সত্যজিৎ শুধু নয়, উত্তম-সুচিত্রাও! কত অচেনা গল্প প্রাণ পেয়েছে নিমাই ঘোষের লেন্সে

কুড়িয়ে পাওয়া ক্যামেরা দিয়েই জীবন শুরু।

৪১

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

তিনি ভেবেছিলেন সত্যজিৎ রায়ের ছবিতে অভিনয় করবেন, অথচ হয়ে গেলেন সত্যজিতের ছবির স্টিল ফটোগ্রাফার! সেই যে ‘গুপি গাইন বাঘা বাইন’ ছবির সেটে প্রথম একটা ছবি তুলে ফেললেন সত্যজিৎ রায়ের! ব্যস, সব ইচ্ছেতে জল ঢেলে দিয়ে পথ বদলে দিলেন খোদ সত্যজিৎ রায়। পাল্টে গেল সবকিছু। সত্যজিতের আসলে জহুরির চোখ, চিনতে ভুল হয়নি খাঁটি ফোটোগ্রাফারকে। অবশেষে সত্যজিতের সঙ্গে ‘সিকিম’ ডকুমেন্টারির কাজ করার পরে নিজের সিদ্ধান্তই বদলে ফেললেন নিমাই ঘোষ। প্রফেশনাল ফোটোগ্রাফার হয়ে গেলেন। সেই মানুষটিই আজ চলে গেলেন চিরঘুমে। বুধবার সকালে সকাল ৭.৩০ মিনিটে নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন নিমাই ঘোষ। বেশ কিছুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন নিমাই। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

কুড়িয়ে পাওয়া ক্যামেরা যেন পরশপাথর

১৯৩৪ সালে জন্ম উত্তর কলকাতায় ১৪ নম্বর অখিল মিস্ত্রি লেনে। শ্রদ্ধানন্দ পার্কের পাশেই। যখন পাঁচ বছর বয়স, বাবা (‌সতীশচন্দ্র ঘোষ)‌ ভবানীপুরে বাড়ি করে চলে আসেন। হঠাৎ একদিন তাঁর বন্ধুর শাশুড়ি ট্যাক্সি থেকে কারও হারিয়ে ফেলা একটা ক্যামেরা কুড়িয়ে পান। সেই বন্ধু নিমাইকে বলে, ‘‌তুই নিবি?‌ দেখ না, ছবি তুলতে পারিস কিনা।’‌ কে জানত, ক্যানন কোম্পানির কুড়িয়ে পাওয়া ‘‌ক্যাননেট কিউ এল সেভেনটিন’ পরশপাথর হয়ে উঠবে নিমাইয়ের জীবনে!

তবে পরিকল্পনা ছিল না এমন কিছুর। হঠাৎই এক দিন খবর পেলেন, রামপুরহাটে সত্যজিৎ রায় ‘গুগাবাবা’র শ্যুটিং করছেন। নিমাই পৌঁছে গেলেন। সে দিন শ্যুটিং ছিল না। ছিল ফিল্মের রিহার্সাল। শ্যুটিং স্পটে ‘আনকাট সত্যজিৎ’কে ক্যামেরাবন্দি করলেন নিমাই ঘোষ। সত্যজিৎ নিমাইয়ের ছবি তোলার হাত দেখে সত্যজিৎ রায় পিঠ চাপড়ে বলেছিলেন, “তুমি তো আমার অ্যাঙ্গেল মেরে দিয়েছো। ছবি তোলো, ছবি তোলো।” ব্যস, হয়ে গেলেন সত্যজিতের আজীবনের স্টিল চিত্রগ্রাহক। একেবারে ‘গুপি গাইন বাঘা বাইন’ থেকে সত্যজিতের শেষ ছবি ‘আগুন্তুক’ পর্যন্ত।

যদি মনে থাকে তবেই তা ছবি, না হলে নয়

ভবানীপুরের পূর্ণ সিনেমার পাশের গলি দিয়ে ঢুকে একটু এগোলেই ওঁর বাড়ি। যেমনি লম্বা তেমনি সুপুরুষ। কিন্তু নিজেকে বলতেন “আমার মুখ ক’জন চেনে যে মিডিয়া আসবে আমার কাছে? আমার তোলা ছবি চেনে। আর যদি মনে থাকে তবেই তা ছবি। না হলে নয়।” সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্রে যেসব ছবি আমরা দেখতে পাই, তার সব এই ভদ্রলোকেরই তোলা। প্রতিটি ছবি আইকনিক। প্রতিটি ফ্রেমে নিমাই ঘোষের অবদান। প্রতিটি ছবি আজও লেজেন্ডারি।

পায়ে পড়ি বাঘ মামা…

হীরক রাজার রাজকোষে সিন্দুকবোঝাই হিরেজহরৎ পাহারা দিচ্ছে বাঘমামা। গান গেয়ে গুপি-বাঘা কি পারবে জ্যান্ত বাঘকে বশ করতে? গুপির তো গলা শুকিয়ে কাঠ। বাঘা রবি ঘোষের জন্য মার্কামারা দিন সেটা। বাঘ টপকে চাবি নিতে হবে। এই সিন আমাদের মুখস্থ কোন ছোটবেলা থেকে। কিন্তু জানেন কি, জ্যান্ত বাঘ নিয়ে শ্যুট কীভাবে হল? বাঘ তো আর বশে আসতেই চায়না। তার মেজাজ বেশ চড়া। কিন্তু সিনেমায় দেখাতে হবে, সে বাঘ তন্ময় হয়ে গুপির গান শুনছে। সেট করা হয়েছে ক্যামেরা। তার দু’হাত পিছনেই স্টুডিওর আসল দেওয়াল। ঘর্মাক্ত দেহে বসে আছেন চারজন ক্যামেরায় চোখ দিয়ে। ভিডিও ক্যামেরায় সত্যজিৎ রায়, নিকন ক্যামেরা হাতে নিমাই ঘোষ, চিত্রগ্রাহক সৌমেন্দু রায় ও সহকারী সন্দীপ। গুপি-বাঘাও রেডি। অনুপ ঘোষালের গাওয়া গান বারবার চলছে আর থামছে। বহু চেষ্টা এক ঘণ্টা পরে বাঘমামা শান্ত হলেন। শট নেওয়া হল গানের। শট শেষ। কিন্তু তার পর যা কাণ্ড হল!

কে জানত বাঘমশাই এতক্ষণ ক্যামেরা সম্বন্ধে সম্পূর্ণ উদাসীন ছিল! হঠাৎই কী খেয়ালে এক ঝটকায় ক্যামেরার দিকে ফিরে বাঘ তার ডান পা টা তুলে থাবা দিয়ে সে প্রচণ্ড এক চাপড় মারল ক্যামেরার সামনে রাখা কাঠের তক্তার উপরে। সেই চাপড় আর কয়েক ইঞ্চি ডান দিকে পড়লেই সত্যজিৎ-সহ নিমাই ঘোষ এবং বাকিরা বাঘের শিকার হতেন। শ্যুট করা ক্যামেরাও ভেঙে চুরমার হয়ে যেতে পারত। কোনও রকমে প্যাক আপ বলার পরে বাঘকে খাঁচায় পুরল ট্রেনার। আর বাঘ ডাকল গগনভেদী হুঙ্কার। যেন শ্যুটিংয়ের সারাদিনের জুলুমের প্রতিবাদ জানিয়ে বাঘমামা ক্ষান্ত হলেন। এই গানের মুহূর্তে সব ক’টি ছবিই নিমাই ঘোষের হাতে তোলা।

আমার লেন্স যেন উত্তমকুমারের আয়না

উত্তমকুমারকে ছবি তোলার জন্য যতক্ষণ বসিয়ে রাখা হতো, তিনি বসে থাকতেন। কোনও বিরক্তি প্রকাশ করতেন না। সেটা শুধু সত্যজিৎ রায়ের ছবির ইউনিট বলে নয়, সব ছবির সেটেই ছিল উত্তমের অসীম ধৈর্য্য। যে কথা উত্তমকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করতে করতে বারবারই বলেছেন নিমাই ঘোষ। সেবার পার্থপ্রতিম চৌধুরীর ‘যদুবংশ’ ছবির জন্য মেকআপ টেস্ট হচ্ছে। তার সাক্ষী নিমাই ঘোষ। বলছিলেন, “পার্থ মেকআপ টেস্ট মুভিতে নেয়নি, স্টিলে নিয়েছিল। আমাকে নিয়ে গিয়েছিল স্টিল তুলতে। নির্দিষ্ট দিনে গিয়ে মেকআপ নেওয়ার পরে যখন স্টিলের জন্য তৈরি হচ্ছেন, তখন দেখলাম যেভাবে ক্যামেরার দিকে তাকাচ্ছেন উত্তমকুমার, তাতে মনে হয় আমার লেন্স যেন উত্তম কুমারের আয়না। আর দেখলাম অসম্ভব একটা ক্যামেরা সেন্স ওঁর, কখন কী ভাবে লাইটটা নিতে হয় সবই যেন নখদর্পণে!”

উৎপল দত্তর প্রশিক্ষণে নাটকে অভিনয়

উত্তমকুমারদের গিরীশ মুখার্জি রোডের বাড়ির কাছেই ছিল নিমাই ঘোষের বাড়ি। উত্তমের ভাই তরুণ কুমারের সঙ্গে ছিল নিমাইয়ের দোস্তি। সত্যজিৎ রায়ের ছবির কাজে ডুবে থাকার মধ্যেও এই তরুণের সঙ্গে নাটক থিয়েটার দেখতে যেতেন নিমাই বাবু। নিজেও নাটক করতেন মঞ্চে। উৎপল দত্তের ট্রেনিংয়েই নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। সেই নাটক দেখার শখে তুলেছেন অনেক নাটকের ছবিও। সেই নাটকের স্টিল ফোটোগ্রাফি দেখে রীতিমতো নিমাইয়ের ছবি তোলার প্রেমে পড়ে যান উত্তমকুমার। কৌতূহলও তৈরি হল উত্তমকুমারের। দেখা হলেই বলতেন, ব্যাগের মধ্যে কী ম্যাজিক আছে দেখান তো। তার পরে মেকআপ রুমে নিয়ে গিয়ে শুধু ওঁর নয়, নিমাইয়ের তোলা অন্যের ছবিও দেখতেন উত্তমকুমার।

উত্তম কুমারের অ্যান্টিরুমে বসে আড্ডা

ময়রা স্ট্রিটের বাড়িতে উঠে গেছে কাঠের সিঁড়ি। সামনেই ড্রইংরুম। ডান পাশে গণেশ মূর্তি। গণেশের পিছনে বাটিকের কালী। সেসব পেরিয়ে বিশাল ডাইনিং টেবিলের পাশে। আর একটু এগিয়ে গেলে বাঁ হাতের শেষ ঘর এই অ্যান্টিরুম– উত্তমকুমারের সিক্রেট রুম। এই ঘরে ঢোকার অনুমতি পেয়েছিলেন নিমাই ঘোষ। সেখানেই উত্তমের ঘরোয়া লুকে অনেক গুলো ছবি তুলেছিলেন নিমাই। যে গুলোয় আবিষ্কার করা যায় অদেখা ও অচেনা উত্তমকে। একদম মেকআপ বিহীন এক অন্য উত্তম। পঞ্চাশ পেরোনো উত্তম তখন, কিন্তু নিমাইবাবুর তোলা ছবিতে কি দুরন্ত।

নিমাই বাবু উত্তম কুমারকে বলেছিলেন, “সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে কিন্তু আপনার আরও বেশি ছবি করা উচিত ছিল।” উত্তম উত্তর দিয়েছিলেন, “সত্যজিৎ রায় আমায় ‘মহানগর’ ছবিতে নায়কের ভূমিকায় চেয়েছিলেন। কিন্তু  ওঁকে ২০-২২ দিন টানা ডেট দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। একসঙ্গে তখন আমার অনেকগুলো ছবির শ্যুটিং চলছিল। পরে অনিলকে (চট্টোপাধ্যায়) নেন ‘মহানগর’-এ।” একথা নিমাইয়ের মুখেই শোনা গেছে অনেক বার। উত্তমকুমারের মুখ নিয়েই নিমাই ঘোষ বলেছিলেন “ভীষণ চলমান সজীবতা আছে ওঁর। অভিব্যক্তির রেঞ্জ অসাধারণ। মধ্যবিত্ত মানুষ হিসেবে দেখান, চলে যাবে। কোম্পানির এগজিকিউটিভ দেখান, চলে যাবে। যা বলবেন তাই, আশ্চর্য মুখ একটা।”

সুচিত্রার ছবি তুলতে নিয়ে গেলেন ছায়াদেবী

সুচিত্রা সেন কখনও রঙমশালের মতো হেসে ওঠেন, কখনও আবার নিজের মধ্যে নিষ্প্রভ হয়ে যান। সেই রহস্যময়ীর মনের তল খুঁজে পাওয়া কারও পক্ষেই সম্ভব হয়নি। তাঁর ছবি তোলা তো অতি দুর্লভ। সুচিত্রা সেনের পার্সোনাল ফোটোগ্রাফার ধীরেন দেব। ধীরেন দেব নানা মুহূর্তে সুচিত্রাকে ফ্রেম বন্দী করেছেন ষাট দশক থেকে। আর কাউকে ধারে ঘেঁষতে দিতেন না ম্যাডাম। কিন্তু সুচিত্রার শেষ ছবি ‘প্রণয় পাশা’র শ্যুটিংয়ে নিমাই ঘোষের সুযোগ হয় মিসেস সেনের ছবি তোলার। মঙ্গল চক্রবর্তীর ছবি, অভিনয়ে সুচিত্রা সেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, ছায়া দেবী, সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়। ছায়াদেবী বেশিরভাগ ছবিতেই সুচিত্রার মা হতেন। ফলে ওঁর একটা জোরও ছিল সুচিত্রার উপর।  এই ছবিতেও সুচিত্রার মা ছায়াদেবী।

নিমাই ঘোষকে সেদিন ‘আয় বাবা’ বলে সুচিত্রার পার্সোনাল মেক আপ রুমে হাত ধরে নিয়ে যান ছায়াদেবী। সুচিত্রা তখন মেক আপ নিয়ে নিয়েছেন ‘প্রণয় পাশা’র তাপসী চরিত্রে। ছায়াদির সঙ্গে নিমাইবাবুকে দেখে সুচিত্রাও খুশি হন। বলেন “বলুন, কীভাবে দাঁড়াতে হবে, কীভাবে তুলবেন ছবি। মেকআপ রুমে শুধু নয়, ক’দিনের শ্যুটে স্পটেও সুচিত্রা সেনের কিছু ছবি তুলে ফেলেন নিমাই ঘোষ। যে ছবিগুলি বিখ্যাত হয়ে ওঠে পরে। সাদা, কালো-সহ নানা রঙিন ছবিতে সুচিত্রাকে দেখে, দর্শক আকাশের চাঁদ হাতে পায়।

রেখা থেকে অপর্ণা সেন সবাই বন্দি তাঁর হাতের জাদুতে

আশির দশকে ভরপুর ছবি তুলেছেন বলিউড শিল্পীদের। অমন লাল সিল্কের শাড়িতে অদ্ভুত সুন্দর তাঁর ক্যামেরাতেই লেগেছিল রেখাকে। গোভিল নিহালহী ‘বিজেতা’ ছবির সেটে রেখাজিকে ফ্রেমবন্দি করেন নিমাই ঘোষ। স্মিতা পাটিলকে ক্যামেরাবন্দি করেন ‘সদগতি’ থেকে ‘অভিনেত্রী’ ছবিতে। অপর্ণা সেনের শুরুর দিককার ‘থার্টি সিক্স চৌরঙ্গী লেন’, ‘সতী’– সব ছবির স্টিল ফোটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। নিমাই ঘোষের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে বেদনাতুর গলায় অপর্ণা সেন আজ বলেন, “ভাবতেই পারছি না নিমাইদা নেই। শেষ দেখা টুকুও দেখতে পাব না লকডাউনের কারণে।”

‘‌হাসো তো খোকা’‌

তবে অভিনয় করার শখ তাঁর মিটেছে সত্যজিৎ রায়ের ছবিতেই। ‘সোনার কেল্লা’। তখন স্ক্রিপ্ট লেখা হচ্ছে। সত্যজিৎ রায় বললেন, “শোনো, এই ছবিতে তোমাকে একটা কাজ করতে হবে। তুমি যা করো, তেমনই করবে। ফটোগ্রাফারের চরিত্র।” ডায়ালগ? নিমাই ঘোষ পর্দায় মুকুলকে বলেছিলেন, ‘‌হাসো তো খোকা’‌। ব্যস, ওই একটা ডায়ালগেই ওই দৃশ্য মনে থেকে গেল। তবে আর পরে অভিনয় করেননি। নিজের আলোছায়া দিয়ে তাঁর মাণিকদা ও মাণিকদার ছবিকে ধরতে চেয়েছেন। বলেছেন “ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইটের মধ্যেও কত রং আছে। সেটা ঠিকঠাক ধরতে পারলেই ম্যাজিক। তবে কালার ছবিও তুলেছি। আমি তো কখনও ফ্ল্যাশ ব্যবহার করে ছবি তুলিনি। কোনও এক্সট্রা লাইট ব্যবহার করিনি কখনও। প্রকৃতির আলোর কাছে কোনও আলোরই কোনও তুলনা নেই। সেই আলোতেই ঘরে এবং বাইরে সত্যজিৎ রায়কে দেখেছি এবং ছবি তুলেছি। অন্য স্টারদেরও।” তপন সিংহ, ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেন, গৌতম ঘোষ– সবার সঙ্গেই কাজ করেছেন কখনও না কখনও।

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল নিয়ে কাজ করা স্বপ্ন ছিল

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল নিয়ে একটা কাজ করতে চেয়েছিলেন। চার বছর যাতায়াত করেও পারমিশন পাননি। ভিক্টোরিয়ার আনাচ-‌কানাচ তাঁর চেনা। সব নিয়ে একটা অ্যালবাম করার স্বপ্ন দেখতেন। আর অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির। ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইটে সোনালীকে ধরা। সবর্শেষ সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল সত্যজিৎ রায়কে নিয়েই। তাঁর ছবি নিয়ে একটা আর্কাইভ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে চাইতিন সেই সব ছবি। ২০০৭ সালে জাতীয় পুরস্কারের জুরি বোর্ডের সদস্যও ছিলেন নিমাই ঘোষ। পরে ২০১০ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত হন তিনি।

সুযোগ্য পুত্র সাত্যকি

বিখ্যাত পিতার সুযোগ্য পুত্র চিত্রগ্রাহক সাত্যকি ঘোষ। ইনিও আলোকচিত্রী, অসাধারণ ছবি তোলেন। অপর্ণা সেন, মুনমুন সেন, ঋতুপর্ণ ঘোষের যত অচেনা ছবি দেখে মুগ্ধ হয়েছি আমরা, সে সবই তাঁর। সাত্যকিবাবু থাকেন মুম্বইতে। করোনার লকডাউনের কারণে বাবার শেষকৃত্য করতেও আসতে পারবেন না বলে শোনা গেছে।

আলোছায়ার জীবনে ৯০ হাজারেরও বেশি ছবি রয়েছে তাঁর। বেঁচে থাকতে কিছু দেখে যেতে পারলেন না, এখন অন্তত শিল্পীকে সম্মান দিতে সেগুলির সংরক্ষণ করা হোক। সময়ের দলিলে বেঁচে থাকুন “রে’স লেন্সম্যান” নিমাই ঘোষ।

ছবি সংগ্রাহক: তথাগত সেন ও মৌমিতা রায়চৌধুরী।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More