Latest News

Singer KK: ২০ বছরের কেরিয়ারে ৩৩ বার মনোনয়ন, তবু পাননি ফিল্মফেয়ার! বলিউডের নেপোটিজমের শিকার কেকে

শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

কিশোর কুমারের নামের দুটি আদ্যাক্ষরই কে। একসঙ্গে বললে কেকে। সেই কিশোর কুমারের গানেরই ভক্ত কৃষ্ণকুমার কুন্নত (Singer KK)। কিন্তু এই প্রকৃত নামে তাঁকে শ্রোতারা কোনওদিনই চেনেনি। কেকে নামেই বলিউডের গায়ক হিসেবে প্রথম সারির নাম হয়ে ওঠেন তিনি। এই কেকে নামেই রয়ে যাবেন সকলের মনের মণিকোঠায়, চিরদিন।

আইডল কিশোর কুমারের সঙ্গে দেখা করার সৌভাগ্য অবশ্য কৃষ্ণকুমার কুন্নতের (Singer KK) হয়নি। যখন অকালেই কিশোর কুমার চলে গেলেন চিরতরে, তখনও কৃষ্ণকুমার কুন্নতের পড়াশোনা শেষ হয়নি। তিনি একেবারেই নিউকামার দিল্লির গানের জগতে। কিন্তু কিশোর কুমারের লাইভ পারফরমেন্স, তাঁর কণ্ঠ কৃষ্ণকুমার কুন্নতের কৈশোরের মায়াজগত ছিল। সেই কিশোর কুমারকে গুরু মেনেই গানের প্রতি ভালবাসা কেকে-র।

গুরু-শিষ্য দুজনের প্রস্থানেও কী অদ্ভুত সমাপতন! গানের মাঝেই কিশোর কুমার চলে গেছিলেন মাত্র ৫৮ বছর বয়সে। আর কেকে কৃষ্ণকুমার কুন্নতও চলে গেলেন গানে-গানেই, ২০২২ সালের ৩১ মে। আরও কম বয়স, মাত্র ৫৩-তে। পঞ্চাশের কোঠা পার হল না দুই অসামান্য গায়কের। রয়ে গেল হাজারো অধরা সৃষ্টি।

জিঙ্গেল গেয়ে হাতের পাঁচটা আঙ্গুল দেখান কেকে (Singer KK)

কৃষ্ণকুমার কুন্নতের জন্ম হয় ১৯৬৮ সালের ২৩ অগস্ট, দিল্লিতে এক হিন্দু মালয়ালি পরিবারে। বাবা সিএস মেনন এবং মা কুন্নত কনকবল্লি। নতুন দিল্লিতেই তাঁর বেড়ে ওঠা। দিল্লির মাউন্ট সেন্ট ম্যারিস স্কুল থেকে পড়াশোনা। শৈশব থেকেই গানের প্রতি টান ছিল কেকে-র। ১৯৮৫ সালে কেকে যখন প্রথম বিজ্ঞাপনের জন্য জিঙ্গল গেয়েছিলেন, তখন তাঁর বয়স মাত্র ষোলো। তাঁর এই প্রথম জিঙ্গল গাওয়া নিয়েও রয়েছে একটি গল্প।

Image - Singer KK: ২০ বছরের কেরিয়ারে ৩৩ বার মনোনয়ন, তবু পাননি ফিল্মফেয়ার! বলিউডের নেপোটিজমের শিকার কেকে

বলিউডে কেকে-র কোনও গডফাদার ছিল না। ছিল না কোনও ফিল্মি ব্যাকগ্রাউন্ড, চেনাজানা। শুধু ছিল এক মোহময় কণ্ঠ। ওই বয়সে কেকে জানতেনও না, অ্যাড ফিল্মে একটা জিঙ্গেল গাইবার জন্য কত টাকা পারিশ্রমিক হয়। প্রযোজক কেকে-কে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কত টাকা চান? কিছুই বুঝতে না পেরে হাতের পাঁচটা আঙুল দেখান কেকে। প্রযোজক কেকে-কে পাঁচ হাজার টাকা দেন। চমকে যান কেকে! কারণ তিনি পাঁচ আঙুলে পাঁচশো টাকা দেখিয়েছিলেন। সেখানে পাঁচ হাজার স্বপ্ন বৈকী। এটাই ছিল তাঁর প্রথম রোজগার।

‘তুমি দিল্লিতে কেন পড়ে আছো? তোমার জায়গা তো মুম্বই!’

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিরোরি মাল কলেজ থেকে বি.কমে স্নাতক হন কেকে। কলেজ পাশ করেই বিয়ে করে নেন দীর্ঘদিনের বান্ধবী জ্যোতি কৃষ্ণাকে। সঙ্গীত চর্চার পাশাপাশি চলছিল টুকটাক জিঙ্গেলের রেকর্ডিং। কিন্তু সংসারের তাগিদেই ঢুকতে হয় সেলসের চাকরি নিয়ে, মার্কেটিং বিভাগে। পাঁচ হাজার টাকা বেতন। এই সময় দিল্লিতে অনুষ্ঠান করতে এসছিলেন হরিহরণ। সে সময়ে দিল্লির হোটেলে হরিহরণের ফ্যান হিসেবে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন কেকে। হরিহরণ কেকে-র গান শুনে বলেন, ‘তুমি দিল্লিতে কেন পড়ে আছো? তোমার জায়গা তো মুম্বই!’ এই কথাই কেকে-র জীবনে বাঁকবদল ঘটিয়ে দেয়। ছ’মাস মাত্র কাজ করে চাকরি ছেড়ে চলে যান মুম্বই। তখন কেকে-র স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। সেই অবস্থাতেই তাঁরা দিল্লি ছাড়েন।

‘হাম রহে ইয়া না রহে কাল’… পল অণুপল

মুম্বইতে কোনও গডফাদার ছিল না কেকে-র। শুধুমাত্র মনের জোরে তিনি পা রাখেন মায়ানগরীতে। জিঙ্গেল গাওয়া দিয়েই মুম্বাইয়ে কেরিয়ার শুরু। নব্বই দশকের বেশিরভাগ বিজ্ঞাপনের গানে কেকে-র কণ্ঠ শুনতে পাওয়া যেত। সেসব জিঙ্গলের বেশিরভাগই হিট। কিন্তু গায়ক হিসেবে তাঁর পরিচিতি তখনও তৈরি হয়নি। কিন্তু বলিউডে প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে পরিচয় পাওয়ার আগেই প্রায় সাড়ে ৩ হাজার বিজ্ঞাপনী জিঙ্গল গেয়ে ফেলে রেকর্ড সৃষ্টি করেন কেকে। কোনও প্রাতিষ্ঠানিক গানের তালিম না নিলেও তাঁর কণ্ঠস্বরের ম্যাজিক সকলকে মুগ্ধ করে দিয়েছিল।

এছাড়াও ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ইন্ডিয়া টিমের সমর্থনে ‘‌জোশ অব ইন্ডিয়া’‌ গানে কণ্ঠ দেন কেকে। গানটির ভিডিওতে ক্রিকেট দলের সদস্যদের দেখা গেছিল। ১৯৯৯ সালেই ‘সোনি মিউজিক’-এর তরফ থেকে একটি মিউজিক অ্যালবামের জন্য খোঁজ করা হচ্ছিল নতুন গলার। সেখানেই অডিশন দেন কেকে, নির্বাচিত হন সেরা নিউকামার হিসেবে। আর সেখানেই রেকর্ড করেন জীবনের অন্যতম সেরা গান। সেই অ্যালবামই ছিল ‘পল’। তার টাইটেল ট্র্যাক ‘হাম রহে ইয়া না রহে কাল’– আজও তরুণ প্রজন্মের কাছে তুমুল জনপ্রিয়।

Image - Singer KK: ২০ বছরের কেরিয়ারে ৩৩ বার মনোনয়ন, তবু পাননি ফিল্মফেয়ার! বলিউডের নেপোটিজমের শিকার কেকে

মন জয় করেন গোটা দেশের, কিন্তু জোটেনি প্রাপ্য স্বীকৃতি

প্রথম প্লে ব্যাকের বড় সুযোগ এল ‘মাচিস’ ছবিতে, গুলজারের সঙ্গে কাজ। সে ছবিতে ‘ছোড় আয়ে হাম, ইয়ে গলিয়াঁ’ গানে শুরুর দিকে কণ্ঠ রয়েছে কেকের। সেই গান অবিস্মরণীয় হিট হলেও কেকে কোনও পরিচিতি পাননি। দক্ষিণী ছবিতে তাকে প্রথম ব্রেক দেন এআর রহমান। কৃষ্ণ কুমার থেকে কেকে হওয়ার রূপান্তর সেই শুরু। একক প্লে ব্যাক শিল্পী রূপে তাঁর প্রথম বলিউড ছবি সঞ্জয় লীলা বনশালীর ব্লকব্লাস্টার, ‘হাম দিল দে চুকে সনম’।

সেই ছবিতে ‘তড়প তড়পকে ইস দিল সে’ গানটি গেয়ে পর্দার সমীরের মতোই ভূ-ভারতের মন জয় করে নেন কেকে। এরপর আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এক গানেই চলে আসেন লাইমলাইটে। কিন্তু এই গানের জন্য কী বা পেলেন কেকে। মনোনয়ন পেয়েও ফিল্মফেয়ার তাঁর ভাগ্যে জোটেনি। শ্রেষ্ঠ কণ্ঠশিল্পী হিসেবে সে বার আইফা পুরস্কারের মনোনয়নেও ছিলেন তিনি। কিন্তু জোটেনি সে পুরস্কারও। যদিও সে গান আজও ব্যর্থ প্রেমিকদের আইকনিক গান হয়েই রয়ে গেছে। পুরস্কার না পেলেও কেকে-র আকুতিভরা কণ্ঠ শ্রোতাদের মনে চিরঞ্জয়ী।

সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের আসন্ন ছবি ‘শের দিল’-এও গুলজারের সঙ্গে কাজ করেন কেকে। গুলজারের সঙ্গেই কেরিয়ার শুরু হয়েছিল কেকে এর।

সব পুরস্কারেই ব্রাত্য কেকে

২০০০ থেকে ২০১০ কেকে যুগ চলেছিল। সব থেকে বড় কথা, তাঁর গান সবসময় বড় স্টারের লিপে না থাকলেও সে গান প্রায় সবসময়ই হিট হয়েছে। বহু নবীন হিরোও লাইমলাইটে এসেছেন কেকে-র গানে তাঁরা লিপ দিতে পেরেছেন বলেই। কেকে এমন এক প্রতিভা, যাঁর মাথার উপর কোনও বড় হাত ছিল না, তবু বারবার তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। কম বাজেটের ছবিকেও তিনি সুপারহিট করে দেখিয়েছেন নিজের কণ্ঠজাদুর জোরে।

কেকে-র জনপ্রিয়তম গান গুলির মধ্যে থাকবেই ‘সাচ কেহ রহা হ্যায় দিওয়ানা’, ‘খুদে জানে ইয়ে’, ‘আঁখো মে তেরি আজব সি আদায়ঁ হ্যা’, ‘তুনে মারি এন্ট্রিয়াঁ’, ‘কেয়া মুঝে পেয়ার হ্যায়’, ‘লাবো কো লাবো সে’, ‘আই অ্যাম ইন লাভ’। এসব গান মুখে মুখে ঘোরে নাইন্টিজের ছেলেমেয়েদের কলেজ জীবনে। সারা দেশে সাড়া পড়ে যেত কেকে-র প্রায় প্রতিটি গানেই।

কিন্তু তাঁর গান কখনও পুরস্কারের দৌড়ে এগিয়ে থাকেনি। কুড়ি বছরেরও বেশি দীর্ঘ সঙ্গীত কেরিয়ারে অজস্র হিট গান গেয়েও তাঁর ভাগ্যে জুটেছে মাত্র দু’তিনটি বড় পুরস্কার। মুম্বইয়ের সবথেকে বড় পুরস্কার ফিল্মফেয়ারে কেকে-র নাম বারবার মনোনয়নে থাকা সত্ত্বেও আসেনি পুরস্কার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্টার হিরোদের লিপে থাকা অন্য গায়কদের গান বেশী হাইপ পাওয়ায় কেকে পুরস্কার থেকে বঞ্চিতই হয়েছেন। এমন এক শিল্পীর একবারও ফিল্মফেয়ার না পাওয়া বঞ্চনা বৈকী!

এর আগেও বলিউডের এই বঞ্চনা নিয়ে একাধিকবার মুখ খুলেছেন সোনু নিগম, কুমার শানু, অভিজিৎ প্রমুখ। তাঁদের কথায় উঠে এসেছে, কীভাবে মাফিয়া রাজ চলে বলিউডে। জি বা টি সিরিজের মতো কোম্পানি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করে সবটা, যার শিকার কেকে নিজেও। বলা যায়, বলিউডে নেপোটিজমের শিকার হয়েছিলেন কেকে। তাই পুরস্কার মঞ্চে তাঁর দেখা মিলেছে কম। তবু শ্রোতাদের কাছে উজ্জ্বলতম স্থানটি চিরকাল পেয়ে এসেছেন কেকে। মুম্বই, দিল্লি থেকে কলকাতা– সব দশকের নতুন প্রজন্মের কাছে প্রিয় নাম হয়ে থেকে গেছেন কেকে।

ভিড়ের চাপ, তীব্র গরম, এসি বন্ধ, রাসায়নিক স্প্রে! কেকে-র মৃত্যুতে উদ্যোক্তাদের ত্রুটি নিয়ে সরব সকলে

সম্প্রতি বেশ কিছু বছর বলিউড যেন ব্রাত্য করে দিয়েছিল কেকে-কে। স্বমহিমায় প্লেব্যাকে তাঁকে পাওয়া যায়নি বহুদিন। অথচ তাঁর প্রশংসা করেছেন কুমার শানু, তাঁকেই আইডল মানেন অরিজিৎ সিং। নতুন গায়কদের ভিড়ে কেকে যেন সুযোগ কম পাচ্ছিলেন। আরও একটি বড় কারণ অবশ্যি বলিউডে সুরকার ও গীতিকারের মান ক্ষয়িষ্ণু হয়ে আসা। ফলে উৎকৃষ্ট গান তৈরিই হচ্ছে না। সেই কারণেও আগের দশকের গায়কদের গান কমে এসেছে। তবু এ কথা অস্বীকার করা যায় না, কেকে-র প্রতি বলিউড অবিচার করেছে। তবে কেকে-র প্রতিভা অস্বীকার করতে পারেনি বলিউড। তাই কেকে উন্মাদনা আজও অটুট।

তবে পুরস্কার না পাওয়া নিয়ে কখনও ক্ষোভ উগরে দেননি কেকে! বরং বলেছেন, তাঁর কাছে গানটাই সব। তাঁর নিজের পরিচিতি চাই না, তাঁর কণ্ঠ পরিচিতি পাক। তাই বাস্তব জীবনে কেকে রয়ে গেছেন ভীষণ ডাউন টু আর্থ। মঞ্চে যে তিনি সঙ্গীতের ঈশ্বর, তা সামনাসামনি তাঁকে দেখলে বোঝার উপায় নেই। ফিল্মি পার্টির ভিড়েও বিশেষ দেখা মেলেনি তাঁর। কেকে সেই শিল্পী, যাঁর নামে কোনওদিন স্ক্যান্ডেলের কাদা গায়ে লাগেনি। বলিউডের অলিগলিতে না হেঁটে সোজা রাস্তায় সততার পথে কেকে মাথা উঁচু করে হেঁটেছেন। বছরে দু’তিনটে গান গেয়ে সে গানে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। বলেছেন, নাই বা জুটল পুরস্কার, শ্রোতাদের এই অকুণ্ঠ ভালবাসা কম কীসে।

তাঁর নাম, খ্যাতি, বাড়ি, গাড়ি সবটাই তো এই গানের জন্যই। এক অনামী, অচেনা ছেলে বাণিজ্য নগরীতে এসে এই শীর্ষস্থানে উঠে আসেন শুধু গানের জোরেই। যদিও প্লে ব্যাকের থেকে পাবলিক ফাংশনে তাঁর রোজগার হয়েছে অনেক বেশী। কারণ জনতাই জনার্দন, তারাই শিল্পীকে বাঁচিয়ে রাখে। সেই জনতার মঞ্চেই কেকে-র পারফরমেন্সের শেষ অধ্যায় রচিত হল। তাঁর পারফরমেন্সের শেষ সাক্ষী হল কলকাতা। প্রিয় কালো টিশার্ট ও জিন্স পরে, নজরুল মঞ্চকে মাতিয়ে, কয়েক হাজার অশান্ত যুব হৃদয়কে শান্তিতে ভরিয়ে, তিনি এখন চিরশান্তির ঘুমে।

এ মৃত্যু স্বাভাবিক কিনা, অতিরিক্ত কোনও চাপ ছিল কিনা– এসব নিয়ে রয়েছে অনেক ধোঁয়াশা। তাঁর পরিবার মানতে পারেনি এ মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে। তাঁর অকাল মৃত্যুতে দু’চোখের পাতা এক করতে পারেনি তিলোত্তমা কলকাতাও। সকলেরই কানে যেন বাজছে, ‘আলবিদা আলবিদা, অব ক্যাহেনা অউর কেয়া, জব তুনে ক্যাহে দিয়া আলবিদা।’

মঞ্চে গান গাইতে গাইতে শ্রোতাদের কাছে নিজেকে যেন এভাবেই সমর্পণ করে গেলেন সার্থক শিল্পী কেকে। তাঁর প্রস্থানে সত্য হয়ে ওঠে বেদনাতুর সে গান–

‘শ্রোতারা উজাড় করে দিল উপহার
দিল না সময় শুধু নিতে বিশ্রাম,
ক্লান্তির ক্ষমা নেই ওদের কাছে
আরও বেশি দিতে হবে বুঝে নিল মন।

শিল্পের জন্য শিল্পী শুধু
এছাড়া নেই যে তার অন্য জীবন।’

প্রচণ্ড গরমই কি প্রাণ কাড়ল? হিট স্ট্রোকের চেয়েও বড় ভয় হার্ট অ্যাটাক

You might also like