Latest News

Tirandaj Shabor: টানটান থ্রিলার, প্রেম-খুন, তিরন্দাজ শবর নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় দেবযানী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অরিন্দম শীল পরিচালিত ‘শবর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির চতুর্থ ছবি ‘তিরন্দাজ শবর’ (Tirandaj Shabor) ২৭ মে মুক্তি পাবে। এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ দেবযানী চট্টোপাধ্যায়। ১৯ বছর ধরে তিনি টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে অভিনয় করছেন। ছোটপর্দা দিয়ে তাঁর অভিনয়ের আত্মপ্রকাশ। তবে কিছুদিনের মধ্যেই তিনি ছোটপর্দা থেকে বিরতি নিতে চলেছেন। ‘তিরন্দাজ শবর’ ছবির নানা কথা থেকে শুরু করে আরও অজানা কথা একান্ত আলাপচারিতায় উঠে এল। দেবযানী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথোপকথনে চৈতালি দত্ত ।

পরিচালক অরিন্দম শীলের ‘দুর্গা সহায়’ ছবির পর এবারে ‘তিরন্দাজ শবর ‘ ছবিতে আপনাকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে। পরিচালক অরিন্দম শীলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?

দেবযানী: অরিন্দম দার সঙ্গে এই নিয়ে দুটো ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা ভীষণ ভাল। উনি একজন অর্গানাইজড এবং ঠান্ডা মাথার মানুষ। সুপরিকল্পিতভাবে ফ্লোরে আসেন । রাগারাগি, চিৎকার-চেঁচামেচি এসব কিন্তু অরিন্দম দার ফ্লোরে হয় না। দুর্গা সহায় ছবি করতে গিয়ে তাই দেখেছিলাম তিরন্দাজ শবর করার সময় একই অভিজ্ঞতা হল । অরিন্দমদার একটা বড় গুন সবাইকে জড়িয়ে নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন। কে বড় স্টার বা সাধারণ মানের অভিনেতা অভিনেত্রী এই তারতম্য উনি করেন না। অনেকক্ষেত্রে কিন্তু ইউনিটের ব্যবহার একটু অন্যরকম হয়। কিন্তু অরিন্দম দার ক্ষেত্রে কখনওই তা হয় না । তাঁর কাছে সকলে সমান গুরুত্ব পায়।

Image - Tirandaj Shabor: টানটান থ্রিলার, প্রেম-খুন, তিরন্দাজ শবর নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় দেবযানী

‘তিরন্দাজ শবর’ ছবিতে পাপিয়া সমাদ্দারের চরিত্রটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু আপনার চেহারায়, কথাবার্তায় এবং বডিল্যাঙ্গুয়েজে অত্যন্ত অত্যাধুনিকতা ছাপ রয়েছে। সেক্ষেত্রে এই চরিত্রের সঙ্গে আপনি নিজেকে কতটা রিলেট করতে পেরেছেন?

দেবযানী: ( হেসে) আমার চরিত্রের নাম পাপিয়া সমাদ্দার হলেও চরিত্রটা কিন্তু আন সফিস্টিকেটেড নয়। সে যাঁকে বিয়ে করেন তাঁর স্বামীর পদবী সমাদ্দার। পাপিয়া কিন্তু খুবই সফিস্টিকেটেড একজন মহিলা। যিনি নিজে অত্যন্ত শিক্ষিতা, আধুনিকা। যাঁর নিজস্ব একটা বুটিক আছে। কিন্তু তাঁর স্বামী মিস্টার সমাদ্দার মানুষটি একেবারেই সুবিধার নয়।

মিস্টার সমাদ্দারের চরিত্রে পরিচালক অরিন্দম শীল কে অভিনয় করতে দেখা যাবে। দর্শক আপনার সঙ্গে অরিন্দম শীলের অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি কেমন দেখতে পাবেন?

দেবযানী: এই ছবিতে শুধু অরিন্দমদা আমার পরিচালক নন, উনি আমার স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ফলে আমার কাছে এটা বড় পাওনা বটে । ছবিতে তাঁর একটা নাম আছে যা এই মুহূর্তে বলা বারণ। আমার আর অরিন্দম দার অনস্ক্রিন রসায়ন দেখতে হলে ছবিটা হলে গিয়ে দেখতে হবে (Tirandaj Shabor)।

আপনি এই প্রথম অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে অন স্ক্রিন শেয়ার করলেন। অভিজ্ঞতা কেমন ?

দেবযানী: সত্যি কথা। ইতিপূর্বে আমরা কোনওদিনই একসঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করিনি। এই প্রথম। আর সেটাও আবার শবর এর মতো ছবিতে। আমি মনে করি অপু দা এই মুহূর্তে টলিউডের একজন পাওয়ারফুল অভিনেতা। বাংলার বাইরে গিয়ে বলিউড ছাড়াও দক্ষিণ ভারতে অনেক বড় মাপের মানুষদের সঙ্গে উনি কাজ করছেন। যেহেতু এটি থ্রিলারধর্মী ছবি তাই কোনও চরিত্র বা তাঁদের রসায়ন সম্পর্কে আমি কিছুই বলতে পারব না। তবে ছবি দেখার মজাটাই চলে যাবে।

পাপিয়া সমাদ্দার নিজে একটা বুটিক চালান। বাস্তবে আপনার নিজস্ব ‘ওই- শে’ নামে একটা বুটিক রয়েছে। ফলে এই চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে কতটা আপনি সম্বন্ধ স্থাপন করতে পেরেছেন?

দেবযানী: যদিও ছবিতে বুটিকের দৃশ্য নেই। একটাই রয়েছে। বেশিরভাগ দৃশ্য আমার বাড়িতেই ।

Image - Tirandaj Shabor: টানটান থ্রিলার, প্রেম-খুন, তিরন্দাজ শবর নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় দেবযানী

আপনি নিজে একজন পেইন্টার। ফলে নিজস্ব বুটিকে আপনার ডিজাইনের সব পোশাক পাওয়া যায়?

দেবযানী: একশো বার। বেশিরভাগই আমার ডিজাইন করা। আমি বাইরের থেকে সোর্স করি না। বেশিরভাগই আমার শাড়িতে হ্যান্ড ব্লক প্রিন্ট, পেইন্টিং, এমব্রয়ডারি করা যা আমার নিজস্ব। আমার একটা ছোট টেলারিং ইউনিটও আছে। যেখানে প্লাজো ,ধোতি প্যান্ট ইত্যাদি তৈরি করি। আমি যেহেতু সময় দিতে পারি না তাই বিরাট বড় স্কেলে কিছু করি না ।কারণ সেটা করতে গেলে সময় দিতে হবে। ফলে চার বছর যাবত ছোট স্কেলে করছি । আসলে টেলিভিশনে কাজ করলে সময় সত্যিই পাওয়া যায় না।

নাটক দিয়ে আপনার অভিনয়ের পথচলা শুরু হলেও পেশাদার অভিনেত্রী হিসেবে টেলিভিশনে আপনার আত্মপ্রকাশ। বিয়ের পরে যখন ছেলের বয়স তিন-চার বছর সেই সময় আপনি ছোট পর্দায় পা রাখেন। বাড়ির কতটা সমর্থন ছিল? যেখানে বিয়ের পর অনেক মহিলারই স্বপ্ন অপূরণ থেকে যায়…

দেবযানী: খুব ভাল প্রশ্ন। এটা তো সত্যি যে বিয়ের পর অনেক মহিলার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায় । সেদিক থেকে আমি সত্যিই খুব সৌভাগ্যশালী যে আমি বাড়ির প্রত্যেকে এবং আমার স্বামীর প্রচুর সমর্থন পেয়েছি। আমার দুটো পরিবারের কেউই রক্ষণশীল নন। আমি নিজেও একজন বলিষ্ঠ মনের মানুষ। আসলে আমি খুব পরিকল্পনা করে কিন্তু অভিনয় ইন্ডাস্ট্রিতে আসেনি। আমাদের একটা বন্ধু বান্ধবদের নাটকের দল ছিল। যেখানে আমি নিয়মিত সেইসময় নাটক করতাম। সেখানেই আমাকে ধারাবাহিকে অভিনয় করার অফার দেওয়া হয় । প্রথম সেই ধারাবাহিকে আমি অভিনয় করি।

সবচেয়ে বড় ব্যাপার যেদিন ক্যামেরার সামনে ফার্স্ট শট দিই সেদিন আমি উপলব্ধি করি যে এটাই আমার জায়গা। বাবার বাড়ি এবং শ্বশুরবাড়ি প্রত্যেকে এত সহায়ক ছিল যে আমার কোনও দিকে সমস্যা হয় নি। আর আমার পরিবারের কেউই অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিল না । যেহেতু ছোটবেলায় আমার মা মারা যান তাই বাবা আমাদের দু’ বোনকে বড় করে তোলেন। ফলে বাবাকে আমরা দুই বোন বাবা-মা দ্বৈত ভূমিকায় পেয়েছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় বাবা ২০১৯ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।

সংসার সন্তান অভিনয় এই তিনের ব্যালেন্স টানা ১৯ বছর আপনি কিভাবে করলেন?

দেবযানী: আমার টাইম ম্যানেজমেন্ট করার অদ্ভুত একটা ক্ষমতা ভগবান দিয়েছেন। আমি যখন সিদ্ধান্ত নিই যে অভিনয়কে পেশা করব তখন আমার ছেলে খুব ছোট। তার আগে অবশ্যই আমার স্বামীর ব্যবসা দেখতাম । কোনওদিনই বাড়িতে বসে ছিলাম না । আমি যদি কোনও ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিই যে এটা করব তবে সুপরিকল্পিতভাবে সেটা করি । এজন্য মানুষ কে কি বললেন তাই নিয়ে মাথা ঘামাই না।
আর সেই সময় রাত্রি ১২-১ টা পর্যন্ত শ্যুটিং হত না। ফোনে আমি সর্বক্ষণ ছেলের খবর রাখতাম। সন্ধ্যে ৭-৮ টার মধ্যে প্যাকআপ হয়ে যেত। ফলে বাড়িতে তাড়াতাড়ি ফিরে ছেলেকে পুরো সময়টা আমি দিতাম । বাড়ি ফিরে ছেলেকে খাওয়ানো সেটাও করতাম। আর আমার ছেলে ছোট বয়স থেকেই দেখেছে যে মা কাজ করে । বাড়ি থাকে না। ফলে আমার ছেলেও অভ্যস্ত হয়ে গেছিল। সামান্য একটু বড় হতেই সন্ধ্যের পর থেকে ছেলে আমাকে সমানে ফোন করে বলত,’ মা তুমি কখন বাড়ি ফিরবে ?’ আমাকে তখন খুব চাইতো। সবসময় তা পূরণ করার আমি চেষ্টা করতাম। কোনও সমস্যা হয়নি।

টেলিভিশনে আপনার প্রথম কাজ পুলিশ ফাইল?

দেবযানী: আমি প্রথম সিরিয়ালের জন্য শট দিয়েছিলাম । যার পরিচালক ছিলেন ভরত কল । কিন্তু সেটি অনেক পরে টেলিকাস্টিং হয় । আমার অভিনীত ‘পুলিশ ফাইল’ প্রথম টেলিকাস্ট হয় । পুলিশ ফাইলের প্রথম গল্পে প্রোটাগনিস্ট চরিত্রে আমি অভিনয় করি ।

Image - Tirandaj Shabor: টানটান থ্রিলার, প্রেম-খুন, তিরন্দাজ শবর নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় দেবযানী

আপনি কোন থিয়েটার গ্রুপে অভিনয় করতেন?

দেবযানী: আমাদের বন্ধু-বান্ধবদের একটা দল ছিল । প্রতি বছর আমরা একটা দুটো শো করতাম। পরবর্তীকালে আমরা ‘ঢাকুরিয়া ঐকান্তিক’ নামে গ্রুপ থিয়েটার ফর্ম করি। ছোটবেলা থেকেই আমি থিয়েটার চর্চা করতাম। আমি দলের প্রধান অভিনেত্রী ছিলাম । পরবর্তীকালে অভিনয়ের ব্যস্ততার কারণে আর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারিনি। তবে পরবর্তীকালে আমি অনেক নাটকের দলের সঙ্গে অভিনয় করেছি।

আপনি তো একজন ভাল ডান্সারও?

দেবযানী: ( মুচকি হেসে) নাচ আমার প্রথম ভালবাসা। মাত্র ছ’ বছর বয়স থেকে অনুরাধা গুহর কাছ থেকে আমি কত্থক শিখেছি। পরবর্তী সময়ে আমি গুরু বেলা অর্ণবের কাছ থেকে কত্থক এবং শুভাশিস ভট্টাচার্যের থেকে ফোক, রবীন্দ্র নৃত্য শিখেছি। বহু বছর পর জুন মাসে রবীন্দ্রসদনে আমি স্টেজ পারফর্ম করব। যা আমার কাছে খুবই আনন্দের বিষয়। তাই একটু নার্ভাস আছি। কতটা কী করতে পারব জানি না। রবীন্দ্র নৃত্যনাট্য করব। কোরিওগ্রাফির দায়িত্বে আছেন অর্ণব বন্দোপাধ্যায়।

ছোটপর্দার ব্যস্ততম অভিনেত্রী হওয়া সত্বেও বড় পর্দায় দেড় বছরে একটা ছবিতে আপনি অভিনয় করেন । এই দুটো মাধ্যম কে কীভাবে আপনি ব্যালেন্স করেন?

দেবযানী: আমি যেহেতু ছবিতে বেশি কাজ করি না তাই অসুবিধা হয় না। সত্যি বলতে কি আমার কাছে ফিল্মের অফার খুব একটা আসে না । কয়েকজন পরিচালক ছাড়া এখনও পর্যন্ত আমাকে নিয়ে কেউ ভাবেন না ।আমি ছোট পর্দায় যেই প্রোডাকশনের কাজ করি না কেন আমার আগের থেকেই বলা থাকে যে ছবির জন্য আমাকে ছাড়তে হবে। সত্যি তারা খুবই সহযোগিতা করেন।

তিরন্দাজ শবরে অভিনয় করলেও আপনার প্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র কোনটি?

দেবযানী:( হেসে )অল টাইম ফেভারিট ফেলুদা। এখানে একটা কথা ভীষণ ভাবে বলা প্রয়োজন বাঙালিদের কাছে ফেলুদা ,ব্যোমকেশ এই দুটো গোয়েন্দা চরিত্র অত্যন্ত প্রিয়। পরিচালক অরিন্দম শীল শবর চরিত্রটা আনলেন। এটা আমার মনে হয় বাংলা সিনেমার কাছে একটা বড় প্রাপ্তি। নচেৎ আমরা বাঙালিরা ফেলুদা, ব্যোমকেশে আটকে থাকতাম। নতুন কিছু তৈরি হত না। অভিনয় করতে গিয়ে একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম শবরের কিন্তু একটা নিজস্ব দর্শক আছে।

প্রচুর মানুষ আছেন যাঁরা পর্দায় শবর দেখার জন্য অপেক্ষা করে আছেন। ট্রেলার লঞ্চ হবার পর অনেক মানুষের শবর কে ঘিরে কৌতুহল আছে। এবারে গোয়েন্দা শবর দাশগুপ্ত কী ধরনের সমস্যা সমাধান করবেন তাই নিয়ে অনেকে আমাকে প্রশ্ন করেছেন। এই ধরনের গোয়েন্দা চরিত্র কে পর্দায় নিয়ে আসার জন্য আমি অরিন্দমদা কে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি। বাঙালি মানেই হল তাঁরা গোয়েন্দা চরিত্র পড়তে এবং পর্দায় দেখতে ভীষণ ভালবাসেন।

টলিউডে কানাঘুষো খবর যে কিছুদিনের জন্য আপনি ছোটপর্দায় ব্রেক নিচ্ছেন। ফিরতে চলেছেন হিন্দি ওয়েব সিরিজে। এটা কি সত্যি?
দেবযানী: সত্যি কথা বলতে ধারাবাহিক ‘যমুনা ঢাকি’ শেষ হয়ে গেলে আমি দু-তিন মাসের একটা ব্রেক অবশ্যই নেব । টেলিভিশন খুবই পাওয়ারফুল মাধ্যম। কিন্তু গত ১৯ বছর ধরে দেখছি কনটেন্ট সেই একই রকম। কোনও পরিবর্তন নেই। একঘেয়েমীপূর্ণ। তাই ব্রেক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভাল হিন্দি ও বাংলা ওয়েব সিরিজের পাশাপাশি বলিষ্ঠ কনটেন্ট যুক্ত সিনেমায় অভিনয় করব।

আপনার ছেলে শ্রীষ চ্যাটার্জি এখন মুম্বইতে ।শোনা যাচ্ছে হিন্দি ওয়েব সিরিজ দিয়ে ডেবিউ করতে চলেছেন –
দেবযানী: আপনি ঠিকই শুনেছেন । ও মুম্বইতে এখন আছে। একটা হিন্দি ওয়েব সিরিজে অভিনয় করছে। তবে লিড রোলে নয়। একটা ছোট চরিত্রে । এটা অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জন্যই করছে। আমি অনুমতি দিয়েছি। যেহেতু ও আগে কোনদিনও ক্যামেরা ফেস করে নি ।আমি ওকে বলেছি যে শুধুমাত্র ওয়ার্কশপ করলে কিছু হবে না । ক্যামেরা ফেস করতে হবে।তাই এটা নিয়ে একটা খবর হউক সেটা এই মুহূর্তে চাইছি না ।

আগামী দিনে আপনার ছেলে শ্রীষ অভিনয়কে পেশা করবে?

দেবযানী: আমার ছেলে একজন গ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ার। ম্যানেজমেন্ট পড়েছে। ছোট থেকেই ও সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে অভিনয়কে পেশা করবে। আর ছোট থেকেই আমরা বলেছি যে আগে পড়াশোনা শেষ করতে হবে তারপর অভিনয়। তার আগে কিছু নয়।

তার মানে ভবিষ্যতে বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে আরেক অভিনেতার অভিষেক হতে চলেছে?

দেবযানী: ( খুব হেসে) দেখা যাক কি হয় ! ভগবানের যদি ইচ্ছে থাকে তবে হবে ।গত ডিসেম্বরে শ্রীষ মুম্বই চলে গেছে ।ওখানে ফ্ল্যাটে থাকছে। আমি দু মাস অন্তর সেখানে যাই। এখন মুম্বইতে ও অনেক ওয়ার্কশপে যোগদান করছে। স্ট্রাগল তো করতে হবে । সহজে কিছু অর্জন করা যায় না। আমাদের তো ওখানে পরিচিত কেউ নেই। দেখা যাক কি হয়!

আগামী দিনে আপনার পরিকল্পনা কী?

দেবযানী: ভাল ছবি এবং ওয়েব সিরিজে কাজ করা। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এটাই চাই। আমাদের মতো মধ্যবয়সী মহিলাদের নিয়ে এখন খুব ভাল ছবি তৈরি হচ্ছে ।যেমন তিনজন মধ্যবয়সী মহিলাদের নিয়ে গল্প গুলদস্তা ছবিতে আমি, স্বস্তিকা, অর্পিতা অভিনয় করেছি। যেটা আগে এখানে হত না ।এখন ভীষণ ভাল কন্টেন্ট নিয়ে কাজ হচ্ছে। আগে ধারণা ছিল যে মধ্যবয়সী মহিলা মানে তাঁর জীবনে আর কিছু করার নেই ।এখন সেই ধ্যান ধারণার বদল ঘটেছে। এমন চরিত্রে অভিনয় করতে চাইছি যা আগে কখনও আমি অভিনয় করি নি।

You might also like