Latest News

মহুয়ার চরিত্র থেকে ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে রসালো গল্প হলেও হয়নি নায়িকার ছবির সংরক্ষণ

শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

“বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা মহুয়া রায়চৌধুরী (Mahua Roy Chowdhury) বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অগ্নিদগ্ধা হন তাঁর বেহালার ফ্ল্যাটে। রাতেই তাঁকে ভর্তি করা হয় ক্যালকাটা হসপিটালে। ৭২ ঘন্টার আগে কিছুই বলা যাচ্ছেনা ডাক্তার জানালেন।”

Mahua Roy Chowdhury

না মহুয়া বাঁচেননি। শেষ পরিণতি অকাল মৃত্যু (Mahua Roy Chowdhury Death)। যৌবনেই নিভেছিল বাংলা ছবির সোনার প্রতিমার জীবন। কিনারা হয়নি তাঁর মৃত্যু রহস্যে দোষী কে! মহুয়া নিজেই আত্মহত্যা করেছেন সাংসারিক অশান্তিতে।, এমনও লেখা হয়েছিল। জনতা বলল দোষী মহুয়ার পরিবার। মহুয়ার কাছের বন্ধু বলে বসলেন মহুয়া মাতাল ছিল, চরিত্রের দোষ ছিল। শুধুই স্ক্যান্ডেল আর স্ক্যান্ডেল। গ্ল্যামার জগতের এক নম্বর হিরোইনের গোপন গল্পই চর্চা হতে লাগল। মহুয়ার মৃত্যুর তিরিশ বছর পরও যে চর্চা থামল না। শুধু হল না মহুয়ার ছবি নিয়ে চর্চা। হল না মহুয়ার ছবির প্রিন্ট সংরক্ষণ।

মহয়া রায়চৌধুরী আজ বেঁচে থাকলে পয়ষট্টি পেরোতেন। ভাবা যায় মহুয়াও এখন এক নাতনির ঠাকুমা। মহুয়ার ছেলে গোলা ওরফে তমালের মেয়ে। যার মুখ অনেকটাই মহুয়া বসানো। মহুয়ার নাতনিরও স্কুল পেরনোর সময় হল।

মহুয়া কিন্তু যৌবন সরসী রূপ নিয়েই চলে গেছেন, যারা যৌবনেই প্রয়াত হন তাঁদের তো সেই যৌবনটাই আমাদের চোখে ধরা থাকে। তাঁদের বয়স বাড়েনা। তাঁদের আমরা স্বপ্নে দেখলেও সেই সময়কার দেখি। তাঁদের জরা স্পর্শ করে না। আজও স্থিরযৌবনা মহুয়া।

মহুয়ার নিষেধ তাঁর অগ্নিদগ্ধ শরীর যেন কেউ না দেখে:

চলে আসি সেই অভিশপ্ত দিনে। প্রযোজক রথীন মজুমদার কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে এসে পড়লেন পরিচালক বীরেশ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির সোফায়। বললেন “আমার সব শেষ হয়ে গেল”।

বীরেশ বললেন “কেন? কি হল?”

রথীন মজুমদার বললেন “মহুয়া আর নেই। আমার প্রোডাকশানের ‘আর্শীবাদ’ ছবির সব টাকা লোকসান হয়ে গেল। এখনও তো মহুয়ার নাচের সিন বাকি।”

বীরেশও ভেবে পেলেন না এর বিকল্প কী! ছুটলেন দেবী বির্সজনের শেষ দর্শনে একবালপুরের ক্যালকাটা হসপিটালে।
ওদিকে অঞ্জন বাবুর ‘সন্ধ্যা প্রদীপ’-এর শ্যুটিং চলছে। অঞ্জন চৌধুরীর বেহালার বাড়ি গিয়ে আলপনা গোস্বামী, রঞ্জিত মল্লিকরা দেখছেন সব থমথমে। যে পরিবেশ আগে কোনওদিনও কেউ দেখেনি। মহুয়া আর নেই।

বেহালায় অঞ্জন চৌধুরীর ভাড়ার ফ্ল্যাট বাড়ির এক তলার ফ্ল্যাটেই থাকতেন মহুয়া ও তাঁর স্বামী, ছেলে, মহুয়ার বাবা নীলাঞ্জন রায়চৌধুরী ও মহুয়ার এক কাকু নীলাঞ্জনের ভাইসম। অঞ্জন চৌধুরীর ওপর তোলার ফ্ল্যাট থেকে ফিরে ঘোর বর্ষামুখর রাতেই ভয়ঙ্কর ভাবে অগ্নিদ্গ্ধা হয়ে এগারোটা দিন মৃত্যুর সঙ্গে দ্বন্দ্বযুদ্ধ শেষ করে অগুনতি মানুষকে চোখের জলের শ্রাবণ ভাসিয়ে বিদায় নিয়েছিলেন মহুয়া। অঞ্জন চৌধুরীর নাম জড়ানো হলেও তিনি মহুয়ার মৃত্যুতে দায়ী ছিলেন না। যা হওয়ার ঘটেছিল মহুয়ার নিজের পরিবারের মধ্যেই।

শেষবারের জন্য সোনার প্রতিমা দেখাতে চায়নি তাঁর অগ্নিদগ্ধা রূপ। সবথেকে হিট ছবি যার সঙ্গে সেই তখনকার নায়ক তাপস পালকেও ফিরে যেতে হয় ক্যালকাটা হসপিটাল থেকে। মহুয়ার নিষেধ তাঁর শেষ অগ্নিদগ্ধ শরীর যেন কেউ না দেখে। সেই হসপিটালেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন প্রাণপ্রতিমা। শুধু ছেলে গোলার জন্য ছিল তাঁর বুক ভরা হাহাকার।

মহুয়ার মৃত্যুর তিরিশ বছর পার করেও তাকে নিয়ে অনেক রসালো রহস্যের গল্প হয়েছে। স্ক্যান্ডেল চর্চিত হয়েছে কিন্তু মহুয়ার কাজ গুলো নিয়ে কোনও চর্চা নেই।

মহুয়ার পর কে? মহুয়ার বিকল্প এলনা:

ফিরে যাই মহুয়ার শেষ শ্যুট করা ছবি ‘আর্শীবাদ’-এর গল্পে। মহুয়ার শেষকৃত্যের পর তাঁর শেষ না করা কাজ কী করে শেষ হবে! এরকম অসংখ্য ছবির চুক্তি সই করা বক্সঅফিস হিট নায়িকা সবাইকে ভাসিয়ে চলে যান। সব ছবির পরিচালক, প্রযোজকরা দিশেহারা।

‘আর্শীবাদ’-এ তখনও মহুয়ার নাচের আরও কিছু সিন বাকি। বীরেশ চট্টোপাধ্যায়কে মহুয়া বলেছিলেন “বীরুদা নাচের সিনটা জমিয়ে করব। অনেক খেটে করব।” কিন্তু স্বয়ং প্রাণপ্রতিমার তো ভাসান হয়ে গেছে। তাহলে কী বন্ধ হয়ে যাবে ছবি। প্রযোজক ভেবে পেলেন না।

আইডিয়া বার করলেন বীরেশ। মহুয়ার সেই নাচের সিনে মহুয়ার আগের নৃত্যরত ফটোশ্যুট টেস্টের ছবি জুড়ে জুড়ে তৈরি হল নাচের দৃশ্য। একটি গানেরও দৃশ্য। সব স্টিল ছবিতে ভেসে এলেন মহুয়া।

‘কিন কিনি রিনি ঝিনি বাজে নূপুরেরও ছন্দ
দুলেদুলে এই খুলে খুলে যায় সুরভরা বাজুবন্ধ’

অরুন্ধতী হোম চৌধুরীর গানে তৈরি হল মহুয়ার স্টিল ফটোয় মহুয়ার নাচ গানের দৃশ্য। সেটা অবশ্যই নাচের কস্টিউমে ছবি ভাগ্যিস ছিল তাই। মহুয়ার সাধের নাচের সিন এভাবেই করলেন পরিচালক। মহুয়ার কন্ঠ ডাবড করলেন অনামিকা সাহা। অনামিকা তখন বাংলা ছবির ভ্যাম্প। তবু আকাশবানীতেও কাজ করছেন টুকটাক। সেই সূত্রে মহুয়ার অনেক শেষ না হওয়া ছবির গলা ডাবড করেছেন অনামিকা সাহা। যেমন ‘আর্শীবাদ’, ‘অনুরাগের ছোঁয়া’।

Image - মহুয়ার চরিত্র থেকে ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে রসালো গল্প হলেও হয়নি নায়িকার ছবির সংরক্ষণ

এভাবেই তৈরী হল ‘আর্শীবাদ’। তাপস-মহুয়া জুটির ছবি। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুরারোপে অসাধারন গানে গানে সদ্যপ্রয়াত মহুয়াকে দেখতে ছবি হিট। প্রযোজক হাফ ছেড়ে বাঁচলেন। মহুয়াকে অসম্ভব সুন্দর দেখতে লেগেছিল ‘আর্শীবাদ’-এ।

‘সন্ধ্যাপ্রদীপ’, ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ রিলিজ হল। অনেক পরে ১৯৯০ এ রিলিজ হয় ওম পুরীর সঙ্গে মহুয়ার বাংলা ছবি ‘সংক্রান্তি’। অপর্ণা সেন, প্রসেনজিৎও ছিলেন। মৃত্যুর পরেও মহুয়া হিট। কিন্তু বাদ বাকি গোটা তিরিশেক ছবি কী ভাবে হবে যা মহুয়া সাইন করে গেছেন? এরকম এক গুচ্ছ ছবিতে মহুয়ার জুতোতে পা গলিয়েছিলেন সন্ধ্যা রায়, দেবশ্রী রায়, আলপনা গোস্বামী, দেবিকা মুখোপাধ্যায় এবং মুনমুন সেন। কিন্তু মহুয়ার বিকল্প হিসেবে দর্শক তাঁদের মেনে নিলনা। যদিও মহুয়ার পর কেউ সেরা থেকে থাকেন তিনি দেবশ্রী রায়। দেবশ্রী অনেকটা পূর্ণ করেছিলেন মহুয়ার শূন্যতা। শুধু নায়ক-নায়িকা জুটি নয়। মহুয়া-দেবশ্রী দুই নায়িকার জুটিও ছিল সেসময় বক্স অফিস হিট।

সেই ‘দাদার কীর্তি’ দিয়ে দুই বোন মহুয়া-দেবশ্রী র জুটি। তারপর ‘সুবর্ন গোলক’, ‘পারাবত প্রিয়া’। মহুয়া থাকলে এ জুটি আরও ভালো ছবি উপহার দিত।

মানুষ মহুয়া ছিলেন অনেক বড় মনের:

উত্তম কুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অনিল চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন মহুয়া। রঞ্জিত, তাপস, চিরঞ্জিত, সন্তু মুখোপাধ্যায়, জয়, মিঠুন, প্রসেনজিৎ মহুয়ার নায়ক।

নায়িকা বিখ্যাত হলেই তাঁকে নিয়ে রসালো গল্প হয়। মহুয়ার চরিত্র নিয়েও হয়েছে। তাঁর প্রিয় বান্ধবী রত্না ঘোষাল বলেছেন সে কথা যাঁকে মহুয়া বিশ্বাস করতেন। এসব সত্যি মিথ্যের চেয়েও বড় কথা মহুয়ার আরও অনেক গুণ ছিল। সেগুলো হয়তো দেখা হয় না।

স্টুডিওর কুকুরগুলো ছিল মহুয়ার ভালবাসার। সবার জন্য বিস্কুট নিয়ে যেত।

‘দাদু নাতি হাতি’ নামে মনোজ মিত্র, সন্তু মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে মহুয়া একটা ছবি করছিলেন। সেখানে অবশ্যই ছিল একটি হাতি। যতদিন হাতি নিয়ে শ্যুট হয়েছে মহুয়া হাতির জন্য একছড়া কলা নিয়ে গেছেন।

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তখনও পায়ের তলার মাটি পাননি। প্রসেনজিতের মা বিশ্বজিৎ জায়া রত্না চট্টোপাধ্যায় করতেন শাড়ীর ব্যবসা। মহুয়া একদিন রত্না দেবীর থেকে সব শাড়ি কিনে নেন। মহুয়া চেয়েছিলেন শুধু বিশ্বজিতের ছেড়ে যাওয়া সংসারটা যাতে বেঁচে যায়। দিলীপ রায় পরিচালিত অপর্ণা সেন অভিনীত ‘নীলকন্ঠ’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ প্রসেনজিৎকে করে দেন মহুয়াই।

জুনিয়র আর্টিস্ট থেকে টেকনিশিয়ানস সবার সঙ্গে ছিল ঘরোয়া সম্পর্ক। কত ছোটো অভিনেতাকেও ভাই দাদা পাতিয়েছিলেন মহুয়া।

রাখীপূর্ণিমা কি ভ্রাতৃদ্বিতীয়া শ্যুট থাকলেও মধ্যরাতে তাঁদের বাড়ি গিয়ে মহুয়া রাখী পরিয়ে ফোঁটা দিয়ে এসছেন।

দিকপাল নায়িকার বরপুত্রী যেন এই প্রানপ্রতিমা মহুয়া:

সুচিত্রা সেনের সামনে নাচ দেখিয়ে জলসা মাতিয়েছিলেন ছোটো সোনালি রায় ওরফে মহুয়া। সুচিত্রার পার্সোনাল মেকআপ ম্যান হাসান জামানের সহায়তায় সুযোগ পান তরুন মজুমদারের ছবিতে। প্রথম ব্রেক । যদিও সুখেন দাসের ছবিতে মহুয়া প্রথমে অডিশন দিয়েও সিলেক্ট হননি রোগা বলে।

আবার সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় ,মাধবী মুখোপাধ্যায়ের খুব কাছের ছিলেন মহুয়া। একদম মা-মেয়ের সম্পর্ক। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে দমদমে থাকতেন তখন মহুয়া অতদূর থেকে রোজ টালিগঞ্জ স্টুডিওতে আসা যাওয়া করা মুশকিল ছিল। তাই থেকে যেতেন মাধবী মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি। আর্ন্তজাতিক খ্যাতি সম্পন্না চারুলতা তখন মাধু মা। মেয়ের জন্য ভাত রেঁধে দিতেন। সেই ভাত খেয়ে মেয়ে শ্যুটিং এ গেলে মায়ের শান্তি। মহুয়ার অকাল প্রয়াণ আজও মানতে পারেন না মাধবী দেবী।

Image - মহুয়ার চরিত্র থেকে ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে রসালো গল্প হলেও হয়নি নায়িকার ছবির সংরক্ষণ

আর সন্ধ্যা রায়! তিনি তো মাটির তাল শিপ্রা সোনালীকে মহুয়া রায়চৌধুরী তৈরী করলেন ‘শ্রীমান পৃথ্বীরাজ’ ছবিতে। এক এক দিকপাল নায়িকাদের বরপুত্রী যেন এই প্রানপ্রতিমা মহুয়া।

মহুয়ার সৌন্দর্য্য রহস্য কী?

নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে বালিকা বয়সে সোনালি নামে কলকাতার সব জলসা কাঁপাত নাচ করে। সেই পরে হল মহুয়া। খুব রোগা চেহারা বলে বাদ পড়তেন অনেক ছবি থেকে। কিন্তু ছিল সুন্দর মুখশ্রী। নিজেকে ঘষে মেজে মোহময়ী করে তুললেন মহুয়া। এমনই সুন্দরী হলেন বক্সঅফিসে তাঁর স্থান হল সবার প্রথমে। যেন সুচিত্রা সেনের উত্তরসূরী হলেন মহুয়া। কী ভাবে নিজের রূপচর্চা করতেন মহুয়া?

নারকেল তেল দিয়ে চুল মাসাজ। আর ত্বকের জন্য মহুয়া ব্যবহার করতেন জনসন বেবি ওয়েল। মেক আপ তুলতেন বেবি ওয়েল দিয়েই। ঘন মেঘবরণ চুল শ্যাম্পু করার পর দিতেন কন্ডিশানার। মিষ্টি খেতে খুব ভালবাসতেন মহুয়া। মাঝে মোটাও হয়ে গেছিলেন তিনি। তখন ডায়েট কন্ট্রোল করে, যোগ ব্যায়াম আর বডি মাসাজ নিয়ে রোগা হন। নইলে যে তপন সিনহার ছবির চরিত্র হয়ে উঠতে পারতেন না। খুব দামী নয় সহজ সরল মেকআপ নিতেন তিনি। মেকআপে ব্যবহার করতেন প্যান কেক। মহুয়ার প্রিয় পারফিউম ছিল চার্লি ইনটিমেট,ব্রুট,ফরগেট মি নট। হালকা হলুদ রঙের শাড়ি পছন্দ করতেন। মনের দিক থেকে সরল ছিলেন মহুয়া যেটা ওঁর মিষ্টি মুখেও প্রকাশ পেত। কিন্তু মহুয়া এতটা সরল না হলেও পারতেন। তাহলে বুঝে পারতেন কে ওঁর ভাল চাইছে,কে ওঁর খারাপ চাইছে।

ভাঙা ঘরে দুদিনেরই খেলাঘর; হোক ভাঙা তবু এল জোছনা:

মহুয়া বিয়ে করেছিলেন তিলক চক্রবর্তীকে। যিনি ছিলেন শিশু অভিনেতা প্রথমে। যেমন তিলক সুচিত্রা সেনের ছোট ভাই হয়ে সপ্রতিভ অভিনয় করেন ‘হসপিটাল’ ছবিতে। নবজন্ম, রাজা রামমোহন, নিশিপদ্ম, খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন, মায়ার সংসার প্রচুর ছবিতে শিশু অভিনেতা ছিলেন তিলক। বড় হয়ে কিশোর কন্ঠী হয়ে ওঠেন তিলক। পাশাপাশি মহুয়ার সঙ্গে ছিলেন প্রতিশোধ ছবিতে। ইমন কল্যাণ আর আনন্দমেলায় প্লেব্যাক করেন তিলক। কিন্তু মহুয়া তখন বিশাল স্টার। কোন কপি সিঙ্গারের ভাগ্যে মহুয়ার মতো মেগাস্টার বউ জোটেনি। যা তিলক লাভ করেছিলেন। যদিও পাশাপাশি ব্যাঙ্কের চাকরি করতেন তিলক।

একবার তো দীপঙ্কর দে মহুয়ার হাত দেখে বর আর ছেলের মঙ্গলের জন্য মহুয়াকে মাদুলি দিয়েছিলেন। মহুয়া সেই মাদুলি ধারণও করেন।

মহুয়ার মৃত্যুর পর আর তিলক গান নিয়ে এগোননি। আড়ালে চলে যান। শুধু চাকরিটা করে গেছেন একমাত্র ছেলের জন্য।

মতের অমিল, ঝগড়াই কি কাল হল! আজ এত বছর পর এসব থাক … ভালোবাসা মন্দবাসা প্রেম অপ্রেম পয়সার এপিঠ ওপিঠ।

তবু ..

“আজি বসন্তে পিককুল গায়
দখিন বাতাসে বাজিছে বাঁশি
এত ছন্দ-গন্ধ-আনন্দমাঝে
শুধু, সখী’র অধরে নাই যে হাসি…

তবু আজও মহুয়াকে নিয়ে কোন অনুষ্ঠান নেই। না মিডিয়া না টলি পাড়া। মানুষ মরে গেলেই কি ফুরিয়ে যায়?

অথচ উত্তম পরবর্তী যুগে বক্সঅফিস হিট নায়িকা একমাত্র মহুয়া। যাঁর নামে হল হাউসফুল হত। যার প্রতিমা মুখ আজও ভোলেনি বাঙালি।

মহুয়া রায়চৌধুরীর বহু ছবির প্রিন্ট আজ আর পাওয়া যায়না:

মহুয়ার গায়ে কীভাবে আগুন লাগল? নিজেই লাগিয়েছিলেন নাকি অন্য কেউ? এই নিয়ে কাটাচেরার শেষ নেই। বন্ধ হয়নি গসিপ। শুধু হল না মহুয়া অভিনীত ছবির সংরক্ষণ। মহুয়া রায়চৌধুরীর বহু ছবির প্রিন্ট আজ আর পাওয়া যায়না। যেমন মনে পড়ছে ইন্দর সেনের ‘অসময়’ ছবির কথা। হারিয়ে গেছে মহুয়া-তাপস-অয়ন-দেবশ্রী-চিরঞ্জিৎ অভিনীত ‘জীবন’। যে ছবি ছিল হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়ের ‘আনন্দ’ এর বাংলা রিমেক। দুর্দান্ত অভিনয় করেছিলেন মহুয়া। এই ছবিতেও সুরারোপ করেন সলিল চৌধুরী। এই রঙিন ছবি আজ লুপ্ত।

হারিয়ে গেছে মহুয়া অভিনীত আরো অনেক ছবি। মুক্তির আলো দেখেনি মহুয়ার বহু ছবি। অলক সাহা পরিচালিত ‘তবুও রমণী’, কনক মুখোপাধ্যায়ের ‘এই তো সংসার’,শংকর রায় পরিচালিত ‘সংস্কার’ ,অজিত গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘শাপমুক্তি’।

মহুয়ার অসম্পূর্ণ ছবির অনেক পারিশ্রমিক পড়েছিল ইন্ডাস্ট্রিতে। কেউ এসব নিয়ে আলোচনা করেনি। একমাত্র অনুপ কুমার এসব টাকা উদ্ধার করে কিছুটা হলেও পাঠান মহুয়ার ছেলের নামে তাঁর পড়াশোনার জন্য। কয়েক বছর আগেই প্রয়াত হয়েছেন মহুয়ার স্বামী তিলক।

আজ মহুয়ার ছেলে প্রতিষ্ঠিত মিউজিক অ্যারেঞ্জার সংগীত পরিচালক। কলকাতা-বম্বেতে কাজ করেন। মহুয়ার ছেলে তমাল, তাঁর স্ত্রী ইলোরা ও নাতনি ভালো থাক।

পুজোয় ছোটপর্দার বং ক্রাশ, উত্তম-সুপ্রিয়ার দুই নাতি গৌরব-শন

You might also like