মঙ্গলবার, মার্চ ১৯

চার বছরে আত্মঘাতী কৃষকের সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণ! জানাল আরটিআই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেষ চার বছরে কৃষক আত্মহত্যার সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে মহারাষ্ট্রে। এক জন আরটিআই আন্দোলনকারী জিতেন্দ্র ঘাগড়ের করা একটি আরটিআই-এর উত্তরে এমনটাই জানাল সরকার।

ওই উত্তরে আরটিআই দফতর থেকে জানানো হয়েছে, ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে, কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন, সরকারি ভাবে আত্মঘাতী কৃষকের সংখ্যা ছিল ৬,২৬৮। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালে, বিজেপির শাসনকালে সেই সংখ্যাই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১, ৯৯৫।

আরটিআই-এর উত্তরটিতে আরও জানা গিয়েছে, বিদর্ভ এলাকার অমরাবতী থেকে সব চেয়ে বেশি আত্মহত্যার খবর এসেছে। ঘটনাচক্রে, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ এবং কেন্দ্রীয় পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গড়করি– দু’জনেই বিদর্ভ এলাকার নাগপুরের বাসিন্দা। তাঁদেরই এলাকার কৃষকদের এই করুণ পরিণতি প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে সরকারকে।

আরটিআই-এর উত্তরে এসেছে আরও অবাক করা তথ্য। জানা গেছে, ২০১৪ সালে ১৩৫৮ জন আত্মঘাতী কৃষকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লক্ষ টাকা করে দেওয়া হলেও, ৬৭৪টি পরিবার এই ক্ষতিপূরণ নিতে অস্বীকার করেছেন। ২০১৮ সালে, এই প্রত্যাখ্যানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৫০। অন্য দিকে ক্ষতিপূরণ নেওয়া পরিবারের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩৩০। আবার এই প্রত্যাখ্যানের দিক থেকেও সব চেয়ে আগে এসেছে অমরাবতীর নামই।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শুল্কমন্ত্রী একনাথ খাড়সে ঘোষণা করেন, আত্মঘাতী হওয়া কৃষকের পরিবারকে এক লক্ষ টাকার পদলে পাঁচ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে, কৃষকদের জীবনবিমার আওতায় আনার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। কিন্তু সাম্প্রতিক এই আরটিআই থেকে জানা গিয়েছে, এর কোনওটাই কার্যকর হয়নি এখনও।

কেন?

ঘাগড়ে জানান, কৃষকদের যে জীবনবিমার কথা খাড়সে ঘোষণা করেছিলেন, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে তা চালু হয় ‘গোপীনাথ মুণ্ডে অ্যাকসিডেন্ট ইনস্যুরেন্স স্কিম’ নামের প্রকল্প হিসেবে। কিন্তু এ প্রকল্প খুঁটিয়ে দেখলে দেখা যায়, এই বিমা কেবলই দুর্ঘটনা কভার করবে। যে দুর্ঘটনার তালিকায় আত্মহত্যা পড়ছে না। ফলে আত্মঘাতী কৃষকের পরিবার এই বিমার সুবিধাও পাবেন না।

আরটিআই আন্দোলনকারী জিতেন্দ্র ঘাগড়ে বলেন, “মহারাষ্ট্রের তথা সারা দেশের কৃষকদের অবস্থা রোজ খারাপ থেকে খারাপতর হচ্ছে। এই বিষয়ে সরকারের কোনও নজর নেই। বস্তুত, কোনও কৃষক আত্মঘাতী হলে তাঁর পরিবারকে এক লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব রাখা ছাড়া আর কোনও ভূমিকাই পালন করে না সরকার। গত চার বছরের তথ্য ও পরিসংখ্যান এমনটাই বলছে।”

Shares

Comments are closed.