Latest News

অপরাধীর ‘অনুসন্ধান’ করবেন কমলেশ্বর, বাংলায় ফিরছে কোর্টরুম ড্রামা

মুক্তি পেতে চলেছে ‘চাঁদের পাহাড়’, ‘আমাজন অভিযান’ খ্যাত পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘অনুসন্ধান’। ৩ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে ছবিটি। আজ ১ ডিসেম্বর আইনক্সে ছবির প্রিমিয়ার। এর আগে অবশ্য অতিমারির কারণে ছবি মুক্তি একাধিকবার পিছিয়েছে। এটি প্রথম ভারতীয় ছবি যা করোনাকালীন সময়ে ইংল্যান্ডে শ্যুট করা হয়। এসকে মুভিজ প্রযোজিত এই ছবিটিকে ঘিরে দর্শকদের উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। বেশ কয়েক মাস আগে ছবির ট্রেলার প্রকাশ্যে এলে দর্শকমহলে সাড়া ফেলে দেয়। প্রিমিয়ারের ঠিক আগেই পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়কে পাওয়া গেল একেবারে অন্যরকম মেজাজে। মন খুলে আড্ডা দিলেন, জানালেন ছবি সম্পর্কে নানা অজানা কথা। তাঁর সঙ্গে কথোপকথনে চৈতালি দত্তএকজন পরিচালক হিসেবে ছবির মাধ্যমে আপনি কীসের অনুসন্ধানে আছেন?
কমলেশ্বর- অনুসন্ধান ছবিটি দাঁড়িয়ে আছে একটা মক কোর্ট ট্রায়ালের ওপর। আর এই মক কোর্ট বসে লন্ডনের একটি ম্যানসনে। ঘটনাচক্রে হঠাৎই একজন সফল কর্পোরেট ইন্দ্র গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে সেখানে এসে পড়েন। যেখানে চারজন মানুষ তাঁরা কোনও এক সময় ওকালতি পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এইরকম এক পরিবারের সামনে এসে পড়লে সেখানে একটা ট্রায়াল শুরু হয়। যেখানে ইন্দ্রকে অভিযুক্তের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়। এবার ইন্দ্র ভাবেন যে তিনি নিরপরাধ। কিন্তু সওয়াল-জবাবের মধ্যে দিয়ে ক্রমশ বেরিয়ে আসে যে তিনি ততটাও নিরপরাধ নন। ক্রমশ তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে তিনি যে অভিযুক্ত তা বেরিয়ে পড়ে। অপরাধী চরিত্রের পূর্বকথা এবং আইনজীবী পরিবারের সদস্যদের পারস্পরিক টানাপোড়েন- সব মিলিয়ে রহস্য ঘনীভূত হয়। প্রতিটি মানুষের জীবনের ঘটনার অনুসন্ধান করতে গিয়ে অনুসন্ধান ছবিটি আমার তৈরি করা।আপনার পরিচালিত অন্যান্য ছবি থেকে অনুসন্ধান ছবিটি কতটা স্বতন্ত্র?
কমলেশ্বর- ভীষণভাবেই আলাদা, বলার অপেক্ষা রাখে না। এই ধরণের বিষয় নিয়ে আগে আমি কোনওদিন ছবি করিনি। মক কোর্টরুম ড্রামার ওপর নির্ভরশীল বাংলা ছবি খুব বেশি দেখা যায় না। শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে চুর্ণী গাঙ্গুলি, ঋদ্ধি সেন, প্রিয়াঙ্কা সরকার, জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, পায়েল সরকার প্রত্যেকে অসাধারণ অভিনয় করেছেন। এঁদের প্রত্যেকের কাছে আমি ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ। ছবিটি কি মূলত থ্রিলারধর্মী?
কমলেশ্বর- থ্রিলার নাকি হরর সেটা ছবি দেখলে বোঝা যাবে। আগে থেকে এইভাবে ছবি সম্পর্কে কিছু বলা উচিত নয়।ফ্রেডরিক ডুরেনম্যাটের ‘আ ডেঞ্জারাস গেম’, মোপাসাঁর ‘লে ভলিওর’, এডগার ওয়েলসের ‘দ্য ফোর জাস্ট মেন’ গল্প থেকে তো এই ছবি অনুপ্রাণিত?
কমলেশ্বর-  ঠিকই বলছেন। তবে মূলত ফ্রেডরিক ডুরেনম্যাটের ‘আ ডেঞ্জারাস গেম’ গল্পের ওপর বেস করেই এই সিনেমা। আর বাকি যে দুটো গল্পের কথা আপনি বললেন তার থেকে কিছু কিছু এলিমেন্ট নেওয়া হয়েছে। এই তিনটে গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছি। এর আগে ‘আ ডেঞ্জারেস গেম’ থেকে বহু নাটক ও ছবি ভারত ছাড়াও সমগ্র বিশ্বে তৈরি হয়েছে।ছবির প্রেক্ষাপট কি লন্ডন?
কমলেশ্বর- না। কিছুটা ভারতবর্ষ, কিছুটা লন্ডন। এইভাবে ভাবা হয়েছে। গল্প শুরু কলকাতা থেকে। সেখান থেকে কাহিনি চলে যায় লন্ডনে, মাঝেমধ্যে আবার কলকাতার গল্পে ফিরে আসে।আপনার ছবির শ্যুটিং কোথায় কোথায় হয়েছে?
কমলেশ্বর-  ছবির ৭০ ভাগ শ্যুটিং লন্ডনের বিভিন্ন জায়গায় হয়েছে। সিটি অফ অক্সফোর্ড, সেন্ট্রাল লন্ডন, অক্সফোর্ডশায়ার ইত্যাদি বিভিন্ন জায়গায় প্রায় চোদ্দ দিনের শ্যুটিং হয়েছে। আর বাকি ছবির ৩০ ভাগ শ্যুটিং কলকাতার বিভিন্ন রাস্তাঘাট আর ইনডোরে হয়েছে।এস কে মুভিজ প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে এটি আপনার প্রথম কাজ, সেক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা কেমন?
কমলেশ্বর- দারুণ অভিজ্ঞতা। এই সংস্থার কর্ণধার তথা ছবির নিবেদক অশোক ধানুকা, হিমাংশু ধানুকা খুবই ভালোভাবে আমাদের লন্ডনের রেখেছিলেন। শ্যুটিং করতে কোনও অসুবিধা হয়নি। করোনার মধ্যে ওই কঠিন পরিস্থিতিতেও ওঁদের ব্যবস্থাপনার কোনও তুলনা হয় না। খুবই পারিবারিক পরিবেশে আমরা সকলে আনন্দ করে কাজ করতে পেরেছি। গত বছরে প্রথম এবং দ্বিতীয় লকডাউনের মাঝখানে এক কঠিন পরিস্থিতিতে উড়ান চালু হতেই ভারত এবং ব্রিটিশ সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনেই লন্ডনে শ্যুটিং করেছি আমরা।আগামী দিনে এস কে মুভিজের সঙ্গে আবার কাজ করতে কি আগ্রহী আপনি?
কমলেশ্বর- আবারও ওঁদের সঙ্গে কাজ করতে আমি ভীষণভাবে আগ্রহী।
ছবির মূল বক্তব্য কী?
কমলেশ্বর–  এই ভোগবাদী সমাজব্যবস্থা, আর চারপাশের প্রলোভন মানুষের লোভকে কীভাবে, কতটা পরিমাণে বাড়িয়ে দিয়েছে, আর তার পরিণতি কী হতে পারে- সেটাই ছবির মূল কথা।ছবিতে সঙ্গীতের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
কমলেশ্বর-  ছবিতে একটি গান আছে। গানের কথা, সুর এবং গানটি গেয়েছেন অনুপম রায়। ব্যাকগ্রাউন্ড করেছেন দেবাশীষ সোম।

শোনা যায় যে এই ছবির লুকস নিয়ে প্রচুর এক্সপেরিমেন্ট হয়েছে?
কমলেশ্বর-  একদমই তাই ।এই ছবির কসটিউমের দায়িত্বে আছেন সাবর্ণী দাস। লুকস সেট করেছেন মেকআপ আর্টিস্ট সোমনাথ কুন্ডু।এই ছবির ব্যাপারে আপনি পরিচালক হিসেবে কতটা আশাবাদী?
কমলেশ্বর- আমি ভীষণ আশাবাদী। আবারও বলছি এই ধরনের বিষয় নিয়ে বাংলায় সেভাবে ছবি তৈরি হয়নি।একটু অন্যধারার ছবি তো বটেই। চেষ্টা করেছি। দেখা যাক কী দাঁড়ায়! দর্শকদের কাছে এই ছবি গ্রহণীয় হলে আমার সব চেষ্টা সার্থক হবে।

You might also like