Latest News

ব্যান্ডেজ বাঁধা মুখে চারু মজুমদারের দাহ! নামভূমিকায় নওয়াজউদ্দিন, সঙ্গে জয়া

শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

‘কীসের ভয় সাহসী মন লালফৌজের?
লাফিয়ে হই পার
থাক না হাজার অযুত বাধা
দীর্ঘ দূরযাত্রার
হাজার পাহাড়, লক্ষ নদী কিছুই নেই ভাবার
শিখর পাঁচ –
যেন বুঝি ছোট্ট নদী
ঢেউ বাহার, ঢেউ বাহার,
ওমুম পাহাড় মাটির টিলা কি সবুজ আহা
লাফিয়ে হই পার।’

চারু মজুমদার (charu majumdar) নামটা শুনলেই মনে হয় ত্রাসের আর এক নাম। কিন্তু দুনিয়াটা বদলে ফেলার স্বপ্ন যে শুধু অলীক ভাবনা নয়, বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়েও বদল আনা সম্ভব, সেই শিক্ষাই দিতে চেয়েছিলেন চারু মজুমদার। তাই আপসহীন মুক্তিকামী মানুষের স্পর্ধার মধ্যে আজও জেগে আছেন চারু মজুমদার। বাংলার নকশাল আন্দোলনে প্রথম সারির নাম চারু মজুমদার, কানু সান্যাল, জঙ্গল সাঁওতাল প্রমুখ, ষাট-সত্তর দশক জুড়ে যে নামগুলো ছিল মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজে আতঙ্কের নাম। কারণ নকশাল নেতাদের জীবন যাপনের সবটাই ছিল সাধারণ মানুষের কাছে রহস্য, আর অনেকখানি কৌতূহল! তাঁরা দেখতে আদতে কেমন তাই অনেকে জানতেন না। মানুষ খুন করে নকশালরা– এমনই তকমা সেঁটে গেছিল তাঁদের গায়ে। অনেকাংশে তা ঘটতও অলিতে-গলিতে। কিন্তু একইসঙ্গে তাঁরাই ঘটিয়েছিলেন বাংলার রাজনীতির বাঁকবদল।

শোনা যায়, জনমানসে চারু মজুমদারের যা পরিচয় আর আসলে রক্তমাংসের চারু মজুমদার– তাঁরা ছিলেন অনেকটা আলাদা। ছোটখাটো, খুব শীর্ণ চেহারার, সদা হাসিমুখ, সোনালি ফ্রেমের চশমা পরা মানুষ। সেই স্বপ্ন দেখা মানুষটার লড়াই যেন আজও চাপা পড়ে আছে এক সন্ত্রাসবাদী নকশাল পরিচয়ের আড়ালে। বাংলা রাজনীতিতে নবজাগরণ আনা এমন এক নেতার জীবন এবার হবে ক্যামেরাবন্দি। নকশাল আন্দোলন নিয়ে ওয়েব সিরিজ তৈরি করছেন পরিচালক সায়ন্তন মুখোপাধ্যায়। পুলিশ কর্মকর্তা রুণু গুহ নিয়োগীর লেখা ‘সাদা আমি কালো আমি’ উপন্যাস অবলম্বনে বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি– তিন ভাষাতেই তৈরি হবে এই সিরিজ। তিনটি সিজনে তুলে ধরা হবে ১৯৪৭ থেকে ২০১০ অবধি বিশ্বজুড়ে বামপন্থী আন্দোলনের কাহিনি। এই সিরিজের প্রথম সিজনের চিত্রনাট্যে মিলবে নকশাল আন্দোলন এবং রাজনৈতিক নেতা চারু মজুমদারের জীবন কাহিনি। চারু মজুমদারের চরিত্রে অভিনয় করবেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী ও চারু মজুমদারের স্ত্রী লীলা মজুমদারের ভূমিকায় জয়া আহসান। দুই বাংলার জনপ্রিয় নায়িকা জয়া আহসানের বলিউড অভিষেকও এই ছবি। তবে আরও বড় চমক হল রুণু গুহ নিয়োগীর চরিত্র। সে চরিত্রে অভিনয় করবেন বলিউডের বাঙালি অভিনেতা রনিত রায়, যিনি ‘কিঁউকি সাস ভি কভি বহু থি’-র মিহির চরিত্রে জনপ্রিয় হয়েছিলেন।

সিনেমা আলোচনার পথ ধরেই ফিরে যাওয়া যাক সেই ষাট-সত্তর দশকের দিন গুলোতে। দিনেদুপুরে উত্তর কলকাতার সরু গলিপথে হঠাৎ গোলাগুলির শব্দ, রাস্তায় পড়ে তরুণদের লাশ আর থমথমে গুমোট আবহাওয়া। সব মিলিয়ে নকশাল আন্দোলন বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। নকশালবাড়ি আন্দোলনের রূপকার চারু মজুমদারের জন্মশতবার্ষিকী নীরবেই পেরিয়ে এসেছি আমরা। ১৯৭২ সালের ২৮ জুলাই তাঁর মৃ্ত্যু হয়েছিল। এ বছর শুরু হল তাঁর প্রয়াণের পঞ্চাশ বছর।১৯১৯ সালের ১৫ মে রাজশাহী জেলায় মামারবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন চারু মজুমদার। বাবা বীরেশ্বর মজুমদার ছিলেন ধনী মধ্যস্বত্ত্বভোগী। কিন্তু সেই পরিবারেই বিপ্লবী মনোভাবে গড়ে উঠল চারু মজুমদারের আদর্শ। ১৯৩৩ সালে শিলিগুড়ি বয়েজ স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করে ভর্তি হলেন পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে। আর এমন সময়েই শুরু হল তেভাগা আন্দোলনের ঝড়। তখন ১৯৩৬ সাল। তেভাগা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়লেন চারু মজুমদার নিজেও, ফিরে এলেন জলপাইগুড়ি জেলায় দায়িত্ব নিয়ে।

অন্যদিকে আর এক বিপ্লবী মেয়ের কথাও বলা প্রয়োজন। লীলা সেনগুপ্ত। পরে হন লীলা মজুমদার। তিনি শুধু চারু মজুমদারের সহধর্মিণীই নন, তিনি এক স্বতন্ত্র নারীও। তাঁর জীবন আলেখ্য আর এক লড়াইয়ের কাহিনি।

লীলার জন্ম ১৯২১ সালে। ডাক্তার বাবা হরেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত আর মা বিজনবালা দেবীর পাঁচ সন্তানের দ্বিতীয় এবং একমাত্র কন্যা। আসল নাম আশালতা, পরে হয় লীলা। লীলা এগারো বছর বয়সেই সাবালিকা হয়ে যায়। কারণ, বিজনবালা আর একটি সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান। নবজাতকও বেশি দিন বাঁচেনি। বাবা, দাদা আর তিন ভাইয়ের সংসারে লীলাই কর্ত্রী। দায়িত্ব নিতেই হবে, কারণ বাবা ঘুরে-ঘুরে ডাক্তারি করেন আর একেবারে ছোট ভাই তখন মাত্র আড়াই বছরের।রান্নাঘর সামলানোর ফাঁকে লীলার ম্যাট্রিক এবং আইএ পাশ। বাবার অমতে স্কুলে পড়ানোর কাজ নেওয়া। ইতিমধ্যে বাবার মৃত্যুর পরে ভাইদের নিয়ে জলপাইগুড়ি চলে আসা। সেখানে মহিলা আত্মরক্ষা সমিতির সদস্য হয়ে শিখে নিয়েছেন লাঠিখেলা, ছোরাখেলা। আঠারো বছর বয়স থেকেই পরতে শুরু করেছেন পাড়ওয়ালা সাদা শাড়ি। সঙ্গে চালান ‘ঘরে-বাইরে’ নামে একটি মহিলা পত্রিকা। এমন সোজা শিরদাঁড়ার মেয়ে যে কমরেডদের জন্য আদর্শ, তা বলে দিতে হয়না। তেভাগা আন্দোলনে যুক্ত হলেন লীলা। সেখানেই আলাপ সহযোদ্ধা চারু মজুমদারের সঙ্গে। কিন্তু ১৯৪৮-এ পার্টি নিষিদ্ধ হল, মহিলা আত্মরক্ষা সমিতিও। গ্রেফতার হলেন লীলা। মুক্তির পরে স্কুলের চাকরি আর থাকল না। বিমা কোম্পানির সাথে যুক্ত হলেন এবং কাজের টার্গেটও পূরণ করেছিলেন প্রতিবার। কিন্তু ১৯৫০-এ আবার কারাগারে। লীলা ছিলেন একমাত্র মহিলা কমরেড। করেছিলেন নির্জলা অনশন।

১৯৫২ সালে জেল থেকে বেরোলে লীলার হাত ধরলেন সেই তেভাগা আন্দোলনের সহযোদ্ধা, চারু মজুমদার। দুজনে জুটি বাঁধার সঙ্কল্প করে সেরে ফেললেন বিয়ে। শ্বশুর বীরেশ্বর কিন্তু মেনে নেননি লীলাকে। তাঁর কথায় লীলা ‘বারমুখো মেয়ে’। কিন্তু যখন শয্যাশায়ী শ্বশুর, তখন তাঁকে বেডপ্যান দেওয়া থেকে রান্না করে খাওয়ানো– সব করতেন লীলা। সেদিন শ্বশুর বুঝেছিলেন, কোন রত্ন তাঁর ঘরে। দেখা গেল, লীলাকে ‘মা’ বলে ডাকতে শুরু করেছেন তিনি।১৯৬৬-৬৭ সালে চারু যখন নতুন রকম ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন, লীলা ছিলেন তাঁর প্রধান উৎসাহদাত্রী। বিপ্লবীদের সংসারে আর্থিক টানাটানি যেমন ছিল তেমন ছিল পারস্পরিক নির্ভরতাও। দুই মেয়ে এবং এক ছেলেকে নিয়ে ছোট্ট সংসার দুজনের। দুজনেরই তাতে সমান দায়িত্ব। কখনও পার্টির কাজে লীলা বাইরে থাকলে চারু বাবু মেয়েদের চুল আঁচড়ে দিয়েছেন, রেঁধেবেড়ে খাইয়েছেন। নকশাল আন্দোলনের স্বপ্ন দেখা চারু মজুমদারের সংসারে টাকার জোগাড় বেশিটাই করতেন স্ত্রী লীলা।

চারু মজুমদার, নকশালবাড়ি এবং সিপিআই(এম-এল)-এর রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত স্থপতি। ১৯৭০-এর দশককে মুক্তির দশকে পরিণত করার যে আহ্বান তিনি পাঠিয়েছিলেন, তা সফল হয়নি। কিন্তু ইতিমধ্যেই ১৯৬৭ সালের ২৫ মে, যেদিন দুনিয়া শুনল নকশালবাড়ির কথা, সেদিন থেকে ২৮ জুলাই ১৯৭২, যেদিন কলকাতার লালবাজারে পুলিশ লক-আপে চারু মজুমদার মারা যান– এই কালপর্বে তিনি শক্তিশালী এক সজ্জিত মহড়া সাজিয়ে দিয়েছেন। চার দশক পেরিয়েও চারু মজুমদার, নকশালবাড়ি এবং সিপিআই(এম-এল) পুরনো ভারতের রক্ষকদের কাছে যেমন সবথেকে ভয়ানক দুঃস্বপ্ন হিসেবে রয়ে গেছে, তেমন প্রচুর মানুষকে সামিল করে এক নতুন ভারত গড়ার সংগ্রাম তীব্রতর করার ক্ষেত্রেও প্রেরণা সঞ্চার করে চলেছে।

চারু মজুমদার আর কানু সান্যাল দুজন যেন দুজনের পরিপূরক ছিলেন। আন্দোলনের মাস্টার প্ল্যান করতেন তাঁরাই। যদিও পরবর্তীকালে দুজনের মতান্তর মনান্তরে রূপ নেয়। কানু সান্যালের খুড়তুতো বোন ছিলেন ‘কুহেলি’, ‘আনন্দ’ খ্যাত বিখ্যাত অভিনেত্রী সুমিতা সান্যাল, যা হয়তো অনেকেই আজ জানেন না।চারু মজুমদারের আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাওয়া ছিল তাঁর পরিবারের কাছে এক আতঙ্কের ব্যাপার। লীলা দেবী ছেলে মেয়েদের নিয়ে থাকতেন শিলিগুড়িতে। জানা যায়, একটা ছোট নীল ব্যাগ নিয়ে চারু মজুমদার শেষ বারের জন্য বেরিয়ে যান বাড়ি থেকে। ১৯৭২ সালে গ্রেফতার হন চারু মজুমদার। যার ডাকে একসময় লাখো লাখো ছেলে পথে নামত, তিনি গ্রেফতার হতে সে অর্থে কোনও আন্দোলন হল না, এ যেন প্রত্যাশিত ছিলই। নাকি ভয়! এর পরে তাঁর উপর চলা অকথ্য অত্যাচারের কাহিনি আজও অজানা অনেকটাই। পরিবারের লোকরা দাবি করেছিলেন, লক আপে অসুস্থ চারু বাবুকে অক্সিজেন দেওয়া হয়নি কেন! জবাব আসে, লক আপে অক্সিজেন থাকে না।১৯৭২ সালের ২৮ জুলাই লালবাজার পুলিশ লক-আপ থেকে জানানো হল, মৃত্যু হয়েছে চারু মজুমদারের। সে খবর গেল শিলিগুড়িতে। সব শেষ। পাড়ার লোকেরাই প্লেনের টিকিট কেটে দিলেন লীলা দেবীদের। কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছতেই ডিসিডিডি দেবী রায়ের লোক তাঁদের নিয়ে এল লালবাজারে। লীলা বলেছিলেন, স্বামীর দেহ শিলিগুড়িতে নিয়ে যাবেন। তবে সে আবেদন মঞ্জুর হয়নি। মর্গে দেখা মিলল মৃত স্বামীর। পায়ে বীভৎস কালশিটে যেন অত্যাচার করেই মেরে ফেলার প্রমাণ। মুখ ঢাকা সাদা ব্যান্ডেজে। কলকাতা শহরে তখন একমাত্র একটাই বৈদ্যুতিক চুল্লি কেওড়াতলা শশ্মানে। ছেলে অভিজিৎ মজুমদার বাবা চারু মজুমদারের মুখাগ্নি করলেন ঐ ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায়। ছাই হয়ে গেল এক অগ্নিপুত্রর দেহ।

ট্রোলিংয়ের এই উল্লাসমঞ্চ অসহনীয় হলেও অপ্রত্যাশিত নয়

অনেকের মতে, ওই ব্যান্ডেজ বাঁধা দেহ চারু মজুমদারের নয়। তাঁকে গুম করে দেওয়া হয়েছিল। আর যদি তিনি হনও তাহলেও অত্যাচারের প্রমাণ লোপাট করতেই ব্যান্ডেজ বাঁধা হয়েছিল মুখে। এমনকি মহাদেব গোষ্ঠীর লোকেরা ভেবেছিলেন, লালবাজার আক্রমণ করে সশরীরে উদ্ধার করবেন চারু মজুমদারকে। কিন্তু সেসব কিছু এগোয়নি। আজও রহস্য চারু মজুমদার হত্যাকান্ড।

চারু মজুমদারকে গ্রেফতার করার দায়িত্বে ছিলেন পুলিশ কর্তা রুণু গুহ নিয়োগী। তিনি তখন আদেশ মেনে কর্তব্য পালন করলেও, পরে বোঝেন চারু মজুমদারের জ্বলন্ত বিপ্লবী মনটাও। তাই রুণু গুহ নিয়োগী লিখে ফেলন তাঁর চোখে দেখা চারু মজুমদারের কাহিনি, ‘সাদা আমি কালো আমি’। যেন নিজের পুলিশ সত্ত্বা আর মানবিক সত্ত্বার টানাপড়েনের কথাই লেখেন তিনি।এবার সেই উপন্যাস অবলম্বনেই ওয়েব সিরিজ করতে চলেছেন পরিচালক সায়ন্তন মুখোপাধ্যায়। সায়ন্তন ‘দ্য ওয়াল’কে জানালেন, “পুলিশকর্তা রুণু গুহ নিয়োগীর চোখ দিয়েই দেখানো হবে এই ছবির কাহিনি। স্বাধীনতার পর যে বামপন্থী আন্দোলনের উত্থান ঘটেছিল তাতে রাশিয়া, চিন যে ছাপ রেখেছিল, বাঙালিরও প্রভাব ছিল। আমাদের এখানে তেমন একটি চরিত্র চারু মজুমদার। তাঁর রাজনৈতিক মতবাদ হয়তো উগ্র ও হিংসাত্মক ছিল, কিন্তু তার গভীরতা চে গুয়েভারার চেয়ে কোনও অংশে কম ছিল না। চে গুয়েভারা পলিটিক্যাল গ্ল্যামারটা পেয়ে গেল আর আমাদের বাংলায় চারু মজুমদার থাকা সত্ত্বেও তেমন স্বীকৃতি নেই। সেই তাগিদ থেকেই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে চারু মজুমদারকে দেখাতে চাই। একটা সন্ত্রাসবাদী তকমা থেকে তাঁকে বের করে আনতে চাই। টানা চোদ্দ দিনের জিজ্ঞাসাবাদ সহ পরিকল্পিত খুনের কাহিনি থাকবে এই সিরিজে।

চারু মজুমদারের নামভূমিকায় প্রথম থেকেই নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীকে ভেবেছি, উনি কথাও দিয়েছেন। আর জয়া আহসানের সঙ্গে আগেও কাজ করেছি। আমি জীবননানন্দ দাসের জীবনী ছবি বানালাম, যার নামভূমিকায় ব্রাত্য বসু ও তাঁর স্ত্রীর ভূমিকায় জয়া। ছবিটার নাম ‘ঝরা পালক’। এবার কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভালে দেখানো হবে। তখন থেকেই জয়াকে নির্বাচন করে রাখি লীলা মজুমদারের চরিত্রে। চারু আর লীলার রোম্যান্সও বিপ্লবের সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে তুলে ধরব ছবিতে। আমার মতে বিপ্লবও একটা রোম্যান্স।

রনিত রায় হচ্ছেন রুণু গুহ নিয়োগী। সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়ের চরিত্রে সব্যসাচী চক্রবর্তীকে চাইছি। জ্যোতি বসুর চরিত্রে ভেবেছি পরেশ রাওয়াল বা বোমান ইরানিকে। আপাতত চলছে চিত্রনাট্য লেখার কাজ। শুটিং শুরু হবে আগামী বছর। আন্তর্জাতিক ওটিট প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাবে এই ওয়েব সিরিজ।”সায়ন্তন কিন্তু ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন নাম নন। তিনি ছিলেন রবি ওঝা ইউনিটের সহকারী পরিচালক। সায়ন্তনের প্রথম ছবি অনেকেই দেখেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, বিশ্বনাথ বসু ও অঞ্জনা বসু অভিনীত ‘অদ্ভুত’। এছাড়াও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের তথ্যচিত্র ‘আমি সৌমিত্র’ বানিয়েছেন সায়ন্তন। সায়ন্তনের ক্যামেরাতেই শেষ শট দিয়েছিলেন সৌমিত্র। এবার আগামী বছর চারু-লীলা উপাখ্যানের অপেক্ষা।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like