সোমবার, এপ্রিল ২২

ভোট চাইতে আমাদের ব্যবহার করা বন্ধ হোক! রাষ্ট্রপতিকে চিঠি প্রাক্তন সেনাকর্তাদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেনাদের কৃতিত্বকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা তুলছে বিজেপি। এই অভিযোগ করে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি লিখলেন প্রাক্তন সেনাকর্তারা। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে চিঠি লিখে তারা জানালেন, নির্বাচনী প্রচারে জওয়ানদের স্বার্থসিদ্ধির কাজে লাগিয়ে, তা নিয়ে ঢাকঢোল পেটানো বন্ধ হোক৷ তিন সেনাবাহিনীর তরফে আট জন প্রাক্তন পদস্থ কর্তার লেখা ওই চিঠিতে ১৫৬ জন প্রাক্তন সেনার সই রয়েছে।

মাস দুয়েক আগেই কাশ্মীরের পুলওয়ামার লেনা কনভয়ে ঘটে গিয়েছে আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা। নিহত হয়েছেন ৪৪ জন ভারতীয় সেনা। এর ১২ দিন পরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বালাকোটে এয়ার স্ট্রাইক চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। দাবি করে জইশ জঙ্গি শিবির ধ্বংস করার।

এর পর থেকেই লোকসভা ভোটের প্রচারের সময়ে এই সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ও বালাকোট এয়ার স্ট্রাইকের কথা বারবার নির্বাচনী প্রচারে উল্লেখ করে ভোট চাইছেন বিজেপি নেতারা৷ ভোটারদের তারা বোঝাতে চাইছেন, এর পুরো কৃতিত্ব শাসক বিজেপির৷ এতেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রাক্তন সেনাকর্তারা৷ রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের আর্জি, এই প্রবণতা খুবই বিপজ্জনক৷ কোনও মতেই তা গ্রহণযোগ্য নয়৷

তবে অভিযোগ গোটা বিজেপির দিকে হলেও, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উপর বেশি চটেছেন তাঁরা৷ সম্প্রতি একটি জনসভায় যোগী সেনাবাহিনীকে ‘মোদীজি কি সেনা’ বলে উল্লেখ করেন৷ বিরোধীরা তো বটেই তাঁর এই মন্তব্যকে মোটেই ভাল ভাবে নেননি প্রাক্তন সেনাপ্রধানরাও৷ চিঠিতে সেই অসন্তোষের কথাও তাঁরা প্রকাশ করেছেন৷ তাঁদের বক্তব্য, সেনাবাহিনীর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগই নেই৷ তাই নির্বাচনী প্রচারে তাদের বারবার টেনে না আনাই ভালো৷ কারণ এর সঙ্গে সেনাবাহিনীর মান ও মর্যাদার প্রশ্ন জড়িয়ে৷

প্রাক্তন সেনাকর্তাদের এই চিঠিতে নরেন্দ্র মোদী ও অন্যান্য বিজেপি নেতাদের নিশানা করা হয়েছে স্পষ্টতই৷ কারণ নির্বাচনী প্রচারে তাঁরাই বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক ও সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কথা উল্লেখ করেছেন বারবার৷ বিরোধীরাও এই নিয়ে বিজেপিকে নিশানা করে৷ আর প্রাক্তন সেনাকর্তাদের এই চিঠির পর আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়েছেন তারা৷ কংগ্রেস ট্যুইট করে লিখেছে, সেনাকে সামনে রেখে বিজেপি ভোট চাইতে পারে৷ কিন্তু একটা জিনিস পরিষ্কার, সেনারা দেশের সঙ্গে৷ বিজেপির সঙ্গে নয়৷

প্রাক্তন সেনাকর্তাদের লেখা ওই চিঠির সাবজেক্ট হল, লোকসভা ভোটে দেশের সেনা বাহিনীকে নিয়ে রাজনীতি করা অত্যন্ত নিন্দাজনক৷ ‘ফ্রম আ গ্রুপ অফ ভেটরেন্স টু আওয়ার সুপ্রিম কম্যান্ডর’ শীর্ষক ওই চিঠিতে লেখা হয়েছে, “ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর আপনি সর্বোচ্চ৷ তাই বিষয়টি আপনার নজরে আনতে জানাচ্ছি, সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষে দুর্ভাগ্যজনক৷ স্যর, সেনার নানা অপারেশন, যেমন সীমান্ত পেরিয়ে হামলার মতো সাফল্যকে রাজনীতির প্রচারে কাজে লাগাচ্ছেন একাধিক রাজনৈতিক নেতা৷ যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক৷”

চিঠিতে আরও লেখা হয়েছে, “অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছেছে, কোনও রাজনৈতিক নেতা ভারতীয় সেনাকে মোদিজির সেনা বলতেও ছাড়ছেন না৷ এমনকী রাজনৈতিক সভায় প্রচারের জন্য উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের ছবিও ব্যবহার করা হচ্ছে৷ তাই আপনার কাছে আমাদের অনুরোধ, এ বিষয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ করুন৷ দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে যেন কোনও রাজনৈতিক নেতা বা দল ব্যবহার না-করেন৷ কোনও দলের রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা দেশের সেনা বাহিনী হতে পারে না৷”

যদিও রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁরা এখনও এরকম কোনও চিঠি পাননি।

চিঠিতে যে সব অবসরপ্রাপ্ত সেনার সই রয়েছে, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, প্রাক্তন সেনা প্রধান জেনারেল সুনীত ফ্রান্সিস রডরিগস, জেনারেল শঙ্কর রায়চৌধুরী, জেনারেল দীপক কাপুর, ৪ জন প্রাক্তন নৌসেনা প্রধান লক্ষ্মীনারায়ণ রামদাস, বিষ্ণু ভগবত, অরুণ প্রকাশ, সুরেশ মেহতা ও প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধান এনসি সুরি প্রমুখ৷

এঁদের মধ্যে দু’জন সেনা কর্তা আবার অভিযোগ তুলেছেন, তাঁদের বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে। প্রাক্তন এয়ার চিফ মার্শাল এনসি সুরি যেমন বলেছেন, “আমি বলতে চেয়েছি সেনাবাহিনী অরাজনৈতিক। তারা দেশের সরকারকে সমর্থন করে। রাজনৈতিক দল কী ভাবে আমাদের ব্যবহার করছে, সে নিয়ে কোনও চিঠিতে আমার মত নেই। আমি এরকম কিছু বলিনি।”

আবার প্রাক্তন সেনা প্রধান জেনারেল সুনীত ফ্রান্সিস রডরিগস বলছেন, “সরকারের নির্দেশেই আমরা কাজ করি। আমরা রাষ্ট্রের একটি শক্তি। আমরা অরাজনৈতিক। যে কোনও কেউ যা খুশি বলে ভুয়ো খবর তৈরি করতে পারে। আমি জানি না, এরকম চিঠি কে লিখেছে।”

Shares

Comments are closed.