বুধবার, জানুয়ারি ২৯
TheWall
TheWall

ওপার বাংলার শিল্পীরা রবীন্দ্রনাথের গানে বেশি আশ্রিত, বললেন মনোজ মুরলী নায়ার

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

মধুরিমা রায়

বাইরে যত অশান্তির উত্তাপ, অন্তরে তত বেশি তিনিই ত্রাতা হয়ে আসেন এখনও। বর্তমান পরিস্থিতিতে সভ্যতার সঙ্কটে তিনিই একমাত্র প্রাসঙ্গিক। বৈশাখের দাবদাহ বাড়ে, তাই তো এটাই তাঁর জন্মের ঠিক সময়। তবে শুধু একদিন নয়, তিনি প্রাত্যহিক। তিনি দেবতা নন, যদিও ঈশ্বরের সাথে পরিচয়ের একমাত্র মাধ্যম উনি। তিনি রবি ঠাকুর। কথাগুলো বললেন বিশিষ্ট রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী মনোজ মুরলী নায়ার। আজ বৈশাখের পঁচিশে চতুর্দিকে কবি প্রণামের আয়োজন, তারই মাঝে ‘দ্য ওয়াল’- কে একান্ত সাক্ষাৎকার দিলেন রবিযাপন করা এই শিল্পী।

কথা বলতে বলতে কখনও আবেগে তাঁর চোখে জল এল, কখনও বললেন এখনও রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বলতে গেলে তাঁর গায়ে কাঁটা দেয়। তিনি বাংলায় জন্ম না নিলেও ছোট থেকে শান্তিনিকেতন তাঁর শিরা উপশিরায়। তবে এখন যে শান্তিনিকেতনের ছবি, তা নিয়ে তাঁর কষ্টও গোপন করলেন না শিল্পী। যে জন্য শান্তিনিকেতন রবি ঠাকুর তৈরি করেছিলেন, সারা বিশ্বের উৎকৃষ্ট চিন্তাকে সমবেত করার জন্য, তা যে এখন আর নেই, স্পষ্ট বলে দিলেন মনোজ। জীবনের প্রথম গাওয়া রবীন্দ্রনাথের গান গাইলেন তিনি। বললেন এখন যেভাবে এর অর্থ বোঝেন, আগে সেই বোধ স্বাভাবিকভাবেই ছিল না। রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে বিদেশি সঙ্গীতের সাযুজ্য কোথায়, তা গানে, সুরে, তালে ভেঙে ভেঙে শোনালেন মনোজ।

সমসময় সম্পর্কে তাঁর অকপট উক্তি, ”এই অদ্ভুত পরিস্থিতির মধ্যে যদি কিছু ছায়া, কিছু আশ্রয় থাকে সে একমাত্র রবীন্দ্রনাথ।” সভ্যতা যখন সঙ্কটে থাকে তখন রন্ধ্রে রন্ধ্রে রবীন্দ্রনাথ জাগ্রত থাকেন। যত দিন যাবে রবীন্দ্রনাথ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হবেন। রবীন্দ্রনাথের গান আঁকড়ে বেঁচে থাকা মনোজের কাছে রবি ঠাকুর দেবতা নন। রক্ত মাংসের অস্তিত্ব হয়েও তিনি জীবনের ধ্রুবতারা। ” তিনি আছেন, তাঁর গান আছে, তাই আমরা সঠিক পথে চলতে পারি। তিনি আমাদের বিশ্বাস, ভরসা।”

এপার না ওপার, কোন বাংলায় রবীন্দ্রনাথের গান গভীরতর অবলম্বন?– এই প্রশ্নের উত্তরে শিল্পীর সুচিন্তিত অভিমত, ওপার বাংলার শিল্পীরা রবীন্দ্রসঙ্গীতে অনেক বেশি আশ্রিত। এখানকার অনেক শিল্পীর মধ্যে সেই আত্মার যোগাযোগটা তুলনায় কম। এই প্রসঙ্গে তাঁর পর্যবেক্ষণ, বিধাতার সৃষ্টিতে একটা ভারসাম্য থাকে, রবীন্দ্রনাথও তো সৃষ্টিকর্তা। তাই তাঁর সৃষ্টিকে মননহীন ভাঙাচোরা করা হলে, সেটা এক অর্থে প্রাকৃতিক বিপর্যয়। রবি ঠাকুর কখনওই গোঁড়ামি মানেননি, উনি খুব আধুনিক। তবু তাঁর গান নিয়ে নাড়াঘাঁটা করতে গেলে সে বিষয়ে পড়াশোনাটাও ততটাই থাকা দরকার। বিশুদ্ধতার প্রতি অঙ্গীকারেই তিনি নিজেও তাঁর মাতৃভাষা মালায়লমে রবীন্দ্রসঙ্গীত করবেন ভেবেও আর এগোননি। কথায় কথায় তাঁর আবেগ বাঁধ ভাঙছিল বারবার। প্রেমের গান আসে কি না জানতে চাওয়ায় শিল্পীর সরল স্বীকারোক্তি—এখন শুধুই বিদ্রোহ আসে।

আরও কী বললেন মনোজ, দেখুন ভিডিয়োতে

Share.

Comments are closed.