Latest News

Aye Khuku Aye: মুক্তি পেল ‘আয় খুকু আয়’ ছবির ট্রেলার, বাবা-মেয়ের মন ছুঁয়ে যাওয়া গল্প শোনালেন প্রসেনজিৎ

চৈতালি দত্ত

রোববার সাতসকালে উত্তর কলকাতার ট্রাম লাইনের ধার ঘেষে হেঁটে চলেছেন বৃদ্ধ নিম্নবিত্ত ছাপোষা এক বাঙালি ভদ্রলোক (Aye Khuku Aye)। পরনে তাঁর ঢিলেঢালা টেরিকটের প্যান্ট, ফুল স্লিভ শার্ট ,কাঁধে কালো শোল্ডার ব্যাগ ,মাথায় বড় টাক ,টুপি পরা।। মুখে কাঁচাপাকা খোঁচা দাড়ি গোঁফ। তিনি নির্মল মন্ডল। সঙ্গে তাঁর কলেজ পড়ুয়া মেয়ে বুড়ি। বাবার সঙ্গে হাত ধরে বুড়ি নানারকম গল্প করতে করতে এগিয়ে চলেছে। মাঝেমধ্যে সে বাবার কাছে বায়নাও ধরে।

ততক্ষণে পথচারীরা তাঁদেরকে লক্ষ্য করে পিছু নিয়েছে। কিন্তু সেদিকে বাবা ও মেয়ে কারওর কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। হঠাৎই এক দোকানে দাঁড়িয়ে মেয়েকে নির্মল মন্ডল দরদাম করে রঙিন চশমাও কিনে দেন (Aye Khuku Aye)। এরপরেই তাঁরা স্টার থিয়েটারে ঢুকতে গেলেই প্রবেশ পথে বাধা দেন প্রহরীরা। অবশেষে মুশকিল আসানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন পরিচালক শৌভিক কুন্ডু। তিনি প্রহরীদের আশ্বস্ত করে বলেন,’ এই ভদ্রলোক আর তাঁর মেয়ে আর কেউ নন।

তাঁরা হলেন নির্মল মন্ডল ও তার মেয়ে বুড়ি। এঁদের ছবি আসছে ‘আয় খুকু আয়’। ততক্ষণে উপস্থিত সকলেই বুঝতে পেরে গেছেন নির্মল মন্ডল আসলে টলিউড সুপেরস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Aye Khuku Aye)। সকলের প্রিয় বুম্বাদা। অন্যদিকে বুড়ি, সে তো ছোটপর্দার রানী মা! অর্থাৎ দিতিপ্রিয়া রায়।

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় , দিতিপ্রিয়া রায় প্রমুখ অভিনীত আগামী ছবি ‘আয় খুকু আয়’ ১৭ জুন মুক্তি পাবে। তার আগে এইভাবে অভিনব প্রচার সারলেন প্রসেনজিৎ ও দিতিপ্রিয়া। এটা বোধহয় বুম্বাদার পক্ষেই সম্ভব। এদিন স্টার থিয়েটারে হাজির ছিলেন সোহিনী সেনগুপ্ত, শংকর দেবনাথ, রনজয় ভট্টাচার্য, স্যাভি গুপ্ত, গোপাল মাদনানি প্রমুখ। মহা সমারোহে ছবির ট্রেলার লঞ্চ করল। আর ছবির প্রথম ট্রেলার লঞ্চ হতেই এখন তো দর্শকদের এই ছবি ঘিরে আগ্রহ যথেষ্ট। এদিন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন অনেক বেশি আবেগ তাড়িত।

স্মৃতির সরণি বেয়ে তিনি ফিরে যান তাঁর অল্প বয়সে । বলেন, “এক সময় এই মঞ্চে প্রবাদপ্রতিম নাট্যব্যক্তিত্ব মহেন্দ্র গুপ্ত, জ্ঞানেশ মুখোপাধ্যায়,কালী বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখের সঙ্গে আমি নাটক করেছি। তখন আমার বয়স ১৭ কী ১৮ বছর হবে। এখানে ৭০০\৮০০ নাইট অভিনয় করেছি তো বটেই, বেশি ছাড়া কম নয়। ফলে এই মঞ্চ আমার কাছে বাড়ি ফেরার মতো। ”

তিনি আরও জানান, “তখন আমি চুটিয়ে নাটক করছি। কত স্মৃতি আজ মনের মধ্যে ভেসে আসছে। আমি এখানে উত্তম জ্যেঠুকে নিয়ে এক ফেস্টিভ্যাল চালু করেছিলাম। অবশ্যই তা উত্তম জেঠুকে উৎসর্গ করে। তাই আজ এখানে এসে নিজেকে বড্ড নস্টালজিক লাগছে। প্রায় ৪০ বছর পর আবার উত্তর কলকাতার পথে আমি হাঁটলাম।”

নিজের ছবি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন ,’নির্মল মন্ডল চরিত্রটা পাওয়া কিন্তু একজন অভিনেতার কাছে ভাগ্যের ব্যাপার। এই ধরনের চরিত্রে আগে আমি কোনওদিন অভিনয় করিনি। আমার ফার্স্ট লুক প্রকাশ্যে এলে তখন তা দেখে অনেকেই বলতে শুনেছি বুম্বাদা শেষমেষ এই চরিত্রেও অভিনয় করলেন!

আসলে এই ছবির চিত্রনাট্য যখন আমার হাতে আসে তখনই আমার ভাল লাগে। একেবারে ভিন্ন স্বাদের একটা চরিত্র। এই চরিত্রে অভিনয়ের অনেক সুযোগ আছে। এমন একটি চরিত্র যা বাস্তব ঘেঁষা। এই সিনেমার মধ্যে একটা বড় মেসেজ রয়েছে। বিশেষ করে তা মেয়েদের জন্য। এখনই সবটুকু বলছি না। তবে ছবি দেখলে তা বোঝা যাবে । এক্ষেত্রে একটা কথা বলব বাংলার সংস্কৃতির যে বৈশিষ্ট্য তা মেনে বাংলা ছবির মতো ছবি নির্মিত হলে বাংলা দর্শক আবার হলমুখী হবেন। আমি ৪০ বছর ইন্ড্রাস্ট্রিতে রয়েছি। অভিনয় করছি।আগেও বলেছি আবারও বলছি বাংলা ছবি ছিল ,আছে এবং বাংলা ছবি থাকবে। এই ছবির প্রযোজনা জিৎ ফিল্ম ওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেডের।

দেখুন ছবির ট্রেলার:

You might also like