Latest News

দশকর্মা ভাণ্ডারের খাঁড়া দিয়ে দুষ্টের দমন নোয়ার, হাসির রোল দর্শকদের

শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

‘দেশের মাটি’ সিরিয়ালে বহু বিপর্যয়, বহু ভুল বোঝাবুঝির পর সদ্য বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে রাজা ও মাম্পির। কিন্তু বিয়ে মিটতে না মিটতেই রাজা-মাম্পির ফুলশয্যার দিন বিপর্যয় নেমে এল কিয়ান-নোয়ার জীবনে। সেই রাতেই কিয়ানের অসহ্য পেটে যন্ত্রণা আর শরীরে অস্বস্তি। শেষমেষ কিয়ানকে কেউ খাবারে বিষ মিশিয়ে দিয়েছে এটাই অনুমান করা হল এবং কিয়ানকে স্বরূপনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।নোয়া নিজের মতো তদন্ত করে বার করে তাঁর স্বামীর অবস্থার জন্য দায়ী স্বরূপনগরের ত্রাস শিবু দাস। পুলিশ, আইন-আদালত এসবের তোয়াক্কা না করে নোয়া সোজা চলে যায় মা কালীর মন্দিরে। না লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের চিত্রনাট্যের চিরাচরিত প্লটের মতো মন্দিরে গান গেয়ে স্বামীর প্রাণ ফেরানো নয়, নোয়া নিজেই মন্দির থেকে মা কালীর হাতের অপলকা খাঁড়া নিয়ে চলে যায় শিবু দাসের বাড়ি।শিবু দাস যখন বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় তখনই নোয়া মা কালীর খাঁড়ার কোপে খুন করে ফেলার চেষ্টা করে শিবু দাসকে। নিস্তেজ হয়ে যায় শিবু দাস এবং নোয়া মা কালীর মতো অট্টহাস্য হেসে বলতে থাকে সে জয়ী, এবার আর কোনও ভয় নেই স্বরূপনগরের মানুষের। যে শিবু দাস নোয়াকে গুলি করে মেরে ফেলার চেষ্টা করে, সেই নোয়ার স্বামী কিয়ানকে বিষ মেশানো খাবার খাইয়ে মারতে চায়। তাই আইনের ঊর্ধে গিয়ে নোয়ার নিজের কাছে সঠিক মনে হয়েছে শিবু দাসকে খুন করে ফেলাই একমাত্র পথ। তাতে যে শাস্তি মঞ্জুর হবে নোয়া মাথা পেতে নেবে।

আর সিরিয়ালের এ ধরনের গল্পের বুনোটে বেজায় চটেছে দর্শক। কোথায় দর্শক নোয়ার জয়ধ্বনি করবে তা নয় দর্শকের হাসির রোলের শিকার নোয়া চরিত্রের অভিনেত্রী শ্রুতি দাস। লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের কলমকেও বস্তাপচা যাত্রাপালা কলম বলে মন্তব্য করেছেন নেটিজেনরা।আরো হাস্যকর প্লট কিয়ান যখন মরণাপন্ন, সারা শরীরে বিষ ছড়িয়ে পড়ছে তখন সমগ্র পরিবার বসে বসে গল্প করছে কথা কাটাকাটি করে। যা চলল কয়েক এপিসোড পর। কিয়ানকে হাসপাতালে নিয়ে যাবার তাড়া নেই কারুর মধ্যে।

‘দেশের মাটি’ সিরিয়াল শুরু হয়েছিল নোয়া-কিয়ানকে কেন্দ্র করেই। শ্রুতি দাস ও দিব্যজ্যোতি দত্ত ছিলেন লিড রোলে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে গল্পে মুখ্য হয়ে ওঠে রাজা-মাম্পি। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় ও রুকমা রায়ের ট্র্যাক দর্শকের বেশি পছন্দের হয়ে ওঠে। তাঁরাই দর্শকের ভালোবাসায় এগিয়ে আসেন টিআরপি বাড়াতে। যদিও ‘দেশের মাটি’ একটি পারিবারিক গল্পের সিরিয়াল তাই প্রধান চরিত্র হল পরিবার। দর্শক চটেছে অযৌক্তিক দৃশ্য সিরিয়ালে অবতারণা করায়। আমরা সবাই জানি মন্দির বা ক্লাবের পুজোতে মা কালীর হাতে যে খাঁড়া থাকে সেটা প্লাস্টিকের বা হালকা টিনের। সেটা দিয়ে মানুষ খুন কি একটা মশাও মারা যায়না। সেই দর্শকর্মা ভান্ডারের খাঁড়া দিয়ে নোয়া শিবু দাসকে কুপিয়ে খুন করায় হাসির ফোয়ারা ছোটাচ্ছে দর্শক মহলে।এমন দেখানো হত যদি খাঁড়াটি খুব শক্তপোক্ত শান দেওয়া তাহলেও বাস্তবসম্মত হত। কিন্তু একটা দশর্কমা ভাণ্ডারের মামুলি খাঁড়া দিয়ে মানুষ খুন যা অতি হাস্যকর হয়ে উঠেছে।দর্শকদের আরও মত, নোয়াকে এভাবে জেলে পাঠানোর মানে কী? পুলিশ অফিসার এস পি সাহেবকে দিয়েই তো শিবু দাসকে গ্রেফতার করানো যেত। এমন একটা মিনি মহালয়া দৃশ্য অবতারণা করে লোক হাসানোর দরকার কি ছিল?নোয়ার জেল হল কিন্তু রাজাকে যে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল কৃপা বসু ফেক চরিত্রটি এনে সেই অপরাধে চাঁদু ও তাঁর স্ত্রীর কোন শাস্তি হলনা।

এরকম প্রতি কটা খাপছাড়া প্লট দর্শক দেখে বীতশ্রদ্ধ।
লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের বস্তাপচা প্লট আরও একটি, কেউ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়লে ঠাকুরের কাছে গান গেয়ে তাঁকে ফিরিয়ে আনছে নায়িকা। সেই ‘শ্রীময়ী’ থেকে ‘ইচ্ছেনদী’ হয়ে ‘দেশের মাটি’- একই বহুচর্চিত প্লট। ঠিক যেভাবে মাম্পি গান গেয়ে রাজার জীবন বাঁচিয়েছিল।কিন্তু নতুন কিছু প্লট আনতে গিয়ে আরো ধরাশায়ী হল লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের আইডিয়া। আর ধর তক্তা মার পেরেক করতে গিয়ে ঠুনকো খাঁড়া ব্যবহার করা হল এবং তা যে কতটা হাসির উদ্রেক করেছে দর্শকের তা নেটপাড়া ঘুরলেই মালুম হয়।

সবথেকে বড় বিষয়, পারিবারিক গল্পে এত ভায়োলেন্স কেন? একটা খুনের পরিবর্তে আরেকটা খুন। তাও কী শিশুসুলভ বুদ্ধিতে!

দশকর্মা ভাণ্ডারের খাঁড়া কোপ দিল ‘দেশের মাটি’র জনপ্রিয়তায়।

You might also like