Latest News

২৪ ডিসেম্বর ‘কলঙ্কিনী রাধা’ লঞ্চ করছে নতুন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে, জানেন কি ছবির গল্প?

তরুণ পরিচালক সত্যজিৎ দাসের বড় পর্দার প্রথম বাংলা-ইংরেজি বাই লিঙ্গুয়াল ছবি ‘পেইন্টিং ইন দ্য ডার্ক’ এদেশের পাশাপাশি সমগ্র বিশ্বে বিপুলভাবে সাড়া ফেলেছিল। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ৩৯ টি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এই ছবি প্রদর্শিত হয় এবং সেইসঙ্গে নানা বিভাগে ২৮ টি পুরস্কারে সম্মানিতও হয়। গতবছর লকডাউনের আগে কলকাতা সহ ভারতের বিভিন্ন শহরে এবং আমেরিকায় সাড়ম্বরে মুক্তি পেয়েছিল এই ছবি। এবছর ২৪ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে পরিচালক সত্যজিতের নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘কলঙ্কিনী রাধা’। তার আগে চৈতালি দত্তের সঙ্গে মুখোমুখি আলাপচারিতায় ছবি নিয়ে নানা কথা জানালেন পরিচালক স্বয়ং।এটি তো আপনার চতুর্থতম ওয়েব ফিল্ম?
সত্যজিৎ- একদম। এর আগে ‘টু ওয়ার্ল্ড’, ‘ইশক ত্রিরঙ্গা সে’, ‘শেষ পর্যন্ত’ এই তিনটি ওয়েব ফিল্ম করেছি।
আগের তিনটি ওয়েব ফিল্ম থেকে এই ছবির গল্প কতটা আলাদা?
সত্যজিৎ-  আপনি নিশ্চয়ই জানেন আমি বেশিরভাগই নিজের লেখা কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ নিয়ে ছবি পরিচালনা করি। এক্ষেত্রেও তাই। আমি আগেও সম্পর্কের গল্প নিয়ে কাজ করেছি। তবে এবার একটু অন্য ধরনের সম্পর্কের গল্পের কথা আমি বলতে চেয়েছি। মূলত এটি নারীকেন্দ্রিক চরিত্র নিয়ে গল্প। বাংলায় সেভাবে নারীকেন্দ্রিক চরিত্র নিয়ে কাজ হয় না। তবুও এখন অল্পবিস্তর কাজ হচ্ছে।এক পতিতার জার্নি নিয়ে কাহিনির বিন্যাস। পতিতার কথা বললেই তার শরীর কেনাবেচার কথাই প্রথম আমাদের মাথায় আসে। সেই ধরনের গল্প নিয়ে ইতিপূর্বে আমরা বহু ছবিও দেখেছি। কিন্তু একজন পতিতারও যে অন্তরাত্মা আছে, তার মধ্যে যে প্রেম রয়েছে, সেটাই ছবির মূল উপজীব্য। তবে এই প্রেম বা ভালোবাসা একটু অন্যধরনের, যা কোথাও গিয়ে রাধা-কৃষ্ণের প্রেম যেমন চির শাশ্বত, আদি অনন্ত এবং অবিনশ্বর, তার সঙ্গে আমার ছবির দুই চরিত্র রাধা ও কৃষ্ণের ভালোবাসারও যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়। কৃষ্ণের মোহন বাঁশির সুরে রাধা যেমন মোহিত হয়, এক্ষেত্রেও তাই, তবে একটু অন্যভাবে।

যেমন?
সত্যজিৎ- রাধাকে তার স্বামী পতিতালয়ে বিক্রি করে দেয়। অন্যদিকে আবার রাধার কাছে খদ্দের হয়ে আসে কৃষ্ণ । সে কিন্ত পেশায় একজন ছাপোষা রাজমিস্ত্রি। একজন রাজমিস্ত্রির ভালোবাসার যে মন আছে সেটাই ছবিতে আমি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। রাধা যত বেশি কৃষ্ণের সংস্পর্শে আসে, তত বেশি সে কৃষ্ণের প্রেমে ডুব দেয়। রাজমিস্ত্রি মানেই যে শুধু শারীরিক লিপ্সা কিংবা টাকার বিনিময়ে একজন পতিতার দেহ ভোগ করা, তা কিন্তু মূল উদ্দেশ্য নয়। ছবিতে দেখা যায় যে কৃষ্ণও কিন্তু রাধার বিহনে ব্যাকুল হয়ে ওঠে। কলিযুগে রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমের টান রয়েছে সেটাই দেখার। রাধা ও কৃষ্ণ শুধু ভগবান নয়, এরা হল অন্তরের দোসর। এ যুগের রাধা-কৃষ্ণের প্রেম কোন দিকে মোড় নেয় সেটাই ছবিতে দেখার। একজন পতিতার সঙ্গে খদ্দেরের প্রেম, এই নিয়ে ইতিপূর্বে অনেক ছবি তৈরি হয়েছে। প্রথম শুনে মনে হয় গল্প অনেক সাধারণ মানের। সেদিক দিয়ে বিচার করলে এই ছবিটি কতটা আলাদা?
সত্যজিৎ- আপনি ঠিকই বলছেন। প্রথমদিকে শুনলে মনে হবে এই গল্পে নতুনত্ব আর কী আছে? তবুও আমি বলছি, গল্পের কোথাও এমন একটা টুইস্ট আছে যা ছবিটিকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। এ ধরনের গল্প নিয়ে ইতিপূর্বে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির ক্ষেত্রে গল্পের ভাবনায় মিলমিশ হতেই পারে। কিন্তু কোথাও গিয়ে গল্পের যে অন্তর্নিহিত অর্থ আছে সেটি আমার ছবি দেখলে বোঝা যাবে। যেখানে রাধা ও কৃষ্ণের প্রেম প্রগাঢ় এবং দৃঢ়, সেই জায়গাটাকে আমি পোর্ট্রে করার চেষ্টা করেছি।হঠাৎ এই ধরনের বিষয় নিয়ে ছবি করার চিন্তাভাবনা এল কীভাবে?
সত্যজিৎ-উয়োমেন এম্পাওয়ারমেন্ট নিয়ে কাজ করতে চাইছিলাম। তখন হঠাৎ আমার মনে হল শরীর কেনাবেচা একজন পতিতার পেশা হতে পারে। কিন্তু তার জীবনেও তো প্রেম আসতে পারে। যদি সত্যিই সেটা হয় তবে কেমন হয়? সেই ভাবনা থেকেই আমি গল্পটা লিখেছি।

আপনার ছবির দুই কেন্দ্রীয় চরিত্র রাধা ও কৃষ্ণের ভূমিকায় কারা অভিনয় করেছেন?
সত্যজিৎ- বহু ধারাবাহিকের পরিচিত মুখ আয়েশা ভট্টাচার্যকে রাধার চরিত্রে দেখা যাবে। আয়েশাকে ইতিপূর্বে নায়িকা এবং খলনায়িকার ভূমিকায় ছোটপর্দায় দেখা গেছে। একজন পরিচালক হিসেবে এবারে আয়েশাকে অন্যরকম চরিত্রে ভাঙার চেষ্টা করেছি আমি। আমার লেখা চরিত্রের সঙ্গে আয়েশার মুখের একটা মিল খুঁজে পাই। যা অতি সাধারণ। যাঁর মধ্যে একটা সিম্প্লিসিটি আছে। আর আমার ছবিতে গল্প হল হিরোইন। সেটাকেই আমি এস্টাবলিশ করতে চেয়েছি। অন্যদিকে কৃষ্ণের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শ্রীমন্ত চক্রবর্তী। অন্য শিল্পীরা হলেন শার্লি পাল, সাহেব হালদার, অর্পিতা পাল, সুরজিৎ মাইতি প্রমুখ।সানফ্লিমওয়ার্কাস ওটিটি প্লাটফর্মে এই ছবিটি দেখা যাবে?
সত্যজিৎ- হ্যাঁ। ২৪ ডিসেম্বর আমার এই ওয়েব ফিল্ম দিয়েই সানফিল্মওয়ার্কস, এই নতুন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম লঞ্চ করছে। এছাড়াও অন্যান্য ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এই ছবিটি দেখানো হবে। এটি ৩৫ মিনিটের ছবি। ২৪ ডিসেম্বর বিকেল ৪.৩০ মিনিটে দেখা যাবে।

 

 

You might also like