বিয়ের খবরটা সেনসেশনালাইজ করতে চাইনি: জুন মালিয়া

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

    ‘মম যৌবন অভিসার পথে
    আজও আসে নাই, আজও আসে নাই
    কোনো সাথী।
    মম রবিহীন দিনের শেষে, আঁধার ভরা রাতি,
    আজও আসে নাই কোনো সাথী।’

    রাজা সেনের ‘ল্যাবরেটরি’ ছবিতে এই গান ছিল যৌবন সরসী জুন মালিয়ার লিপে। আজকে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে, সত্যি তো! এ গান কত প্রাসঙ্গিক! নায়িকার মন পড়তে পেরেছেন কোনও মনের সাথী, পুরুষ এত দিনে। এত পথ এত লড়াই পেরিয়ে, শেষে কোথাও একটা খুঁটি-বন্ধুর কাঁধে মাথা রাখার দরকার।

    কিন্তু কেউ যেমন বিয়ে অল্প বয়সে করে কষ্টে থাকতে পারে, কেউ মধ্য বয়সে করে ভাল থাকতে পারে, কেউ বিয়ে না করেও সারাজীবন ভাল বা খারাপ থাকতে পারে। তাতে সমাজের এত বিচারসভা কিসের?

    কিন্তু সব কিছুর পরেও এখন টক অফ দ্য টাউন সেই জুন মালিয়া। জুনের বিবাহ। জুন আজও স্থিরযৌবনা এবং তিনি আজও টক অফ দ্য টাউন হতে পারেন! এতগুলো বছর, প্রায় কয়েক যুগ ইন্ডাস্ট্রিতে কাটিয়েও। কিন্তু শুধুমাত্র খবরে থাকতেই কি দুই বড়-বড় সন্তানের মা বিয়ে করছেন? যেটা অনেকেই ভাবছেন? জুনের বিয়ে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে জনজীবনে হুলস্থুল আলোচনার গোল টেবিল বৈঠক বসে গেছে।

    কিসের এত সেনসেশন!

    অথচ জুনকে যখন ফোন করলাম, তিনি নির্বিকার। এসব নিয়ে তিনি নিরুত্তাপ। ফোনের ওপার থেকে বললেন “আমার বিয়ে নিয়ে কিসের এত কৌতূহল সবার? কিসের এত সেনসেশন! হ্যাঁ আমি বিয়ে করছি। তো!”

    সত্যি তো! এক জন পঞ্চাশ ছুঁই-ছুঁই মহিলা যখন বিয়ে করছেন, যাতে তাঁর সন্তানরা খুশি, হবু স্বামী খুশি, সেখানে সমাজ এত জাজমেন্টাল কেন? ভালবাসার স্বীকৃতি তো যে কোনও বয়সেই সম্ভব। আমরা এক জন নায়িকাকে কেন বয়স দিয়ে বিচার করি? কোনও মহিলা সমাজের বাঁধা গতের বাইরে কিছু ভাবলেই কেন তাঁকে সমালোচিত হতে হয়?

    গভীরে তলিয়ে একটু দেখা যাক, পিছিয়ে যাই আমরা কয়েক দশক।

    যখন ভাঙল মিলন মেলা… 

    জুন মালিয়ার অনেক কম বয়সেই প্রথম বিয়ে, দুই সন্তান এবং বিয়ে ভাঙা। জুন প্রাক্তন স্বামীর থেকে খোরপোশ দাবী করেননি সেই বয়েসে, যেখানে জুনের বাবা তখন ক্যানসারের রোগী। জুন এতটাই আত্মমর্যাদাসম্পন্না ছিলেন যে, সিদ্ধান্ত নেন যে লোকটি তাঁকে এবং তাঁর বাচ্চাদের ভালই বাসল না, সেখানে তার টাকায় বাচ্চাদের ভরনপোষণ করে কী লাভ!

    জুন তখন নিজের বাবার ওই অবস্থাতে কী করবেন, নিজের অবস্থার কথা বলবেন কি না, ভেবে পান না। কিন্তু শেষ অবধি জানান বাবাকে। তাঁর সাধের মেয়ের সাত পাকের বাঁধন খুলে গেছে। জুনের বাবা বলেন “তুমি এত ভেবো না, আমার কাছে চলে এসো বেবিদের নিয়ে।” বাপের বাড়ি চলে আসেন জুন। বাবা মা ভরসার হাত বাড়ান এবং নিজের মনের জোর জুনকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করে।

    সাহসি সিঙ্গেল মাদার

    নব্বই দশকে কিন্তু ‘সিঙ্গেল মাদার’ শব্দবন্ধটা বহুল প্রচলিত ছিল না। অনেকে কষ্ট করে, মেনে নিয়ে, মানিয়ে নিতেন। আপস করতেন। ভালবাসাহীন সংসার চলত। কিন্তু সে সময়ে জুন অনেকটাই এগিয়ে ভাবেন তাঁর দুই সন্তান শিবাঙ্গী ও শিবেন্দ্রর মানসিক বিকাশের জন্য। সন্তানদের ভাবনার সঙ্গেই কিন্তু মন দিয়েছেন নিজের কেরিয়ারে। যখন জুন ইন্ডাস্ট্রিতে আত্মপ্রকাশ, তখন যেন এক দমকা হাওয়া বয়ে গেল টালিগঞ্জ পাড়ায়। কে জানত তখন জুনের অতীত!

    ডেনিম জিনস, হোয়াইট শার্ট, এলো চুল, গোগো সানগ্লাস। সবার হৃদয়ে ঝড় তুললেন জুন, যে কোনও মাসেই। সবাই তখন পড়ছেন জুনের প্রেমে। পরে যখন কেউ কেউ জানছে জুন দুই সন্তানের মা, তাঁদের মন ভাঙছে। তবু জুনের থেকে তাঁদের মুক্তি হচ্ছে না। মুনমুন সেনের পরে বোধহয় এমন কোনও যৌবন সরসীর দেখা পেল বাংলা, যাকে দেখে সবাই থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে। এবং সেটা এখনও অব্যাহত।

    জুন কিন্তু টালিগঞ্জ পাড়ার বাঁধা গতের ঘোমটা দেওয়া পতিব্রতা নায়িকার মতো লুক নিয়ে আসেননি। ছিলেনও না অমন। তাই কাজও কম পেয়েছেন। ছবি কম পেয়েছেন। কিন্তু যে কাজ গুলো করেছেন, আজও লোকে মনে রেখেছে। সন্তানদের মানুষ করতে বা অন্য প্রয়োজনে, টাকার জন্য আজেবাজে ছবি কিন্তু সাইন করেননি জুন কোনও দিন।

    জুনের জয়যাত্রা

    জুন টিভিতে এসছিলেন ‘তৃষ্ণা’ সিরিয়াল দিয়ে। তখন থেকেই সবার দুপুরের ঘুম কেড়ে নেয় জুনকে দেখার তৃষ্ণা। এর পরে সুদেষ্ণা রায়ের সৌজন্য ঋতুপর্ণ ঘোষের একটি ডকুমেন্টরিতেও ছোট্ট অভিনয় জুনের। পরিচালক প্রভাত রায় তাঁর নতুন ছবির জন্য নতুন মুখ খুঁজছিলেন। সুদেষ্ণা রায় প্রভাত রায়কে বলেন জুনের কথা। জুন ফাইনালি সুযোগ পান বড় পর্দায়।

    ‘লাঠি’ সিনেমায় ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায় ও দেবশ্রী রায়ের বড় নাতনির ভূমিকায় জুনকে নিলেন প্রভাত রায়। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সুপারহিট সেই ছবিতে মাধ্যমিকে থার্ড ডিভিশন পাওয়া বখে যাওয়া মেয়ের ভূমিকায় অভিনয় করলেন জুন। যে সুন্দরী যে রূপ দিয়ে ভোলায় বিভিন্ন ছেলেকে। মাষ্টারমশাই ঠাকুর্দার শিক্ষায় শেষ অবধি বদল হয় নাতনির।

    অমন একটি বাণিজ্য সফল ছবি, অত বিগ স্টারকাস্ট– ভিক্টর, দেবশ্রী, প্রসেনজিৎ, শতাব্দী, অভিষেক, ঋতুপর্ণা, সেখানে জুন নিজের জায়গাটা বুঝিয়ে দেন। বুঝিয়ে দেন যে, এই মেয়ে হারতে আসেনি। এর পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।

    ‘রূপকথা’ সিরিয়ালে এক দুপুরে বাঙালির অন্দরমহলে ঝড় তুলল শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়-জুন মালিয়ার অন্তরঙ্গ শয্যাদৃশ্য। সে সময় এমন দৃশ্য যেন বাংলা টেলিভিশনকে সাবালক করল।

    চেনা পথের বাইরে হাঁটো

    ‘নীল নির্জনে’। যে ছবি বুঝিয়েছিল, নীল ছবি মানেই পর্ণোগ্রাফি নয়। লাভ চাইল্ড, লেসবিয়ান, বিয়ের আগে হানিমুন, বাংলা ছবিতে প্রথম বাংলা ব্যান্ড– সব কিছু মিলিয়ে নীল নির্জনে। সেখানেও নজর কাড়লেন সেই জুন। ছক ভাঙার আইকন হয়ে উঠলেন যেন।

    তার পরে টেলিভিশনের পর্দায় ইটিভি বাংলা চ্যানেলে ‘শ্রীমতী’ দিয়ে মডেলিং যেমন করেছেন তিনি, তেমনই প্রথম ‘দিদি নম্বর ওয়ান’ সিজনে সঞ্চালকও ছিলেন জুন। টেলিভিশনের স্বর্ণযুগে অঞ্জন দত্ত-সহ অনেকের টেলিছবিতে অভিনয় করেছেন জুন।

    জুন প্রথম মায়ের রোল করতে শুরু করেন ‘চারুলতা’ সিরিয়ালে। ‘সাঁঝের বাতি’র এক দশক আগে। তাও জুনের নাম শিরোনামে আজও ওঠে। জুন পাথ ব্রেকিং ছবি করেছেন বৌদির রোলে ‘তিন ইয়ারি কথা’। তার পরে আসে বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর ‘মন্দ মেয়ের উপাখ্যান’। জুনের আধখোলা ব্লাউজ পোস্টারে ছিল। ‘হঠাৎ বৃষ্টি’, ‘পদক্ষেপ’, ‘২২ শ্রাবণ’, ‘দ্য বং কানেকশন’, গৌতম ঘোষের ‘যাত্রা’।

    এখনও মেগা সিরিয়ালে কি ‘সোয়েটার’ সিনেমায় মায়ের রোল করলেও, ব্যক্তিত্বসম্পন্না জননী জুন সেখানেও দারুণ স্টাইল আইকন।

    জুন মালিয়া যেন মুনমুন সেনের উত্তরসূরী। ‘নীল নির্জনে’তে মুন আর জুন দুজনেই ঐ পাখিটাকে খুঁজচ্ছিল। পাখিটা বারবার ডাকত মন কেমন করিয়ে। খোঁজা কি শেষ হল? উত্তর মেলেনি। কিন্তু পরে বোঝা গেছে, মুন নিজের জায়গাটা জুনকে দিয়ে দিয়েছেন যেন।

    জুন মালিয়া-নন্দিনী মালিয়া মা-মেয়ে মিথ

    জুন এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাটিয়ে ফেলেছেন প্রায় ২৩ বছর। যখন প্রথম আসেন, তখন অনেকেই ভাবত বা জানত যে জুন অভিনেত্রী নন্দিনী মালিয়ার মেয়ে। এক পদবী হলে বাঙালি অমন মনগড়া মিথ বানিয়ে দেওয়ায় খ্যাত। নন্দিনীও তখন টেলিভিশন/ছবি করছেন। নন্দিনী ‘জননী’ সিরিয়ালে সুপ্রিয়া দেবীর বৌমার ভূমিকায় অভিনয় করছেন সদ্য। জুন করছেন ‘তৃষ্ণা’, ‘রূপকথা’য় লিড।

    চলছিল মা-মেয়ে মিথ। এই মিথ ভাঙল নন্দিনী মালিয়ার অকাল প্রয়াণে। জানা গেল, নন্দিনীর মেয়ে অন্য কেউ। নন্দিনীর মেয়ের নাম গুড়িয়া। জুন আর নন্দিনীর কোনও যোগসূত্রই নেই। নন্দিনী যেন মরিয়া প্রমাণ করিল জুন তাহার মেয়ে নয়!

    এসো মন দিয়ে মন ছুঁয়ে রাখি…

    জুনের সঙ্গে হবু বর সৌরভের চোদ্দো বছরের বেশি সময়ের বন্ধুত্ব। দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত এবং নেলী সেনগুপ্তের প্রপৌত্র সৌরভ। স্বাধীনতা সংগ্রামী যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তের নামে দক্ষিণ কলকাতায় রয়েছে অতি পরিচিত দেশপ্রিয় পার্ক।

    জুনের হবু বর সৌরভ চট্টোপাধ্যায় তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন স্টার স্পোর্টসের মার্কেটিং হেড হিসেবে। এর পর তিনি মুম্বইয়ের একটি প্রথম সারির স্পোর্টস কোম্পানির সিইও-র দায়িত্ব সামলেছিলেন। ২০০৪ সালে  কলকাতায় সৌরভ প্রতিষ্ঠা করেন ‘হাই লাইফ ম্যানেজমেন্ট’। ভারতের খেলাধুলোর দুনিয়ার সঙ্গে নানা ভাবে যুক্ত সৌরভ চট্টোপাধ্যায়ের এই সংস্থা। বেঙ্গল রাগবি উইনিয়নের প্রাক্তন সভাপতি ছিলেন সৌরভ। বর্তমানে তিনি ভারতীয় রাগবি বোর্ডের অন্যতম সদস্য।

    এত দিন যখন বন্ধুত্ব, নির্ভরতা ভাঙেনি যখন তখন এবার এক ছাদের তোলায় থাকাই যায়।

    এত দিন ছেলেমেয়েকে মানুষ করার গুরু দায়িত্বও ছিল জুনের ওপর। জুনের ছেলে এখন পাইলট। মেয়ে সুদেষ্ণা রায় ও অভিজিত গুহর সহকারী হিসেবে ফিল্মেই কাজ করছে।

    ভালোবাসা যখন এলই তখন তাকে সম্মান দিতে এবার বিয়ে। না, লিভ ইনে বিশ্বাসী নন নায়িকা।

    স্থিরযৌবনা জুনের সিক্রেট কী?

    কেরিয়ার নিয়েও জুনের আক্ষেপ নেই। অনেক বলিউড অফার ছেড়ে দিতে হয়েছে ছেলেমেয়ে ছোট থাকায়। সে জন্য আক্ষেপও নেই। তাঁর গুরত্ব পরিবার, কেরিয়ার, নিজের ভাল লাগা– এ সব মিলিয়ে।

    জুনের স্বপ্নের চরিত্র আজও ‘উমরাও জান’ বা ‘দীপ জ্বেলে যাই’ এর রাধা নার্স। যদিও নিজেকে রেখা,মাধুরী দীক্ষিত বা সুচিত্রা সেন ভাবেন না জুন। কোন সহকর্মী এগিয়ে গেছেন, কে কতগুলো অ্যাওয়ার্ড, পেয়েছেন এসব নিয়ে ভাবতে রাজি নন জুন। আর এটাই তাঁর স্থিরযৌবনা থাকার সিক্রেট।

    ২৩ বছর ধারাবাহিক ভাবে ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকা এবং একই ভাবে এখনও অনুরাগীদের হার্টবিট বাড়িয়ে তোলা– এমনটা ক’জন ধরে রাখতে পেরেছেন? জুন বলেন “আমার বিয়ের খবরে এখনও এত লোকের, মিডিয়ার মনোযোগের কারণ হবো, নিজেই ভাবিনি।”

    সৌরভ কতটা জুনের?

    জুন বলছেন, তাঁদের বিয়ে নিয়ে এত হাইপ কেন? এটা তো ম্যাচিওর্ড রিলেশনশিপ। চোদ্দো বছরের বোঝাপড়া। যখন পুত্র-কন্যারা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে গেছে, তখন তো মা নিজের ভালবাসার মানুষটাকে এবার যোগ্য সম্মান দিতেই পারেন। যার শরীর যার মন সেটা তাঁর অধিকার। সমাজের নয়। নিজেকে ভাল রাখার দায়িত্ব নিজের। সমাজ বা লোকে কী বলবে এই ভেবেই তো কত মানুষ খারাপ থাকল।

    এমনটাই বিশ্বাস করেন জুন। তাই এখন নিজের বিয়ে নিয়ে কথা বলাটাও বালখিল্য ব্যাপার বলে মনে করেন। কিন্তু ভালবাসাকে সম্মান দিতে চান। সাত পাকে অগ্নিসাক্ষী রেখে সপ্তপদী না ঘুরলেও, ছোট করে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে রেজিস্ট্রি সারবেন জুন ও সৌরভ। রিসেপশন অনুষ্ঠান পালন করবেন সৌরভের আত্মীয় ও কলিগদের নিয়ে। বিয়ে মানেই যে লাল টুকটুকে বেনারসি আর কনের সাজ পরতেই হবে, তা তো নয়। ১৪ বছরের বন্ধুরও বাহ্যিক সাজ নিয়ে মাথাব্যথা নেই। জুন এতটাই সৌরভকে বিশ্বাস করেন যে তিনি বলেন, “আমি যদি কোনও কারণে পৃথিবীতে না থাকি, তবে সৌরভ আমার ছেলেমেয়ে– শিবাঙ্গিনী শিবেন্দ্রকে দেখবে।”

    এ ভরসার ভিত্তি বিশ্বাস। ভবিষ্যৎ বিয়ে।

    বিয়ে নিয়ে মাতামাতির সময় নেই

    এখন রোজ সকাল ন’টায় স্টুডিওতে পৌঁছে যান জুন। বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত ন’টা। বিয়ে নিয়ে মাতামাতি করার সময়ই নেই অভিনেত্রীর। জুন জানালেন পরিস্কার কথা– “আমি আমার বিয়ের খবর সেনসেশনালাইজড করতে চাইনি। কাউকে বলিওনি। বিয়ে নিয়ে এত খবর হচ্ছে সেটা মিডিয়ার তৈরি। হয়তো তাঁরা এখনও আমায় নিয়ে কৌতূহলী। বিয়ের কথা খুব ক্লোজড লোকজনদেরই বলব, যারা এত দিন আমার পথ চলার সাথী ছিল। আমি ইন্টারেস্টেড নই বিয়ে সংক্রান্ত মিডিয়া-হাইপে। কেনই বা হবো!”

    আসলে, কারও বিয়ে নিয়ে ট্রোল, মিম করার আগে একটু তাঁর লড়াইটাও ভাবা উচিত। ভাবা উচিত, সব কিছুর পরেও যে দু’জন মানুষ বিয়ে করছেন, সেটা তাঁদের নিজস্ব এক্তিয়ার, সমাজের নয়।

    মম যৌবন অভিসার পথে…

    জুন-সৌরভের চোদ্দোটি বসন্তের প্রেম, চিরবসন্তের গোলাপের সমারোহে প্রস্ফুটিত হোক। আগামী ৩০ নভেম্বর জুন-সৌরভের বিয়ের সম্ভাব্য শুভ দিন। শুভেচ্ছা রইল। আর রইল, বাঙালির চিরসবুজ ক্রাশ জুন মালিয়ার জন্য এই গানটি।

    “আজিকে হঠাৎ দেখিনু চাহিয়া তারে ,
    দাঁড়ায়ে রয়েছে দ্বারে
    মোর চিরজনমেরও সাথী …
    এসেছে এসেছে সেই বঁধুয়া এসেছে …
    ডেকে নিয়েছে বাহুবন্ধনে ; পুলকিত তাই আজ এ হিয়া।।
    মম যৌবন অভিসার পথে …”

    আরও পড়ুন…

    জুনের বিয়ে কার সঙ্গে, ছবি দেখে চিনে নিন বিখ্যাত পরিবারের পাত্রকে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More