Latest News

রাতারগুলে নৌকোবিহারে মিথিলা, কোথায় এই বনভূমি, কেমন সেই সোয়াম্প ফরেস্ট?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতায় লকডাইন চলছে। মানুষ বাড়ি থেকে বেরনোরই সাহস পাচ্ছে না। বেড়াতে যাওয়া তো দূরের কথা। এমন সময়ে কেউ বেড়ানোর ছবি পোস্ট করলে ঈর্ষা হওয়ারই কথা।

হয়তো হলও তাই। শনিবাসরীয় সন্ধ্যায় টুইটারে চারটে ছবি পোস্ট করেছেন মিথিলা। সে ছবিতে সৃজিতের দেখা নেই। শুধু মেয়ে রয়েছে সঙ্গে। চারিদিকে চোখ জুড়োনো সবুজ। আর তার মাঝে এক চিলতে ব্যাক ওয়াটারের মতো জল পথ। ডিঙি নৌকোয় চেপে তাতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মিথিলা।

টুইটে মিথিলা লিখেছেন এটা রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট। সেটা কোথায়? দেখা যাক খোঁজ করে।

রাতারগুল বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট। মানে যে বনভূমি জলমগ্ন। ৩০ হাজার একরেরও বেশি জায়গা জুড়ে রয়েছে এই বনাঞ্চল। একে অনেকে সিলেটের সুন্দরবন বলেন। কেউ বা বলেন বাংলাদেশের আমাজন। সিলেটের স্থানীয় ভাষায় মুর্তা বা পাটি গাছকে রাতা বলে। সেই থেকে এই বনভূমির নাম রাতারগুল। বনের মাটিতে কাদাজলের মিশেল। কোনও কোনও জায়গা ভয়ানক পিচ্ছিল। কোথাও আবার প্রায় হাঁটু সমান কাদা। হিজল-করচের তলায় বেতগাছের পাতায় পাতায় আলো-ছায়ার খেলা। মোহনীয় এক দৃশ্য। হিজল আর করচগাছগুলোর মধ্যে কোনও কোনওটা বেশ বয়সি। বয়সের ভারে ন্যুব্জ কিন্তু আলোর পিয়াসে উদ্বাহু। সিলেট জেলা শহর প্রায় ২৬-২৭ কিলোমিটার দূরে গোয়াইহাট উপজেলার মধ্যে পড়ে রাতারগুল। সারা বছর এখানে গাছগুলো প্রায় ১০ ফুট জলের নিচে থাকে। বর্ষার সময়ে তা বেড়ে হয় বিশ থেকে ত্রিশ ফুট। আবার শীতকালে এই রাতারগুলেই মেলা বসে যায় হাজারো পরিযায়ী পাখির।


রাতারগুল বছরে কোন সময়ে যাওয়া ভাল

সিলেটের অনেকেই বলেন রাতারগুলের রূপ খুলে যায় বর্ষাকালে। সে সময়ে চোখ জুড়োনো ভেজা সবুজে যেন স্বর্গীয় ব্যাপার তৈরি হয়। মেঘলা দিনে সবুজে ঢাকা এই বনভূমি তখন শুধু মনোরম নয় মায়াবীও বটে।

কীভাবে যাওয়া যায়?

সিলেট শহর থেকে রাতারগুল যেতে গেলে আম্বরখানা পয়েন্টে যেতে হবে। সেখানে থেকে সিএনজি অটোতে চড়ে পৌঁছে যাওয়া যাবে রাতারগুলে। তার পর মাঝের ঘাট আর চৌরঙ্গীর ঘাট থেকে নৌকো পাওয়া যাবে রাতারগুল ঘুরে দেখার জন্য। মরশুম ও সময়ের হেরফেরে মোটামুটি ভাবে ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা ভাড়া পড়ে একেকটি নৌকোর।

You might also like