Latest News

আনন্দ দিয়েই ক্যানসারকে জয় করেছেন তাহিরা কাশ্যপ, তাঁর বই পড়ে চোখে জল নিয়েও হাসবেন আপনি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাহিরা কাশ্যপ, নামটা একেবারে অচেনা নয় অনেকের কাছেই। তিনি রুপোলি পর্দার সামনে না এলেও, আজকের দিনে যে কয়েক জন বি-টাউনের মানুষ আপনাকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেন, তাঁদের মধ্যে তিনিও রয়েছেন নিশ্চয়। ক্যানসারের মতো রোগও তাঁর মনের জোরের কাছে মাথা নুইয়েছে। অস্ত্রোপচারের শারীরিক ক্ষতচিহ্নকে তিনি অনায়াসে মেলে ধরেছেন সকলের সামনে।

আয়ুষ্মান খুরানার স্ত্রী তাহিরা কাশ্যপের লড়াই অনেকেই জানেন। কিন্তু যা হয়তো অজানা ছিল, তা হল তাহিরা ও আয়ুষ্মান দুজনেই বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের ‘জবরা’ ফ্যান। এতটাই ফ্যান, যে এই দীর্ঘ লকডাউনে তাহিরা একটি বই লিখে ফেলেছেন, যার নাম, ‘ট্যুয়েল্ভ অ্যামেন্ডমেন্টস অফ বিং আ উম্যান’। সে বইয়ের প্রচ্ছদে রয়েছে শাহরুখ খানের ছবি।

তাহিরা এই বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে বলেন, শাহরুখের অশোক সিনেমাটা তাঁরা দুজনে ১২ বার দেখেছিলেন কলেজে পড়ার সময়ে। পাশাপাশি তাহিরা জীবনে আনন্দ নিয়ে বেঁচে থাকার কথা বলেন। জানান, হিউমর বা হাস্যরসকে তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন সবসময়। আর এ প্রসঙ্গেই তিনি বলেন যে এই হাসি বা মজার ব্যাপারটা তাঁর বাবার থেকে পেয়েছেন।

এই বইটি লেখার সময় তাহিরা তাঁর জীবনের কঠিন লড়াইয়ের কথাগুলোও লিখেছেন। চিকি সরকারের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা লিখেছেন তাঁর বইতে। এর সঙ্গে তিনি আরও বলেন, যে এই বইটি লেখার পেছনে রয়েছে একটি সৎ ইচ্ছা। মনের সবটুকু দিয়ে তিনি এই বইটি লিখেছেন।

জানা গেছে, মেয়েদের জীবনের যে নানা স্তর রয়েছে তাকে নিয়েও তিনি এই বইতে আলোচনা করেছেন। তাহিরা নিজে বলিউডে সিনেমার স্ক্রিনপ্লে লেখা থেকে পরিচালনা সবটাই সামলেছেন। তিনি লেখেন, “আমি বিশ্বাস করি একটি মেয়ের জীবনে অনেকগুলো স্তর থাকে। তাই নিজের জীবন নিয়ে লেখার অনেক কিছুই থাকে আমাদের।”

জীবনের লড়াই বলতে গিয়ে তিনি অনেক কথা বলেন। তাঁর ইনস্টা হ্যান্ডেলেও রয়েছে তাঁর প্রমাণ। উন্মুক্ত পিঠ, তার মধ্যে ক্যানসারের ক্ষত স্পষ্ট। ৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ক্যানসার দিবসে এমনই একটি ছবি পোস্ট করেন লেখিকা তথা অভিনেতা আয়ুষ্মান খুরানার স্ত্রী তাহিরা কাশ্যপ।

ছবি পোস্ট করে তাহিরা লিখেছেন, ”আজ বিশ্ব ক্যানসার দিবস। আশা করি আজকের দিনটা আমার মতোই সকল ক্যানসার আক্রান্তরাই দ্বিধাহীন চিত্তে এই দিনটা সেলিব্রেট করবেন। ক্যানসারকে নিয়ে সমস্তরকম কুসংস্কার, ভয় যেন দূর করতে পারি। সকলের মধ্যে যেন ক্যানসার নিয়ে সচেতনতা প্রসার করা যায়। যাই হোক না কেন, আমরা যেন নিজেদের ভালবাসতে পারি। আমি সমস্ত ভয়কে জয় করেছি। পৃথিবীতে কেউই পারফেক্ট নয়। এই ক্ষত আমার কাছে অহংকার। তাই আমি নিজে ঠিক যেমন, নিজেকে সেভাবেই গ্রহণ করার মধ্যেই লুকিয়ে আসল আনন্দ। এই ছবিটা সকলের সঙ্গে শেয়ার করার অর্থ ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইকে সেলিব্রেট করা।”

তাঁর এই লড়াইয়ের গল্প হয়ে উঠেছে হাজারও মানুষের অনুপ্রেরণা। এই বইতেও উঠে এসেছে সেই লড়াইয়ের কাহিনি, যে আপনারও চোখের কোণে জল আনবে। একইসঙ্গে বাড়িয়ে দেবে মনের জোরও।

এই বইটির আরও একটি দিক রয়েছে, যেখানে তাহিরা বলেছেন বাচ্চাদের থেকেও কখনও কখনও ভাল থাকা পাঠ পড়ে নেওয়া যেতে পারে। তিনি জানান তাঁর মায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যথেষ্ট গভীর ছিল। তবে তাঁর বাবা যেহেতু বাইরে কর্মরত ছিলেন, তাই বাবার থেকে সময় কম পেতেন। তিনি বাচ্চাদেরকে সময় দেওয়া, গুড পেরেন্টিংয়ের ওপর জোর দিয়েছেন।

পাশাপাশি, এটাও বলেন যে তাঁকে স্টার ওয়াইফের তকমা দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবন যাপনই পছন্দ করেন।

You might also like