Latest News

গিরি গণেশ আমার শুভকারী, টলিতারকাদের গণেশ আরাধনা

শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

বাঙালিদের কাছে এতকাল গণেশ পুজো বলতে ছিল পয়লা বৈশাখে হালখাতার দিন লক্ষ্মী-গণেশের আরাধনা। যদিও বাংলা ক্যালেন্ডার মতে বাংলার লাল গণেশের পুজো হয় মাঘ মাসে সরস্বতী পুজোর আগে আগে। কিন্তু সে গণেশ পুজোর চল বাঙালি সংস্কৃতিতে কোনওদিনই ছিলনা। এই ভাদ্র মাসে গণেশ পুজো মহারাষ্ট্র বা গুজরাটে সাড়ম্বরে হয়ে থাকে। সেই অবাঙালি গণপতিকেই বাঙালি আজকাল তাঁর ঘরের ছেলে গণেশ করে নিয়েছে।বাদ নেই টলিপাড়ার সেলেব্রিটিরাও।
টলি তারকাদের অন্দরমহলে আজ গণেশ পুজোর সাজো সাজো রব। আগে বিশ্বকর্মা পুজো দিয়েই দুর্গা পুজোর উৎসবের আগমনি-বার্তা আসত। এখন তারও আগে গণপতি বাপ্পা মায়ের আসার বার্তা নিয়ে আসছেন।আজ গণেশ পুজোর দিনে টলিপাড়ার তারকারা একদম পুজোর মেজাজে। বেশিরভাগ জনই আজ ডে অফ করে বাড়ির পুজোতে ব্যস্ত। কেউ বা স্টুডিওতেই গণেশ পুজো উপভোগ করছেন। কারণ স্টুডিও পাড়াতেও হচ্ছে গণপতির আরাধনা।

মমতা শংকর চিরকালই ভীষণ ঠাকুর ভক্ত। সাঁইবাবাকে তিনি গুরু মানেন। মমতা শংকরের ঠাকুরঘরে সাঁইবাবার সঙ্গে রয়েছেন শিব, গণেশ সকলে। এছাড়াও পুজোর আসনে মা অমলা শংকর সহ প্রয়াত গুরুজনদের রেখেছেন মমতা।আজ পরিবার ও কাছের কজন ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে বাড়িতে গণেশের আরাধনা করলেন মমতা শংকর। ঠাকুরের আসন আলো দিয়ে অপূর্ব সাজিয়েছেন শংকর পরিবার। করজোড়ে সকলকে ভালো রাখার প্রার্থনা করছেন নৃত্যগুরু অভিনেত্রী মমতা শংকর। আরও সুন্দর হয়ে গেল পরিবেশ যখন মমতা শংকরের ছাত্রীরা নাচের মাধ্যমে গণেশ বন্দনা উপস্থাপিত করলেন।যিশু সেনগুপ্তর ফ্ল্যাটে গণেশ পুজো সবথেকে বড় করে হচ্ছে। পুজোর দায়িত্বে সংসারের নারীবাহিনী। যিশু-ঘরনি নীলাঞ্জনা ও দুই মেয়ে সারা আর জারা গতকাল থেকে পুজোর আয়োজনে ব্যস্ত। মা-মেয়েরা মিলে কাল গণেশ ঠাকুর কিনে এনেছেন। দুই মেয়ে ছোটো হলেও তাঁরা বড়দের মতোই পুজোর সব কাজ নিষ্ঠা ভরে করছে।গাঁদা ফুলের মালা দিয়ে বাসন্তী রঙে সেজেছে যিশু-নীলাঞ্জনার গণপতির মণ্ডপ। যিশুর বাড়িতে বাবা-মা সহ মেন্টর ঋতুপর্ণ ঘোষও দেবতাসম। আজ টলিউডের অনেকেই উপস্থিত আছেন যিশুর বাড়ির পুজোতে।দেবের অফিসে ছোটো করেই দেব করল গণেশ পুজো।অন্যদিকে পাওলি দাম শ্বশুরবাড়ির ঠাকুর ঘরেই ছোটোর ওপর নিষ্ঠা ভরে সারলেন গণপতি বাপ্পার পুজো। রাইমা সেনের বালিগঞ্জের বাড়িতে পুজোর আয়োজন নেই, কিন্তু রাইমা বন্ধু পরিমণ্ডলের গণেশ পুজোতে আজ দুপুরে হাজির ছিলেন।সুদীপা চ্যাটার্জি নামটা শুনলেই মনে হয় বাহারি রান্নাবান্নার পসরা। কিন্তু না, সুদীপা এখন শুধু রান্নাঘরেই আটকে নেই। রেস্টুরেন্টের পর সুদীপা খুলেছেন ‘সুদীপা’ বুটিক। শাড়ির পসরা নিয়ে পুজোর আগেই হাজির সুদীপা। আর তাই এবার নিজের বুটিক স্টোরেই ছেলে আদিদেবকে নিয়ে গণেশ পুজো উদযাপন করলেন সুদীপা। ছোট্ট আদিদেব মায়ের সঙ্গে গণপতিকে আরতিও করল। হাজির ছিলেন ‘সুদীপা’ স্টোরের সহকারী মেয়েরা ও সুদীপার কাছের মানুষরা। এবার আর শাড়ি নয়, নেভি ব্লু চুড়িদারে সাজলেন সুদীপা। নীল ওড়নায় ঘোমটা দিয়ে গণেশ পুজো করলেন অগ্নিদেব-ঘরনি। অতিমারি পরিবেশে ‘সুদীপা’ বুটিক আরও মহিলাদের কর্ম-সংস্থান করে দেবে সুদীপার দাবি।‘দিদি নম্বর ওয়ান’ রচনা ব্যানার্জি কাছের বান্ধবীদের নিয়েই সব উৎসব পালন করেন। সঙ্গে থাকে রচনার একমাত্র ছেলে। এবারও গণেশ পুজোয় বান্ধবীদের সঙ্গে গণেশ আরাধনায় মাতলেন রচনা। দিদিদের পুজো বলা চলে। সাদা লাল পাড় শাড়িতে পুজো লুকে মিষ্টি লাগছিলেন রচনা।অনীক ধর সেই ‘জি গোল্ডেন ভয়েস’ থেকে ‘সারেগামাপা’ বাংলা হিন্দি দুইয়েতেই চ্যাম্পিয়ন। অনীক মানেই অনেক জমাটি গান। অনীক নিজের বাড়িতে নিজের বৌ মেয়েকে নিয়ে সাড়ম্বরে মাতলেন গণেশ পুজোয়। হলুদ পাঞ্জাবীতে মিষ্টি মুখে ধরা দিলেন অনীক।‘জীবন সাথী’র কড়া শাশুড়ি সুন্দরী ইন্দ্রাণী দত্ত শ্যুটিংয়েই ব্যস্ত, কিন্তু স্টুডিওর বিশাল গণেশ পুজোতেও দিনভর আনন্দ করলেন ইন্দ্রাণী দত্ত।টেলিপাড়ার সবচেয়ে আলোচিত অভিনেত্রী ‘দেশের মাটি’র নোয়া ওরফে শ্রুতি দাস নিজের বর্তমান পাড়াতেই হলেন গণেশ পুজোর উদ্বোধক। যা বিশাল প্রাপ্তি শ্রুতির কাছে। মায়ের সঙ্গে পাড়ার পুজোর উদ্বোধন করতে গেলেন শ্রুতি।শ্রুতি বললেন আপ্লুত হয়ে “কর্মসূত্রে আড়াই বছর ধরে যে পাড়ায় থাকি আর সেখানকার দুর্গামণ্ডপে যখন গণেশ পুজোর উদ্বোধনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ পাই তখন সত্যি শিল্পী হওয়া সার্থক মনে হয়।”

You might also like