ছত্রাক শ্রেণীর! বড় অ্যামিবাদের !

ডিকিনসনিয়ার ফসিল বেলেপাথরে পাওয়া গেছে অস্ট্রেলিয়া, ইউক্রেন এবং রাশিয়াতে। প্রথম ফসিল অস্ট্রেলিয়ায়  আবিস্কৃত হওয়ার পর ৭৫ বছর কেটে গেছে শুধু তর্ক বিতর্ক করে। এটা জানা গেছিল, প্রায় ৫৬ কোটি বছর আগে, এডিয়াকারান যুগে এই জীবটি পৃথিবীতে ঘোরাফেরা করত। ্জীব বিজ্ঞানীরা মনে করতেন এই যুগেই বহুকোষী প্রাণী তৈরি হয়েছিল।  কিন্তু হাতে প্রমাণ ছিলো না। এছাড়া বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, ডিকিনসনিয়া নামের এই জীব কোনো বহুকোষী প্রাণী নয়।  বিজ্ঞানীরা মনে করতেন মিটারখানেক লম্বা ডিকিনসনিয়া  একটি বৃহদাকার এককোষী অ্যামিবা নয়তো ছত্রাক।

ডিকিনসনিয়ার কল্পিত চিত্র

কিন্তু সম্প্রতি রাশিয়ার  উরাল পর্বতাঞ্চলে আবিস্কৃত ডিকিনসনিয়ার ফসিল নিয়ে গবেষণারত বিজ্ঞানীরা রায় দিয়েছেন ডিকিনসনিয়া হলো একটি বহুকোষী এবং জলজ প্রাণী। এর দেহ জেলিফিশের মতই নরম ছিল। বিজ্ঞানীরা প্রাণীটির জীবাশ্মে কোলেস্টেরলের সন্ধান পেয়েছেন। এই আবিস্কারটিই প্রমাণ করলো ডিকিনসনিয়া একটি পুর্ণাবয়ব প্রাণী। এতদিন পর্যন্ত মনে করা হতো, বৃহদাকার প্রাণীরা পৃথিবী শাসন করতে শুরু করে ক্যামব্রিয়ান যুগে, আজ থেকে ৫৪ কোটি বছর আগে। কিন্তু এখন মনে করা হচ্ছে  এডিয়াকারান যুগেই বৃহদাকার বহুকোষী প্রাণীরা এসে গেছিল। এবং ৫৬ কোটি বছর বয়সি ডিকিনসনিয়া বিশ্বের প্রথম বহুকোষী প্রাণী।

ডিকিনসনিয়ার ফসিল

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির  পিএইচডি স্কলার  ইলিয়া বোব্রভস্কি, রাশিয়ার  উত্তর-পশ্চিমে শ্বেতসাগরের পাড় থেকে  আবিস্কার করেন প্রকৃতির কোলে সংরক্ষিত ডিকিনসনিয়ার জীবাশ্ম। তিনি ডিকিনসনিয়ার জীবাশ্মটি নিয়ে পরীক্ষা করার সময় জীবটির টিস্যুর মধ্যে কোলেস্টেরলের দানা খুঁজে পান। প্রমাণ হয়ে যায় ডিকিনসনিয়া উদ্ভিদ নয়, ছত্রাক নয়, বৃহদাকার অ্যামিবা নয়। এটি একটি বড়সড় প্রাণী। পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন বহুকোষী প্রাণী।

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জকেন ব্রোকস  বলেন, ” ডিকিনসনিয়ার জীবাশ্মে আমরা  যে ধরনের কোলেস্টেরলের উপস্থিতি লক্ষ্য করেছি , তা প্রমাণ করে পৃথিবীতে ৫৫ কোটি ৮০ লাখ বছর আগেও বড় প্রাণীর অস্তিত্ব ছিল। আগে আমরা যা জানতাম , এই সময়টা তার চেয়েও কয়েক কোটি বছর আগে”।

 

Comments are closed.