Latest News

মোবাইল ফোনে আস্ত ওয়েব সিরিজ শ্যুট! হইচই ফেলে দিয়েছে ‘সেভেন্থ’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতবর্ষে প্রথম মোবাইল ফোনে ছবি শ্যুট করে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছেন পরিচালক অর্ণব রিঙ্গো বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু বাংলায় নয় মুম্বই এমনকি দক্ষিণ ভারতেও এই খবরে বিনোদন জগতে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তাঁর চতুর্থতম ওয়েব সিরিজ ‘সেভেন্থ’ (Seventh Web Series )মোবাইল ফোনে শ্যুট করা হয়েছে যা আকাশ আটের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘প্ল্যাটফর্ম এইট’-এ ৭ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে। তার আগে পরিচালক অর্ণব রিঙ্গো বন্দোপাধ্যায় দ্য ওয়াল-এর মুখোমুখি হলেন। এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার দিলেন দ্য ওয়ালের নিজস্ব প্রতিনিধি চৈতালি দত্তকে ।

৭ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে আপনার চতুর্থতম ওয়েব সিরিজ ‘সেভেনথ’ । এই সিরিজকে ঘিরে উন্মাদনার পারদ এখন তুঙ্গে। কারণ এই প্রথম একটি ওয়েব সিরিজ মোবাইল ফোনে শ্যুট করা হয়েছে। সে সম্পর্কে যদি কিছু বলেন-

হ্যাঁ,মোবাইল ফোনে পুরো ওয়েব সিরিজ ২২ থেকে ২৪ দিনের শিডিউলে শ্যুটিং হয়েছে। প্রথম থেকেই সকলের একটা আশঙ্কা ছিল এই ভেবে যে মোবাইল ফোনে একটা গোটা ছবি তৈরি করা সেটা অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয়। এক্ষেত্রে আমি একটা বড় কথা বলছি, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে এটাই কিন্তু ভবিষ্যৎ হতে চলেছে। এই মোবাইল ফোনেই সিনেমা, সিরিজের শ্যুটিং হবে। এটা হবেই হবে যা আমি জোর দিয়ে বলতে পারি। এক্ষেত্রে মোবাইলে ‘পয়েন্ট’ করে ছবি তুললেই কিন্তু হবে না। এর টেকনিক শিখতে হবে। এর কিছু সফটওয়্যার আছে যা মোবাইলে লাগাতে হয়।

Image - মোবাইল ফোনে আস্ত ওয়েব সিরিজ শ্যুট! হইচই ফেলে দিয়েছে 'সেভেন্থ'

যখন মোবাইলে ছবির এডিটিং হবে এবং কিভাবে, কতটা, কোন্ জায়গায় থামতে বা জুড়তে হবে অথবা কাটতে হবে সেটা শিখতে হবে । এই নিয়েই কিন্তু ছয় থেকে আট মাস ধরে আমি বিস্তর পড়াশোনা করেছি। আমার বিদেশে যাঁরা বন্ধুরা থাকেন এবং এই পেশায় যুক্ত রয়েছেন তাঁদের সঙ্গে বসে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা করে প্রচুর তথ্য পেয়েছি। ওয়েব সিরিজ পুরোটা তৈরি করার পর পরীক্ষা করার জন্য থিয়েটারে অর্থাৎ আমি আইনক্সে যখন নিজে সেটা দেখি অবাক হয়ে যাই। মোবাইল ফোনে আমি যেটা পাচ্ছি আমার আর বড় ক্যামেরার দরকার পড়বে না । এটাও বলছি আমি যে স্যামসাং গ্যালাক্সি ‘ এস ২২ আলট্রা’ মোবাইলে শ্যুটিং করেছি সেটা অন্য কোনও কোম্পানির ফোনে সম্ভব নয়।

‘গ্রিন ডিশ’ ভালবাসেন? কলকাতার এই রেস্তরাঁয় সাজানো রয়েছে এক্সক্লুসিভ গ্রিন মেনু

সমগ্র পৃথিবীতে এখন এই একটাই ফোন আছে যাতে সিনেমা, সিরিজ শ্যুটিং করা সম্ভব। হয়তো এর থেকে অনেক নামি দামি কোম্পানির ফোন বাজারে আছে যা নিয়ে প্রচুর আমি পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছি । আমার বিদেশি বন্ধু-বান্ধরাও আছেন এই পেশাতে তাঁরাও অন্য কোম্পানির ফোনে প্রচুর গবেষণা করেছেন কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি । সারা পৃথিবীর নামজাদা তাবড় তাবড় কোম্পানির ন’টা ফোনে প্রথম আমার পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু হয়। কিন্তু কোনটাই কার্যকরী হয় নি । সিনেমার জন্য যে ক্যামেরার প্রয়োজন তার দাম চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা। কিন্তু তার থেকে অনেকটাই কম দামে এই মোবাইল ফোনে কাজটা হয়ে যাচ্ছে। মোবাইল ফোনে শ্যুট করার একটা পদ্ধতি রয়েছে। আমি প্রথমে ফোনে শ্যুট করে তারপর আইপ্যাডে সেটাকে লোড করে ‘রাস’ দেখেছি। এরপর আমার স্টুডিওতে গিয়ে ফাইনাল কাট এবং এডিট করে পুরো জিনিসটা তৈরি হয়েছে। এরপর ছবিটা পরীক্ষা করার জন্য আইনক্সের পর্দায় ফেলে দেখেছি আমি বিস্মিত হয়েছি। কোনও বোঝার উপায় নেই যে এটি মোবাইলে শ্যুট করা ছবি। আমার মনে হয় যাঁরা তরুণ পরিচালক আছেন তাঁদের কাছে ভালো গল্প থাকা সত্ত্বেও কোনও ইনভেস্টার পান না তাঁদের জন্য কিন্তু এই পদ্ধতি তে ছবি তৈরি করা খুবই শ্রেয়। আমি জানি যাঁরা কোটি কোটি টাকা ক্যামেরা,লেন্সে লগ্নি করেন তাঁরা কখনও এই পদ্ধতিকে সমর্থন করবেন না ।

Image - মোবাইল ফোনে আস্ত ওয়েব সিরিজ শ্যুট! হইচই ফেলে দিয়েছে 'সেভেন্থ'

প্রযোজক চাইবেন যে বড় পর্দায় তাঁর ছবি দেখতে ভাল এবং ছবির গুনগত মান যেন উন্নত হয়। কম টাকা লগ্নি করে যদি তার থেকে মুনাফা পাওয়া যায় সেটাতেই প্রযোজক এগিয়ে যাবেন বলে আমার ধারণা। প্রযোজককেরা কিন্তু ব্যবসা করতে এসেছেন এটাই নিয়ম। আমি কিন্তু লোক দেখাতে আসেনি যে আমি কত বড় দামি ক্যামেরায় কাজ করছি। আজকাল প্রযোজককেরা টাকা লগ্নি করতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ টাকা ফেরত সেইভাবে কিন্তু তাঁরা পান না । সিনেমা তৈরি করতে যেমন খরচ মার্কেটিং করতেও কিন্তু তেমন খরচ। ফলে সবকিছু মিলিয়ে পুরো টাকা তোলা কিন্তু খুব কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এইভাবে যদি ‘কস্ট প্রোডাকশন’ কমানো যায় সে ক্ষেত্রে তো লাভের মুখ অবশ্যই দেখা যাবে। আজ সমগ্র ভারতবর্ষে সিনেমা হলে মানুষ যাবেন ,ছবি দেখবেন বা প্রযোজকরা সত্যি ছবি থেকে লাভের মুখ দেখবেন। একমাত্র সেটাই সম্ভব যদি খুব ভালো কনটেন্ট হয় এবং’ কসট প্রোডাকশন’ কে কমানো যায়।

এই সিরিজের ইউএসপি মোবাইল ফোনে শ্যুট করা ছাড়াও আর কী কী আছে?

ভারতবর্ষের সাতটি জায়গায় এই সিরিজের শ্যুটিং হয়েছে । আমি বেনারস, সিমলিপাল জঙ্গল, বাঁকুড়ার জয়পুর জঙ্গল, বগুরান জলপাই, আসানসোল হাইওয়ে, নর্থ বেঙ্গল, কলকাতার পোড়ো বাড়িতে শ্যুটিং করেছি।

Image - মোবাইল ফোনে আস্ত ওয়েব সিরিজ শ্যুট! হইচই ফেলে দিয়েছে 'সেভেন্থ'

শ্যুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

খুবই রোমাঞ্চকর। বাঁকুড়া জয়পুর জঙ্গলের মাঝে ৮ কিলোমিটারের একটা লুকানো রানওয়ে আছে। না দেখলে বিশ্বাসই হয় না। বিশ্বযুদ্ধের সময় এখানে এয়ারপ্লেন নামত। এটা এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আমার ছবির ফুটেজ দেখে আমার এক বন্ধু তামিল ইন্ডাস্ট্রিকে সেই খবর দেন ।’ পুষ্পা ২ ‘ ছবির শ্যুটিং আগামী দিনে এখানেই হতে চলেছে। ফলে এই জায়গার সন্ধান আমি ওয়েব সিরিজের শ্যুটিং করতে গিয়েই পেয়েছি ।

বগুরান জলপাই এটি হল জনশূন্যহীন পরিত্যক্ত একটা সমুদ্র তট। যখন প্যারানর্মাল ছবি তৈরি করতে গেছি তখন এই ধরনের লোকেশন ভীষণই প্রয়োজন। এমন জায়গায় শ্যুটিং হয়েছে যেখানে হিংস্র প্রাণী,পশু পক্ষী রা যেতে ভয় পায় । নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে শ্যুটিং করেছি । ডুয়ার্স জঙ্গলের মধ্যে দেড়শ বছরের পুরনো একটা ভৌতিক কাঠের বাংলো আছে । সেখানে শ্যুটিং হয়েছে। এই জায়গাগুলো খুঁজে বের করে দুমাস রেইকি করতে সময় লেগেছে । এর পেছনে অবশ্যই একটা কারণ আছে। আমরা নেটফ্লিক্স এবং অ্যামাজনে যে ধরনের ছবি দেখি আমি যদি সেই ধরনের কোয়ালিটি দিতে না পারি মানুষ বলবেন ধূর ,এই ওয়েব সিরিজ কেন দেখব ? আকাশ আটের নতুন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘প্লাটফর্ম এইট ‘ যার পসার ওদের মতো নয় ।

এটা একেবারে নতুন প্লাটফর্ম। ফলে একজন চিত্র পরিচালক হিসেবে আমার একটা বিরাট দায়িত্ব ছিল যে ‘হইচই,’ ‘নেটফ্লিক্স’ এর যাঁরা দর্শক তাঁরা যেন সেই সমতুল্য গুণগত মানসম্পন্ন ছবি দেখতে পান। যেহেতু মোবাইলে পুরো ছবির শ্যুটিং করেছি তাই আমার অপশনস অনেক বেড়ে গেছিল। বেনারসে শ্যুটিং করতে গেছি । ওই গঙ্গা আরতির মধ্যে হাজার হাজার লোকের ভিড়ে আমি দুজন অভিনেতাকে নিয়ে এত সুন্দর ভাবে শ্যুটিং করেছি যে একটা মানুষও বুঝতে পারিনি ছবির শ্যুটিং চলছে। এটা বিরাট ব্যাপার। প্যারা নর্মাল অ্যান্থোলজি ওয়েব সিরিজ যা এই প্রথমবার বাংলায় আগে কেউ তৈরি করেন নি ।ওয়েব সিরিজের ভাষা বাংলা হলেও একটি গল্প আছে সেটি নির্বাক। এটা বেনারসের প্রেক্ষাপটের গল্প। গল্পের নাম ‘মিরর মিরর’।

ওয়েব সিরিজের নাম ‘সেভেন্থ’ কেন? এটা কি সাতটা গল্প নিয়ে একটা সিরিজ?

একদমই ঠিকই ধরেছেন। এটি সাতটি আলাদা গল্প নিয়ে একটা সিরিজ। আর এই সাতটি গল্প অস্বভাবী । সত্যজিৎ রায়ের ছোট গল্প পড়ে আমাদের বড় হয়ে ওঠা। সেখানে অনেক এ ধরনের প্যারানর্মাল গল্প ছিল। কোনোটা গাছ আবার কোনোটা অর্কিড ইত্যাদি । এই জাতীয় গল্পের প্রতিটিতে একটা প্যারানর্মাল গল্প ছিল । ছবি পরিচালনা এবং ফটোগ্রাফি করা যখন থেকে শুরু করি মনের কোনায় সুপ্ত বাসনা ছিল যদি ওই ধরনের ছোট গল্প নিয়ে কোনদিন আমি ছবি করতে পারি। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। আর টেলিভিশনে সেই ধরনের স্লট পাওয়া যায় না । কিন্তু এই ওয়েব সিরিজ করার সময় আমার মনে হয়েছে ওই জাতীয় ছোট গল্প এক্ষেত্রে ফিট করানো যেতে পারে।

ওটিটিতে সেই একটা সুবিধা হয়েছে। সাতটা পর্বের সাতটা ছোট গল্প যা প্যারানর্মাল। প্রথম থেকে মনস্থির করেছিলাম যে এই সাতটা গল্প ভারতবর্ষের সাতটা কোণায় শ্যুট হবে। জঙ্গল, সমুদ্র, পাহাড় , মরুভূমি, শহর এবং পোড়ো বাড়িতে শ্যুটিং হয়েছে । কলকাতায় আকর্ষণীয় প্যাকেজ করে বিদেশি ছন্দে লেখা ছোট গল্পের উপর ভিত্তি করে ভৌতিক গল্প নিয়ে ওয়েব সিরিজ তৈরি হয়নি। আর এই সিরিজটা করার আগে ছ’ থেকে সাত মাস আমাকে এবং পুরো টিমকে রিসার্চের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। ওয়েব সিরিজের কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ আমার নিজের লেখা। ২০০৪ সালে যখন ‘ক্রান্তি’ সিনেমা আমি তৈরি করেছিলাম ওটা কিন্তু ডিজিটালে শ্যুটিং হয়েছিল। যা বাংলায় প্রথম সিনেমা ছিল । সেই সময় রিলে সিনেমার শ্যুটিং হতো। কিন্তু আমি একটা ভিডিও ক্যামেরায় ওই ছবির শ্যুট করেছিলাম।

সাতটা পর্বে সাতটা আলাদা আলাদা গল্পের নাম কী?

অ্যাডাপশন, স্ট্রেনজার , মিরর মিরর, টয়েজ, টস, ব্ল্যাক ক্যাকটাস, হেড পডস। অ্যাডাপশনের শ্যুটিং হয়েছে নর্থ বেঙ্গল এর ডুয়ার্স জঙ্গলের ভৌতিক বাড়িতে। স্ট্রেঞ্জারের শ্যুটিং হয়েছে বগুরান জলপাই আর শিমলি পালে। কলকাতা ভৌতিক বাড়িতে টয়েজ, ব্ল্যাক ক্যাকটাস বাঁকুড়া জয়পুর জঙ্গলে, টস আসানসোলের ন্যাশনাল হাইওয়ে, হেড পডসের শ্যুটিং হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার লোকেশন ছাড়াও শ্যামবাজারে।

একটা গল্পের সঙ্গে আরেকটা গল্পের কি কোনও যোগসূত্র আছে?

প্রত্যেকটা গল্পের’ প্রপস’অন্য গল্পে নানাভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। আর প্রতিটা গল্পে এই প্রপস সেন্ট্রাল রোল প্লে করে।

আপনার ছবি মানে কালার প্যালেটের একটা বিরাট ভূমিকা থাকে-

ধন্যবাদ। এবারে একেবারে অন্যরকম কালার প্যালেট দিয়েছি । বেনারসের গল্পে জয় বাবা ফেলুনাথ ছবির যেখানে শ্যুটিং হয়েছিল ঠিক ওইখানেই আমরা শ্যুট করেছি। সোনার কেল্লায় যে কালার টোন রয়েছে এবং যে পরিবেশে শ্যুট করেছি ওই টোন আমি তুলে ধরেছি। সাতটা গল্পে আট রকমের টোন রয়েছে। যা লোকেশন এবং ছবির গল্পের উপর নির্ভর করে করা হয়েছে। ‘টয়েজ ‘গল্প পুরোটাই লণ্ঠনের আলোতে আমি শ্যুটিং করেছি। এক্ষেত্রে কোনও আলোর ব্যবহার হয়নি। এটাই তো’ বিউটি অফ মোবাইল ফোন’। মুম্বই থেকে যাঁরা আমার এই ওয়েব সিরিজ দেখতে এসেছিলেন তাঁরা বিস্মিত হয়েছেন । ওঁরা কেউ বিশ্বাসই করেননি এটা মোবাইলে তোলা ছবি।

ওয়েব সিরিজের প্রযোজনা কার?

রিং আ বেল ফিল্মস এবং ঐন্দ্রিলা বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর এবং সম্পাদনা আমার । প্রচুর অভিনেতা অভিনেতারা অভিনয় করেছেন এই ওয়েব সিরিজে। শিল্পীরা হলেন হানি বাফনা, রায়তি ভট্টাচার্য ,যুধাজিৎ সরকার, অনিন্দ্য সরকার, অনিন্দ্য বোস ,শ্রেয়া ভট্টাচার্য, অনিরুদ্ধ গুপ্ত ,সান্ধ্যব চৌধুরী ,জয় বন্দ্যোপাধ্যায়, উদয় শঙ্কর পাল, প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় , আর জে সায়ন ঘোষ, অভিজিৎ সেনগুপ্ত( মুম্বই )। এছাড়াও স্ট্রেঞ্জার গল্পে নবাগতা ডিম্পল আচার্যকে দেখা যাবে ।

You might also like