Latest News

হিন্দি ছবির ‘কাঁটা লাগা’ গার্ল, খোলামেলা আত্মজীবনীতে প্রেম নিয়েও সাহসী আশা পারেখ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘কিতনা প্যারা ওয়াদা হ্যায় ইন মতওয়ালি আঁখো কা…
তাঁর কাজলমাখা চোখের বিভঙ্গে ভেসে গিয়েছিল একটা গোটা প্রজন্ম। কখনও নাচের মূর্ছনায়, কখনও টমবয় লুকে, কখনও বা চোখে জল আনা অভিনয়ে দু-দুটো দশক মাতিয়ে রেখেছিলেন তিনি। জুটি বেঁধেছেন বলিউডের তাবড় অভিনেতার সঙ্গে। দিয়েছেন একের পর এক হিট ছবি। তিনি আর কেউ নন, ষাটের দশকে বলিউডের ডাকসাইটে অভিনেত্রী, গ্ল্যামার কুইন আশা পারেখ। হিন্দি ছবির এভারগ্রিন নায়িকা। (Asha Parekh)

Image - হিন্দি ছবির 'কাঁটা লাগা' গার্ল, খোলামেলা আত্মজীবনীতে প্রেম নিয়েও সাহসী আশা পারেখ

আশা পারেখ অভিনয় জীবনে পা রাখেন শিশুশিল্পী হিসেবে। মঞ্চে তাঁর নাচ দেখেছিলেন বিমল রায়। এরপরেই নিজের ‘বাপ বেটি’ ছবিতে বাচ্চা মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ দেন আশাকে। তবে বিমন রায়ের ছবিতে নয়, আশার ফিল্মে হাতেখড়ি তারও আগে, ১৯৫২ সালে ‘আসমান’ ছবিতে বেবি আশা পারেখ নামে।

অভিনয় জীবনের শুরুর দিনগুলোয়- বেবি আশা পারেখ

১৯৫৯ সালে বিজয় ভাটের ‘গুঞ্জ উঠি শেহনাই’ থেকে বাদ পড়েন আশা। প্রথমে তাঁকে নায়িকা হিসেবে ভাবা হলেও আশার চেহারা মনে ধরেনি পরিচালকের। কিছুটা ষড়যন্ত্রের শিকারও হয়েছিলেন। কিন্তু সে বছরই ‘দিল দেকে দেখো’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে ফেরে অপ্রতিরোধ্য আশা (Asha Parekh)। এই ছবিতে তাঁর বিপরীতে নায়ক ছিলেন শাম্মি কাপুর। সুপার-ডুপার হিট হয় নাসির হুসেনের এই ছবি।

Image - হিন্দি ছবির 'কাঁটা লাগা' গার্ল, খোলামেলা আত্মজীবনীতে প্রেম নিয়েও সাহসী আশা পারেখ
চোখে চোখে কথা- ‘দিল দেকে দেখো’-র আশা

মাত্র ষোলো বছর বয়সেই এত বড় সাফল্য নায়িকা হিসেবে খ্যাতির চুড়োয় তুলে দেয় আশাকে। নাসিরের সঙ্গেই পরপর ৬টা ছবি করেন। যার মধ্যে ‘ফির ওহি দিল লায়া হুঁ'(১৯৬৩) বা ‘তিসরি মঞ্জিল’ (১৯৬৬)-এর মতো সুপারহিট সিনেমাও ছিল।

অভিনয় জীবনের শুরু থেকেই আশাকে আগলে রেখেছিলেন নাসির হোসেন। তাঁদের অসমবয়সী বন্ধুত্ব স্বাভাবিক নিয়মেই বদলে যায় প্রেমে। বিবাহিত নাসির হোসেনের সঙ্গে কাজের সম্পর্কের বাইরেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে আশার (Asha Parekh)।

Image - হিন্দি ছবির 'কাঁটা লাগা' গার্ল, খোলামেলা আত্মজীবনীতে প্রেম নিয়েও সাহসী আশা পারেখ
দুই অসমবয়সী বন্ধু- নাসির আশা

এইসব গুঞ্জনের মধ্যেই ১৯৬৬ তে প্রকাশ পেল প্রমোদ চক্রবর্তীর ‘লভ ইন টোকিও’। বিদেশের পটভূমিকায় বাঙালি নায়ক জয় মুখার্জি আর আশা পারেখ অভিনীত এই ছবি বিরাট সাফল্য পায় সেসময়।

‘লাভ ইন টোকিও’র ‘চাইনিজ গার্ল’ আশা

সুন্দরী গ্ল্যামার গার্ল আশাকেই আমূল বদলে দিলেন পরিচালক রাজ খোসলা। তাঁর ‘দো বদন’ (১৯৬৬) ছবিতে ট্র‍্যাজিক নায়িকা হিসেবে দর্শকের মন জয় করে নিলেন আশা পারেখ। এই ছবিতে আশার বিপরীতে নায়ক ছিলেন মনোজ কুমার। রাজ খোসলার সঙ্গে এরপরও ‘চিরাগ’ (১৯৬৯) এবং ‘ম্যায় তুলসি তেরে আঙ্গন কি’ (১৯৭৮)-র মতো ছবিতে কাজ করেন আশা। (Asha Parekh)

Image - হিন্দি ছবির 'কাঁটা লাগা' গার্ল, খোলামেলা আত্মজীবনীতে প্রেম নিয়েও সাহসী আশা পারেখ
‘ম্যায় তুলসি তেরে আঙ্গন কি’ ছবির একটা দৃশ্যে আশা

সত্তরের দশকে একের পর এক হিন্দি সিনেমায় দাপিয়ে বেরিয়েছেন আশা পারেখ। শক্তি সামন্তের পরিচালনায় রাজেশ খন্নার বিপরীতে ‘কাটি পতঙ্গ’ ছবিতে তাঁর অভিনয় আজও ভোলার নয়। ১৯৭১ সালে রিলিজড এই ছবির জন্য ফিল্মফেয়ারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার জেতেন আশা। ‘সমাধি’ (১৯৭২) ছবিতে তাঁর লিপে লতা মঙ্গেশকরের গাওয়া ‘কাঁটা লাগা হায় লাগা’ সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে আজকের প্রজন্মের কাছেও সমান জনপ্রিয়।

দেব আনন্দ, শাম্মি কাপুর থেকে রাজেশ খন্নাদের মতো সফল আর জনপ্রিয় অভিনেতাদের সঙ্গে দাপিয়ে অভিনয় করতেন আশা। হিন্দি ছবির পাশাপাশি অভিনয় করেছেন গুজরাটি, পাঞ্জাবি, কন্নড় ছবিতেও। ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে ১৯৭২ সালে সালে ভারত সরকার পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করেন তাঁকে।

বরাবরই স্বাধীনচেতা ব্যক্তিত্বময়ী নারী আশা। তারই ছাপ পাওয়া যায় ২০১৭ সালে প্রকাশিত তাঁর আত্মজীবনী ‘দ্য হিট গার্ল’-এ। এই বইতে নিজের স্ট্রাগল, কেরিয়ার থেকে প্রেমজীবন, সবকিছু নিয়েই খুল্লমখুল্লা কথা বলেছেন আশা। আজীবন বিয়ে করেননি। সেই একা জীবন নিয়ে অসহিষ্ণুতাও নেই। বরং একলা নারীর লড়াইয়ের নাম অন্য নাম হয়ে উঠেছেন আশা পারেখ।

You might also like