Latest News

উত্তমকুমার-আশা পারেখ জুটির ‘ঝংকার’, যা হতে পারত মহানায়কের প্রথম বলিউড ছবি

শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

Subhodeep Banerjee

সম্প্রতি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে সম্মানিত হলেন লেজেন্ডারি অভিনেত্রী আশা পারেখ (Asha Parekh)। ৬৮তম জাতীয় চলচ্চিত্র উৎসবে রাষ্ট্রপতির সভাপতিত্বে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হবে।

আশা পারেখ ‘যাব পেয়ার কিসি সে হোতা হ্যায়’, ‘ফির ওহি দিল লায়া হুঁ’, ‘তিসরি মনজিল’, ‘বাহারোকে স্বাপ্নে’, ‘পেয়ার কা কাসাম’, ‘কারাভান’, ‘দো বাদান’, ‘চিরাগ’, ‘ম্যায় তুলসী তেরে অঙ্গন কি’ এবং ‘কাটি পতং’-র মতো আরও অজস্র সিনেমাতে অভিনয় করেছেন। হিন্দি ছাড়াও তিনি পাঞ্জাবি ও গুজরাটি ছবিতেও কাজ করেছেন। কিন্তু জানেন কি বাংলার নায়কের সঙ্গেও অভিনয় করতে চলেছিলেন আশা পারেখ! যেটি ছিল একটি বাংলা ছবির হিন্দি রিমেক।

কোন সে নায়ক?

বাংলার ম্যাটিনী আইডল উত্তমকুমারের (Uttam Kumar) নায়িকা হয়েছিলেন বম্বের (Bollywood) সুপারস্টার নায়িকা আশা পারেখ। উত্তমকুমার আর আশা পারেখ পরস্পরের দিকে অপলক চেয়ে আছেন এমন ফটোশ্যুট হিট করেছিল সেই জমানায়। শুধু তাই নয় উত্তমের কাঁধে আশার নির্ভরতার মাথা, এমন ছবিও প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু কেন সে ছায়াছবি আমরা দেখতে পেলাম না? নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে করছে?

Uttam Kumar, Asha Parekh

উত্তমকুমার-আশা পারেখ জুটি বেঁধে হিন্দি ছবি করতে চলেছিলেন। সুপারহিট বাংলা ছবির হিন্দি রিমেক। আশা পারেখের সঙ্গেই জুটি বেঁধে বম্বেতে প্রথম হিন্দি ছবি করতে চলেছিলেন মহানায়ক উত্তমকুমার।

ষাটের দশকের শুরুতেই উত্তমকুমার-আশা পারেখ জুটির হিন্দি ছবি করার কথা হয়েছিল। ছবির নাম ‘ঝংকার’। বম্বে গিয়ে উত্তমকুমার আশা পারেখের সঙ্গে করেছিলেন বেশ কয়েকদিনের শ্যুটিং। শুধু তাই নয় বম্বের রাজেন্দ্রনাথ, গিরিধারি ও তবষ্যুম উত্তমকুমারের সঙ্গে এই হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। শ্যুটিং হয়েছিল উত্তমকুমারের সঙ্গে আশা পারেখের বেশ কিছু দৃশ্যের। এটি ছিল পঞ্চাশের দশকের একটি বাংলা ছবির রিমেক।

কোন বাংলা ছবির রিমেক সেই নিয়ে নানা মুনির নানা মত। কিন্তু আমার যতদূর বিশ্বাস, এটি ছিল ১৯৫৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত নীরেন লাহিড়ী পরিচালিত উত্তম-সুচিত্রা অভিনীত ‘ইন্দ্রাণী’ ছবির হিন্দি রিমেক। উত্তমকুমার-সুচিত্রা সেনের ‘ইন্দ্রাণী’ ছবির স্টাইলেই শ্যুট ছবি গুলি তোলা হয়েছিল উত্তমকুমার-আশা পারেখের। ‘ইন্দ্রাণী’ ছবিতে উত্তম-সুচিত্রা তাঁদের প্রেমপর্বে এমনই একটি রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসেছিলেন। উত্তম-আশার হিন্দি ছবিটিই হত উত্তম কুমার অভিনীত প্রথম হিন্দি ছবি। যে ছবি দিয়েই বম্বেতে পা রাখতে চলেছিলেন উত্তমকুমার। কিন্তু ভাগ্যবিড়ম্বিত উত্তমকুমারের শ্যুটিং করা এই হিন্দি ছবিটি কিছুদিন কাজ শুরু হয়েই বন্ধ হয়ে যায়। যতদূর ধারণা, প্রযোজক সমস্যাতেই বন্ধ হয় ছবি।

Uttam Kumar, Asha Parekh

এ প্রসঙ্গে ‘ইন্দ্রাণী’র পরিচালক নীরেন লাহিড়ীর নাতি ইন্দ্রনীল চৌধুরী জানালেন, “দাদু ‘ইন্দ্রাণী’র নায়িকা প্রথমে ভেবেছিলেন মালা সিনহাকে। কারণ দাদুর আগের সব ফিল্ম ‘পৃথিবী আমারে চায়’, ‘ছবি’ ইত্যাদিতে হিট নায়িকা ছিলেন মালা সিনহা। কিন্তু উত্তমকুমার ‘ইন্দ্রাণী’ করবার সময় তাঁর বিপরীতে নায়িকা চাইলেন সুচিত্রা সেনকে। উত্তমকুমারই নিজ উদ্যোগে সুচিত্রা সেনকে ‘ইন্দ্রাণী’ ছবির জন্য সাইন করান। ‘ইন্দ্রাণী’র সুরকার ছিলেন নচিকেতা ঘোষ। ছবির গান আজও সুপার ডুপার হিট। ছবিতে একখানি হিন্দি গান গেয়েছিলেন মহঃ রফি। বাংলা ছবিতে হিন্দি গান বেশ বিরল। রফি গাইলেন উত্তম-সুচিত্রার বাসর রাতে ‘‘সবি কুছ লুটাকার হুয়ে হাম তুমহারে”। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় মহঃ রফির সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন নচিকেতা ঘোষ আর আমার দাদু নীরেন লাহিড়ীর। রফি সাব বলেছিলেন, “আপনাদের জন্য এ গানটা আমি বিনা পয়সায় গেয়ে দেব। ভাল সুরের গানের জন্য গানটাই আসল। তবে ‘ইন্দ্রাণী’র গান হিট হলে একটা সৌজন্য অর্থ মহঃ রফিকে আবার বম্বে গিয়ে দিয়েছিলেন নীরেন লাহিড়ী ও প্রযোজক হরিন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। তখন মহঃ রফি আমার দাদুকে বলেছিলেন ‘ইন্দ্রাণী’ ছবির হিন্দি ভার্সন করুন বম্বে এসে। আমি আপনার ছবিতে আবার গাইব।”

উত্তমকুমার-আশা পারেখ অভিনীত হিন্দি ছবি ‘ঝংকার’ সম্ভবত ‘ইন্দ্রাণী’র হিন্দি রিমেক। নীরেন লাহিড়ী বম্বেতে বেশ কয়েকটি হিন্দি ছবি করেছিলেন।

তবে আরেকটি মতে ‘ঝংকার’ ছিল উত্তম-সুচিত্রা অভিনীত ‘শাপমোচন’ ছবির হিন্দি রিমেক। ১৯৫৫ সালে উত্তম-সুচিত্রার কালজয়ী ছবি ‘শাপমোচন’ পরিচালনা করেন সুধীর মুখোপাধ্যায়।

উত্তমকুমার-আশা পারেখ অভিনীত হিন্দি ছবি ‘ঝংকার’-এর প্রকৃত পরিচালক কে, সেটাও আজ বিস্মৃতির আড়ালে। অন্তত এ ছবিটি দিয়েই বম্বেতে হিরো হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন উত্তমকুমার এ খবর সত্যি। কারণ বহু পরে উত্তমকুমারের প্রথম হিন্দি ছবি ‘ছোটি সই মুলাকাত’ মুক্তি পায়। এটিও ছিল উত্তম-সুচিত্রার ‘অগ্নি পরীক্ষা’ ছবির রিমেক। এই ছবি সুপার ফ্লপ করে এবং দেনার দায়ে ধরাশায়ী হন উত্তমকুমার। বহু পরে ‘অমানুষ’ হিন্দি ভার্সনে করে বম্বেতে হিটের মুখ দেখেন উত্তম।

এ কথা জোর দিয়েই বলা যায়, আলো সরকার পরিচালিত ‘ছোটি সি মুলাকাত’-এর থেকে সৃজনশীলতায় এগিয়ে ছিল ‘ঝংকার’ ছবিটি। বাজেটও বেশ কম ছিল। ‘ঝংকার’ যদি অসমাপ্ত ছবি না হয়ে মুক্তি পেত বম্বেতে অনেক আগেই হয়তো হিটের মুখ দেখতেন উত্তমকুমার। উত্তমকুমারের সফর আরও সুদূরপ্রসারী হত।

হিন্দি ছবির ‘কাঁটা লাগা’ গার্ল, খোলামেলা আত্মজীবনীতে প্রেম নিয়েও সাহসী আশা পারেখ

You might also like