Latest News

ঘুমের মধ্যে আজও আসেন বাবা, শাসন করেন, ভালবাসেন: ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফাদার্স ডে-তে বাবাকে নিয়ে বিশেষ অভিজ্ঞতা বা স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন বহু তারকা। কারও স্মৃতি খুশিতে উচ্ছল, কারও বা বেদনাবিধুর। তেমনই স্মৃতি রয়েছে টলি অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তরও (Rituparna Sengupta)।

দ্য ওয়ালকে তিনি জানালেন, তাঁর বাবা প্রবীর কুমার সেনগুপ্ত চলে গেছেন বেশ কয়েক বছর আগে। তবু আজও তিনি নায়িকার অভিভাবক। তাঁর কাছে অবশ্য ঋতুপর্ণা নায়িকা নন, শাসনে-আদরে বেঁধে রাখা কন্যারত্ন। ঋতু জানালেন, আজও তাঁর ঘুমের মধ্যে তিনি বাবার স্পর্শ পান, শুনতে পান বাবার বলে যাওয়া কথা। বাবা আজও তাঁকে শাসন করেন, ভালবাসা দেন।

Image - ঘুমের মধ্যে আজও আসেন বাবা, শাসন করেন, ভালবাসেন: ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত
বাবা, মা, ভাইয়ের সঙ্গে।

ঋতুপর্ণার কথায়, “বাবা কোনও দিন শাসন ছাড়া রাখেননি আমায়।” এমনকি ঋতুর যখন বিয়ে হল, বিয়ের পরে তিনি যখন শ্বশুরবাড়ি গেলেন, তখনও ঋতুর বাবা তাঁর শাশুড়িকে কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, ‘আপনি কিন্তু শাসন করবেন। ও কিন্তু আপনার বাড়ির মেয়ে, কন্যাসম পুত্রবধূ। স্টার নয়।’

বাবার দারুণ রসবোধ ছিল বলেও মনে পড়ে ঋতুপর্ণার। আর ছিল বিরাট এক মন। আজ বাবা চলে গেছেন তারার দেশে। রেখে গেছেন একরাশ স্মৃতি। শাসনে জড়ানো মেয়ের মনে সেই স্মৃতিরা আজও জীবন্ত। অনুভূতিতে পূর্ণ। আজকের বিশেষ দিবসে বাবার এসব কথাই তাই মনে পড়ে ঋতুপর্ণার।

তিনি বলেন, “আমার কাজে প্রথম দিকে বাবার উৎসাহ ছিল না। বলতেন এখন পড়াশোনা করছে, এখন কী সিনেমা করবে। বহু প্রোডিউসারকে ফিরিয়ে দিয়েছেন বাবা। তবে শেষমেশ আমার ভাগ্য আমায় এই জায়গায় নিয়ে আসে। বাবা বলতেন, তাঁর খুব একটা ইচ্ছে নেই এসবে। তাই সব জায়গায় বাবা যেতেন আমার সঙ্গে। একবার তো উটিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তার পরে মেজো পিসি গেলেন সেখানে, বাবা ফিরলেন বাড়ি। এতটাই প্রোটেক্টিভ ছিলেন বাবা। স্টুডিও থেকে বাড়ি ফেরা ২০ মিনিটের পথ, সে পথে যদি ৩৫ মিনিট লাগত, বাবা প্রশ্ন করতেন, কোথায় গেছিলাম, কী করছি, কার সঙ্গে কথা বললাম। বাবার সেই স্পর্শটা মিস করি।”

বাবা, মা, ঠাকুমার সঙ্গে।

শেষের দিকে বাবা অপেক্ষা করতেন, ঋতুপর্ণা কখন ফিরবেন শ্যুটিং থেকে। কোথাও যাওয়ার থাকলে প্লেনে ওঠার সময়ে আর নামার সময়ে বাবার ফোন আসতই ঋতুর মোবাইলে। এখন আর আসে না, আক্ষেপ অভিনেত্রীর। মাও অপেক্ষা করেন, তবে তা বাবার মতো নিখুঁত ভাবে ঘড়ির কাঁটা বেঁধে নয়।

ঋতু বললেন, “পুরস্কার পেলে বাবা খুব খুশি হতেন। বলতেন, জীবনে সবই প্রয়োজন। ব্যালেন্স করতে হবে। কিছু কথা রাখতে পেরেছি, সব পারিনি। অনেক ইচ্ছে পূরণ করতে পারিনি। পরের জন্মে যেন এমনই একজন বাবা পাই, যাঁর সব ইচ্ছে আমি পূরণ করতে পারব।

বাবা বদরাগি, বন্ধুও, টুকরো টুকরো ছবিতে সোশ্যাল ওয়ালে ‘ফাদার্স ডে’

You might also like