বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

‘লড়াকু কঙ্গনাকে সমর্থন করতাম, এই কঙ্গনা তাঁর মর্যাদা হারিয়েছে,’ সাংবাদিক-বিতর্কে মুখ খুললেন স্বস্তিকা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনিও স্পষ্টবক্তা। সাহসিনী। মুখের ওপর সত্যি কথা বলতে কখনও তাঁর অসুবিধে হয়নি। তাতে কে কী মনে করলেন, থোড়াই কেয়ার। অন্তত তেমন ভাবেই স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়কে চেনেন সকলে। ডাকাবুকো মেজাজে কঙ্গনা রানাওয়াতের সঙ্গে তাঁর অনেকটাই মিল। ক্যামেরার সামনে তিনিও ঠোঁট কাটা, সপাটে জবাব দিতে পছন্দ করেন। কিন্তু, সাংবাদিক-বিতর্কে কঙ্গনার পাশে দাঁড়াতে দেখা গেল না স্বস্তিকাকে। বরং গোটা ঘটনার জন্য কঙ্গনার উগ্র মেজাজ এবং নির্বুদ্ধিতাকেই দায়ী করলেন স্বস্তিকা।

টলিউডে কান পাতলে শোনা যায়, স্বস্তিকার মন আর মুখ নাকি একই কথা বলে। কখনও সৃজিত-স্বস্তিকার ব্যক্তিগত রসায়ন, কখনও পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রেম আবার কখনও তাঁর খোলামেলা শরীরী আবেদন নিয়ে চর্চা, স্বস্তিকাকে নিয়েও বিতর্ক কিছু কম হয়নি। তবে তাঁকে নিয়ে যে কোনও আলোচনাতেই সপ্রতিভ দেখা গেছে নায়িকাকে। কঙ্গনা-সাংবাদিক বিতর্কেও সম্প্রতি মুখ খুলেছেন স্বস্তিকা। টুইটারে তিনি লিখেছেন, “কঙ্গনার সাহসী মনোভাব, তাঁর মেধাকে বরাবরই সম্মান করি। কঙ্গনার লড়াইকে সমর্থন করেছি সব সময়। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে কঙ্গনা নিজেকে হারিয়ে ফেলছেন, সংযত রাখতে পারছেন না।” স্বস্তিকার কথায়, “সাংবাদিকদের সঙ্গে কঙ্গনার এই লড়াইটা ক্রমশই মর্যাদা হারাচ্ছে। একটা কুরুচিকর, উপহাসের জায়গায় চলে যাচ্ছে। তার উপর কঙ্গনার দিদির হুমকি, বেলাগাম কথাবার্তা সব সম্ভ্রমের সীমাই লঙ্ঘণ করেছে।”

‘জাজমেন্টাল হ্যায় কেয়া’ ছবির অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আচমকাই রাগে ফেটে পড়েন কঙ্গনা। জাস্টিন রাও নামে এক সাংবাদিককে অত্যন্ত কুৎসিত ভাষায় আক্রমণ করে বসেন। তাঁর দাবি ছিল, ‘মণিকর্ণিকার’ সিনেমা নিয়ে নাকি অপপ্রচার করেছিলেন জাস্টিন। সেই সিনেমার খারাপ রিভিউ লিখেছিলেন। বচসা এতটাই বিরাট আকার নেয় যে কঙ্গনাকে বয়কট করার হুমকি দেন সাংবাদিকরা। মুম্বইয়ের এন্টারটেনমেন্ট জার্নালিস্টস গিল্ড অফ ইন্ডিয়ার দশ জন সিনিয়র সাংবাদিকের একটি দল মঙ্গলবার একতা কপূরের অফিসে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা দাবি তোলেন, সাংবাদিকদের নোংরা ভাষায় আক্রমণের জন্য কঙ্গনাকে লিখিত ভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। না হলে মিডিয়া পুরোপুরি কঙ্গনাকে বয়কট করবে। অস্বস্তিতে পড়ে ছবির প্রযোজক একতা কপূর ও তাঁর বালাজি টেলি ফিল্মস বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা চেয়ে নেন। কিন্তু, ক্ষমা চাইতে সাফ মানা করে দেন কঙ্গনা।

সাংবাদিক-কঙ্গনা কথার লড়াইয়ের মাঝেই আসরে নামেন কঙ্গনার দিদি ও ম্যানেজার রঙ্গোলি চান্দেল। টুইটারে তিনিও একহাত নেন সাংবাদিকদের। ‘দেশদ্রোহী’, ‘বিকাও’ বলে সাংবাদিকদের মজা দেখানোর হুমকিও দেন। রঙ্গোলির কথাকে সমর্থন করেন কঙ্গনা। টুইটারে ভিডিয়ো শেয়ার করে তিনি বলেন, “কিছু সাংবাদিককে আমি সম্মান করি। তাঁরা আমাকে অনেক প্রচার দিয়েছেন। তবে কয়েকজন আছেন যাঁরা শুধু ফ্রি-তে খাবার খেতে আর মিথ্যা কথা ছাপতে সাংবাদিক বৈঠকে ছুটে যান। এঁদের মধ্যেই তিন-চার জন দল পাকিয়ে আমাকে বয়কট করার কথা বলছেন। ” কঙ্গনার দাবি, “এই সাংবাদিকরা ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়ে যায়। আমি চাই এঁরা আমাকে বয়কট করুন, না হলে আমি এঁদের মজা দেখাবো।কী ভাবে এঁদের ঘরে হাড়ি চড়ে সেটা দেখে নেবো।”

শুধু স্বস্তিকা নন, কঙ্গনাকে সমর্থন করেননি অনেক টুইটারাইটরাই। কমেন্ট বক্সে অনেককেই লিখতে দেখা গেছে, “কঙ্গনার কথাকেই বাস্তবে তাঁর দিদি তুলে ধরছেন। তিনি এ ভাবে কঙ্গনাকে আরও নীচে নামিয়ে দিচ্ছেন। আশ্চর্যের বিষয়, সকলেই দুর্নীতিগ্রস্ত, শুধু মাত্র এই দুই-বোন ভালো, ভাবা যায়! ”

আরও পড়ুন:

‘দেশদ্রোহী, বিক্রি হয়ে যাওয়া সাংবাদিকদের কাছে আমি ক্ষমা চাইব না,’ ফের বিস্ফোরক কঙ্গনা

Comments are closed.