Latest News

দেব আনন্দর সঙ্গে ভালবাসা হল, ভাসা হল না সুরাইয়ার! চিরকুমারী রয়ে গেলেন স্বপ্নসুন্দরী

শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

Subhadeep Bandyopadhyay

‘অতি বড় সুন্দরীর না জোটে বর
অতি বড় ঘরণী না পায় ঘর…’

এই বাংলা প্রবাদ যেন অক্ষরে অক্ষরে মিলে যায় বলিউডের স্বপ্নসুন্দরীর (Suraiya) সঙ্গে। তিনি রূপমাধুরীতে মধুবালা বা সুচিত্রা সেনের থেকে কোনও অংশে কম ছিলেন না। কিন্তু তাঁর প্রেম পরিণতি না পাওয়ায় তাঁর ফিল্মি কেরিয়ার সুদূরপ্রসারী হয় না। অথচ তিনি ছিলেন একাধারে নায়িকা ও গায়িকা। বহু সময় নিজের প্লে ব্যাক নিজেই করতেন বাংলার কাননবালার মতোই। সেই স্বপ্নসুন্দরীর নাম সুরাইয়া।

নেহেরুর চোখে জল এনেছিলেন সুরাইয়া

১৯২৯ সালের ১৫ জুন লাহোরে জন্মগ্রহণ করেন ফুটফুটে সুরাইয়া। পুরো নাম সুরাইয়া জামাল শেখ। বাবা আজিজ জামাল শেখ এবং মা মমতাজ শেখ। সুরাইয়ার যখন এক বছর বয়স, তখন তাঁর পরিবার বম্বের মেরিন ড্রাইভের কৃষ্ণ মহলে থাকতে চলে আসেন। শৈশবে অল ইন্ডিয়া রেডিও বম্বেতে গানের আসরে যোগ দেন স্কুলবালিকা সুরাইয়া। রেডিওতেই তাঁর বন্ধু ছিলেন শিশুশিল্পী রাজ কাপুর ও মদনমোহন।

পরবর্তীকালে রাজ কাপুর তাঁর হিরো হন আর মদনমোহন সুরাইয়ার ছবিতে সংগীত পরিচালক হন। শিশুশিল্পী সুরাইয়া আত্মপ্রকাশ করেছিলেন ‘ম্যাডাম ফ্যাশন’ ছায়াছবিতে, ১৯৩৬ সালে। মিস সুরাইয়া নাম ছিল তখন তাঁর। প্লেব্যাকেও খুব ছোট বয়সেই সুযোগ পান তিনি। এরপর নায়িকার ভূমিকায় আসেন সুরাইয়া। ১৯৩৬ থেকে ১৯৬৩ সালের মধ্যে সুরাইয়া ৬৭টি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন এবং ৩৩৮টি গান গেয়েছিলেন।

Image - দেব আনন্দর সঙ্গে ভালবাসা হল, ভাসা হল না সুরাইয়ার! চিরকুমারী রয়ে গেলেন স্বপ্নসুন্দরী

১৯৪০ এবং ১৯৫০-এর দশকে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের অধিকারিণী ছিলেন অভিনেত্রী সুরাইয়া। সৌন্দর্য ও মিষ্টি গায়কীর কারণে তিনি মালিকা-ই-হুসন (বিউটি কুইন), মালিকা-ই-তারান্নুম (মেলোডি কুইন) এবং মালিকা-ই-আদাকারি (অভিনয়ের রানি) নামে খ্যাত হয়েছিলেন। সুরাইয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত ছবি ‘মির্জা গালিব’ (১৯৫৪)। যে ছবিটি প্রেসিডেন্ট পুরস্কারে সোনা ও রুপোর মেডেল পেয়েছিল। সুরাইয়া গজল গেয়ে ও অভিনয়ে তাক লাগিয়ে দেন। রাষ্ট্রপতি ভবনে দেখানো হয় ছবিটি। জওহরলাল নেহেরুর চোখে জল এসে গেছিল সুরাইয়ার অভিনয় দেখে।

দিলীপ কুমারের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনেন সুরাইয়া

তিন দশকে মাত্র ৬৭টি ছবি করলেও সুরাইয়ার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। নার্গিস ও মধুবালার আগে বলিউড শাসন করতেন তিনি। সুরাইয়ার অভিনয় প্রতিভার চেয়েও রূপ লাবণ্য বেশি চর্চার বিষয় ছিল জনমানসে। বলিউড সমস্ত হিরো থেকে পরিচালক, প্রযোজকরা নায়িকা করতে চাইতেন সুরাইয়াকে। যার থেকে বাদ যাননি দিলীপ কুমারও।

সুরাইয়া যখন স্টার, তখন দিলীপ কুমার প্রায় নবাগত। দিলীপ কুমার সুরাইয়ার সঙ্গে ছবি করার স্বপ্ন দেখতেন। পরিচালক বন্ধু কে আসিফকে দিলীপ খুলে বললেন সে কথা। কে আসিফ সেই বার্তা নিয়ে গেলেন সুরাইয়ার কাছে। সুরাইয়া ছবিটি করতে রাজিও হয়ে গেলেন। দিলীপ কুমার-সুরাইয়া জুটির আসন্ন ছবি ‘জানোয়ার’, প্রেস রিলিজও হয়ে গেল। কিন্তু প্রথম কয়েকদিনের শ্যুটেই সুরাইয়ার কাছে দিলীপ কুমার যেন সত্যি সত্যি ‘জানোয়ার’ হয়ে উঠলেন। এই কেচ্ছা নিয়ে বলিউডে কম চর্চা হয়নি।

Image - দেব আনন্দর সঙ্গে ভালবাসা হল, ভাসা হল না সুরাইয়ার! চিরকুমারী রয়ে গেলেন স্বপ্নসুন্দরী

‘জানোয়ার’ ছবিতে একটা দৃশ্য ছিল যেখানে সুরাইয়ার পায়ে সাপ দংশন করবে এবং দিলীপ কুমার সুরাইয়ার পায়ে মুখ দিয়ে চুষে সেই বিষ বার করবেন। চূড়ান্ত প্রেমকাব্য যাকে বলে। কিন্তু এই একই দৃশ্য তিন-চারদিন ধরে শ্যুট হচ্ছে দেখে সুরাইয়ার সন্দেহ হয়। পরে তিনি খেয়াল করেন, তাঁর অনাবৃত পা জিভ দিয়ে স্পর্শ করার জন্যই দিলীপ কুমার এবং কে আসিফ মিলে এই চক্রান্ত করছেন!

শুধু তাই নয়, এই সিনেমায় সুরাইয়ার ব্লাউজ ছিঁড়ে যাওয়ার দৃশ্যতেও দিলীপ কুমার শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ ছিল সুরাইয়ার। সুরাইয়া সে কথা তাঁর মাকে খুলে বলেন। সুরাইয়ার মামাও ফিল্মজগতে অভিনয় করতেন। তিনিই সুরাইয়াকে চলচ্চিত্রে এনেছিলেন। শোনা যায়, সুরাইয়ার মামা সেটে গিয়ে দিলীপ কুমারকে গিয়ে আক্রমণ করেন। এই ছবি করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেন সুরাইয়া নিজেও। তখন কে আসিফ বলেন, এত টাকা ফিল্মের খরচায় ঢেলে তাঁর তো ক্ষতি হয়ে যাবে। সুরাইয়া মোটা অঙ্কের চেক পরিচালকের হাতে ধরিয়ে এ ছবি থেকে সরে আসেন। এ ছবি আর কোনওদিন সম্পূর্ণ হয়নি। দিলীপ কুমারকেও কখনও ক্ষমা করেননি সুরাইয়া।

শুধু দিলীপই নন, ইন্ডাস্ট্রির দাদামণি অশোক কুমারও বয়সে ছোট সুরাইয়ার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েন একটি শ্যুটে। অশোক কুমারের স্পর্শ সেদিন সহজ লাগেনি সুরাইয়ার। সেদিন সুরাইয়ার চোখে ছোট হয়ে গেছিলেন শ্রদ্ধেয় দাদামণি। যদিও এ বিষয়ে সুরাইয়া জলঘোলা করেননি বেশি। একসঙ্গে তাঁরা ছবিও করেছিলেন।

দেব আনন্দই সুরাইয়াকে চুম্বনের প্রথম অধিকার পান

‘দেব আনন্দ বরং অনেক নম্র পুরুষ ছিলেন রাজ কাপুর, দিলীপ কুমার বা অশোক কুমারের চেয়ে’– বলেছিলেন সুরাইয়া। তাই বোধহয় সুরাইয়া দেব আনন্দকেই দিয়েছিলেন তাঁকে প্রথম চুম্বন করার অধিকার। কিন্তু সেই সত্যিকারের ভালবাসা পরিণতি পেল না। দেব আনন্দ রাজি ছিলেন, সুরাইয়া ভয় পেলেন কঠিন অনুশাসন ভাঙতে। হিন্দু-মুসলিম ধর্মের কাঁটাতার বাধা হয়ে দাঁড়াল তাঁদের মাঝে।

Image - দেব আনন্দর সঙ্গে ভালবাসা হল, ভাসা হল না সুরাইয়ার! চিরকুমারী রয়ে গেলেন স্বপ্নসুন্দরী

রেলগাড়ির কামরায় তাঁদের প্রথম দেখা হয়েছিল চল্লিশের দশকের শেষ দিকে। প্রথম দেখাতেই ভাল লাগা। তখন দেব আনন্দ ইন্ডাস্ট্রিতে নবাগত। চেষ্টা করছেন বম্বেতে পায়ের তলার মাটি শক্ত করার। অন্যদিকে সুরাইয়া তখন খ্যাতির মধ্যগগনে। নায়িকা ও গায়িকা হিসেবে তিনি তখন সুপারস্টার। ১৯৪৮ সালের ছবি ‘বিদ্যা’র শ্যুটিংয়ে ‘কিনারে কিনারে চলে যায়েঙ্গ’ গানের শুটিংয়ের সময় নৌকা উল্টে প্রায় ডুবে যাচ্ছিলেন সুরাইয়া। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তাঁকে বাঁচান দেব আনন্দ। এই ঘটনার পর থেকে দেব আনন্দের প্রেমে সুরাইয়া হাবুডুবু খেতে লাগলেন। সুরাইয়া বলেছিলেন, ‘তুমি যদি না বাঁচাতে, আজ আমার জীবন শেষ হয়ে যেত।’ শুনে নাকি দেব আনন্দ বলেছিলেন, ‘তোমার জীবন শেষ হলে সেইসঙ্গে আমার জীবনটাও শেষ হয়ে যেত।’ এর পরেই দুজনের মন বিনিময় শুরু।

সুরাইয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেন দেব আনন্দ

সুরাইয়ার পরিবার মেনে নেয়নি এই সম্পর্ক। কারণ ছিল মূলত দুটি। প্রথমত, সুরাইয়া ছিলেন তাঁদের পরিবারে একমাত্র রোজগেরে সদস্য। লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করত সে। আর দ্বিতীয়ত, দেব আনন্দ ছিলেন হিন্দু, সুরাইয়া মুসলমান। দেব আনন্দের নামে সুরাইয়াকে তাঁর দিদিমার কাছে বারবার শুনতে হত, ‘ও তো হিন্দু! একজন হিন্দু কী করে আমাদের জামাই হবে?’

দেব আনন্দ কিন্তু এই অন্য ধর্মকে বড় করে দেখেননি। তিনি সুরাইয়াকে আশ্বস্ত করেছিলেন, ধর্ম তাঁদের ভালবাসায় বাধা হতে পারবে না। কিন্তু সুরাইয়ার দিদিমা বাদশা বেগমের কথাই ছিল তাঁদের পরিবারে শিরোধার্য। সুরাইয়ার বাবা-মায়ের মেয়ের সম্পর্কের ব্যাপারে কোনও আপত্তি ছিল না। কিন্তু দিদিমার বিরুদ্ধে কাজ করার ক্ষমতা তাঁদের ছিল না।

Image - দেব আনন্দর সঙ্গে ভালবাসা হল, ভাসা হল না সুরাইয়ার! চিরকুমারী রয়ে গেলেন স্বপ্নসুন্দরী

১৯৪৯ সালে ‘জিৎ’ ছবির শ্যুটিংয়ের সময় পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করবেন বলে ঠিক করেছিলেন দেব আনন্দ-সুরাইয়া। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সহ-অভিনেত্রী দুর্গা খোটে। কিন্তু এক সহ-পরিচালক এই খবর জানিয়ে দেন সুরাইয়ার বাড়িতে। তাঁর দিদিমা এসে সেট থেকে টানতে টানতে নিয়ে গিয়েছিলেন সুরাইয়াকে।

দেব আনন্দ চড় মারেন সুরাইয়াকে

১৯৫০ সালে মুক্তি পায় তাঁদের ছবি ‘নীলি’। সেই শ্যুটিং সেটে সুরাইয়াকে আরও একবার বিয়ের প্রস্তাব দেন দেব আনন্দ। তিনি ৩ হাজার টাকার হিরের আংটি পরিয়ে দিয়েছিলেন সুরাইয়ার আঙুলে। পালিয়ে গিয়ে বিয়েতেও কোনও আপত্তি ছিল না তাঁর। কিন্তু সামাজিক চক্ষুলজ্জার ভয়ে রাজি হননি সুরাইয়া। তখন রাগে জ্ঞান হারিয়ে প্রেমিকাকে চড় মেরে দেব বলেন, ‘তুমি ভীতু, কাপুরুষ!’

আসলে কাউকে ভালবাসলে তাকে বোধহয় ত্যাগ করাও যায়। সুরাইয়ার মামা ভাগ্নীকে বলতেন, দেব আনন্দের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালে দেব আনন্দকে খুন হতে হবে। সুরাইয়ার কাছে দেবের প্রাণের দাম ছিল অনেক বেশি। তাই দেব আনন্দের হাত ধরে পালাতে পারেননি সুরাইয়া।

দেব আনন্দ সুরাইয়ার অনামিকাতে যে আংটি পরিয়ে দিয়েছিলেন, তা চোখে পড়ে যায় দিদিমা বাদশা বেগমের। তিনি আংটি ছুড়ে ফেলে দেন সমুদ্রে। উপরন্তু দেব আনন্দকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। দেব আনন্দ-সুরাইয়ার দেখা সাক্ষাৎও বন্ধ করে দেন বাদশা বেগম। কামিনী কৌশলের মতো বন্ধুর হাত দিয়ে তাঁরা একে অন্যকে চিঠি পাঠাতেন। দেব আনন্দের ফোন এলেও সুরাইয়াকে ধরতে দেওয়া হত না। বন্ধ হয়ে গিয়েছিল একসঙ্গে অভিনয়ও। ১৯৫১ সালে মুক্তি পেয়েছিল দেব আনন্দ-সুরাইয়া জুটির শেষ ছবি ‘সনম’।

তার পরে দিদিমার কড়া নির্দেশ ছিল, দেব আন্দের সঙ্গে আর কোনও ছবিতে অভিনয় করতে পারবে না সুরাইয়া। তবে বাড়ির ছাদে লুকিয়ে দেখা করতেন তাঁরা। ব্যবস্থা করে দিতেন সুরাইয়ার মা।

Image - দেব আনন্দর সঙ্গে ভালবাসা হল, ভাসা হল না সুরাইয়ার! চিরকুমারী রয়ে গেলেন স্বপ্নসুন্দরী

ভগ্নহৃদয় দেব আনন্দকে নিজের কাজে মনোনিবেশ করতে বলেন দাদা চেতন আনন্দ। এইসময় চেতন আনন্দ তাঁদের প্রযোজনা সংস্থায় নিয়ে আসেন এক নবাগতা অভিনেত্রী মোনা সিংহকে। মোনা নাম পরিবর্তন করে হন কল্পনা কার্তিক। দেব আনন্দের সঙ্গে অভিনয় সূত্রে দুজনে কাছাকাছি আসেন। দেবের প্রেমের ক্ষততে মলম লাগায় কল্পনার ভালবাসা। ১৯৫৪ সালে অভিনেত্রী তথা তাঁদের প্রোডাকশন হাউজ ‘নবকেতন ফিল্মস’-এর কর্মী মোনা সিংহ ওরফে কল্পনা কার্তিকের সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েন দেব আনন্দ।

দেবানন্দ ও কল্পনা।

এর পর জীবনে যত বার সাক্ষাৎকার দিয়েছেন দেব সাব, বেশির ভাগ সময়েই মুখোমুখি হয়েছেন সুরাইয়া-প্রসঙ্গের। কোনও বারই প্রশ্ন এড়িয়ে যাননি। উজাড় করে দিয়েছেন নিজের স্মৃতি। কল্পনার কাছেও দেব কিছু লুকোননি।

৩৫ পেরোনোর আগেই অন্তরালে সুরাইয়া

কিন্তু সুরাইয়ার কি হল? এক নিঃসীম একাকীত্বের পথে হাঁটতে লাগলেন তিনি। বেছে নিলেন চিরকাল বিয়ে না করার ব্রত। রয়ে গেলেন আজীবন কুমারী। ছবির জগতে দেব আনন্দের জুটি হিসেবে একের পর এক নতুন যুগের নায়িকা এসেছেন। কিন্তু সুরাইয়া ৩৫ বছর বয়স পেরোনোর আগেই নিজেকে সরিয়ে নেন বিনোদন জগত থেকে। আর তিনি পেশাদার জগতে কাজ করেননি।

একা থাকার ব্রত চিরকাল পালন করে গেছিলেন সুরাইয়া। জানতে ইচ্ছে হয়, সুরাইয়ার দিদিমা বাদশা বেগম কী পেলেন নাতনিকে এই কষ্টের জীবনে ঠেলে দিয়ে! তবু সুরাইয়া বিজয়িনী। তিনি অন্য পুরুষকে স্বামীর আসনে বসাননি। এই একাকীত্ব জয়ের পরিচয়। নিজের কাছে সারাজীবন পরিষ্কার ছিলেন তিনি। প্রেমিককে খুন হতে দেখা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই রয়ে গেলেন অবিবাহিতা।

Image - দেব আনন্দর সঙ্গে ভালবাসা হল, ভাসা হল না সুরাইয়ার! চিরকুমারী রয়ে গেলেন স্বপ্নসুন্দরী
মির্জা গালিব

একটা সময় সুরাইয়ার সেই স্নিগ্ধ রূপ আর ছিল না। বেশ স্থুলকায় হয়ে যান তিনি। বলিরেখা ঢাকতে ও স্টারডম রাখতে সুরাইয়া অতি মেক আপ করে কয়েকবার প্রকাশ্যে চলেও আসেন। সেসময় দেব আনন্দের সঙ্গে তাঁর দেখাও হয়েছিল।

শেষ জীবনে সুরাইয়া একাই থাকতেন। তাঁর এক শুভাকাঙ্ক্ষী আইনজীবি বন্ধু ছিলেন, ধীমৎ ঠক্কার। তিনি সুরাইয়ার দেখাশোনা করতেন। জীবনের উপান্তে সুরাইয়ার ক্যানসার ধরা পড়ে। সেসময় শেষ ছ’মাস ধীমৎ ঠক্কারের পরিবারে এসে থাকতে বাধ্য হন সুরাইয়া। তাঁরাই অসুস্থ সুরাইয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। ২০০৪ সালের ৩১ জানুয়ারি, প্রয়াত হন মালিকা-ই-হুসন সুরাইয়া।

সুরাইয়া যেন সারা জীবন অবিবাহিতা থেকে একলা থাকার ব্রত পালন করে বলে গেলেন, ‘নাই বা হল সাত পাকের বাঁধন, এই প্রতীক্ষার বাঁধন কম কীসে!’

ফিল্মের অলিগলিতে নষ্ট না হয়েও মাথা উঁচু করে বাঁচা যায়, দেখালেন একলা মায়েরা

You might also like