বুধবার, অক্টোবর ১৬

জঙ্গিরা তো আর চাঁদ থেকে পড়েনি! সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানকে তুলোধনা ইউরোপীয় ইউনিয়নের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে ভারতের অবস্থানকে সমর্থন করল ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্ট। সেই সঙ্গে, সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগে পাকিস্তানকেও তুলোধনা করল তারা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের তরফে পোল্যান্ডের সদস্য রিজার্ড কারনেকি বলেছেন, ভারত বিশ্বের সব চেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ। তাই ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে বারবার যে জঙ্গি হামলা হচ্ছে, সে দিকে সারা বিশ্বের নজর ফেরানো প্রয়োজন। এই জঙ্গিরা তো আর চাঁদ থেকে নেমে আসেনি। পাশের দেশ থেকেই এসেছে। ফলে আমাদের ভারতকে সমর্থন করা প্রয়োজন।

রিজার্ড কারনেকির বক্তব্যের সুর ধরেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইতালির মুখপাত্র ফুলবিও মার্তুসিয়েলো জানিয়েছেন, পাকিস্তান ইতিমধ্যেই পরমাণু যুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে। এমনকী পাকিস্তান থেকেই ইউরোপে জঙ্গি হামলার ছক কষা হচ্ছে।

এ ছাড়া পাকিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়েও তিনি ইমরান খানের দেশকে এক হাত নিয়েছেন। ফলে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আন্তর্জাতিক দরবারে আরও একটু কোণঠাসা হল পাকিস্তান।

মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্টে আলোচনা হয় কাশ্মীর প্রসঙ্গে। তখনই ইউরোপীয় কনজার্ভেটিভ ও রিফর্মিস্ট গ্রুপের সদস্য জিওফ্রি ফন ওডেন বলেন, নিয়ন্ত্রণরেখার ওপার থেকে সন্ত্রাসবাদে মদত জোগাচ্ছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ বেআইনি ভাবে কাশ্মীরের একটা অংশ দখল করে রেখেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তাঁর কতায়, “কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অনিন্দ্যসুন্দর একটি রাজ্য। কিন্তু গত সাত দশক ধরে সেখানে অস্থিরতা জিইয়ে রাখা হয়েছে। বারবার জঙ্গিহানার শিকার হয়েছেন কাশ্মীরের মানুষ। আইনত কাশ্মীরের পুরোটাই ভারতের অংশষ কিন্তু সেটার খানিকটা জোর করে দখল করে রেখেছে পাকিস্তান। ৩৭০ ধারা বাতিলের পরে জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দারা অন্যান্য ভারতীয় নাগরিকের মতোই শান্তিতে থাকবে এবং সুযোগ-সুবিধা পাবে।”

মিলান উহরিক নামের আর এক সদস্য বলেন, “জম্মু-কাশ্মীরে যা ঘটছে তা ভারতের নিজের ব্যাপার। আমরা কেউ-ই জানি না,আসলে কী ঘটছে সেখানে। শোনা কথাটুকুই জানছি আমরা। ভারতীয় পার্লামেন্ট যেমন কখনওইইউরোপীয় পার্লামেন্টের কোনও ব্যাপারে নাক গলায়নি, আমাদেরও একই ভাবে সে দেশের গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বকে শ্রদ্ধা করা উচিত।”

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের পর থেকে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্টে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে আলোচনা হল। কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার পর থেকে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে সুদূর ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলিতেও।

বস্তুত, কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করেছিল পাকিস্তানই। কিন্তু সে আবেদন পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়ে দিয়েছে, কাশ্মীর সমস্যা শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনার মাধ্যমেই ভারতের সঙ্গে সমাধান করতে হবে।

Comments are closed.