Latest News

প্রথম শাড়ি পরা, প্রথম মেকআপ, প্রথম অভিনয়… শাঁওলিদিই জুড়ে রয়েছেন: চৈতী ঘোষাল

নাট্যজগতে ইন্দ্রপতন। অভিনেত্রী নির্দেশক সমাজকর্মী শাঁওলি মিত্র-র প্রয়াণে শোকাহত শিল্পীমহল। ইতিহাস হয়ে রইল ‘নাথবতী অনাথবৎ’, ‘কথা অমৃতসমান’, ‘রাজা’, ‘ডাকঘর’, দূরদর্শনের ‘তাহার নামটি রঞ্জনা’, ‘শুভা’।

শাঁওলি মিত্রের প্রয়াণের খবর পেতেই যার ছোটবেলার দিনগুলো হারিয়ে গেল তিনি হলেন বিখ্যাত অভিনেত্রী চৈতী ঘোষাল। শাঁওলি মিত্র চলে যাওয়ার পরেই ‘দ্য ওয়াল’-এ স্মৃতিতর্পণ করলেন তাঁর কন্যাসম ছাত্রী চৈতী ঘোষাল। সাক্ষাৎকার নিলেন শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

শম্ভু মিত্র মৃত্যুর প্রাক্কালে ইচ্ছাপত্রে লিখেছিলেন “আমি সামান্য মানুষ, জীবনে অনেক জিনিষ এড়িয়ে চলেছি। তাই মরবার পরেও আমার দেহটা যেন তেমনি নীরবে, একটু ভদ্রতার সঙ্গে, সামান্য বেশে, ফুলের ভার না নিয়ে, বেশ একটু নির্লিপ্তির সঙ্গে পুড়ে যেতে পারে।” সেই মতোই রাত থাকতেই কন্যা শাঁওলি মিত্র তাঁকে দাহ করতে নিয়ে গেছিলেন সিরিটি মহাশ্মশানে, ১৯৯৭ সালে।

২৫ বছর পরে, গতকাল আবার সেই এক ঘটনা ঘটল। এবার মেয়ে শাঁওলি মিত্র চলে গেলেন নীরবে। পিতার মতোই একইরকম একটি ইচ্ছাপত্র প্রকাশ করেছিলেন কন্যাও। তাঁর ইচ্ছেকে মর্যাদা দিয়েছেন তাঁর কাছের মানুষরা। কোন গান স্যালুটের উচ্চকিত শোক বা ফুলের ভার শাঁওলি মিত্র নিতে চাইলেন না।তাই কাল শাঁওলিদিকে আর শেষ দেখা হল না চৈতীরও। কিন্তু দু’জনের মন জুড়েই দু’জন ছিলেন। বহু অজানা নস্ট্যালজিক গল্প উঠে এল এই সাক্ষাৎকারে।

শাঁওলি মিত্র এবং তৃপ্তি মিত্র আপনাকে হাতে ধরে গড়েছিলেন। কী ভাবে আপনি কাছের মানুষ হয়ে উঠলেন মিত্র পরিবারের?

তৃপ্তি মিত্রকে আমি সারাজীবন ‘মাসি’ বলে সম্বোধন করেছি। অনেকেই ভাবেন তৃপ্তি মিত্র আমার পারিবারিক সূত্রে মাসি হন। তা নয়। কিন্তু উনি আমার কাছে কম কিছুও নয়। আমাদের পরিবারের অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ সদস্যও ছিলেন উনি। আসলে আমার বাবা শ্যামল ঘোষালের সঙ্গে প্রথম আলাপ তৃপ্তি মিত্রর, ‘সওদাগর’ নাটকে একসঙ্গে অভিনয় সূত্রে। বাবার সহকর্মী ও বন্ধু হিসেবে উনি আমাদের বাড়িতে আসেন। তারপর আমার মা তৃষ্ণা ঘোষালের বড় দিদির মতো হয়ে যান তৃপ্তি মিত্র। আর শাঁওলিদির চলে যাওয়াটা আজ আমার আর এক মাকে হারানো। আমার মায়ের পরেই যদি কারও সঙ্গে খুব ক্লোজড ছিলাম, সেটা শাঁওলিদি।শাঁওলি মিত্র এমন একজন শিল্পী, যিনি মঞ্চে যে মূল্যবোধের কথা বলেছেন, যে বিশ্বাসের কথা বলেছেন নিজের জীবনেও সেটা আত্মস্থ করেছেন। এটা কিন্তু খুব বিরল। মঞ্চে উঠে আমরা জীবনের অনেক মূল্যবোধের কথা বলি কিন্তু জীবনে সবসময় সেটা পালন করে উঠতে পারি না। শাঁওলিদি কিন্তু সেটা করেছেন। সকাল থেকে রাত অবধি থিয়েটার নিয়েই উনি ভাবতেন।

শাঁওলি মিত্রর সঙ্গে আপনার শেষ কী কথা হয়েছিল?

আমার ছোটবেলাটা জুড়েই শাঁওলিদি। তবে শেষের কিছু বছর যখন শাঁওলিদি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তখন আমার সঙ্গে সেভাবে যোগাযোগ ছিল না। এটা কোনও অভিমান থেকে বা মনান্তর থেকে একেবারেই নয়, রাজনৈতিক কারণও নয়। জীবনের নানা ওঠা-পড়ায় মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটার পেছনে কোনও কারণ নেই। শাঁওলিদি থিয়েটার জগত ও রাজনৈতিক জগতে ব্যস্ত ছিলেন। আমি আবার মেনস্ট্রিম থিয়েটার থেকে ফিল্ম, সিরিয়াল এসবও করে চলেছি।কিন্তু কয়েক মাস আগেই যখন আমার মা চলে গেলেন, তখন শাঁওলিদি আমায় নিজেই ফোন করেছিলেন। আমি তো এত বছর পর শাঁওলিদির গলা শুনে কেঁদে ফেলেছিলাম। হয়তো চলে যাবেন বুঝেই শাঁওলিদি আমায় এতদিন পর ফোন করেছিলেন! মাতৃস্নেহেই উনি আমার সঙ্গে কথা বললেন। তারপর থেকে আবার শাঁওলিদির সঙ্গে অনেকক্ষণ ধরে কথাবার্তা হত। শাঁওলিদি আমার ছেলের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। খুব ভালবাসতেন আমার ছেলে অমর্ত্যকে। একটা দীর্ঘসময় আমি, আমার ছেলে আর শাঁওলিদি একসঙ্গে কাটিয়েছি।

শাঁওলিদি চলে যাওয়াতে আমার ছোটবেলাটা শেষ হয়ে গেল, ছোটবেলাটা তছনছ হয়ে গেল।

ছোটবেলায় শাঁওলি মিত্রর সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত?

শাঁওলিদি আমার মায়ের মতোই। আমার মায়ের সঙ্গে শাঁওলিদির বয়সের দেড়-দু’বছরের তফাত। শাঁওলিদি প্রথম আমাকে শাড়ি পরতে শিখিয়েছেন, আমাকে কবিতা বলতে শিখিয়েছেন, বাংলা অক্ষর চিনিয়েছেন। প্রতি শীতকালে আমি শাঁওলিদির সঙ্গে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে যেতাম। সেটা আজ খুব মনে পড়ছে। একসঙ্গে নাটক দেখা, সিনেমা দেখা, সিনেমা নিয়ে আলোচনা– কত কী।আমি যখন প্রথম ‘ডাকঘর’-এর অমলের ভূমিকায় অভিনয় করি তখন আমার মুখে প্রথম মেক আপ করে দিয়েছেন শাঁওলিদি। আমার কাঠামোটাই তৃপ্তি মিত্র-শাঁওলি মিত্র ঘরানার। তারপর চলার পথে আমি নিজেকে তৈরি করেছি।

‘ডাকঘর’-এর অমল শাঁওলি মিত্রও করেছেন আবার পরবর্তীকালে আপনিও করেছেন। তখন শাঁওলিদি কিছু টিপস দিয়েছিলেন? আপনার কন্ঠস্বরের সঙ্গেও খুব সাদৃশ্য শাঁওলি মিত্রর।

শাঁওলিদি যখন ‘ডাকঘর’-এর অমল করেছিলেন তখন বেশি শো হয়নি। সেটা আমার জন্মের অনেক আগের কথা। আর সেখানে ফকিরের ভূমিকায় শম্ভু মিত্র অভিনয় করেননি, কুমার রায় করেছিলেন। মাত্র ছ-সাতটা শো হয়েছিল বোধহয়। এরপর কুড়ি বছর পরে আমি যখন অমল করি, তখন তৃপ্তি মিত্র আর শাঁওলি মিত্র দু’জনেই আমাকে তৈরি করেছিলেন।

তৃপ্তিমাসি এসে একদিন আমায় ‘ডাকঘর’-এর গল্পটা বলেন। তখন আমার মাত্র পাঁচ বছর বয়স। সে গল্পটি শোনার পরে আমি কাঁদতে থাকি। বাচ্চারা যেমন একটা কারণে কাঁদে কিন্তু বলে অন্য কারণে কাঁদছে, সেরকম আমি বলেছিলাম যে আমার খুব পেটব্যথা করছে। কিন্তু মাসি বুঝেছিলেন, কারণটা পেটব্যথা নয়, কারণটা ‘ডাকঘর’-এর অমলের দুঃখে কান্না।মাসি মা কে বলেন “তৃষ্ণা তোর মেয়েকে আমায় দিবি, ডাকঘরের অমল করাব?” মায়ের জন্য ওই সিদ্ধান্তটাও ছিল বড় ব্যাপার। আমার মা কিছুদিন আগেই চলে গেলেন। একটা পাঁচ বছরের মেয়েকে শম্ভু মিত্র-তৃপ্তি মিত্রর গুরুকূলে তুলে দেওয়া একজন মায়ের জন্য অনেক বড় ব্যাপার ছিল অত বছর আগে। মা আমায় দিয়েছিলেন মাসিকে।

বহুদিন আমি মাসির বাড়িতে থেকেছি,পড়াশোনা করেছি, সহবৎ শিখেছি। গরমের ছুটি পড়লেই তৃপ্তি মিত্রর বাড়িতেই থাকতাম। মাসির কাছে যেধরনের শিক্ষায় আমি শিক্ষিত হয়েছি, সেটা তো শুধু অভিনয়-শিক্ষা নয়, সেটা জীবনের শিক্ষা। তখন শাঁওলিদির বিয়ে হয়নি। উনিও আমাকে ওই বাড়িতে অনেক কিছু শিখিয়েছেন।

মায়ের সঙ্গে চৈতী।

তবে টিপসে আমি খুব একটা বিশ্বাসী নই। অভিনয়টা শেখা যায়, গলা তৈরি করা যায়, ঝালানো যায়। সর্বোপরি তা আত্মস্থ করতে হয়। আমার গলা ওঁরাই তৈরি করে দেন। টিপস-ফিপস ওইসব লোকে বললেও, টিপস দিয়ে প্রকৃত অভিনয় হয় না। হয় তুমি শিখবে অভিনয়টা, নয় তুমি শিখবে না। মনটাকে ঠিক করলে তবেই অভিনয়টা করা যায়। শাঁওলিদি আমার সেই মাস্টারমশাই, যিনি আমায় হাতে ধরে শিখিয়েছেন। এমনকি আমায় জোর করে অঙ্কও শিখিয়েছেন শাঁওলিদি। থিয়েটার করছো বলে পড়াশোনা করবে না, তা হবে না।

আজ শাঁওলিদির শেষকৃত্য সেরে এসে অর্পিতা (ঘোষ) আমাকে ফোন করেছিল, বলছিল যে “তোমার ছোটবেলাটা আমার একদম মুখস্থ”। শাঁওলিদি আমার কথা অর্পিতাকে এত বলেছে যে মুখস্থ ওর।

তৃপ্তি মিত্র ও শম্ভু মিত্র।

ছোটবেলার কোন মজার গল্প মনে পড়ে?

শাঁওলিদি বিয়ে হয়ে চলে যাওয়ার পরে শাঁওলিদির নাসিরুদ্দিন রোডের বাড়ির ঘরটা ছিল যেন আমার নিজেরই ঘর। ওই বাড়িতে গেলে ওই ঘরটাতেই আমি বেশী সময় কাটাতাম।

‘বহুরূপী’-র জন্মদিন পয়লা মে। সেটা একটা বিরাট উৎসবের মতো, থিয়েটার ফেস্টিভাল হত। আমার কাছে ওটা একদম দুর্গাপুজোর মতো ছিল। তো সেদিন শাঁওলিদির শো ছিল তাই তাড়াতাড়ি চলে গিয়েছিলেন। আমি আর আমার আরেক দিদি (শাঁওলিদির বোন) পরে যাব শাঁওলিদির শো দেখতে। ততক্ষণে আমি চলে গেছি শাঁওলিদির ঘরে। সেই ঘর থেকে শাঁওলিদির স্কুলের পুরনো চুলের ফিতে, আরও নানাকিছু সব বার করেছি। সেগুলোর সাথে নিজের স্কার্ট পরে সেজেগুজে গেছি। তখন আমার বয়স সাত-আট বছরের বেশি নয়। আমি ভাবছি আমাকে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে। কিন্তু আমি বীভৎস খারাপ সেজেছি। শাঁওলিদি আমাকে দেখে বলছে “এটা কী!! এটা কী করেছিস তুই?”

পরবর্তীকালে আমার ছেলে বাবি অর্থাৎ অমর্ত্য হবার পরে আমি দীর্ঘদিন শাঁওলিদির বাড়িতে গিয়ে থাকতাম। বাবি তখন একদম বাচ্চা। আমরা তিনজনে একসঙ্গে প্রচুর সময় কাটিয়েছি। বাবি বলত শাঁওলিদিকে ‘তোমার ছাদটা নেব, সিঁড়িটা নেব।’ শাঁওলিদির সিঁড়িটা নেওয়ার বাবির খুব ইচ্ছে ছিল। রকিং চেয়ারে বাবিকে বসাতেন শাঁওলিদি। তখন জ্যোতিষ রায় রোডে শাঁওলিদি থাকতেন।

ছেলে অমর্ত্যর সঙ্গে চৈতালী।

আপনি তো শাঁওলি মিত্রর নির্দেশনাতেও কাজ করেছেন?

শাঁওলিদির সঙ্গে আমি দূরদর্শনের ‘শুভা’ টেলিফিল্ম করেছিলাম, যেটা ন’টা দেশে একসঙ্গে প্রদর্শিত হয়েছিল এবং প্রচন্ড জনপ্রিয় হয়েছিল। ‘শুভা’র চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক ছিলেন শাঁওলিদি। ‘শুভা’র নামভূমিকায় আমার অভিনয় দেখে শাঁওলিদি খুব গর্ব অনুভব করেছিলেন। যেন ওটা ওঁরই জয়।

শাঁওলি মিত্রর আরেক নাম ‘নাথবতী অনাথবৎ’। মনে পড়ে সেসব সোনার দিন?

‘নাথবতী অনাথবৎ’ আমি কতবার যে দেখেছি তার কোনও ঠিক ঠিকানা নেই। আমরা আবার ‘নাথবতী অনাথবৎ’-এর ভিড় দেখতে যেতাম। বহুদিন পর থিয়েটার দেখতে ওরকম মানুষের লাইন পড়েছিল। ‘পঞ্চম বৈদিক’ দল তৈরি করে শাঁওলিদি যে ‘নাথবতী অনাথবৎ’ করে থিয়েটার ইন্ডাস্ট্রির জন্য কত টাকা তুলে দিয়েছিলেন, তা অবিশ্বাস্য! কাউন্টার খুললে সে বিশাল লাইন ছিল দেখার মতো। টিকিটের জন্য হাহাকার পড়ে যেত এবং ভাবতে পারেন থিয়েটার দেখার টিকিট ব্ল্যাক হত।

শম্ভু মিত্রর মতোই শাঁওলি মিত্র ইচ্ছাপত্র লিখে গেলেন তাঁর মৃত্যুর পর শেষকৃত্য হয়ে যাবার পর যেন মিডিয়াকে জানানো হয় এবং উনি অর্পিতা ঘোষকে মানসকন্যা ও দলের আরেকজন ভদ্রলোককে মানসপুত্র বলেছেন। এ প্রসঙ্গে কী বলবেন? আপনারও তো শেষ দেখা হল না শাঁওলিদিকে।

শাঁওলিদি যে অর্পিতাকে মেয়ে এবং দলের আরেকটি ছেলেকে ছেলে বলেছেন, সেটাই ধরা উচিত। রক্তের সম্পর্ক এখানে বড় নয়। আজকের যুগে দাঁড়িয়ে রক্তের সম্পর্কের কোনও বিশেষ মানে দাঁড়ায় না।

শাঁওলিদির মানসিকতা একদম আলাদা রকম ছিল। শাঁওলিদি থিয়েটারে যাদের বড় করেছেন তাঁদেরকেই নিজের সন্তান মনে করেন। শাঁওলিদিদের মতো মানুষরা জন্ম দিয়ে মা হয় না।শম্ভু মিত্র যেভাবে চলে যান ইচ্ছাপত্র লিখে সেভাবেই শাঁওলিদি বাবার শেষকৃত্য করেছিলেন। এই নিয়ে অনেক কথা উঠেছিল তখন। আমি সারাটা সময় শাঁওলিদির পাশেই ছিলাম। তখন রেডিও ও টেলিভিশন এই দুটোই প্রধান মাধ্যম ছিল। আমিই মিডিয়াকে শম্ভু মিত্রর শেষকৃত্য হয়ে যাওয়ার পরে জানাই।

অগোচরে প্রস্থানই শাঁওলিদি ধর্ম বলে মনে করতেন। অর্পিতাদের আমি ধন্যবাদ জানাব, শাঁওলিদির ইচ্ছেটা সুষ্ঠু ভাবে পালন করার জন্য। মায়ের শেষ ইচ্ছে অর্পিতা রাখতে পেরেছে। আমিও কদিন আগে আমার নিজের মাকে হারিয়েছি। কিন্তু আজ শাঁওলিদির চলে যাওয়াতে আমিও আমার আরেকজন মাকে হারালাম। থিয়েটার থেকে চারিত্রিক দৃঢ়তা তো আমি শাঁওলিদির থেকেই শিখেছি। আমার জীবনে অল্পবয়সে খুব শক্ত একটা টানাপড়েনের সময় এসেছিল। তখন শাঁওলিদি আমার পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

আমি তাই বলতে পারি না আমি শুধু আমার মায়ের মেয়ে। রক্তের সম্পর্কটা আসল সম্পর্ক নয়, জীবন যাপনের সম্পর্কটা হল আসল সম্পর্ক।

You might also like