Latest News

রিয়্যালিটি শো-এর অন্দরে লুকিয়ে কোন কারসাজি! বিস্ফোরক আশা ভোঁসলে, অমিত কুমার

দ্য ওযাল ব্যুরো: গানের রিয়্যালিটি শোয়ের ছড়াছড়ি চ্যানেলে চ্যানেলে। টিভি খুললেই দর্শকরা দেখতে পাচ্ছেন নতুন শিল্পীর গান। কিন্তু সমস্যা হল যেটা নতুন শিল্পী রিয়্যালিটি শোয়ের মাধ্যমে উঠে এলেও নতুন গান কিন্তু একটাও জনপ্রিয় হচ্ছে না সাম্প্রতিক কালে। এমনকি অনেক চ্যাম্পিয়ন অফ দ্য চ্যাম্পিয়নস, বহু রিয়্যালিটি শোয়ের তারকাই হারিয়ে যাচ্ছেন পরবর্তীকালে। কিছু বছর পরে আগের বছরের বিজেতা প্রতিযোগীদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ যখন শো চলছে, তাবড় তাবড় লেজেন্ডারি শিল্পীরা বিচারকের আসনে বসে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এইসব প্রতিযোগীদের বাছাই করে আনছেন, তাঁদের গানে বাহবা দিচ্ছেন। কিন্তু তাঁরা হারিয়ে যাচ্ছেন কালের স্ত্রোতে। কেন এমন হয় তাঁর উত্তর যেন পাওয়া গেল দুই কিংবদন্তি শিল্পীর বিস্ফোরক কথায়।

বাংলা সারেগামাপা-র পর এবার ‘ইন্ডিয়ান আইডল ১২’ নিয়ে জোর বিতর্ক। এই শোতে কিশোর কুমার স্পেশ্যাল এপিসোড ছিল কিছুদিন আগে। কিশোর কুমারকে শ্রদ্ধা জানাতে পর্বটি কিশোর কুমারের গান দিয়ে সাজানো হয়েছিল। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা সকলেই কিশোর কুমারের গান গেয়েছিলেন। কিন্তু শ্রোতাদের মন ভরেনি। তাঁদের দাবি প্রতিযোগিদের মধ্যে কেউই ঠিকঠাক ভাবে কিশোরকুমারের গান গেয়ে উঠতে পারেননি।

শুধু প্রতিযোগীরাই নন, বিচারকের আসনে বসে থাকা নেহা কক্কর এবং হিমেশ রেশমিয়াও কিশোর কুমারের গান গাইতে পারেননি বলে সোশ্যাল মিডিয়াতেও দাবি উঠেছে। উল্লেখ্য, এদিনের এই বিশেষ কিশোর পর্বে উপস্থিত ছিলেন কিশোরকুমারের পুত্র অমিত কুমার। তাঁকেও দেখা যায়, তিনিও প্রতিযোগীদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করছেন! এতে দর্শকরা আরো ক্ষেপে যায়।

তাহলে কি অন্য কোনও ব্যাপার চলে এইসব শোয়ের অন্দরমহলে!

শ্রোতারা স্যোশাল মিডিয়ায় বিপুল অভিযোগ জানালে শেষ অবধি মুখ খোলেন স্বয়ং কিশোর পুত্র অমিত কুমার। প্রথম বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে অমিত কুমার জানালেন, “আমাকে সকলের প্রশংসা করতে বলা হয়েছিল, তাই আমি করেছি। আসলে শোতে কেউই কিশোর কুমারের মতো গান গাইতে পারবেন না। বর্তমান প্রজন্ম শুধু ‘রূপ তেরা মাস্তানা’ গাইতে পারেন। ওই গানটাই বেশি গায়।”

এরসঙ্গে অমিত কুমারের অকপট সংযোজন, তিনি যে পরিমাণ টাকা দাবি করেছিলেন চ্যানেল কর্তৃপক্ষ তাঁকে সেই টাকাই দিয়েছেন। তাই তিনিও প্রতিযোগীদের ভূয়সী প্রশংসা করতে কার্পণ্য করেননি!

কয়েক বছর আগে সঙ্গীতশিল্পী অভিজিৎ জানিয়েছিলেন, “রিয়্যালিটি শোগুলো বছরে ছ’মাস করে হয়। এগুলো সিরিয়ালের মতোই ব্যবসা। এখান থেকে কোনও শিল্পী জন্মায় না। কোনও নতুন গানও জন্মায় না। সিরিয়ালের নতুন মুখ অভিনেতার মতো এখানেও নতুন গাইয়ে জন্মায়। শিল্পী জন্মায় না।”

অভিজিৎ যে ভুল নন তাঁর প্রমাণ অমিত কুমারের অকপট স্বীকারোক্তি।

তবে অমিত কুমার ছাড়াও সঙ্গীতের সরস্বতী আশা ভোঁসলেও স্পেশাল বিচারক হয়ে আসেন এই শোতে। আশা ভোঁসলে এর পর এক অকপট স্বীকারোক্তিতে যা বললেন, তা যেন আব্রু খুলে দিয়েছে রিয়্যালিটি শোগুলোর পাকশালার।

আশা ভোঁসলে স্পষ্ট জানান, “ওঁদের কাছে গান নেই। তাই আমাদের গাওয়া গান গাইছেন! কারও নিজের গান নেই, তাই আমাদের স্বর্ণযুগের গানকেই ভেঙেচুরে গাইছে। স্বর্ণ যুগের গানকে ভেঙেচুরে, নেচে গেয়ে যে ভাবে পারছে পরিবেশন করছে এই প্রজন্ম। যা অসহ্য। নতুন গান না হলে শিল্পী তৈরির সার্থকতা কথায়।”

এমন ঠোঁটকাটা স্পষ্ট জবাবে আশা ভোঁসলে আসল সত্যিটা বলে দিয়েছেন। তবে এই শোতে অংশগ্রহণ করে শোয়ের প্রশংসা করে আশা বলেন, “স্বর্ণযুগের গান নিয়ে এই পরীক্ষানিরীক্ষা মেনে নিয়েছি। প্রযুক্তির উন্নতি মানতেই হবে। এই প্রজন্ম তাকে কাজেও লাগাবে। তাছাড়া, এ সবই এখন চলছে।’’

পাশাপাশি তিনি এও বলেন, যে ভাবেই গাওয়া হোক সেই পুরনো আমলকেই আঁকড়ে থাকতে হচ্ছে! এটা তাঁর কাছে আনন্দের, গর্বের বিষয়। গায়িকার দাবি, এ ভাবে কত পুরনো গান নতুন করে শুনছেন সবাই। মনে রাখছেন। অনুষ্ঠানে শুনতেও চাইছেন। “কবে গেয়েছি! তার পর ভুলেও গিয়েছি। এই প্রজন্ম সেই সব গান মনে রেখে দিয়েছে। এক জন শিল্পীর কাছে এর থেকে বড় তৃপ্তি আর কী হতে পারে?”– বললেন আশা।

কিন্তু স্বতন্ত্র নতুন গান, নিজস্ব সিগনেচার গান না থাকলে সেই রিয়্যালিটি শোয়ের আর্টিস্টকে কেউ মনে রাখবে? কেউ কেউ নতুন গান দু একটা গাইলেও সেগুলো বাজানোর মাধ্যম নেই। রেডিও, এফএম-এ যেভাবে সবাই মিলে গান শুনতে পেত, সেই আমজনতার হিট গান কিন্তু ইউটিউবের সিঙ্গেলে হচ্ছে না। তাই লেজেন্ডরা নিজেদের পারিশ্রমিক বুঝে নিলেও, কোথাও যেন চিন্তিত নতুন প্রজন্মের নতুন গান না থাকায়।

You might also like