Latest News

সবই নারী চরিত্র! ‘লার্জ পেগ’ নিয়ে ‘দ্য ওয়াল’-এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় পরিচালক অংশুমান বন্দোপাধ্যায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিচালক অংশুমান বন্দোপাধ্যায়ের (Angshuman Banerjee) প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘লার্জ পেগ’ (‘Large Peg’) সেপ্টেম্বরে মুক্তি পেতে চলেছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। এই সিরিজের চিত্রনাট্য যৌথভাবে লিখেছেন সৈকত ঘোষ এবং পরিচালক স্বয়ং। সংলাপের দায়িত্বে রয়েছেন প্রত্যুষা সরকার। তবে ইতিপূর্বে পরিচালক অংশুমানের শর্ট ফিল্ম ‘১২ সেকেন্ডস’ বহু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছে । এক ভিন্ন স্বাদের এই ওয়েব সিরিজ মুক্তির আগেই একান্ত আলাপচারিতায় সিরিজের গল্প সম্পর্কে নানা কথা জানালেন পরিচালক অংশুমান। শুনলেন চৈতালী দত্ত…

Image - সবই নারী চরিত্র! 'লার্জ পেগ' নিয়ে 'দ্য ওয়াল'-এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় পরিচালক অংশুমান বন্দোপাধ্যায়

আপনার পরিচালিত প্রথম ওয়েব সিরিজ লার্জ পেগ ওটিটি প্লাটফর্মে আসতে চলেছে। সেটি কি বাস্তবের কোনও লেখকের জীবন দ্বারা আধারিত?

অংশুমান : না। একজন ব্যর্থ পরিচালকের অল্টার ইগো একজন লেখক। ওঁকে কেন্দ্র করেই গল্প আবর্তিত হয়। একজন লেখকের মানসিক এবং গল্পের চরিত্রগুলো বাস্তব জীবনে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসে। সেক্ষেত্রে এক একটা চরিত্রের একেক রকম পরিণতি ঘটে।

লেখকের জীবন নিয়ে যেহেতু গল্প আবর্তিত, এটা কি মূলত কাল্পনিক?

অংশুমান : হ্যাঁ, একেবারেই কাল্পনিক চরিত্র। লেখকের চরিত্রের নাম দেবাঞ্জন মিত্র । এটা মূলত সাইকো সেক্সচুয়াল রিলেশনশিপের গল্প। তার যে নির্দিষ্ট গতিবিদ্যা, তা কীভাবে মানুষের জীবনে পরিবর্তন ঘটায়, তাই নিয়েই গল্প । এই গল্পে লেখকের উচ্চাকাঙ্খা, খ্যাপামি, প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি ইত্যাদি সবই রয়েছে। আমাদের ভেতরের যে কল্পনাগুলো আছে যা সহজে মানুষের কাছে সচরাচর প্রকাশ করতে করি না, সেজন্য আমরা মানুষ। যখন আমি অল্টার ইগো নিয়ে কোনও কাজ করি তখন সেই ভাইভসগুলো বেরিয়ে আসে। সেই ভাইভসগুলো নিয়ে এক একটা এপিসোড তৈরি হয়েছে।


লেখকের কল্পনাতে যে চরিত্রগুলো আছে সেগুলো কি সবই পুরুষ চরিত্র, নাকি নারী চরিত্রও আছে?

অংশুমান : সবই নারী চরিত্র। সবচেয়ে বড় ব্যাপার প্রত্যেকটি চরিত্রের সঙ্গে লেখকের নিজের স্ত্রীর অদ্ভুত মিল রয়েছে। কারোর সঙ্গে হাতে কিংবা মাথার চুলের, আবার কারোর সঙ্গে কথা বলার মিলও পাওয়া যায়। অর্থাৎ প্রত্যেকটা চরিত্রই কিন্তু লেখকের স্ত্রী দ্বারা অনুপ্রাণিত। একটা সময় লেখক যখন কোনও চরিত্রই খুঁজে পান না তখন তিনি নিজের স্ত্রীর কাছে ফিরে যান এবং স্ত্রীকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন,’ আমি কি লিখব? কোনও চরিত্রই তো খুঁজে পাচ্ছি না।’ স্ত্রী নিজের স্বামীকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘লেখার চরিত্র তুমি নিশ্চয়ই পাবে।’ প্রতিটি এপিসোডের শেষে লেখকের স্ত্রী ফিরে ফিরে আসেন। অর্থাৎ প্রতিটি পর্বে দর্শক যা দেখবেন তা সম্পূর্ণ অবাস্তব। এই গল্প দেখতে বসে কখনও কখনও দর্শকদের মনে হতে পারে এই বুঝি স্ত্রীর সঙ্গে লেখকের ছাড়াছাড়ি হয়ে যাবে। কিংবা লেখক স্ত্রীকে আড়াল করে পরকীয়া করছেন। আদৌ তা নয়। আর গল্পে যেই নারী চরিত্রগুলো আসছে সেই চরিত্রগুলো আবার লেখকের স্ত্রীর অল্টার ইগো।

Image - সবই নারী চরিত্র! 'লার্জ পেগ' নিয়ে 'দ্য ওয়াল'-এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় পরিচালক অংশুমান বন্দোপাধ্যায়

ওয়েব সিরিজের নাম লার্জ পেগ কেন ?

অংশুমান : লার্জ পেগ দুটো আলাদা শব্দ। কিন্তু দুটোকে নিয়ে যখন একসঙ্গে আমরা উচ্চারণ করি তখন একটা অন্য অর্থ দাঁড়ায়। জীবনের প্রতিটি উদযাপনকে আমরা লার্জ পেগের মাধ্যমেই করি। সেইভাবে সিরিজের নামকরণ করা হয়েছে। যার সঙ্গে গল্পের সরাসরি লিঙ্ক নেই।

এই ওয়েব সিরিজের গল্পটা সংক্ষেপে যদি একটু বলেন!

অংশুমান : এক ব্যর্থ পরিচালক ছবি তৈরি করার জন্য একজন লেখকের গল্প নিয়ে প্রযোজকের কাছে যান। এখানে লেখক একটি কল্প চরিত্র। তখন পরিচালক গল্প বলতে শুরু করেন যে দেবাঞ্জন মিত্র একজন খামখেয়ালি লেখক। যাঁর গল্প নিয়ে ইতিপূর্বে ছবি তৈরি হয়েছে। তাঁ স্ত্রী চাকুরিরতা। লেখকের সঙ্গে চ্যাট করতে করতে প্রথম যে মেয়েটির সঙ্গে পরিচয় হয় তার নাম পত্রলেখা। এই মেয়েটি অসমে থাকে। সে লেখকের বড় ভক্ত। পরবর্তী সময়ে দেখা যায় স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে পত্রলেখা লেখকের বাড়িতে আসে। আর লেখক মেয়েটির সঙ্গে একটি শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। ঠিক তখনই দেখা যায় লেখক একটা কাগজ ছিঁড়ে ফেলে দেয়। আবার লেখক লেখা শুরু করলে তখনই তার ঘরে পত্রলেখা প্রবেশ করে। আবার সেখানে দেখা যায় পত্রলেখার আরেকটা জীবন। যেখানে তার একজন প্রেমিক রয়েছে। নাম সৌপ্তিক। তার সঙ্গে পত্রলেখার একটা সংঘর্ষ রয়েছে। আর লেখক গল্পের মধ্যে কখনও পত্রলেখাকে মারছে আবার কখনও সৌপ্তিককে মারছে। গল্পের মধ্যে কাকে মারবে সেই নিয়েও লেখক দ্বিধাগ্রস্থ। এইভাবে গল্প বর্ণিত হয়। আবার পরের এপিসোডে দেখা যাবে ঈশানী নামে একটি চরিত্র। যিনি পরের গল্পের নায়িকা। যেখানে ঈশানীর জীবনের জটিলতা তুলে ধরা হয়। পরে ঈশানী মারা যায়। তারপরের গল্পের নায়িকা আকাঙ্ক্ষা। আকাঙ্ক্ষাকে বাথরুমে ঢুকিয়ে খুন করবে লেখক। তখন দেখা যাবে যখন লেখক আকাঙ্ক্ষাকে খুন করছেন সেই বাথরুম থেকে তাঁর স্ত্রী বেরিয়ে আসছেন। ওটাও লেখকের কিন্তু কল্পনা। প্রতিটি চরিত্রের মধ্যেই কিন্তু লেখকের স্ত্রী ফিরে ফিরে আসেন, যা আগেই আমি বলেছি । তারপরেই আবার আমরা সেই পরিচালককে দেখতে পাই। দর্শক ভাববেন যে পরিচালক আমাদের গল্প শোনাচ্ছেন । পর মুহূর্তেই দর্শক দেখতে পাবেন পরিচালক চারপাশে তাকিয়ে দেখেন যে তার পাশে কেউ নেই। সামনে যে মদের গ্লাসে তিনি মদ খাচ্ছিলেন সেই গ্লাস ধুলো ময়লায় জর্জরিত। একটা জরাজীর্ণ ঘর যেখানে পরিচালক চিৎকার করে বলছেন, ‘আমার সিনেমাটা কি তবে তৈরি হচ্ছে? একজন ব্যর্থ পরিচালকের অদ্ভুত পরাজয়, সেটাই এই সিরিজে তুলে ধরা হয়েছে।

আপনার ওয়েব সিরিজ ও টি টি প্লাটফর্মে কবে দেখা যাবে?

অংশুমান : জাতীয় প্ল্যাটফর্মে এটি সেপ্টেম্বর মাসে দেখা যাবে। এটি বাংলায় ভাষায় দেখা গেলেও পরবর্তী সময়ে এটি হিন্দিতে ‘ডাব’ করা হবে।

এই সিরিজের প্রযোজনা কার?

অংশুমান: এই ওয়েব সিরিজ কোয়ান্টাম অ্যান্ড শেডস, ওসেনিক মিডিয়া সলিউশনস, কলাবতী প্রোডাকশন দ্বারা প্রযোজিত। সিরিজের অভিনীত শিল্পীরা হলেন – অনিন্দ্যপূলক বন্দ্যোপাধ্যায় (লেখক), অংশুমান বন্দ্যোপাধ্যায় (পরিচালক), পরিচালকের স্ত্রীর ভূমিকায় সায়ন্তনী গুহঠাকুরতাকে দেখা যাবে। এছাড়াও শ্রীতমা দে (আকাঙ্ক্ষা),পায়েল রায় (ঈশানী), সারা এম নাথ (পত্রলেখা)। অসমীয়া এই অভিনেত্রী, এটি তাঁর অভিনীত অন স্ক্রিন প্রথম কাজ। যিনি পেশায় একজন মডেল।

ফিচার ফিল্ম কবে তৈরি করছেন?

অংশুমান: খুব শিগগিরই। এটি সাইকোলজিক্যাল হরর ফিল্ম হবে। ছবির নাম ‘নখ’।

আপনার এই ওয়েব সিরিজ অন্যান্য ওয়েব সিরিজ থেকে কতটা আলাদা?

অংশুমান: একদম আলাদা। প্রাপ্ত মনস্কদের জন্য এই সিরিজ।

নগেন্দ্রপ্রসাদের পর ‘বাঘা যতীন’! ফের ঐতিহাসিক চরিত্রে পর্দায় আসছেন দেব

You might also like