Latest News

‘লক্ষ্মী ভাণ্ডার’ সাজিয়েছেন অপরাজিতা, সাড়ে চার বছর পর সিরিয়ালে ফেরা

শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’— এই বিশেষ রাজনৈতিক সরকারি প্রকল্পটি গত বছরে বাংলার প্রতিটি মা কাকিমা বৌদিদের রোজগেরে করে তুলেছে। কিন্ত যদি গৃহবধূ, মা, কাকিমারা নিজেরাই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মালকিন হন, তাহলে কেমন হয়?
ঠিক যেমন লক্ষ্মী কাকিমা। লক্ষ্মী কাকিমার দুটো সংসার। একটা নিজের স্বামী-পুত্র নিয়ে ঘর-গেরস্থালি আর দ্বিতীয়টা হল তাঁর মুদির দোকান ‘লক্ষ্মী ভাণ্ডার’। লক্ষ্মী কাকিমার হাসিমুখটাই এই ‘লক্ষ্মী ভাণ্ডার’ দোকানের প্রাণপ্রদীপ। আর দোকানের প্রাণপ্রতিমা লক্ষ্মী।আসছে জি বাংলায় নতুন সিরিয়াল ‘লক্ষ্মী কাকিমা সুপারস্টার’। নামভূমিকায় অপরাজিতা আঢ্য। অপরাজিতা মানেই অপার মাতৃস্নেহ-মাখা মুখ। সিরিয়ালের প্রথম প্রোমো আজ আসতেই উচ্ছসিত দর্শক। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ‘লক্ষ্মী কাকিমা’ অপরাজিতার হাসিমুখ। মা কাকিমার চরিত্র মানেই সাইড রোল নয়, প্রমাণ করছেন অপরাজিতা।স্বয়ং লক্ষ্মী কাকিমা কী বলছেন জানতে ইচ্ছে হয়! ‘দ্য ওয়াল’-কে এই মুহূর্তের এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে অপরাজিতা আঢ্য জানালেন ‘লক্ষ্মী কাকিমা’র কথা।

এবার একটা নতুন চরিত্রে ‘লক্ষ্মী কাকিমা’ হিসাবে আমরা অপরাজিতা আঢ্যকে পেতে চলেছি? এমন একটা চরিত্রে আপনাকে দেখে দর্শকদের উন্মাদনা তুঙ্গে। চরিত্রটা ঠিক কেমন?
অপরাজিতা-  ‘লক্ষ্মী কাকিমা’ চরিত্রটা নিয়ে এখন এই মুহূর্তে খুব একটা কিছু বলার নেই। কারণ চরিত্রটা এখনও ঠিক মতো তৈরি হয়নি। যেহেতু সিরিয়ালটার শ্যুটিং শুরু হয়নি। শুধু প্রোমো শ্যুট করেছি। সেই প্রোমো যে মানুষের এত ভালো লাগছে, সেটা জেনে আমি খুব খুশি। তবু চরিত্রটা করতে গিয়ে আপাতত যেটুকু আত্মস্থ করেছি সেটা বলছি।
‘লক্ষ্মী কাকিমা সুপারস্টার’ একজন মহিলার স্ট্রাগলের গল্প- যারা আমাদের সমাজেই আছেন। আমাদের কাছের মানুষদের মধ্যেই আছেন।

লিড চরিত্র ‘লক্ষ্মী’ এমন একজন মহিলা যার খুব কম বয়সে বিয়ে হয়ে যায়। সে বিশেষ লেখাপড়া জানেনা বলে স্বনির্ভর হতে এবং সংসার চালাতে একটা মুদির দোকান করে। ‘লক্ষ্মী ভাণ্ডার’। সেই মুদির দোকানটা খুব ভালো চলে। এবার, লক্ষ্মী যে শুধু মুদির দোকানে জিনিস বিক্রি করে তা নয়। পাড়ার অনেক মানুষ সুপরামর্শ নিতেও আসে লক্ষ্মীর কাছ থেকে। কারও সংসারে অশান্তি, কারও ব্যক্তিগত অসুবিধে, সবাইকেই সাজেশান দেয় লক্ষ্মী। পাড়ায় কোনও ঝামেলা হলে ছুটে যায় লক্ষ্মী। সবার কাছেই মুশকিল আসান হল লক্ষ্মী।কিন্তু  লক্ষ্মীর নিজের সংসারটা কোথাও অগোছালো! কোথাও লক্ষ্মীর মনের অন্তরালে একটা চাপা কষ্ট লুকিয়ে আছে। কিন্তু লক্ষ্মী মুখের হাসি দিয়ে সেই কষ্ট দুঃখগুলো খুব ভাল ম্যানেজ করে। সবার সামনে কখনওই লক্ষ্মী নিজের জীবনের দুঃখ আনতে নারাজ। এটাই হচ্ছে ‘লক্ষ্মী কাকিমা সুপারস্টার’ সিরিয়ালের গল্প আপাতত।

 

‘লক্ষ্মী কাকিমা’র লুক দেখেও তো দর্শকের মন ভালো হয়ে গেছে…
অপরাজিতা-  এই লুকেই তো দর্শক আমায় আজীবনকাল দেখে আসছে। আর যেহেতু নিজের বাড়ির মা কাকিমার মতোই চরিত্রটা, তাই সাজগোজগুলোও খুব ভালো রিলেট করতে পারছে দর্শক।
বেশ কয়েক বছর পর তো ছোটপর্দায় ফিরলেন?
অপরাজিতা-  আমি সাড়ে চার বছর পর আবার সিরিয়ালে ফিরলাম। আমি বলেছিলাম সিরিয়াল করতে চাই, ভালো চিত্রনাট্য পেলে। কিন্তু করা হয়ে উঠছিল না। ফিল্মে অভিনয় করার চাপ এত বেশি ছিল যে সিরিয়ালে কাজ করা হয়নি। পরপর আমার ছবির কাজ চলছিল। সিরিয়ালেরও একটা দর্শক থাকে। টেলিভিশন তো আমায় অনেক কিছুই দিয়েছে, আর করতেও ইচ্ছে করে ভালো সিরিয়াল। ফিল্মের কাজে একটু চাপ কমল তাই আবার সিরিয়ালে ফেরা। সিরিয়ালে দেবশঙ্কর হালদারের মতো দাপুটে থিয়েটার অভিনেতা আপনার স্বামীর ভূমিকায়। এ কদিনে তাঁর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
অপরাজিতা- দেবশংকরদার সঙ্গে কুড়ি বছর আগে কাজ করেছিলাম। তখন তো জি বাংলা ছিল না। আলফা বাংলা। আলফা বাংলায় আমি আর দেবশংকরদা একসঙ্গে কাজ করেছিলাম ‘ইস্কাবনের বিবি’ ধারাবাহিকে। সেটা সেসময়ে দাঁড়িয়ে বেশ অন্যধারার সিরিয়াল ছিল। তার কুড়ি বছর পর দেবশংকরদার সঙ্গে মেগা সিরিয়ালে আমার এই প্রথম কাজ। মাঝে ওঁর সঙ্গে ছবিতে কাজ করেছি। সিরিয়ালে একটানা কাজ করব আমরা বহুদিন পর তো বটেই। দেবশংকরদা নিজেও এগারো বছর পর সিরিয়ালে অভিনয় করছেন।‘লক্ষ্মী কাকিমা সুপারস্টার’ সিরিয়ালের পরিচালক কে? কোন হাউসের মেগা এটি?
অপরাজিতা-  সুশান্ত (দাস)এর সিরিয়াল। ‘টেন্ট হাউস’-এর।
সরকারি রাজনৈতিক জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর কথা মাথায় রেখেই কি এমন নাম সিরিয়ালের আর লক্ষ্মীর দোকানের?
অপরাজিতা – না নাহ (স্বভাবসিদ্ধ হাসিতে অপরাজিতা)! এই মহিলার নাম লক্ষ্মী। তাঁর নিজের প্রচেষ্টায় তৈরি দোকান, তাঁরই নামে ‘লক্ষ্মী ভাণ্ডার।’ আর তাঁকে সবাই ডাকে ‘লক্ষ্মী কাকিমা’ নামে। সেই নামেই সিরিয়ালের নাম ‘লক্ষ্মী কাকিমা সুপারস্টার’।

লক্ষ্মী ওরফে অপরাজিতা আঢ্য তাঁর দর্শকদের কী বলবেন?
অপরাজিতা-  দর্শকদের বলব ‘লক্ষ্মী কাকিমা সুপারস্টার’ সিরিয়ালটা দেখলে তাঁরা নিজেদের দিনযাপনের সঙ্গে খুব মেলাতে পারবেন। কোভিডের পর আমরা যেভাবে সাফার করছি সবাই, সেই জায়গা থেকে দর্শক খুব রিলেট করতে পারবে। খুব ভালো লাগবে মানুষের এটুকু বলতে পারি।

You might also like