বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৮

প্রেম না দেশের প্রতি কর্তব্য? মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে ব্যতিক্রমী গল্প বলে ‘সীমানা পেরিয়ে’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা সিরিয়াল মানেই শাশুড়ি-বউমার কচকচানি, কুচুটে কিম্বা রমণীরতন স্বামীর তিনটে-চারটে বিয়ে, কুসুম কোমল বৌমার ছলছল চোখ, থরথর অধর এবং আদ্যোপান্ত পুরুষতন্ত্রের বিজ্ঞাপন… রণে-বনে-জলে-জঙ্গলে কান পাতলে এমন কথাই শোনা যায় হরদম। কিন্তু নিয়মের ব্যতিক্রমও এক ধরনের নিয়ম। আর সেই ব্যতিক্রমের পথেই এগিয়ে চলেছে সান বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক “সীমানা পেরিয়ে”।

৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এই ধারাবাহিকের পটভূমি। ধারাবাহিকের মূল চরিত্র পদ্মা ভারতের মেয়ে। বাবা আর ঠাম্মির খোঁজে সে বর্ডার পেরিয়ে পৌঁছে যায় পূর্ব পাকিস্তানে। সেখানের এক বিত্তবান ব্যবসায়ী হীরণ্ময় মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে সে নিযুক্ত হয় গভর্নেস হিসেবে। কিন্তু আসলে সে ভারতের গুপ্তচর। কঠোর ট্রেনিং, প্রতি মুহূর্তের ঝুঁকি, প্রাণ হাতে করে তথ্য পাচার…এই সবই পদ্মার জীবনের রোজকার ঘটনা।  কিন্তু দেশের প্রতি কর্তব্য পালনের পাশাপাশি কখনও কি পদ্মা চাইবে না, একেবারে নিজস্ব একজন ভালোবাসার মানুষ?

সংসারের আকাঙ্খা আর দেশের প্রতি কর্তব্য… এই টানাপড়েন আর মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবহুল ইতিহাসের মধ্যে দিয়েই এগিয়ে যায় “সীমানা পেরিয়ে” ধারাবাহিকের গল্প।

কী পরিণতি হবে পদ্মা (কুয়াশা) আর আর্যর (হৃতজিৎ)প্রেমের?

আদ্যন্ত রিসার্চধর্মী এই সিরিয়াল। এখানে মাঝে মধ্যেই উঠে আসে শেখ মুজিবর রহমানের নাম। কখনও দেখা যায় ভোলা সাইক্লোনের ভয়াবহতা, কখনও পাক সেনার বর্বরোচিত আচরণ, নারী পাচারের মত নির্লজ্জ ইতিহাসের চিত্রায়ণ। সব মিলিয়ে বলা যায়…চিরাচরিত সাংসারিক কূটকচালি, অভ্যেসের হলদে ছোপ পড়ে যাওয়া প্রথাগত সাংসারিক দায়দায়িত্বের “সীমানা পেরিয়ে” এই ধারাবাহিক সত্যিই এক নজিরবিহীন, উল্লেখযোগ্য এবং প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা।

এই মুহূর্তে সীমানা পেরিয়ে ধারাবাহিকে দেখানো হচ্ছে পাক সেনার অস্ত্র লুণ্ঠনের মতো দুঃসাহসিক ঘটনা। কী ভাবে পদ্মা সমস্ত বাধা পেরিয়ে বিপ্লবীদের সঙ্গে গিয়ে বুদ্ধি দিয়ে অস্ত্র লুণ্ঠন করে, দেখতে হলে চোখ রাখুন সান বাংলায়, প্রতিদিন রাত ৮টায়।

Comments are closed.