বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

‘নকুলদানা নয়, রসগোল্লা-লাড্ডু’, ভোটের শেষ লগ্নে নতুন রসের সন্ধান দিলীপের

পিনাকপাণি ঘোষ

বাকি আর দু’দফা ভোট। পাঁচ দফা ভোটে যত তেতো ঘটনা ঘটুক, নির্বাচনের গা থেকে মিষ্টি গন্ধ যাচ্ছে না। শেষ বেলায় এবার নতুন রসের সন্ধান মিলল দিলীপ ঘোষের গলায়।

বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম সংলাপকার অনুব্রত মণ্ডল পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে উন্নয়নকে রাস্তায় দাঁড় করিয়েছিলেন। এই ভোটে গুড়-জল নয়, নতুন স্লোগান আনেন মিষ্টি নকুলদানায়। তারই রেশ ধরে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ে আসেন রসগোল্লা। স্টোনচিপ ভরা মাটির রসগোল্লা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও রসগোল্লা মন্তব্যে টেনে এনেছেন মমতা। এবার এলেন দিলীপ ঘোষ। তবে পাথর নয়, রসে চোবানো রসগোল্লাই খাওয়াতে চান তিনি। আর সেটা ২৩ মে-র পরে। আসলে রাজ্যে বিজেপির বিপুল জয় নিয়ে তিনি এতটাই নিশ্চিত যে আগাম বলে রাখলেন, ভোটের ফল প্রকাশের পরে দিদিমণির সুগার না হয়ে গেলে তিনি রসগোল্লা পাঠাবেন।

সেদিন ছিল মেদিনীপুর তথা ষষ্ঠ দফা ভোটগ্রহণের শেষ দিনের প্রচার। রোজকার মতো এদিনও সদলবলে রেলশহর খড়্গপুরে মর্নিংওয়াকে বেরিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। বিজেপির রাজ্য সভাপতি হওয়ার পরে ‌এই শহর থেকেই তিনি বিধানসভায় গিয়েছেন। এবার সেই শহরের উপরে ভরসা করেই যেতে চান দিল্লি। মর্নিংওয়াকের ফাঁকেই বললেন, “প্রথমবারেই বিধানসভা ভোটে চাচাকে হারিয়ে জিতেছি। এবারেও জিতব।” কী থেকে এত আত্মবিশ্বাস? সোজাসাপ্টা জবাব, “মানুষ দেখে। মুখ্যমন্ত্রীর সভায় ভিড় হচ্ছে না। মানসবাবুর (ভুঁইয়া) সঙ্গে মানুষ নেই। আমার সঙ্গে আছে।” শুধু মেদিনীপুর আসনেই নয়, দিলীপবাবুর বক্তব্য, রাজ্যে ২৩টির বেশি আসনে জিতবে বিজেপি। অমিত শাহর দেওয়া টার্গেট ছাপিয়ে যাবে ফল। তাঁর যুক্তি, “প্রধানমন্ত্রীর একটি সভায় যা ভিড় হচ্ছে, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবকটা সভার মানুষ যোগ করলেও হবে না। এটাই বুঝিয়ে দিচ্ছে মানুষ কার সঙ্গে আছে।”

খড়্গপুর শহরে এক সময়ে থাকতেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। যে চায়ের দোকানে তিনি চা খেতেন সেটি এখনও ধোনির চায়ের দোকান নামেই খ্যাত। মর্নিংওয়াকের পরে সেখানেই শুরু হল দিলীপবাবুর জনসংযোগ পর্ব। তুমুল আড্ডায় মাতলেন। কখনও বাংলা, কখনও হিন্দি, কখনও তেলগু ভাষায় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা। নিছক মজার কথায় আড্ডা। গরমের কথা। তবে তাতে ভোটের প্রচার নেই। আবার আছেও। কথায় কথায় রাজনৈতিক ইস্যু উঠে আসছে।
এর পরে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার। আপনি এত আসনের কথা বলছেন আর দিদিতো বলছেন রসগোল্লা জুটবে! তার জবাবেই বললেন, “২৩ তারিখের পরে সুগার না হলে রসগোল্লা পাঠাব।” নকুলদানার জবাবে রসগোল্লা রাজনীতি? “ছোট জিনিসে আমার মন নেই। আমার ‌বড় মন, বড় পার্টি।”

দেখুন দিলীপ ঘোষের সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকার—

Comments are closed.