বৃহস্পতিবার, জুন ২৭

সোনার পাহাড়ের খোঁজে হাতে হাত রেখে এগোয় গল্প-সিনেমা-জীবন

তিয়াষ মুখোপাধ্যায়: মধ্যবিত্ত এক পরিবারের ছোট্ট সন্তানটি, মা-বাবার হাত ধরে গিয়েছিল পাহাড়ে বেড়াতে। গ্যাংটকের রেলিংয়ে থুতনি রেখে, কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা হয়নি সেই বার। আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় ফিরে আসতে হয়েছিল খালি চোখে। ঠিক হয়, পরে আসা হবে ফের। এর মধ্যে পিতৃহারা হল ছেলে। কথা ছিল, বড় হয়ে মাকে নিয়ে একাই বেড়াতে আসবে বীরপুরুষ পুত্র। দু’জনে একসঙ্গে দেখবে কাঞ্চনজঙ্ঘা। সময় পেরোয়, ছেলে বড় হয়। মায়ের বয়স বাড়ে। আর বাড়ে দূরত্ব। ভুলে যাওয়া কবিতার মতোই আবছা হতে হতে মিলিয়ে যায় মা-ছেলের একসঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সেই পরিকল্পনা।

সিনেমার রিভিউ লিখতে গিয়ে ফেঁদে বসলাম গল্প। হয়তো বহু পরিবারের চেনা, খুব সাধারণ একটা গল্প। কিন্তু এ গল্প ছাড়া যে সিনেমাটি সম্পূর্ণ হতো না, তা বোঝার জন্য অপেক্ষা করতে হয় অনেকটা, প্রায় শেষ অবধি। না না, আমি মোটেও শেষ দৃশ্য বলে ফেলে আপনাদের উত্তেজনা নষ্ট করতে চাই না। ধরে নিন, এ নিছকই এক বিচ্ছিন্ন গল্প।

গল্প থেকে বাস্তবে ফিরে আসি।

এ সময়ের অন্যতম সমস্যা নাকি, লাগামছাড়া ভাবে বেড়ে চলা জনসংখ্যা। অর্থাৎ, মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। তাই স্বাভাবিক নিয়মেই ধরে নেওয়া যায়, মানুষের সংখ্যার সঙ্গেই বাড়ছে সম্পর্ক, টান, ভালবাসা। কিন্তু তা সত্ত্বেও এ সময়ের সব চেয়ে বড় ভয় কেন হয়ে দাঁড়াচ্ছে নিঃসঙ্গতা? কেন এত মানুষের মধ্যে কেউ কারও জন্য সময় বার করতে পারছে না? এই নিঃসঙ্গতার অসুবিধাগুলির সঙ্গে আমাদের সকলের কমবেশি পরিচয় রয়েছে। কিন্তু জীবনের পড়ন্ত বেলায় পৌঁছনো মানুষদের কাছে এ শুধু এক অসুবিধা নয়, এ যেন এক বিপন্নতা, এক নিরাময়হীন তেষ্টা। স্পর্শের অভাবে, যত্নের অভাবে প্রায় শুকিয়ে যাওয়া এক বৃদ্ধ গাছের একটু সঙ্গ পাওয়ার তেষ্টা।

গায়ে গায়ে বাস করা অসংখ্য মানুষের মধ্যে থেকেও নেই কোনও আপনজন। নিজের, সব চেয়ে আপন মানুষগুলোকেও কেড়ে নিয়েছে ব্যস্ততা আর প্রাইভেসির দৈত্য। ব্যক্তিগত বুদ্বুদ ভেঙে কেউ কাউকে ছুঁতে পারছে না। এ একাকীত্ব আমাদের কাঙ্ক্ষিত ছিল না। কিন্তু এ একাকীত্ব এক ঘন কালো কুয়াশার মতো জড়িয়ে রেখেছে জীবনের অপরাহ্নে এসে পৌঁছনো মানুষগুলিকে।

বাস্তব থেকে সিনেমায় প্রবেশ করা যাক।

বাপ-মা মরা, অকৃতদার রাজদীপের রয়েছে এক এনজিও। অসুস্থ, অনাথ শিশুদের দেখভাল করে তারা। একই সঙ্গে, কোথাও কোনও বৃদ্ধ-বৃদ্ধা একা বিপদে পড়লে, সাধ্যমতো চেষ্টা করেন পাশে দাঁড়ানোর। এমনই পাশে দাঁড়ানোর ফোন আসে, হঠাৎ পড়ে গিয়ে সোজা হতে না পারা বৃদ্ধা উপমার বাড়ি থেকে। ফিজ়িওথেরাপিস্ট চাই। এই ফোনের আগের দৃশ্যই দেখিয়েছে আর একটা ফোনকল। যেখানে বৃদ্ধার পড়ে যাওয়ার খবর সর্বপ্রথম পৌঁছেছে তাঁর বৌমা মৌমিতার কাছে। নিস্পৃহ জবাব এবং নির্লিপ্ত কর্তব্যপালন সারা হয়েছে, ‘হোম-কেয়ার’-এর ফোন নম্বর জুগিয়ে। খবর পান ছেলে সৌম্যও। কিন্তু ছেলের ন্যূনতম উৎকণ্ঠাও এসে পৌঁছয় না মা পর্যন্ত।

মাঝখান থেকে এই হোম-কেয়ারের যোগাযোগেই এসে পৌঁছয় রাজদীপ। এখন এনজিও করলেও, আদতে সে সৌম্যরই ছোটবেলার বন্ধু। তার বাড়িতে এসে ড্রেসিং টেবিল ভাঙার কথাও মনে রেখেছেন অশীতিপর উপমা! রাজদীপ প্রস্তাব দেয়, তার এনজিও-র একটি বাচ্চাকে উপমার সঙ্গ দেওয়ার জন্য পাঠাবে সে। এমন নাকি পাঠিয়ে থাকে তারা। প্রথমে না হয়েও, হ্যাঁ হয় উপমার উত্তর। আর এই না এবং হ্যাঁ-এর মাঝে ছোট্ট করে পরিচালক ছুঁয়ে ফেলেন এক চিরন্তন অভিমানকে। এ অভিমানের নাম ইগো দেওয়াই যায়। কিন্তু শেষ অবধি সিনেমা দেখার পরে, ফের নামবদলে ফিরে আসতে হয় অভিমানেই। ফলে, রাজদীপের হাত ধরে বাড়িতে এসে পৌঁছয় ছটফটে বিটলু।

বিটলুর সঙ্গে উপমার ভাব জমতে জমতে ফের এক বার ঘুরে আসা যাক বাস্তবে।

এ শহরেরই কোনও এক বৃদ্ধা। বিধবা, একা। ছেলে-বৌমা একই শহরের কোনও এক আকাশছোঁয়া অ্যাপার্টমেন্টে রয়েছেন। সে অ্যাপার্টমেন্টের গা ঘেঁষে ট্যাক্সি করে পেরোনোর সময় মুখ তুলে চেয়ে দেখা হয়, কিন্তু প্রবেশ করা হয় না মায়ের। ছেলে যে তার মস্ত মানুষ, মস্ত অফিসার! অর্থ আছে, অবসর আছে, এখনও হয়তো অনেকগুলো দিন বাকি আছে জীবনে। নেই কেবল একটু সঙ্গ। নেই, আঁকড়ে ধরার মতো কোনও মানুষ। নেই ছোট্ট দু’টো টলমল পা ঘর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে—এমন দৃশ্য দেখার সুখ। নেই কোনও বাচ্চাকে নিয়ে গড়ের মাঠে ঘোড়ায় চড়াতে নিয়ে যাওয়ার আনন্দ। নেই গল্প শুনতে চাওয়ার আবদার। ঠিক অন্য ছবি শহরের অন্য কোনও প্রান্তে, ‘আনন্দঘর’ নামের এক হোমে। খুদে ছেলেমেয়েগুলোর খেলা আছে, হাসি আছে, পড়াশোনা আছে, আনন্দ আছে, কিন্তু নেই নিজের বলতে কেউ। নেই আদর করার, যত্ন করার, ভালবাসার কাছের লোক। নেই রেস্তোরাঁয় গিয়ে খেতে চাওয়ার আবদার করার মতো একটা স্নেহল দিঘি।

আপনার-আমার আশপাশেই আছেন এমন দু’পক্ষের মানুষেরা। তাঁদের দেখা হয়। সত্যিই হয়। দেখা হয় আনন্দঘরের কর্নধার কল্লোল ঘোষের উদ্যোগে।

সিনেমাতেও তেমনই হল, বাস্তবে যেমন হয় সেভাবেই। কল্লোলের ভূমিকায় সেই রাজদীপই। রাজদীপের মাধ্যমে দু’পক্ষের একাকীত্ব হাত ধরল পরস্পরের। এক দিকে রইল সত্তর, অন্য দিকে রইল সাত। ফারাক রইল বয়সের, তফাত রইল সামাজিক অবস্থানের। ব্যবধান রইল জীবনযাত্রার। কিন্তু তার মধ্যেই রইল, পরস্পরের নির্ভরতার মেঘ। এ মেঘ ভাসার আনন্দে ভাসে। ঝরার আনন্দে ঝরে। দায়িত্ব, নিরাপত্তার বেড়াজালে বাঁধা পড়ে না। বালকচোখে দুনিয়া দেখার বিস্ময় আর স্বভাবসুলভ দুষ্টুমির যোগ্য সঙ্গতে কখন যেন মৃদু হাসি ফোটে কুঁচকোনো চামড়ায় ঘিরে থাকা শুকনো, বৃদ্ধ ঠোঁটে। তিরিক্ষি, বদমেজাজি, একগুঁয়েমি—এই সব বিশেষণগুলো ধীরে ধীরে ছুটি নেয় ছোট্ট মানুষটার হাত ধরে।

এখানে সিনেমাটা শেষ হলেও কোনও আফশোস থাকত না। কিন্তু এ পর্যন্ত যেন জানলা দিয়ে দেখা দৃশ্যপট, যা বাস্তবে এ শহরে ঘটেই থাকে, ঘটতেই পারে। কিন্তু সিনেমার দায় আছে উত্তরণের। তাই স্ক্রিনে আসেন রজতশুভ্রবাবু। শিল্পপতির পরিচয়ে প্রবেশ করে, যিনি উপমার কলেজ সিনিয়ার হিসেবে ধরা দেন এবং শেষবেলায় উপমাকে শিখিয়ে দেন, নতুন করে বাঁচতে। বুঝিয়ে দেন, আসলে হেরে যাওয়া বলে কিছু হয় না, যত ক্ষণ নিজের ইচ্ছেয় নিজের চাওয়া পূরণ করা যায়। সে চাওযা পূরণের একমাত্র অস্ত্র হিসেবে মনে করিয়ে দেন, উপমার লেখার অভ্যেস। সেই কলেজবেলা থেকেই লেখালেখিই যে নেশা তাঁর!

ইতিমধ্যে দর্শকেরা জেনে ফেলেছেন, পড়ে ফেলেছেন উপমার তরুণীবেলায় লেখা গল্পদের কথা। পাপুন আর তার একলা মায়ের গল্পে বারবার করে নিজেকে আর ছেলে সৌম্যকে সাজিয়ে দিয়েছেন তিনি। এক শেষ না হওয়া গল্পে সাসপেন্স রেখেছেন গুপ্তধন খুঁজতে যাওয়ার অভিযানের মাঝপথে! সে গল্পে সোনার পাহাড়ে পৌঁছনোর পথের নকশা হাতে পেয়ে মা-ছেলে বেরিয়েও পড়েছে অভিযানে।

রজতের উস্কানিতে সত্যিই বেরিয়ে পড়ে উপমা আর বিটলু। কাউকে কিছু না বলে, সটান গ্যাংটক। পাহাড়ের কোলে নিরিবিলিতে শেষ করবেন, বহু বছর আগে লেখা সে গল্পের বাকিটুকু। পাপুন আর তার মায়ের গল্পকে নিজের মতো করে একটু এগোতে গিয়ে বিটলু বলে ফেলে বিটলু আর তার উমার কথা। উপমাকে ছোট করে এই নামেই যে ডাকে সে!

গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যান উপমা। পাপুন আর মায়ের গল্প। আর সিনেমায় এগোয় বিটলু আর উমার রূপকথা। পাশাপাশি, গা ঘেঁষে। সে রূপকথায় মারা যায় একাকীত্ব নামের হিংসুটে দৈত্য। রূপকথার আলো একটু একটু করে চারিয়ে যায় ঘর থেকে পাহাড়।

এখানেও শেষ হতে পারত সিনেমা। আফশোসের জায়গা ছিল না মোটেই।

কিন্তু বিটলুর ওষুধ না খেয়ে শরীর খারাপ করায় বাধ্য হয়ে ফোন করতে হয় রাজদীপকে। ও, বলা হয়নি, বিটলু এইচআইভি পজ়িটিভ। তার শরীরের প্রতিরোধ শক্তি একটু কম। তাই নিয়মিত ওষুধ খেতে হয় তাকে। তাই খবর পেয়ে, ওষুধ নিয়ে গ্যাংটকে হাজির হয় রাজদীপ। সঙ্গে আসে সৌম্য, মৌমিতা—উপমার ছেলে-বৌমা। তত দিনে বিস্তর থানা-পুলিশ করেছে তারা। তা করতে গিয়ে সৌম্য দেখে ফেলেছে, কলকাতা পুলিশের তত্ত্বাবধানে থাকা এক ঝাঁক বৃদ্ধাকে, যাঁদের প্রতিদিন কেউ না কেউ, কোথাও না কোথাও ফেলে দিয়ে গিয়েছে। তাঁদেরই মধ্যে এক বৃদ্ধা তাঁর সন্তানভ্রমে সৌম্যর গালে হাত বুলিয়ে ফেললে, বিবেক জাগ্রত হয়েছে মা-খোওয়া আর্দ্র মনের ভিতরে। শুধু তা-ই নয়, মায়ের ছোটবেলায় লেখা সেই গল্পের খাতায় পাপুনের মধ্যে নিজেকে খুঁজে পেয়ে বিস্তর অনুশোচনাও হয়েছে তার। কাতিল স্মৃতিরা তাকে পেড়ে ফেলেছে এত দিন ধরে মাকে অবহেলা করে আসার মনোভাব থেকে। বহু যুগ পরে পাপুনের আয়নায় চোখ রাখে সৌম্য।

তাই রাজদীপের সঙ্গেই পাহাড়ে হাজির সৌম্য। বৌমা মৌমিতারও এটাই সুযোগ, স্বামীর সঙ্গেই নিজের অবস্থান ক্লিয়ার করার। কারণ চেষ্টা সে-ও করেছিল একসঙ্গে থাকার। এই বিচ্ছিন্নতা সে-ও চায়নি। কিন্তু বাস্তব বড় স্নেহহীন। রাজদীপের সঙ্গে আলাপচারিতায় এ কথা বার করিয়ে নিলেন পরিচালক। জোর করে নয়, অনায়াসেই।

উপমার গল্প শেষের পথে। সোনার পাহাড় ধরা দিল বলে। সিনেমাও এগোয় শেষের দিকে। অপূর্ব এক আলোয় সোনার পাহাড়ের সঙ্গে দেখা হয় উপমার, সৌম্যর, বিটলুর, পাপুনের, উমার। গল্প আর বাস্তবের সমস্ত চরিত্র মিলেমিশে এক হয়ে ধুয়ে যায় অপূর্ব এক কান্নায়। এত বছরের যাবতীয় দূরত্ব, অবহেলা, দুর্বব্যবহার, বদমেজাজ, অসহিষ্ণুতা ভেসে যায় অনির্বচণীয় আলো। গ্যাংটকের ব্যালকনি ভরিয়ে ফেলা সে আলো আসলে পড়ন্তবেলার সূর্যরশ্মির কাঞ্চনজঙ্ঘায় প্রতিফলন।

চকিতে মনে পড়ে, কাঞ্চন মানেই যে সোনা! অনুভূত হয়, সোনার পাহাড় আসলে সেই মুহূর্তটা, যে মুহূর্তে এক হয়ে যায় অনতিক্রম্য দূরত্বেরা।

মন ভাল হতে গিয়েও খারাপ হয়ে যায় শেষবেলায়। পরিচালক বুঝিয়ে দেন, উপমার সঙ্গে শেষমেশ সেই সোনার পাহাড়ে পৌঁছনো হয় পাপুনেরই। হাজার অভিমানের শেষেও পাপুনই ফিরে আসে, মায়ের কাছে। রাজদীপের বলা সেই ‘কাইট রানার’ উপন্যাসের সেই আফগান বাচ্চাটার মতোই, যে ঠিক জেনে ফেলে কাটা ঘুড়িটা কোথায় এসে পড়বে। পাপুন তথা সৌম্যও জেনে যায়। অপেক্ষা করে ঠিক জায়গায়। নিজেকে উজাড় করে দেয় ঠিক মুহূর্তে।

তাই সোনার পাহাড়ের দীর্ঘ যাত্রাপথে বিটলু সঙ্গী হলেও, পাহাড় ছোঁয়ার মুহূর্তটায় বিটলুদের জন্য রাজদীপরাই থাকে কেবল। আড়ালে, সঙ্গোপনে, মন খারাপে।

রাজদীপের ভূমিকায় পরমব্রতকে দেখে একটি বারও মনে হয়নি অভিনয় করছেন। ঠিক যেমন, সিনেমাটা দেখতে গিয়ে এক বারের জন্যও মনে হয়নি, পরমব্রত পরিচালনা করেছেন। মনে হয়েছে, তিনি শুধুই গল্প বলেছেন পাহাড়ি সোঁতার মতো। স্বচ্ছ, সরল, ঝরঝরে।

এত বছর পরে পর্দায় ফিরে এসে উপমার ভূমিকায় তনুজার সংযত অভিনয় মুগ্ধ করে। মুগ্ধতা বাড়ায় রজতশুভ্র তথা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে অল্প সময়ের জন্যও স্ক্রিন শেয়ারিং। সৌম্য-মৌমিতার চরিত্রে যীশু-অরুণিমা যথাযথ। আর বিটলুর চরিত্রে অভিনয় করার জন্যই যেন খোঁজ মিলেছে খুদে শ্রীজাতর। এইটুকু ছেলের টাইমিং আর স্বতঃস্ফূর্ততা আশা জাগায়, এক জন সহজ শিশু অভিনেতা হিসেবে তাকে ব্যবহার করবে ইন্ডাস্ট্রি।

পাহাড় যাওয়ার পথে ইমনের গাওয়া রবীন্দ্রসঙ্গীতটি মন ভরিয়ে দেয়। অনুপম রায়ের দ্বিতীয় গানটিও হল থেকে বেরোনোর পরে গুনগুন করে মাথার ভিতর। এর বাইরে উপহার বলতে শুভঙ্কর ভড়ের সিনেমাটোগ্রাফি। লেন্সে বাঁধা অপূর্ব দৃশ্যপটেরা পোস্টকার্ড চিত্রের মতো গেঁথে যায় মনের দেওয়ালে।

সোনার পাহাড় দেখে আসুন সক্কলে। সদলবলে, সপরিবারে। বাড়ির বৃদ্ধতম সদস্য থেকে কনিষ্ঠটি—সকলকে নিয়ে যান। আর দেখে এসে ভাবুন তো, সিনেমার বার্তাকে বাস্তবে সত্যি করা যায় কি না!

সোনার সম্পর্কগুলোয় আশ্বাসের পাহাড় গড়তে পারি কি না আমরা!

Leave A Reply