মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭

হাজার সমালোচনার ভিড়েও ‘কবীর সিং’ নিয়ে রয়েছে ক্রেজ, ব্যবসা পৌঁছল ২৫০ কোটিতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: যতই সমালোচনা হোক না কেন, ‘কবীর সিং’ যে বক্স অফিসে জমিয়ে ব্যবসা করবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন ছবির পরিচালক সন্দীপ ভেঙ্গা রেড্ডি। বলেছিলেন, “আমি আশাবাদী যে খুব জলদিই ছবির বক্স অফিস কালেকশন পৌঁছবে ৩০০ কোটিতে।” পরিচালকের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই পাল্লা দিচ্ছে শাহিদ কাপুর এবং কিয়ারা আডবাণী অভিনীত ‘কবীর সিং’। রিলিজের দু’সপ্তাহের মধ্যেই ছবির বক্স অফিস কালেকশন দাঁড়িয়েছিল ডবল সেঞ্চুরির দোরগোড়ায়। এখন ছবির মোট ব্যবসার পরিমাণ ২৫০ কোটি। পরিচালকের স্বপ্ন পূরণ হতে আর মাত্র কয়েক মুহূর্তের অপেক্ষা।

ভিকি কৌশলের ‘উরি-দ্য সার্জিকাল স্ট্রাইক’ এবং সলমন খানের ‘ভারত’ ছবির পর ‘কবীর সিং’-ই এখনও পর্যন্ত ২০১৯-এর ব্লকবাস্টার ছবি। দক্ষিণী ছবি ‘অর্জুন রেড্ডি’-র রিমেক শাহিদের নতুন ছবি। অভিনেতার কেরিয়ারেও এই ছবির সাফল্য ছাপিয়ে গিয়েছে বাকি সব সিনেমাকে। ওপেনিং উইকেই ছবির ব্যবসার পরিমাণ ছিল ১৩৪.৪২ কোটি। ট্রেন্ড দেখে প্রথমেই ফিল্ম ক্রিটিক এবং ট্রেড অ্যানালিস্টঅরা বলেছিলেন এ ছবি দ্রুত ভেঙে দেবে বহু নামিদামী ছবির রেকর্ড।

তবে এত সফলতার মাঝেও এসেছে নানান বিতর্ক। যদিও ছবি দেখে মুগ্ধ শাহিদের ভক্তরাও। সকলেই বলছেন, ‘যব উই মেট’, ‘হায়দার’ এবং ‘উড়তা পাঞ্জাব’-এর পর ফের একবার শাহিদ প্রমাণ দিলেন যে অভিনয়ে তিনি টক্কর দিতে পারেন বলিউডের তাবড় অভিনেতাদের। তাঁর অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন নিন্দুকেরাও। কিন্তু যে চরিত্রে শাহিদ অভিনয় করেছেন সেই ‘কবীর সিং’-কেই নিয়ে বারবার উঠছে নানান প্রশ্ন। এই ছবিতে একজন সার্জেনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাহিদ কাপুর। ছবি দেখে ডাক্তারদের একটা অংশের মত, “মেডিক্যাল পড়তে এসে এত প্রেম করলে আর অ্যালকোহলিক হলে, পড়াশোনা লাটে উঠবে।” কেউ বা বলছেন, বাস্তবে এমন কোনও মানুষের সঙ্গে কোনও মেয়েই সম্পর্কে থাকতে পারবে না। এসব সেলুলয়েডেই মানায়।

এসবের মধ্যেই বিতর্ক আরও উস্কে দিয়েছে পরিচালক সন্দীপ ভেঙ্গা রেড্ডির মন্তব্য। একটি সাক্ষাৎকারে সন্দীপ বলেন, আপনি যদি আপনার ভালোবাসার মানুষটিকে মন থেকে ভালবাসেন, সে ক্ষেত্রে আপনার ও আপনার পার্টনারের একে অন্যকে চড় মারার অধিকার রয়েছে। এতে দোষের কিছু নেই। আপনি পুরুষ হলেও আপনার সেই অধিকার রয়েছে।” এখানেই থামেননি পরিচালক। ছবির বিশেষ দৃশ্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, “প্রেমিকার যদি প্রেমিককে চড় মারার অধিকার থাকে, তাহলে উল্টোটাও রয়েছে। যে সম্পর্কে প্রেমিক-প্রেমিকার একে অন্যকে চড় মারার, চুমু খাওয়ার কিংবা ছোঁয়ার অধিকার থাকে না, সেই সম্পর্ককে আমি সম্পর্ক বলেই মনে করি না। কারণ সেক্ষেত্রে ব্যাপারটা আবেগহীন এবং নিষ্প্রাণ।” সমালোচনাকারী বলি পরিচালকদের উদ্দেশে সন্দীপ বলেছেন, “যাঁরা এই ছবির নিন্দে করছেন, মনে হয় তাঁরা কোনও দিন অন্তর থেকে কাউকে ভালবাসেননি। অথবা তাঁরা আমায় একেবারেই পছন্দ করেন না।”

পরিচালকের এই মন্তব্যের পর সমালোচনার ঝড় উঠেছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। সন্দীপও দাবি করেছেন যে তিনি এমন কথা বলেননি। বরং বিকৃত করা হয়েছে তাঁর বক্তব্য। তবে হাজার সমালোচনার মধ্যেও ক্রেক রয়েছে এই ছবি নিয়ে। তিমধ্যেই ‘কবীর সিং’-এর টানে বেশ কিছু জায়গায় বয়স বাড়িয়ে (পড়ুন ১৮ না হওয়া দর্শকরাও) হলে পৌঁছে গিয়েছিল অনেক কিশোর-কিশোরী। এমনকী রিলিজের পর বেশ কয়েক সপ্তাহ কেটে গেলেও হাউসফুল যাচ্ছে বিভিন্ন সিনেমা হল।

Comments are closed.