সোমবার, এপ্রিল ২২

মেক্সিকোর ভৌতিক পুতুল ‘লা পাসকুয়ালিটা’ সত্যিই পুতুল,নাকি শবদেহ

 

রূপাঞ্জন গোস্বামী

মনস্তত্ববিদরা বলছেন , পৃথিবীর  অধিকাংশ মানুষই  ভূতের গল্প বা সিনেমা  ভালোবাসেন। এটা যে কথার কথা নয়,  তা দ্য হন্টিং, স্ক্রীম, রিঙ্গু , সাসপিরিয়া বা এক্সরসিস্ট ছবির কিংবা  ঘোস্ট হান্টার -এর মতো টিভি সিরিজের আকাশ ছোঁয়া সাফল্য দেখলেই বোঝা যায়। বইয়ের কথা তো বাদই দিলাম। ভুতের বই তো বাজারে এলে, গল্পের  ভূতেদের  মতোই উবে যায় বাজার থেকে। কিন্তু, জানেন কি, মেক্সিকোতে  এক  হাড়হিম করা  ভুতুড়ে ঘটনা ঘটে চলেছে ৮৮ বছর ধরে? এমন এক ভুতুড়ে রহস্য,  যে রহস্যের কিনারা আজ পর্যন্ত বিশ্বের  কোনও ফেলুদা বা ব্যোমকেশ ভেদ করতে পারেনি।

মেক্সিকোর চিহুয়াহুয়া শহরের প্রান্তে ,  একটি  দোকান ‘লা পপুলার‘। দোকানের ভেতর কাঁচের ঘেরাটোপে,  কনের সাজে সাজা এক তরুণী পুতুল বা ম্যানিকুইন। পুতুলটির  নাম, ‘লা পাসকুয়ালিটা ‘। তাকে ঘিরে শুধু মেক্সিকো নয়  সারা পৃথিবীতে, এক জটিল রহস্য ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রায় নয় দশক ধরে। কনের পোশাক বিক্রি করে শতাব্দী প্রাচীন ‘লা পপুলার‘ দোকানটি। রহস্যের সুত্রপাত হয় ১৯৩০ সালে । হঠাৎই মাস খানেকের জন্য বন্ধ হয়ে যায় দোকান । তারপর আবার যখন ঝাঁপ খোলে, শোরুমের কাঠের তৈরি পুরোনো পুতুলটির বদলে এক নতুন পুতুল বসান মালিক পক্ষ ।  সেই বছরেরই ২৫ মার্চ। একেবারে জীবন্ত এক ম্যানিকুইন।  চমকে যান দোকানের পুরোনো ক্রেতারা । প্রমাণ আকারের , প্রায় জীবন্ত পুতুলটির সঙ্গে দোকানের মালিকের মেয়ের হুবহু  মিল।

দোকানের মালিকের মেয়ে ,  রূপসী  পাসকুয়ালিটা এসপারজাকে আগে দোকানে মাঝে মাঝে দেখা যেত। নতুন করে  দোকান খোলার পর থেকে ,  সেই মালিকের মেয়ে আর আসেননি। পরে শহরবাসী জানতে পারে এক বিয়োগান্তক কাহিনী। মাস খানেক আগে, বিয়ের রাতে,  ব্ল্যাক-উইডো মাকড়শার কামড়ে  মারা যান যুবতী পাসকুয়ালিটা। শহরে দ্রুত নতুন খবর  ছড়িয়ে পড়ে। দোকানের কাঁচ ঘেরা  পুতুলটি নিছকই পুতুল নয়। সেটা মালিকের মেয়ে পাসকুয়ালিটার মমি করা মৃতদেহ। সংস্কারাচ্ছন্ন শহরবাসীদের অধিকাংশই এটা বিশ্বাস করেন, এবং এখনও। কিছু কিছু যুক্তিবাদী করেন না। দোকানটির মালিক পক্ষ এ বিষয়ে হ্যাঁ বা না কিছুই বলেন না। মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকেন কর্মচারীরাও। শিহরণ জাগানো ঘটনাটি নিয়ে দিনের পর দিন মানুষের আগ্রহ বেড়ে চলে। দোকানে কেনাকাটার ছুতোয়  ভিড় উপচে পড়তে থাকে। পাসকুয়ালিটাকে এক ঝলক দেখে, সবার মুখে এক কথা। না,পাসকুয়ালিটা পুতুল হতে পারেনা।

 

কেন সবাই ভাবেন ,পাসকুয়ালিটা পুতুল হতে পারেনা?

ত্বকের উপর নিখুঁত ভাবে হাজার হাজার ভাঁজ আনা, মিহি রোম বসানো, কালচে নীল শিরা ফুটিয়ে তোলা। হাতের তালুর ভিতরের দিকে নিখুঁত গভীর, অগভীর রেখা ফুটিয়ে তোলা। চোখটা অবিশ্বাস্য রকমের জীবন্ত করে তোলা। মোমের মূর্তির ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে , এ ভাবে নিখুঁত মানুষের দেহ ফুটিয়ে তোলা কোনও শিল্পীর পক্ষে সম্ভব নয়।
আরও কিছু ভুতুড়ে তথ্য কানে আসতে লাগলো শহরবাসীর। রাতে নাকি এক ম্যাজিশিয়ান দোকানটিতে  আসেন। গভীর রাতে ম্যাজিশিয়ান আর পাসকুয়ালিটা শহরের পথে  ঘুরতে বের হন। অনেকে নাকি দেখেওছেন।
দোকানের বহু ক্রেতা বলেছেন , লা পাসকুয়ালিটা নাকি চোখ ঘুরিয়ে তাঁদের গতিবিধি লক্ষ করেন । তঁদের রক্ত জল হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। বেশিরভাগ দিন সকালে দোকানটি  খোলার পর দেখা যায়, পাসকুয়ালিটা  ঘুরে গেছেন একটি নির্দিষ্ট দিকে। যে দিকে তাঁর বাবা বসতেন।

আরও রহস্যজনক ঘটনা হলো, সপ্তাহে দু’দিন, লা পাসকুয়ালিটা নামের পুতুলটির পোশাক পরিবর্তন করা হয়। পৃথিবীর সমস্ত দোকানের, সমস্ত পুতুলদের পোশাক পরিবর্তন  জনসমক্ষেই হয়। কিন্তু , লা পাসকুয়ালিটার পোশাক পরিবর্তনের সময় চারিদিকে পর্দা টেনে দেওয়া হয়। পোশাক পরিবর্তনের জন্য নিযুক্ত এক জন কর্মচারী  ছাড়া ওই ঘেরাটোপে আর কেউ প্রবেশ করতে পারেন না। দোকানের বাকি কর্মচারীরাও না। পোশাক পরিবর্তন হয় গভীর রাতে।

তেমনই একজন কর্মচারী হলেন সোনিয়া বার্সিয়াগা। যিনি সপ্তাহে দু’বার পাসকুয়ালিটার পোশাক পরিবর্তন করাতেন। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে  বলেছিলেন, “প্রতিবার আমি পাসকুয়ালিটার কাছে যখন যাই। আমার হাত পা অসাড় হয়ে যায়। ঘামতে থাকি। পাসকুয়ালিটার চোখ, চুল, কান, ঠোঁট, হাত, পা, অস্বাভাবিক রকমের স্বাভাবিক। বুড়ো আঙুলের ছাপ দেওয়ার জায়গা, বুড়ো আঙুল আর তর্জনীর মাঝের ফাঁকের কুঁচকানো রেখা গুলি একেবারে সত্যিকারের মানুষের মতো। এমন কি পায়ে শিরাস্ফীতিও (varicose veins)আছে ।  একেবারে আসল মানুষের মতো। আমার কিন্তু মনে হয় ও আসল মানুষ।”

এক বন্ধু কাছ থেকে পাসকুয়ালিটা  সম্বন্ধে  জানতে পেরে, পাসকুয়ালিটার  রহস্য ভেদ করতে বিস্তর তথ্য ঘাঁটাঘাটি করতে শুরু করলাম। অবশ্যই  ইন্টারনেটে। আমি ব্যোমকেশ নই, কিরিটিও নই। শখের গোয়েন্দা বা টিকটিকিও নই। অজানা কে জানতে চাওয়া গড়পড়তা এক বাঙালি।  কিছুদিন ইন্টারনেট তোলপাড় করার পর রহস্যের জট অল্প খুলতে পারলাম বলে মনে হোলো।

কেন আমি পাসকুয়ালিটাকে প্রথমে পুতুল ভেবেছিলাম ?

ধরা যাক,  পাসকুয়ালিটার মৃতদেহকে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। যদিও শবকে অবিকৃত অবস্থায় ৮৮ বছর সংরক্ষণ করা  মোটেই সাধারণ কাজ নয়। রোজ প্রতিনিয়ত শবদেহকে যত্ন করতে হয়। এর জন্য লাগে অসাধারণ দক্ষতা।শব সংরক্ষণের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে  ১৯২৪ সালে  লেনিন ও ১৯৭৬ সালে  মাও-জে-দং-এর মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়েছিলো, সরকারি তত্বাবধানে। কোটি কোটি টাকা রাজকোষ থেকে  খরচা করে। এখনও লেনিনের মৃতদেহ প্রত্যেক বছর ব্লিচ-বাথ করানো হয় চামড়ার রঙ একই রাখার জন্য।তার পর লেনিনের শরীর গ্লিসারল আর পটাশিয়াম অ্যাসিটেটে ডুবিয়ে রাখা হয় এক মাস যাতে চামড়ার মৃত কোষগুলি আমাদের মতো আর্দ্র হয়ে ওঠে। চামড়া ফেটে গিয়ে শরীর থেকে খুলে না যায়। এই কাজটি  রীতিমতো কষ্টসাধ্য, সময়সাপেক্ষ ও শব সংরক্ষণে অত্যন্ত  পারদর্শী ব্যক্তিদের কাজ। প্রচুর টাকার ব্যাপার। লেনিনের দেহও সামান্য বিকৃত হয়েছে। এখন মনে হয় কৃত্রিমভাবে তৈরী লেনিন।


আমার মনে এই  প্রশ্নগুলি এসেছিল

লা পাসকুয়ালিটা নামের পুতুলটি যদি সত্যিই শবদেহ হয়, ৮৮ বছর পরেও কি ভাবে এতো নিখুঁত রয়েছে?
● সামান্য কাঁচের ঘেরাটোপে আছে পাসকুয়ালিটা, আবহাওয়ার একটুও প্রভাব পড়েনি কেন ?
●  যদি মালিক কন্যার শব সংরক্ষণ হয়েও থাকে, যাঁরা শবদেহটি সংরক্ষণ করেছেন প্রায় নয় দশক ধরে তাঁরা মুখ খোলেননি কেন? তাঁরাতো আরও ব্যবসা পেতেন !
●  ৮৮ বছর ধরে একটা শবকে এতো ভালো কন্ডিশনে  রাখাটা রীতিমতো বিস্ময়কর। একটি  ছোট্ট, কনের পোশাক বিক্রি করা, দোকানের পক্ষে এতো খরচ সামলানো কি সম্ভব?
● সবাইকে লুকিয়ে, সব তথ্য গোপন করে, সবার মুখ বন্ধ করে ৮৮ বছর ধরে একটা শবদেহ সংরক্ষণ করা সম্ভব?
●  ১৯৩০ সাল  থেকে একদিনের জন্যও পাসকুয়ালিটাকে দোকান ছাড়া হতে দেখা যায়নি। তবে শব সংরক্ষণের মতো জটিল ও সময়সাপেক্ষ  কাজটা হয় কখন?
● যাঁদের পুতুল, অর্থাৎ ‘লা পপুলার’ দোকানের মালিক পক্ষ কি বলেছেন পুতুলটি শব? তাহলে বিশ্বাস করবো কেন ?

 

 কিছু  প্রশ্ন যার উত্তর পাইনি-

  যে মাসে মালিকের মেয়ে মারা গেলেন সে মাসেই পুরোনো পুতুল বদলাবার দরকার পড়লো কেন?
●  হুবহু পাসকুয়ালিটার  মতো  দেখতে  ম্যানিকুইনটিই  বসানো হোলো কেন?

● ,ব্ল্যাক উইডোর কামড়ে মৃত্যুর পর পাসকুয়ালিটার অন্ত্যেষ্টি সংক্রান্ত কোনও খবর পাওয়া যায়নি কেন? তাঁর সমাধি খুঁজে পাওয়া যায়নি কেন ?
●  এক মাসের মধ্যে  এত নিখুঁত পুতুল বানানো সম্ভব ?

●  কেন,  পর্দা দিয়ে ঘিরে পাসকুয়ালিটার পোশাক পরিবর্তন হয়? গভীর রাতেই কেন  পোশাক পরিবর্তন করা হয়?  কেন এত আড়াল?  এক সময়ের রক্ত মাংসের  দেহের  আরও কিছু বৈশিষ্ট্য যাতে জনসমক্ষে  প্রকাশিত না হয়ে পড়ে? যদি মোমের পুতুলই হবে, এতো লজ্জা কিসের? নাকি মালিক বাড়ির  মেয়ের মৃতদেহর সম্ভ্রম রাখার চেষ্টা ?

● দোকানের কর্মচারীরা কেন পুতুলটির কাছে যেতে চান না ?
●  পোশাক পাল্টাতে গিয়ে,  প্রত্যেকবার কেন সোনিয়া বার্সিয়াগার হাত পা অসাড় হয়ে যায় ?

●  পাসকুয়ালিটা যদি পুতুলই হয়, কোন শিল্পী বানিয়েছেন এতো নিখুঁত পুতুল? তাঁর নাম কী? তিনি পর্দার আড়ালে কেন? জনসমক্ষে এলে  তিনি  তো আরও ক্লায়েন্ট পেতেন? তিনি কি পৃথিবী  বিখ্যাত শিল্পীদের সঙ্গে এক  আসনে  বসতে চান না ?

●  শিল্পী নিশ্চয় আজ  বেঁচে নেই। কিন্তু  তাঁর পরিবার মুখ খুলছেন না কেন? শিল্পীকে কত টাকা দিয়েছেন দোকানের মালিকপক্ষ? রহস্য ফাঁস করলে তো তার চেয়ে লক্ষগুণ বেশি টাকা মিলবে মিডিয়ার কাছ থেকে।

● এরকম হুবহু মানুষের মতো পুতুল পৃথিবীর অন্য কোথাও নেই কেন? কোনও শিল্পীই তৈরি করতে পারেননি কেন? এই শিল্পকলা কি শিল্পী একাই জানতেন? তিনি কি কাউকে শিখিয়ে যাননি?

● মালিকপক্ষ  ৮৮ বছর ধরে মৌন আছেন কেন? কেন , তাঁরা একবারও বলেননি পাসকুয়ালিটা একটা পুতুল ?

●  পুতুলটির নাম পাসকুয়ালিটা রাখা হলো কেন? অন্য নামও তো রাখা যেত।

 

আমার মনে হচ্ছে, লা পাসকুয়ালিটা মৃতদেহই, স্বপক্ষে আমার  যুক্তিগুলি

মেক্সিকোর শব সংরক্ষণের  ( Embalming) ইতিহাস : সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য কারণ, পাসকুয়ালিটা নামের পুতুলটি দোকানে বসানো হয় ১৯৩০ সালে আর লেনিনের মরদেহ  সংরক্ষণ করা হয় তারও ৬ বছর আগে ১৯২৪ সালে। আধুনিক পদ্ধতিতে শব সংরক্ষণ ( Embalming)  ব্যবসায়িক ভাবে তারও আগে থেকে শুরু হয়ে গিয়েছিল।কিন্তু সবাই একটা কথা মাথায় রাখছেন না। সেটা হলো, শব সংরক্ষণ কিন্তু  মেক্সিকোতে হাজার হাজার বছর আগে শুরু হয়েছে। মায়া, ইনকা, আজটেক, টলমেক সভ্যতার সময় থেকেই।  নেটিভ ল্যাটিন আমেরিকানরা নিজস্ব পদ্ধতিতে শবদেহ সংরক্ষণে পটু। দোকান কতৃপক্ষ, ১৯৩০ সাল থেকে সম্ভবত  সেরকমই কোনও নেটিভ পদ্ধতি ব্যবহার করছে, পাসকুয়ালিটার শব সংরক্ষণের ক্ষেত্রে। অত্যন্ত গোপনীয় সেই পদ্ধতি এবং সময় কম লাগে।

আবহাওয়াগত সুবিধা : কোনও সংরক্ষণ করা শবের কন্ডিশন ভালো থাকাটা নির্ভর করে স্থানীয় আবহাওয়ার ওপর। আর্দ্রতা হোলো সংরক্ষিত মরদেহের সবচেয়ে বড় শত্রু। খটখটে শুকনো আবহাওয়াতে সংরক্ষিত শব ভালো থাকে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় ইজিপশিয়ান মমিদের কথা। লা পাসকুয়ালিটা পুতুলটা আছে মেক্সিকোর  চিহুয়াহুয়ান মরুভূমির পশ্চিম প্রান্তের চিহুয়াহুয়া শহরে। এখনকার বাতাসে আর্দ্রতা নেই বললেই চলে। আর্দ্রতা মমি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড়ো বাধা। সেটাই নেই। তাই মরুভূমির  ঊষর আবহাওয়া যুক্ত মরুশহরে  পাসকুয়ালিটার শবকে মিশরের মমির মতোই সংরক্ষিত  করে রাখা সম্ভব হয়েছে ।

পাসকুয়ালিটার হাত : লা পাসকুয়ালা কী দিয়ে বানানো কেউ জানেন না । যদি মোম দিয়ে বানানোও হয়,তাহলে বলবো পাসকুয়ালিটার হাতের মতো হাত তৈরি করা এক কথায় অসম্ভব। মাদাম ত্যুসোর মিউজিয়ামে বিশ্ববরেণ্য মানুষদের হুবহু নকল মূর্তি আছে। কিন্তু সেইসব মুর্তি বানিয়েছেন যাঁরা, সেই সব  শিল্পীরাও হাত তুলে দেবেন এতো নিখুঁত, আসল একটি হাত বানাতে।

 

পাসকুয়ালিটার মুখের কিছু বৈশিষ্ট্য: শব সংরক্ষণের সময় তীব্র রাসায়নিক পদার্থের প্রভাবে  মৃতদেহ কঠিন হতে শুরু করে। তুলতুলে ঠোঁট ও চোখের  নরম পাতাও দ্রুত শুষ্ক হতে শুরু করে। কলা কোষ থেকে জল বেরিয়ে যায় বলে। ফলের চোখের তলায়, ঠোঁটে সূক্ষ্ম সূক্ষ্ণ বলিরেখা পড়ে যায়। এই প্রাকৃতিক শুষ্কতাকে, এতো নিখুঁত করে, পুতুলের মুখে কৃত্রিমভাবে ফুটিয়ে তোলা শিল্পীর পক্ষে অসম্ভব।

বিশ্বাসে মিলায় বস্তু

হ্যাঁ, মেক্সিকোর দোকানটির কাঁচের আড়ালে থাকা পাসকুয়ালিটা নামের পুতুলটি কাঠ বা মোমের তৈরী কোনও  পুতুল নয়। সেটি ৮৮ বছর ধরে সংরক্ষিত করা একটি মরদেহ।  সুপ্রাচীন  সভ্যতার  দেওয়া ফর্মুলাতেই  সেটি সংরক্ষণ করা হয়ে আসছে নয় দশক ধরে।

যুগের পর যুগ ধরে সাংবাদিকরা হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন দোকানটির মালিকদের পিছনে। কিন্তু সবাই মৌনব্রত নিয়ে আসছিলেন। বর্তমানের মালিক মারিও গঞ্জালেস অবশ্য  একবার মুখ খুলে ফেলেছিলেন সাংবাদিকদের জ্বালায়। তাঁকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল , “পাসকুয়ালিটা কি সত্যিই  একটি মৃতদেহ ?”   নির্লিপ্ত গলায় তিনি বলেন ‘বেশিরভাগ মানুষ তাই বিশ্বাস করেন। কিন্তু , আমি কিছু বলতে পারবো না।”
মারিও গঞ্জালেসের ঠিক পিছনেই দাঁড়ানো,  ৮৮ বছরের তরুণী পাসকুয়ালিটার মুখের একচিলতে হাসিটা কি রহস্যের কুয়াশাটিকে আরও গভীর থেকে গভীরতর করে তুলেছিল।

এখানে ক্লিক করে পড়ুন:  আলসেমির জন্যই গায়েব হয়েছিলো প্রাগৈতিহাসিক মানুষ, সাধু সাবধান

এখানে ক্লিক করে পড়ুন: দেবতারা কি গ্রহান্তরের মানুষ,কী বলেছিলেন দানিকেন?

Shares

Leave A Reply