শুক্রবার, নভেম্বর ১৫

ছোট থেকেই চাপ ছিল, সবাই চাইত দেখতে সুন্দর হই: সমীরা রেড্ডি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৈশোরের ছবি শেয়ার করে স্মৃতির রাস্তায় হাঁটেন বহু তারকাই। তবে নিজের ছোটবেলার ছবি শেয়ার করে এক ভয়ঙ্কর তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা সকলকে জানালেন সমীরা রেড্ডি। বডি শেমিংয়ের বিরুদ্ধে হামেশাই নানান পোস্ট শেয়ার করে থাকেন অভিনেত্রী। তবে এ বার জানালেন কিশোরী বেলাতেই তাঁর সঙ্গে হওয়া বেশ কিছু ঘটনার কথা।

সমীরা জানিয়েছেন, খুব অল্প বয়সেই তাঁকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে তিনি সুন্দরী নন। কীভাবে সুন্দর হওয়া যায় তাই নিয়েই সারাদিন জ্ঞান দিতেন আশেপাশের চেনা পরিচিত মানুষরা। সমীরার কথায়, “বয়স তখন অল্প ছিল। এসব শুনে খুব ভেঙে পড়তাম। আমি সুন্দরী নই এই শুনেই বড় হয়েছি। বড্ড অল্প বয়স থেকেই এই ব্যাপারটা নিয়ে আমায় ভীষণ স্ট্রাগল করতে হয়েছে। আঘাত পেয়েছি কাছের লোকেদের থেকেই। সেসময় আমার আত্মবিশ্বাস একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল।”

আজ সমীরা দুই সন্তানের মা। সাংসারিক জীবনেও তিনি সফল এবং সুখী। স্বামী, পরিবার, সন্তানকে সময় দেবেন বলেই নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন ছবির দুনিয়া থেকে। তবে সব ভালোর মধ্যেই কোথাও একটু যেন খারাপ রয়েই গিয়েছে। সমীরা বলেছেন, “এখনও কত জনের থেকে নিজের ব্যাপারে কত মন্তব্য শুনতে হয়। খুব কাছের মানুষরাই এসব বলেন। মনে খুব আঘাত লাগে।”

শুধু কিশোরী বেলায় নয়, প্রথমবার মা হওয়ার সময়েও সমীরার অভিজ্ঞতা ছিল মারাত্মক। অভিনেত্রী নিজেই জানিয়েছেন ছেলে হংস হওয়ার সময় তাঁর ওজন হয়েছিল ১০২ কেজি। বহুদিনের চেষ্টার পরে স্বাভাবিক ওজনে ফিরেছিলেন তিনি। তবে সে সময় নানান কটূক্তি শুনতে হয়েছিল সমীরাকে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ঙ্কর ছিল যে বাড়ি থেকে কোথাও বেরোতে ভয় পেতেন তিনি। সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকতেন যে এই বুঝি চেহারা নিয়ে তাঁকে কেউ খোঁটা দিল। মন ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি নিজের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলেন সমীরা।

তবে দ্বিতীয়বার মেয়ে হওয়ার সময় আর এসব ট্রোলকে পাত্তা দেননি সমীরা। বরং জমিয়ে উপভোগ করেছেন মাদারহুড। ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছিলেন মা হওয়ার সময় তাঁর চেহারা বিভিন্ন পর্যায়। প্রতিটি ছবির সঙ্গেই থাকত সমীরার দেওয়ার অনুপ্রেরনামূলক মেসেজ। তাঁর মতো নতুন মা হওয়া অনেককেই সাহস জুগিয়েছিলেন সমীরা। নেটিজেনদের প্রশংসাও পেয়েছিলেন দেদার।

পড়ুন ‘দ্য ওয়াল’ পুজো ম্যাগাজিন ২০১৯–এ প্রকাশিত গল্প

প্রতিফলন

Comments are closed.