চুক্তি মেনে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে হবে, চিনকে ফের বার্তা দিল ভারত

গালোয়ানের সংঘাতের পরে চিনের মোকাবিলা করার জন্য যেমন ভারত প্রস্তুতি শুরু করেছে তেমনই সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টাও জারি রয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব লাদাখে সীমান্ত সংঘাতকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা মিটিয়ে দ্রুত শান্তি ও স্থিতাবস্থা সুনিশ্চিত করতে হবে। চিনকে ফের এমন বার্তা দিল ভারত। দুই দেশের মধ্যে হওয়া বিভিন্ন চুক্তিকেও সম্মান করতে হবে। বেজিংকে এমন আহ্বানও জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

গালোয়ানের সংঘাতের পরে চিনের মোকাবিলা করার জন্য যেমন ভারত প্রস্তুতি শুরু করেছে তেমনই সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টাও জারি রয়েছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তবকে উদ্ধৃত করে বলেছে, “আমরা আশা করি, চিন আন্তরিকতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও প্রোটোকল মেনে সীমান্ত এলাকায় দ্রুত শান্তি ও স্থিতাবস্থা ফেরানোর লক্ষ্যে পদক্ষেপ করবে।” নয়াদিল্লির তরফে বেজিংকে এও জানানো হয়েছে যে, দুই দেশের সেনাবাহিনীর সিনিয়র কম্যান্ডারদের মধ্যে সর্বশেষ আলোচনায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় (এলএসি) উত্তেজনা হ্রাসে উভয় পক্ষের দায়বদ্ধতা ফুটে উঠেছে। সেটা কার্যক্ষেত্রেও দেখাতে হবে।

আরও পড়ুন

তাজমহল, লালকেল্লার দরজা খুলছে, ৬ জুলাই থেকে অনেক সৌধেই যেতে পারবেন পর্যটকরা

উল্লেখ্য, গত ১৫ ও ১৬ জুনের মধ্যরাতে চিনা ও ভারতীয় সেনা জওয়ানদের সংঘর্ষে এক কর্নেল সহ ২০ জন ভারতীয় জওয়ানের মৃত্যু হয়। সঠিক সংখ্যা চিন সরকারি ভাবে না জানালেও নানা অসমর্থিত সূত্রে প্রকাশ, তাদেরও অনেক জওয়ান হতাহত হয়েছে। এর পরে অনেক আলোচনা হয়েছে। দু’দেশের সেনা কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে। তাতে আপাতত শান্তি থাকলেও চিন পূর্ব লাদাখ সীমান্তে সেনা মোতায়েন বাড়িয়েই চলেছে। ভারতও বসে নেই। উভয় পক্ষই সংঘাতের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগেই এমন বার্তা দিয়েছেন যে, ভারত বন্ধুত্বের জন্য সব সময়ে তৈরি। কিন্তু কেউ চোখ রাঙালে তার চোখে চোখ রেখে জবাব দিতেও জানে। সেই বিদেশ নীতি মেনেই ভারত সরকার বারবার শান্তি স্থাপনের আর্জি জানিয়ে চলেছে চিনের কাছে।

সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা হ্রাসের লক্ষ্যে লাগাতার প্রয়াসের অঙ্গ হিসাবে মঙ্গলবার, ৩০ জুন চিন ও ভারতের পদস্থ কম্যান্ডাররা দীর্ঘ বৈঠকে বসেন। এই নিয়ে তিনবার এমন বৈঠক হল। সামরিক স্তরের সেই বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনাও হয়। সেই বৈঠকের কথা মতো চিন যাতে দ্রুত শান্তি স্থাপনের পদক্ষেপ করা তারই জন্য ফের আর্জি জানাল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।

মঙ্গলবার সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা অনুসারে ভারতের দিকে চুশুলে সামরিক স্তরের বৈঠক হয়। এর আগে আরও দু’টি বৈঠক হয়েছিল। তবে সেগুলি হয় চিনের দিকের অংশ মোল্ডোতে। সেই সব আলোচনায় চিন যতই শান্তির কথা বলুক আসলে তারা যে সংঘাতের প্রস্তুতি চালাচ্ছে তার অনেক নজিরই ইতিমধ্যেই মিলেছে। আসলে লাদাখে চিন সীমান্তে কীভাবে উত্তেজনা কমানো যাবে, তা নিয়ে ভারত ও চিনের সেনাকর্তারা এখনও কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি। দিল্লি থেকে একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী দিনে সেনাবাহিনী ও কূটনৈতিক স্তরে আরও আলোচনা হতে পারে। সীমান্তে যাতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, সেজন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।

অন্য দিকে, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভারত এমন কয়েকটি পদক্ষেপ করেছে যাতে রীতিমতো বিপাকে চিন। ভারত ৫৯ টি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে। ভারতে ফোর জি টেলি পরিষেবা আপগ্রেড করার টেন্ডার কেড়ে নিয়েছে চিনা সংস্থা হুয়াওয়েই-এর থেকে। সেই সঙ্গে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, ভারতে কোনও হাইওয়ে প্রকল্পে চিনা সংস্থাকে কাজ করতে দেওয়া হবে না। এছাড়াও বহু প্রকল্পের বরাত হাতছাড়া হয়েছে বিভিন্ন চিনা সংস্থার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More