মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৮
TheWall
TheWall

দু’মাসের মেয়েকে নিয়ে কর্ণাটকের উচ্চতম পাহাড় চড়লেন সমীরা রেড্ডি, ভাইরাল ছবি

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’মাসের মেয়েকে নিয়েই কর্ণাটকের উচ্চতম শৃঙ্গ মুল্লায়ানগিরি (Mullayanagiri) ক্লাইম্ব করেছেন অভিনেত্রী সমীরা রেড্ডি। ৩৫ বছরের বলিউড অভিনেত্রী এবং মডেল সোমবার নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। সেখানেই জানিয়েছেন, সদ্য মা হওয়ার পর পাহাড় চড়ার অভিজ্ঞতাটা ঠিক কেমন।

সমীরা লিখেছেন, “মেয়ে নায়রাকে নিয়েই পাহাড়ে চড়া শুরু করেছিলাম। মাঝপথে থামতে বাধ্য হলাম। ৬৩০০ ফুট উপরে ওঠার জন্য আর দম নেই আমার। নিজের ওজনের সঙ্গে আরও ৫ কেজি একস্ট্রা নিয়ে হাঁটছিলাম। হাঁপিয়ে গেছি। শীর্ষে পৌঁছতে হলে এখনও প্রায় ৫০০ ধাপ উঠতে হবে। তবে আমার আর দম নেই।” গোটা ভিডিওতে সমীরার চোখে-মুখে লেগে ছিল এক অদ্ভুত আনন্দ। ক্লান্তির ছাপ মুছে ফেলে দিব্যি হেসেই সমীরা বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন যে মেয়ের সঙ্গে জার্নিটা দারুণ উপভোগ করেছেন তিনি।

সমীরার পোস্ট দেখে উচ্ছ্বসিত সদ্য মা হওয়া আরও মহিলারা। সকলেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাঁকে। অনেকে নতুন মা-ই লিখেছেন, “সমীরার এই উদ্যোগ দেখে তাঁরাও সাহস পেয়েছেন নিজেদের ছোট্ট সন্তানকে নিয়ে ট্র্যাভেল করার।” সকলের উচ্ছ্বাস দেখে অভিভূত সমীরাও। তিনি বলছেন, “এত মানুষের ভালোবাসা পেলাম। বিশ্বাসই হচ্ছে না যে আমার মতো নতুন মায়েদের আমার এই প্রয়াস ভালো লেগেছে। অনেকেই বলছেন আমার ট্র্যাভেল স্টোরি তাঁদের অনুপ্রেরণা দিয়েছে। এটাই আমার সেরা পাওনা।” সমীরার কথায়, “পোস্ট প্রেগন্যান্সি স্টেজে অনেকেই বিমর্ষ হয়ে পড়েন। কিন্তু আমি ঠিকই করেছিলাম কিছুতেই ভেঙে পড়ব না। তাই নায়রাকে নিয়েই বেরিয়ে পড়েছিলাম। সময়মতো বিভিন্ন জায়গায় থেমে ওকে খাবারও খাইয়েছি। খুব এনজয় করেছি পুরো ব্যাপারটা।”

বরাবরই চেনা ছকের বাইরে হাঁটতে ভালোবাসেন। পরিবারকে প্রায়োরিটি দেবেন বলে সিনেমা জগত থেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন নিজেকে। এর জন্য কোনও আফশোস নেই তাঁর। ২০১৪ সালের ২১ জানুয়ারি বিয়ে করেন ব্যবসায়ী অক্ষয় ভদ্রেকে। ২০১৫-এ জন্ম দিয়েছিলেন ছেলে হংসের। শোনা যায় সে সময় সমীরার ওজন অস্বাভাবিক বেড়ে হয়েছিল ১০২ কেজি। দেদার ট্রোলড হয়েছিলেন তিনি। তবে বেশ ট্যাক্টফুলি হ্যান্ডেল করেছিলেন নেটিজেনদের ট্রোল। সমীরা বলেছিলেন, “ওজন বেড়ে যাওয়ায় অনেকের অনেক বাঁকা কথা শুনেছি। তবে সকলকে বলতে চাই মেকআপ ছাড়াই আমি আত্মবিশ্বাসী। ওজন নিয়েও সমস্যা নেই। গর্ভবতী হলে সব মহিলারই ওজন বাড়ে। আবার কমেও যায়।”

দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের আগে জলের তলায় ফটোশ্যুট করিয়েছিলেন সমীরা। এ বার অবশ্য বেবি বাম্পের জন্য আর ট্রোলড হননি তিনি। বরং তাঁর সাহস মনজয় করেছিল নেটিজেনদের। সমীরার কথায়, “লাইমলাইটে থাকার প্রধান সমস্যা হল, নিজেকে সবসময় গুছিয়ে পারফেক্ট রাখা। কারণ দর্শকরা তাঁদের প্রিয় নায়িকাকে সব সময় টিপটপ, পারফেক্ট দেখতে চান। মানুষ ভুলে যান, অভিনেত্রীদেরও একটা ব্যক্তিগত জীবন আছে। তাঁরাও গর্ভবতী হন, সন্তানের জন্ম দেন, তাই তাঁদের চেহারাতেও একটা পরিবর্তন আসে। এখন আমি আর সমালোচনায় ভয় পাই না। অন্যের বিচারের তোয়াক্কাও করি না। ঘুম থেকে উঠে আমার মুখটা কেমন, সেটাই দেখাতে চাই সকলকে। কারণ এই লুকেই আমি পারফেক্ট।”

Share.

Comments are closed.