পাকিস্তান-আফগানিস্তানে হিন্দু ও শিখদের বেছে হত্যা করা চলছেই

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাৎসি জার্মানিতে ইহুদিদের সবসময় পরে থাকতে হতো হলুদ রংয়ের ব্যাজ। তালিবানশাসিত আফগানিস্তানে এক সময়ে শিখ ও হিন্দুদের পরে থাকতে হতো হলুদ রংয়ের আর্মব্যান্ড। তার পরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে হিন্দু ও শিখদের উপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়তেই থাকে। এখন ইসলামিক স্টেট-এর রমরমা। এখন এই দুই ইসলামিক দেশেই যা চলছে, তাকে এথনিক ক্লিনজ়িং বা জাতিগত ভাবে নির্মূল করারই নামান্তর বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

এখন তালিবান জমানা নেই। কিন্তু ইসলামিক স্টেট-এর বাড়তে থাকা প্রভাব ও পাকিস্তানি মদতে ফের বিপন্ন আফগানিস্তানের শিখ ও হিন্দুরা। বেছে বেছে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে এই দুই ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের। রবিবারই আফগানিস্তানের জালালাবাদে আত্মঘাতী হানায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন, যার মধ্যে দশ জন শিখ ও বাকিরা হিন্দু। জনাবিশেক গুরুতর আহত। প্রেসিডেন্ট আশরফ গনির সফর উপলক্ষে জালালাবাদে লোকজনের চলাফেরার উপর কিছুটা নিষেধাজ্ঞা ছিল। তা না হলে প্রাণহানির সংখ্যা বেশি হতো। নিজেদের অনলাইন নিউজ় এজেন্সি ‘আমাক’-এ ইসলামিক স্টেট এই হানার দায়িত্ব স্বীকার করেছে।  রবিবার জালালাবাদে জঙ্গি হানায় যাঁরা নিহত হয়েছেন, তাঁদের এক জন অবতার সিং খালসা। অবতার আফগানিস্তানে অক্টোবরের নির্বাচনে প্রার্থী হবেন বলে পরিকল্পনা করেছিলেন। আফগান পার্লামেন্টের মাত্র একটি আসন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত।

তবে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে আঁতাতে তালিবানরাও এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে বলে সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে। যে সব বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এজেন্সি আফগান-পাক সীমান্তে ও এই দুটি দেশে কাজ করে, তাদের অনেকগুলিরই বক্তব্য, দিনে দিনে হিন্দু ও শিখদের উপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়াচ্ছে এই সব জঙ্গি সংগঠন। তারা সঙ্গে পাচ্ছে পাকিস্তান সরকারকেও। এমনিতেই বহু দশক ধরেই পাকিস্তান-সহ আরও কিছু কট্টরপন্থী ইসলামিক দেশে হিন্দু ও শিখরা বৈষম্য ও অত্যাচারের শিকার। ধর্মান্তরকরণ, জোর করে বা অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করা এ সব কার্যত নিয়মিত ঘটনা। মাসখানেক আগে পাকিস্তানে গুলি করে হত্যা করা হয় শিখ ধর্মগুরু চরণজিৎ সিংহ সাগরকে। সরকার চোখ বুজে থাকে। ফলে জঙ্গি সংগঠনগুলির পোয়া বারো।

নব্বইয়ের দশকে আফগানিস্তানে প্রায় ৮০ হাজার হিন্দু ও শিখ ছিলেন। এখন তা কমতে কমতে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র হাজারখানেকে। পাকিস্তানে বৈষম্য ও নিগ্রহের শিকার হিন্দু ও শিখরা বাধ্য হয়েই অন্যান্য দেশে চলে যাচ্ছেন। ভারতে ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাঁরা আশ্রয় নিচ্ছেন।

 

 

 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More