বুধবার, জুন ১৯

সে কী!  শিম্পাঞ্জিরা রাজনীতিও করে!

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  জানেন  কি,মানুষের রাজনৈতিক ধ্যান-ধারণার সঙ্গে শিম্পাঞ্জিদের কিছু আচরণের মিল আছে ?  সম্প্রতি, এক চাঞ্চ্যল্যকর গবেষণায় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির অধ্যাপক জেমস টিলে দেখিয়েছেন, মানুষের মতো শিম্পাঞ্জিদের মধ্যে  ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দেখা যায়। শিম্পাঞ্জিরা রীতিমতো রাজনীতি করে সমাজে নিজের প্রভুত্ব কায়েম করে রাখে । সোজা কথায়, শিম্পাঞ্জিরা তুখোড় পলিটিশিয়ান।অধ্যাপক টিলে, শিম্পাঞ্জিদের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার পাঁচটি উদাহরণ দিয়েছেন। যেগুলি  সাধারণত মানুষ রাজনৈতিক নেতারা  করে থাকেন বলে আমরা জানতাম।

শিম্পাঞ্জিরা বন্ধুদের চেয়েও শত্রুকে কাছে রাখে

ক্ষমতার মসনদে পৌঁছতে শিম্পাঞ্জিরা শত্রুর সঙ্গে মিত্রতা করে, বন্ধুকে ল্যাং মেরে। শুধুমাত্র নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য শিম্পাঞ্জিদের রাজনীতিতে দলবদল চলতে থাকে।

জোট গঠনের জন্য শিম্পাঞ্জিরা নিজের চেয়ে দুর্বল কাউকে বাছে

শিম্পাঞ্জিদের দলে দেখা যায়, দুটি দুর্বল শিম্পাঞ্জি একজোট  হয়ে তাদের চেয়ে শক্তিশালী  শিম্পাঞ্জিকে আক্রমণ করছে। আসলে শিম্পাঞ্জিরা তাদের সমাজে প্রভুত্ব কায়েম করার জন্য, রাজনৈতিক দলগুলির মতো কোয়ালিশন ফ্রন্ট তৈরি করে। কিন্তু সেই জোটে, একজন দুর্বল  শিম্পাঞ্জি তার চেয়ে শক্তিশালী শিম্পাঞ্জিকে নেয় না। ভাগে বেশি পাওয়ার লোভে।

হিটলারি ইমেজ ভালো। কিন্তু আরও ভাল সবার মন জয় করা। শিম্পাঞ্জিরা সেটাই করে

অনেক সময় , শিম্পাঞ্জিদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর নেতারা শুধু শক্তি প্রদর্শন করে,দমন পীড়নের নীতি চালিয়ে, দল কে বাগে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু  এ সব শিম্পাঞ্জি নেতা বেশিদিন টেকে না। সেইসব  শিম্পাঞ্জি দলনেতারা টেকে, যারা দলের ভেতরেই আরেকটা জোট বানিয়ে ফেলে। শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি তারা নমনীয়তা এবং সহিষ্ণুতাও দেখায়, বেশিদিন  দলে দাদাগিরি করার জন্য।

সফল শিম্পাঞ্জি নেতা হতে গেলে মাঝে মাঝে দলের সদস্যদের বখরা ও  ঘুষও দিতে হবে।

অনেকদিন নেতৃত্ব বজায় রাখতে  শিম্পাঞ্জি দলনেতাদের ভোট বা সমর্থন কিনতে হয়। শিকারের খাবার নিয়ে এসে দলের মধ্যে মাঝে সাঝে ভাগ বাটোয়ারা করে দিয়ে দলকে খুশ রাখতে হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শুধু এই পদ্ধতি নিয়ে
১২ বছর নেতৃত্ব করেছিল এক শিম্পাঞ্জি দলনেতা।

দলের বাইরে থেকে আসা হুমকি, শিম্পাঞ্জি নেতার নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে

দলের বাইরে থেকে  যখন হুমকি আসে, তখন শিম্পাঞ্জিরা নিজেদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওঠে।
মানুষের সমাজে বহিঃশত্রুর হুমকি তেমন কাজ করে না। কারণ মানুষ রাজনৈতিক সুবিধা দেখলে শত্রুর সঙ্গেই আপোষ করে বসে। আর এখানেই শিম্পাঞ্জিরা বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়।

ভারতীয়রা না হয় চাণক্যের কাছে রাজনীতি শিখেছেন। কিন্তু, শিম্পাঞ্জিদেরও কি একজন চাণক্য ছিল ? গবেষকের গবেষণায়  কিন্তু এটা  থাকা উচিত ছিল।

Leave A Reply