বুধবার, অক্টোবর ১৬

৮৩ বছরের ফারুক আবদুল্লা জননিরাপত্তা আইনে আটক

  • 77
  •  
  •  
    77
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবারই জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা সম্পর্কে কেন্দ্রীয় সরকার ও জম্মু-কাশ্মীর সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এরপরই জানা গেল, সোমবারই তাঁর বিরুদ্ধে পাবলিক সেফটি অ্যাক্টে চার্জ আনা হয়েছে। তাতে তাঁকে সর্বাধিক দু’বছর বিনা বিচারে আটকে রাখা যেতে পারে। এর আগেই ফারুকের দীর্ঘদিনের বন্ধু তথা এমডিএমকে নেতা ভাইকো অভিযোগ তুলেছিলেন, জম্মু-কাশ্মীরের ওই বর্ষীয়ান নেতাকে বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছে।

৮৩ বছরের ফারুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে বাধা দিচ্ছেন। তিনি এখন শ্রীনগরে গৃহবন্দি আছেন। জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার পরেই কেন্দ্রীয় সরকার সেখানে কয়েকশ রাজনৈতিক কর্মীকে আটক করে। প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাও আটক হন। এক মাসের ওপর তাঁরা আটক হয়ে আছেন।

৬ অগস্ট এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে প্রথমে প্রশ্ন তোলেন, লোকসভায় ফারুক অনুপস্থিত কেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জবাব দেন, তাঁকে কেউ গ্রেফতার করেনি, আটকেও রাখেনি। নিজের ইচ্ছায় তিনি বাড়িতে আছেন।

এই প্রথমবার মূলস্রোতের কোনও রাজনীতিকের বিরুদ্ধে জন নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করা হল। ফারুক তিনবার জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। বর্তমানে তিনি সাংসদ। সাধারণত সন্ত্রাসবাদী, বিচ্ছিন্নতাবাদী ও যারা নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর দিকে পাথর ছোঁড়ে তাদের বিরুদ্ধে এই আইনটি প্রয়োগ করা হয়। ১৯৭৮ সালে কাঠ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে এই আইনটি প্রথমবার প্রয়োগ করেছিলেন ফারুকের বাবা শেখ আবদুল্লা।

পর্যবেক্ষকদের মতে, কেন্দ্রীয় সরকার আশঙ্কা করেছিল, ফারুক সাংবাদিকদের সামনে আপত্তিকর কিছু বলতে পারেন। চলতি মাসের শেষেই রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভার অধিবেশন হবে। তার আগে ফারুক সমালোচনা করলে কেন্দ্রীয় সরকারকে অস্বস্তিতে পড়তে হত।

ভাইকো এদিন সুপ্রিম কোর্টে বলেছিলেন, তাঁরা তামিলনাড়ুতে রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী সি এন আন্নাদুরাইয়ের জন্মদিনে বিরাট জনসমাবেশের আয়োজন করেছেন। সেখানে ফারুকের উপস্থিত থাকার কথা। তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার পালটা বলে, ভাইকো ফারুক আবদুল্লার আত্মীয় নন। তিনি আইনের অপব্যবহার করে ফারুকের মুক্তি চাইছেন।

Comments are closed.