Latest News

‘চল ফোট!’ বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় নাট্যদল থেকে বহিষ্কার করা হল কৌশিক করকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বামপন্থী থেকে সটান পদ্মবনে নাম লেখালেন, আর তার পরেই হারাতে হল কাজ! পদ্ম-যোগে চটে গিয়েই অভিনেতা কৌশিক করকে বাদ দিয়েছে নাট্যদল ‘ইচ্ছে মতো’। ‘ঘুম নেই’ নাটক থেকে বাদ পড়লেন কৌশিক। উল্লেখ্য, ইচ্ছেমতোর মুখ্য অধিকারী সৌরভ মনে-প্রাণে বামপন্থী।

২৮-এ বামজোটের ব্রিগেড নিয়ে তিনি যতটা সুর চড়িয়েছিলেন সৌরভ, ততটাই কটাক্ষ নিত্য করেন গেরুয়া শিবিরকে। ‘সাতে পাঁচে না থাকা’ রুদ্রনীল ঘোষের লাল থেকে নীল হয়ে গেরুয়া শিবিরের যাত্রাকেও যেমন বিঁধেছেন প্যারডি দিয়ে, তেমনই রেয়াত করেননি সম্প্রতি ‘মহাগুরু’ মিঠুন চক্রবর্তীর মোদী ব্রিগেডে নাম লেখানোকেও।

সৌরভ পালোধী জানিয়েছেন, এই বিজেপি-বিরোধীতাই তাঁর অবস্থান। তাই তাঁর নাটকের দলে কোনও গেরুয়া সমর্থকদের জায়গা নেই। আর সেই কারণেই, তাঁর ‘ঘুম নেই’ নাটক থেকে সরিয়ে দিলেন কৌশিক করকে। নানা জায়গায় সৌরভ স্পষ্ট করেছেন, তিনি থিয়েটার করেন একটা স্পষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান থেকেই। ‘ফ্যাসিস্ট’ দলের সমর্থকের জায়গা নেই সেখানে।

সিনেমার জগতে কৌশিক সেভাবে এখনও নাম-ডাক না করতে পারলেও সাম্প্রতিক বাংলা থিয়েটারে তিনি রীতিমতো একটি চর্চিত নাম। বহরমপুর থেকে সাহস, কাজের খিদে নিয়ে কলকাতায় পা রেখেছিলেন একসময়। শহর তিলোত্তমাও তাঁর ট্যালেন্টকে ফিরিয়ে দেয়নি। মিনার্ভা দিয়ে পথ চলা শুরু করেছিলেন কৌশিক। নিজে হাতে গড়েছেন ‘কলকাতা রঙ্গিলা’। বছরের পর বছর কলকাতার থিয়েটারপ্রেমীদের একের পর এক সফল প্রযোজনা উপহার দিয়েছেন।

দ্য ওয়ালকে সৌরভ জানান, “ঘুম নেই উৎপল দত্তের এমন একটা নাটক যেটার আর্দশই বামপন্থাকে কেন্দ্র করে। ইডিওলজি, আর্দশের পার্থক্যের জন্যই ‘ইচ্ছেমতো’ বাদ দিয়েছে কৌশিককে। এটা অন্য কোনও নাটক হলে হয়তো হতো না তেমনটা!”

এর পাশাপাশি সৌরভ আরও জানান যে তিনি খুশি হবেন যদি জানতে পারেন কৌশিক কর কোনও চাপের মুখে বিজেপিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন, তাহলে তিনি নিজেই দায়িত্ব নিয়ে কৌশিককে ‘ঘুম নেই’তে ফিরিয়ে আনবেন।

অভিনেতা ও নাট্যকার সৌরভ পালোধীর কাজেরও যথেষ্ট গুণমুগ্ধ ছিলেন কৌশিক। তাই ‘ঘুম নেই’ নাটকের জন্য তাঁর সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন। সে নাটক জমিয়েও ফেলেছিল মঞ্চ। কিন্তু সেসব এখন অতীত।

এপ্রসঙ্গে সৌরভ পালোধী সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট করে জানান, “ঘুম নেই’ নাটক থেকে বাদ দেওয়া হল কৌশিক করকে। কারণ তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। আর বর্তমান সময়ে সেটাই বাদ দেওয়ার যথেষ্ট কারণষ মেহনতী মানুষের নাটকে সাম্প্রদায়িকদের ঠাঁই নেই। তাই, চল ফোট।”

শুধু সৌরভ নয়, কৌশিক করের ওপরে চটে রয়েছেন নবারুণপুত্র তথাগত ভট্টাচার্যও। নবারুণ ভট্টাচার্যের ‘অটো’ উপন্যাসের নাট্যরূপ দিতে চায় ‘কলকাতা রঙ্গিলা’ আর এর জন্যই তাঁদের সঙ্গে ২০১৭ সালের চুক্তি হয় কৌশিক করদের। কৌশিকের গেরুয়া শিবির বেছে নেওয়ার পরে তথাগত বাবু সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান যে তিনি সেই চুক্তি ভাঙতে চায়ছেন। এর পাশাপাশি ‘কলকাতা রঙ্গিলা’ কে অর্থও ফেরত দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

তবে এই কট্টর অবস্থান খুব ভাল চোখে মেনে নেননি অনেকেই। সোশ্যাল মিডিয়াতেই অনেকে সৌরভের পোস্টে প্রশ্ন তুলেছেন, ফ্যাসিজমকে রুখতে গিয়ে এটাও এক ধরনের ফ্যাসিজম হয়ে যাচ্ছে না কি? শিল্প বা পেশার সঙ্গে রাজনৈতিক যোগ গুরুত্বপূর্ণ কেন হবে, এই প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে। তার উপর ‘চল ফোট’ শব্দবন্ধটিও অত্যন্ত অপমানজনক বলেই মনে করেছেন সাধারণ দর্শকরা।

‘চল ফোট’ শব্দ নিয়ে অনেকের আপত্তি থাকলেন সৌরভ জানান যে এই ভাষার বদলটা সময়ের দাবিতেই হয়েছে। এটা সৌরভের একার কথা নয়, এটা ‘ইচ্ছেমতো’র সকলের কথা। আর এর সঙ্গেই তিনি বলেন, “যদি আপনাকে বিদায় জানাচ্ছি বলাতে কোনও আপত্তি না থাকে তাহলে ‘চল ফোট’-এও আপত্তি থাকার কথা নয়।”

You might also like