Exclusive: বিজেপি-র থেকে টাকা খাওয়ার অভিযোগ কারাটের বিরুদ্ধে, মানহানির মামলার পথে সিপিএম 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন নিয়ে দেশের রাজনীতি ফুটছে। কিন্তু রাজনীতির খোঁজ-খবর রাখা অনেকেই বলতে পারবেন না, এই পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে সিপিএম কতগুলি আসন পেয়েছে। তাতে কী! নির্বাচন মিটতে না মিটতেই গোটা সিপিএমে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। সৌজন্যে দলেরই এক বহিষ্কৃত সাংসদ।

    কী অভিযোগ?

    সিপিএমের এক প্রাক্তন সাংসদ বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন দলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক তথা পলিটব্যুরোর সদস্য প্রকাশ কারাটের বিরুদ্ধে। ১৯৯৯-২০০৯ পর্যন্ত কেরলের কান্নুর লোকসভা থেকে টানা ১০ বছর সিপিএমের সাংসদ ছিলেন এপি আব্দুল্লাকুট্টি। তাঁর অভিযোগ, সিপিএমের প্রকাশ কারাট ব্রিগেড বিজেপি-র থেকে ১০০ কোটি টাকা নিয়ে রাজস্থানে ধর্মনিরপেক্ষ ভোট ভাগাভাগি করিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে আব্দুল্লাকুট্টি ফলাও করে এ কথা লিখেছেন। তথ্য দিয়ে বলেছেন, “রাজস্থানের ২৮টি আসনে সিপিএম প্রার্থী দিয়ে, ৪ লক্ষের বেশি ভোট কেটে বিজেপি-র সুবিধে করে দিয়েছে। এই কেন্দ্রগুলি থেকে যাতে বিজেপি-র জয় নিশ্চিত হয়, সেই ভূমিকাই নিয়েছিল কারাট ব্রিগেড।” আসন ধরে উদাহরণও দিয়েছেন কুট্টি। লিখেছেন, “পিলিবাঙ্গা কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী ধর্মেন্দ্র কুমার বিজেপি প্রার্থীর কাছে ২৭৮ ভোটে হেরেছেন। আর ওই কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী ভোট পেয়েছে ২ হাজার ৬৫৯টি।”

    কে এই আব্দুল্লাকুট্টি?

    ২০০৯ সালের শেষের দিকে আব্দুল্লাকুট্টিকে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন জীবনযাপন এবং মহিলাঘটিত একাধিক অভিযোগে বহিষ্কার করেছিল সিপিএম। তারপর সোজা গিয়ে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন কংগ্রেসে। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে জিতে বিধায়কও হয়েছিলেন কান্নুর বিধানসভা থেকে। ২০১৬-র বিধানসভা ভোটে থালাসেরিতে তাঁকে প্রার্থী করেছিল কংগ্রেস। কিন্তু সে বার সিপিএম প্রার্থীর কাছে হেরে যান তিনি।

    যখন শরিক দল ফরওয়ার্ড ব্লকের সর্বভারতীয় সম্মেলনে গিয়েও সীতারাম ইয়েচুরি বিজেপি বিরোধিতায় সব ভুলে এক হওয়ার আওয়াজ তুলছেন, তখন প্রকাশ কারাটের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ যে তাৎপর্যপূর্ণ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

    কিন্তু কী বলছে কারাট শিবির?

    তাদের মতে, সবটাই পরিকল্পিত প্রচার। এক সিপিএম নেতার কথায়, “শনিবার থেকে দু’দিনের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক শুরু হবে। তার আগের দিন এই ফেসবুক পোস্ট যে স্ক্রিপ্টেড, তা আর বুঝতে কারও বাকি নেই।” প্রসঙ্গত, রাজস্থান বিধানসভায় এ বার সাড়ে চার লক্ষের মতো ভোট পেয়েছে সিপিএম। যা গতবারের থেকে প্রায় দ্বিগুণ। আসনও জিতেছে দু’টি। কারাট শিবিরের মতে, রাজস্থানে ধারাবাহিক কৃষক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে সিপিএম। যা জনসমর্থন বেড়েছে, তা সেই আন্দোলনেরই ফল বলে দাবি তাদের।

    কিন্তু বহিষ্কৃত সিপিএম সাংসদ তথা কেরলের বর্তমান কংগ্রেস নেতার এমন অভিযোগের পিছনে অন্য কারণও দেখছে কারাট শিবির। কী সেই কারণ? তাদের মতে, কেরলের এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ইস্যু শবরীমালা মন্দির। সেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য পিনারাই বিজয়ন তো প্রকাশ্যে বলেই দিয়েছেন, “শবরীমালা ইস্যুতে কংগ্রেস আর বিজেপি-র মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই।” কিন্তু পাহাড় চূড়োর মন্দিরে ঋতুমতী মহিলাদের প্রবেশাধিকার নিয়ে সিপিএমের অবস্থান, “ভোটে হারলেও ক্ষতি নেই, কিন্তু কুসংস্কারবিরোধী অবস্থান থেকে সরার কোনও প্রশ্ন নেই।” তাদের মতে, যেহেতু পিনারাই কট্টরপন্থীদের একজন, এবং প্রকাশ সেই শিবিরের মাথা, তাই হতে পারে সেই কারণেই রাজস্থানের ইস্যু তুলে প্রকাশকে জনসমক্ষে হেয় করতে এই পদক্ষেপ।

    তাহলে এখন?

    সিপিএম সূত্রের মতে, মানহানির মামলা করা হবে কুট্টির বিরুদ্ধে। এবং এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাশ করিয়ে দলগত ভাবেই মামলা করা হবে বলে খবর। যদি তা না-ও হয়, তাহলে ব্যক্তিগত ভাবে এসআর পিল্লাই বা কেরল সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক কেডিয়ারি বালাকৃষ্ণণ সেই মামলা করতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More